ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বরিশালে আদালতের ওয়ারেন্ট মাথায় নিয়েও বেপরোয়া কালাম-শাওন সিন্ডিকেট: সরকারবিরোধী চক্রান্তের নতুন আখড়া কর্নকাঠি!


বরিশালে আদালতের ওয়ারেন্ট মাথায় নিয়েও বেপরোয়া কালাম-শাওন সিন্ডিকেট: সরকারবিরোধী চক্রান্তের নতুন আখড়া কর্নকাঠি!

 

মিডিয়াপাড়ায় দৌড়ঝাঁপ করেও যখন অনুসন্ধানী টিম ‘তালাশ বিডি’কে থামানো গেল না, ঠিক তখনই নতুন ও ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে বরিশাল নগরীর আলোচিত ছাত্রলীগ নেতা শাওন ও তার চক্র। গোপন সোর্স মারফতে পাওয়া খবরে জানা গেছে, এই বিতর্কিত সিন্ডিকেট এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ (AI) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভুয়া ছবি বানিয়ে সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামকে দমানো ও সামাজিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টায় নেমেছে।


অনুসন্ধানে জানা যায়, বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকের অনুসারী হিসেবে পরিচিত এই ছাত্রলীগ নেতা শাওন। অপরদিকে তার চাচা কালাম খান (কালাম মেম্বার) সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীমের বলয় কাজে লাগিয়ে পুরো কর্নকাঠি এলাকা এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করত। আওয়ামী লীগ সরকারের টানা মেয়াদে পুরো কর্নকাঠি অঞ্চলে জমি দখল, ব্যাপক চাঁদাবাজি এবং অবৈধ ড্রেজার ব্যবসা একচ্ছত্রভাবে পরিচালনা করার মূল অভিযোগ রয়েছে এই চাচা-ভাতিজা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন: পলো বাওয়া উৎসব আছে, কিন্তু নেই আগের মতো মাছ

গুরুতর বিষয় হলো, কালাম মেম্বারের বিরুদ্ধে মোকাম বরিশাল বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (দ্রুত বিচার) আমলী আদালতে গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) রয়েছে। তিনি আদালতের একজন ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি।

স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শাওনের বড় ভাই সাইফুল এবং অনিক সেরনিয়াবাতকে সাথে নিয়ে কর্নকাঠি ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল তারা। কোনো সাধারণ মানুষ সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নিলেই চড়াদামে বালু ভরাট করতে বাধ্য করা হতো। তাদের দাবিকৃত চাঁদা বা বালু ভরাটের শর্ত না মানলে নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনী দিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে চূড়ান্ত হয়রানি করা হতো। আওয়ামী লীগ শাসনামলে কর্নকাঠি এলাকায় এরা ‘অঘোষিত গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত ছিল। এছাড়া কালাম মেম্বার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্থানীয় বিচার-সালিসের নামে সাধারণ মানুষের সাথে নিয়মিত অন্যায়, অবিচার ও চরম পক্ষপাতিত্ব করত বলে মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলেও কর্নকাঠি এলাকায় কালাম মেম্বার ও শাওন সিন্ডিকেটের অপতৎপরতা বন্ধ হয়নি। এলাকাটিকে তারা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গোপন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছে। স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, বরিশাল নগরীতে গভীর রাতে হঠাৎ যেসব ঝটিকা মিছিল বের করা হয়, তার সব পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত ও সরকারবিরোধী নানা চক্রান্ত কর্নকাঠিতে বসেই সম্পন্ন হয়।

আরও পড়ুন: ঈশ্বরদীতে বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে প্রাণ গেল খামারির

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো—আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি হওয়া এবং প্রকাশ্যে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার পরও স্থানীয় বন্দর থানা পুলিশ কালাম মেম্বার ও শাওনকে আইনের আওতায় আনতে রহস্যজনকভাবে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এহেন নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সচেতন মহল ও এলাকাবাসীর মধ্যে।

অবাধে সরকারবিরোধী তৎপরতা ও অপরাধ কর্মকাণ্ড চললেও থানা পুলিশ কেন তাদের ধরছে না—এ বিষয়ে জানতে বন্দর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি উল্টো উদাসীনতা প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, চাচা-ভাতিজার সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র কিংবা কোনো অপরাধের বিষয়ে তিনি নাকি কিছুই জানেন না! শুধু তা-ই নয়, অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, "আপনারা কীভাবে জানলেন?"

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে তখন স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও বিশ্বস্ত সূত্রের ওপর ভিত্তি করেই সংবাদটি প্রকাশ করা হচ্ছে। আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির বিষয়ে এমন রহস্যজনক আচরণ এবং অপরাধীদের না জানার ভান করার মানসিকতা দেখে স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন—অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করে থানা পুলিশ কি তবে তাদের প্রধান 'রক্ষাকবচ' বা ঢাল হিসেবে কাজ করছে?

আরও পড়ুন: ঘুষের ভিডিও ভাইরাল, বরিশালের ভূমি অফিসের ২ কর্মচারী প্রত্যাহার

বিষয়টির সত্যতা ও অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা শাওনের হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তার হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত খুদে বার্তা (Message) পাঠানো হলেও সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত তিনি কোনো উত্তর দেননি।

অপরদিকে, আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি কালাম মেম্বারের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনিও ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

আদালতের ওয়ারেন্ট থাকা সত্ত্বেও এবং প্রকাশ্যে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও পুলিশের চরম ব্যর্থতা ও অশুভ প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সাংবাদিকদের হয়রানিকারী এই প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) কমিশনার মো. আব্দুল হান্নান কী কার্যকর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

আরও পড়ুন: মহেশখালীতে ট্রলি গাড়ি উল্টে শ্রমিক আনোয়ার হোসেন নিহত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসির ফেরার ম্যাচে কলম্বাস ক্রুর সঙ্গে ড্র করল ইন্টার মায়ামি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০৪ পি.এম


মেসির ফেরার ম্যাচে কলম্বাস ক্রুর সঙ্গে ড্র করল ইন্টার মায়ামি

 বিশ্বকাপের দায়িত্ব শেষ করার পর শনিবার মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ফিরেছেন লিওনেল মেসি। দ্বিতীয়ার্ধে তিনি মাঠে নামতে পেরে সম্মানিত হন মায়ামির জার্সিতে।

তবে কলম্বাস ক্রুর সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তার দলকে।

স্পেনের কাছে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের দুই সপ্তাহ পর আবার মাঠে ফিরলেন মেসি।

মায়ামির নিউ স্টেডিয়ামে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের মধ্যে ৫৩তম মিনিটে তিনি বদলি হিসেবে মাঠে নামলেন।

তবে প্রত্যাবর্তনটি গোল দিয়ে স্মরণীয় করে রাখতে পারেননি মেসি। দুবার গোলের লক্ষ্যে শট নিলেও ঘটনাক্রমে উভয়ই বাইরে চলে যায়।

১৬তম মিনিটে উরুগুয়ের লুইস সুয়ারেজ গোল করে মায়ামিকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এটি গত চার ম্যাচে তার সপ্তম গোল ছিল।

৩৪তম মিনিটে মায়ামির সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরোর আত্মঘাতী গোলে কলম্বাস ক্রু সমতায় ফেরে। এরপর সুয়ারেজের পাস থেকে নোয়াহ অ্যালেন হেডে গোল করে মায়ামিকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এর ফলে বিরতিতে তারা এগিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়ে।

কিন্তু কলম্বাসের হয়ে অভিষেকেই গোল করে তারা সমতায় ফেরান স্পেনের রিয়াল সোসিয়েদাদ থেকে আসা মিডফিল্ডার ব্রাইস মেন্দেস। ৮৪তম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে বাঁকানো শটে তিনি গোলটি করেন।

এই ড্রয়ের ফলে মায়ামির টানা ছয় ম্যাচের জয়ের ধারার অবসান ঘটল। ইস্টার্ন কনফারেন্সে তারা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলও ডিসি ইউনাইটেডের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে।

ওয়েস্টার্ন কনফারেন্সে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি ও ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপস যৌথভাবে শীর্ষে অবস্থান করছে।

ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেসে দুই দল ১-১ গোলে ড্র করেছে।

বিশ্বকাপের পর এমএলএসে ফেরার পর সন হিউং-মিন দারুণ ছন্দে রয়েছেন। চার ম্যাচে চার গোলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ৩৭তম মিনিটে লস অ্যাঞ্জেলেসকে এগিয়ে দেন তিনি।

ভ্যাঙ্কুভারের জার্মান তারকা থমাস মুলার ৭৬তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দক্ষিণ কোরিয়ার জায়গা না পাওয়ার ব্যর্থতার জন্য সবচেয়ে বেশি সমালোচনার শিকার হওয়া সাবেক টটেনহ্যাম তারকা সন বুধবার এমএলএস অল-স্টার ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যেসব শর্তে বেনজীরকে মুক্তি দিলো দুবাইয়ের আদালত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০৫ পি.এম


যেসব শর্তে বেনজীরকে মুক্তি দিলো দুবাইয়ের আদালত

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ের একটি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করেছেন। গত সোমবার (২৭ জুলাই) সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আদালত তার জামিন আবেদন দুই শর্তে মঞ্জুর করে।

আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেনজীর কারামুক্ত হন।

গণমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, আদালত বেনজীরের জামিনের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত আরোপ করেছে। এই শর্ত অনুযায়ী, বেনজীরের পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং অনুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। তাদের মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, এরপর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে তদন্তে নামে। সেই সময়ই তিনি দেশ ত্যাগ করেছিলেন। পরে, তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা গঠন করা হয়। তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে ছাত্র বিক্ষোভে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেফতার ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০৮ পি.এম


ভারতে ছাত্র বিক্ষোভে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেফতার ২

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার হওয়া এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি পুলিশের পোশাক পরে দিল্লির জন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত সম্প্রতি ছাত্র বিক্ষোভে অনুপ্রবেশ করে নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন বলে দাবি করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। একই সঙ্গে, পশ্চিমবঙ্গের এক মন্ত্রীর গতিবিধির ওপর নজরদারির দায়িত্বও তাকে দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।

গ্রেফতারকৃত ওই সন্দেহভাজনের নাম হামিম মণ্ডল। তার বিরুদ্ধে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিকে দুই দিন আগে পূর্ব বর্ধমান জেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এসটিএফের মহাপরিদর্শক গৌরব শর্মা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পাকিস্তানে অবস্থানকারী হামিমের কথিত হ্যান্ডলাররা তাকে নির্দেশ দিয়েছিল পুলিশ ইউনিফর্ম পরে দিল্লির জন্তর মন্তরে ছাত্রদের বিক্ষোভে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্য।

তিনি আরও বলেন, হামিমকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে এবং তিনি কোথায় নিরাপত্তাহীন অবস্থায় থাকতে পারেন সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গৌরব শর্মার ভাষ্য অনুযায়ী, “মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলোর একজন। তাকে এমন স্থানগুলোর তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছিল, যেখানে তিনি তুলনামূলকভাবে কম নিরাপত্তায় থাকতে পারেন।”

জিজ্ঞাসাবাদের সময় এসটিএফ বলেছে, হামিম মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় পশ্চিমবঙ্গে সক্রিয় জইশ-ই-মোহাম্মদের কয়েকজন কথিত হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। আদালত তাকে ১৪ দিনের জন্য এসটিএফের হেফাজতে পাঠিয়েছে।

এদিকে শুক্রবার ঝাড়খণ্ড থেকে হামিমের বান্ধবী অর্পিতা সরকারকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, তারা দু’জন মিলে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য মন্ত্রী উমেশ রায়ের ছেলেকে ‘হানিট্র্যাপ’-এ ফেলতে অপহরণ এবং তার পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা করছিলেন।

এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, পাকিস্তানভিত্তিক কথিত হ্যান্ডলারদের নির্দেশেই তারা এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিলেন। ওই হ্যান্ডলারদের সঙ্গে শাহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের কথিত যোগসূত্র রয়েছে বলেও তদন্তকারীদের ধারণা।

পুলিশের দাবি, অর্পিতা সরকার একাধিক পরিচিত ব্যক্তি, এমনকি কয়েকজন রাজনীতিককেও ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে ফাঁদে ফেলে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতেন। পরে সেই তথ্য হামিম মণ্ডলের কাছে পাঠানো হতো।

তদন্তে তার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্রও পাওয়া গেছে বলে এসটিএফ জানিয়েছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হামিম ও অর্পিতার কাছ থেকে যুক্তরাজ্য ও মেক্সিকো থেকে ইস্যু করা আন্তর্জাতিক সিম কার্ড উদ্ধার হয়েছে। এসটিএফের ধারণা, এসব সিম ব্যবহার করে তারা এনক্রিপ্টেড মাধ্যমে তাদের কথিত হ্যান্ডলার এবং ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।

এসটিএফ জানায়, হামিম মণ্ডলের মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে তারা জানতে পেরেছে, পাকিস্তানভিত্তিক অপারেটিভদের হয়ে কাজ শুরু করার আগে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমেই তিনি উগ্রপন্থায় প্রভাবিত হন।

তদন্তকারীদের দাবি, ‘রানা’, ‘উজাইর’, ‘আবিদ জাট ৩৩৩’ এবং ‘হামাদ’ নামে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি শাহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের কথিত হ্যান্ডলার। এই চক্রটি উগ্রবাদে প্ররোচনা, জঙ্গি নিয়োগ এবং মাদক-সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

হামিম মণ্ডল ও অর্পিতা সরকারের পরিচয় ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে হয়েছিল। গত চার বছর ধরে তারা সম্পর্কে ছিলেন।

হানিট্র্যাপ-সংক্রান্ত একটি তদন্ত চলাকালে প্রথমে অর্পিতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট তদন্তকারীদের নজরে আসে। সেখান থেকেই হামিম মণ্ডলের সন্ধান মেলে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

বর্তমানে এই কথিত নেটওয়ার্কের পরিধি, অন্যান্য সদস্য এবং সীমান্তপারের যোগাযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে এর বেশি তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন এসটিএফের কর্মকর্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশকে আসিয়ানে সদস্য হিসেবে নিচ্ছে না, যে কারণ রয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১২ পি.এম


বাংলাদেশকে আসিয়ানে সদস্য হিসেবে নিচ্ছে না, যে কারণ রয়েছে

দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানে সদস্য হিসেবে জায়গা পাওয়ার চেষ্টা করে আসছে বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টা সফল হলো না। আসিয়ানের শীর্ষ কর্মকর্তার মতে, আসিয়ান চার্টারের ভৌগোলিক শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশের জোটের সদস্য হওয়ার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশের মতো দীর্ঘদিন ধরে আসিয়ানের সদস্যপদ পাওয়ার আশা ব্যক্ত করে আসছিল পাপুয়া নিউ গিনিও। এমনকি দেশটিকে প্রকাশ্যে সমর্থনও দিয়েছিল ইন্দোনেশিয়া। তবে আসিয়ানের মহাসচিব কাও কিম হোর্ন সম্প্রতি নিশ্চিত করেছেন যে, পূর্ব তিমুরই শেষ দেশ হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর এই জোটে যুক্ত হয়েছে।

ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত ১০ম আসিয়ান মিডিয়া ফোরামে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, "আমাদের সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর অধ্যায় এখানেই শেষ।"

এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আসিয়ান মহাসচিব বলেছেন, আসিয়ান চার্টার অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভৌগোলিক অঞ্চলে অবস্থিত হিসেবে কেবল ১১টি দেশকে বিবেচনা করা হয়। বিষয়টি এটাই। পাপুয়া নিউ গিনি এবং বাংলাদেশ এই নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের বাইরে অবস্থিত।

আসিয়ান চার্টার মূলত জোটটির আইনি কাঠামো নির্ধারণ করে। এই দলিল অনুযায়ী, নতুন সদস্য গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত নির্দিষ্ট করা রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো আবেদনকারী দেশকে ‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্বীকৃত ভৌগোলিক অঞ্চলে অবস্থিত’ হতে হবে। ভৌগোলিক বিচারে পাপুয়া নিউ গিনি ওশেনিয়া অঞ্চলের অন্তর্গত, আর বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায়।

বাংলাদেশ এবং পাপুয়া নিউগিনির জন্য আসিয়ানের সদস্য হওয়ার একমাত্র উপায় হলো যদি ১০ দেশের এই জোটটি তাদের চার্টার বা সংবিধানে সংশোধন আনে। তবে, এই ধরনের যেকোনও সংশোধনের জন্য সব সদস্য দেশের সম্মতির প্রয়োজন হয়।

আসিয়ান মহাসচিব কাও স্পষ্ট করে বলেছেন, "সদস্য দেশগুলো চার্টার সংশোধন না করলে এবং ভূগোলকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত না করলে আমাদের যে ১১টি দেশ রয়েছে, তাদের নিয়েই দাঁড়িয়ে থাকবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বা আসিয়ান।"

উল্লেখ্য, ২০১১ সাল থেকে চেষ্টা চালানোর পর দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অবশেষে গত বছর আসিয়ানে নিজেদের কাঙ্ক্ষিত আসন নিশ্চিত করে পূর্ব তিমুর। এই প্রক্রিয়াটি এতটাই দীর্ঘ ছিল যে, পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট হোসে রামোস-হোর্তা রসিকতা করে বলেছিলেন, "আসিয়ানের দরজায় প্রবেশের চেয়ে স্বর্গে প্রবেশ করা হয়তো সহজ।"

বিগত বছরে মালয়েশিয়া যখন আসিয়ানের সভাপতির দায়িত্বে ছিল, তখন তাদের সমর্থন পেতে চেষ্টা চালিয়েছিল ঢাকা। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো পাপুয়া নিউ গিনির সদস্যপদের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন ঘোষণা করেন। অবশ্য, ১৯৭৬ সাল থেকে আসিয়ান জোটে পর্যবেক্ষকের মর্যাদা উপভোগ করে আসছে পাপুয়া নিউ গিনি, যা তাদেরকে জোটের বৈঠকগুলোতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%