প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে লিবিয়ায় নিয়ে মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি এবং তার পরিবারের কাছ থেকে ৪৯ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের বহুল আলোচিত মামলার প্রধান আসামি, কথিত মানবপাচারকারী জুলহাস সরদারকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর কদমতলীর স্মৃতিধারা আবাসিক এলাকা থেকে র্যাব-৮ (মাদারীপুর) ও র্যাব-১০ (যাত্রাবাড়ী)-এর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার জুলহাস সরদার মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার সত্যবদী গ্রামের মৃত/আব্দুল মজিদ সরদারের ছেলে। তার বিরুদ্ধে মানবপাচার, হত্যা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার আরমান শেখকে ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে জুলহাস সরদারসহ ৯ সদস্যের একটি চক্র তার পরিবারের কাছ থেকে প্রথমে ২৩ লাখ টাকা আদায় করে। কিন্তু ইতালিতে পাঠানোর পরিবর্তে তাকে লিবিয়ায় নিয়ে মাফিয়া চক্রের কাছে তুলে দেওয়া হয়।
লিবিয়ায় আটকে রেখে আরমানের ওপর চালানো হয় অমানবিক শারীরিক নির্যাতন। নির্যাতনের ভিডিও ও বিভিন্ন মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করতে বাধ্য হয়ে পরিবারটি কয়েক দফায় আরও ৪৯ লাখ টাকা পরিশোধ করে।
এ ঘটনায় গত ১২ জুন আরমানের মা জাহানারা বেগম বাদী হয়ে রাজৈর থানায় মানবপাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলে র্যাব আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ছায়াতদন্ত শুরু করে।
র্যাবের ভাষ্য, গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জুলহাস সরদারের অবস্থান নিশ্চিত করে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে যাত্রাবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, মানবপাচার চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন