ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পটুয়াখালীতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি কাঠগড়ায়


পটুয়াখালীতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি কাঠগড়ায়

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান লাভলুর বাড়িটি ভেঙে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্বাভাবিক কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ঘূর্ণিঝড় কিংবা ভূমিকম্প নয়; বরং এক রাতের ব্যবধানে তা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

দূর থেকে দেখলে মনে হবে, এটি যেন যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার একটি বহুতল ভবনে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা ভেকু (স্কেভেটর) দিয়ে পুরো বাড়িটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে, মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে এবং শেষে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, এই ঘটনার পেছনে স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নির্দেশ রয়েছে। যদিও এমপি ও তাঁর ভাই সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি লাভলু কাজী আত্মগোপনে রয়েছেন। বাড়িতে তাঁর বৃদ্ধা মা ও স্ত্রী বসবাস করতেন।

আরও পড়ুন: শীর্ষ মাদক ডিলার গ্রেফতার: ২ বোতল ভারতীয় সিরাপ দিয়ে আদালতে সোপর্দ করলো দামকুড়া থানা পুলিশ

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৭ জুলাই রাতে লাভলু কাজীর মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় নিয়ে যেতে হয়। পরে বাড়িটি সম্পূর্ণ ফাঁকা থাকার সুযোগে একদল দুর্বৃত্ত গভীর রাতে ভেকু নিয়ে এসে পুরো বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেয়। পরে ঘরের মূল্যবান মালামাল লুটপাট করা হয় এবং শেষে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

লাভলু কাজীর স্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, "আমাদের বাড়িটি পরিকল্পিতভাবে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় এমপি আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নির্দেশেই তাঁর ভাই ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ মদদে এই তাণ্ডব চালানো হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।"

মাধবখালী এলাকায় এই ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে, কিন্তু কেউই গণমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে রাজি হননি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে সবাই নীরব ভূমিকা পালন করছেন।

এদিকে, এমপি আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহীন চৌধুরী এই ঘটনার সাথে নিজেদের জড়িত থাকার দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। শাহীন দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট জমিটি মূলত সরকারি সম্পত্তি এবং লাভলু কাজী ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর ওই জমি দখল করে অবৈধভাবে বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন।

আরও পড়ুন: রায়পুরায় বাসে পুলিশের অভিযান, ১৪০ রাউন্ড সিসা গুলিসহ নারী আটক

ঘটনার পর মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে এই ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভোলায় বিভিন্ন প্রজাতি ও সামুদ্রিক ইলিশ জব্দ: পরিবহনের অনুমতি নিয়ে উত্থিত প্রশ্ন, হাইকোর্টে রিট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইউসুফ হোসেন নীরব

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:২১ পি.এম


ভোলায় বিভিন্ন প্রজাতি ও সামুদ্রিক ইলিশ জব্দ: পরিবহনের অনুমতি নিয়ে উত্থিত প্রশ্ন, হাইকোর্টে রিট

ভোলায় সামুদ্রিক ইলিশ ও অন্যান্য প্রজাতির মাছ জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনার ফলে মাছ পরিবহনের বৈধতা, অনুমতি পত্র ও সংশ্লিষ্ট আইনের প্রয়োগ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তথ্যসূত্র অনুযায়ী, ভোলার চরফ্যাশন সামরাজ থেকে তিনটি ট্রাকে সামুদ্রিক ইলিশ, কাঁকড়া সহ অন্যান্য মাছ জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন। মাছগুলোর আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। তিনটি আলাদা ট্রাকে থাকা সামুদ্রিক ইলিশ, কাঁকড়া ও অন্যান্য মাছ যাচাই-বাছাইয়ের পর একটি ট্রাক মুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে দুইটি ট্রাক থেকে ১৫৫ ও ১৬০টি কক্সসেট ভর্তি সামুদ্রিক ইলিশ, কাঁকড়া ও অন্যান্য প্রজাতির মাছ বিতরণ করা হয়েছে বিভিন্ন মাদ্রাসা, এতিমখানা ও ১ হাজারের বেশি অসহায় মানুষের মাঝে। সেই একই সময়ে, পুরো ঘটনায় মাছ পরিবহনের বৈধতা, অনুমতিপত্র ও আইনপ্রয়োগের বিষয় নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। ১২ মে রাত ১০ টার দিকে চরফ্যাশন সামরাজ এলাকা থেকে তিনটি ট্রাকে মোট ১৫৫টি ও ১৬০টি কক্সসেট ভর্তি মাছ আটক হয়েছে। পরদিন ১৩ মে কোস্ট গার্ড ও ভোলা জেলা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জব্দকৃত মাছ বিতরণ হয় বিভিন্ন এতিমখানা, লিল্লাহ বোডিং ও অসহায় মানুষের মাঝে। কিন্তু বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিতরণ হওয়া মাছ নিয়ে পরে অনিয়ম, লুট এবং লাপাত্তা হওয়ার অভিযোগ উঠে। যা নতুন করে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে। জব্দকৃত মাছের মালিকরা দাবি করছেন যে, মাছ পরিবহনের জন্য তাদের কাছে প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র ছিল। তবে মাছ বিতরণ নিয়ে অভিযোগ উঠলে ২২ জুন হাইকোর্টে অন্য পক্ষ রিট আবেদন করে। অথচ অপর পক্ষের দাবি, অনুমতিপত্র থাকা সত্ত্বেও মাছ জব্দ করা হয়েছে। ফলে এই ঘটনায় আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের নিষেধাজ্ঞার সময় কোটিপতি মাছ পরিবহনের জন্য সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অনুমতিপত্র দিতে পারেন কিনা, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরবর্তীতে ঘটনাটি নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সমস্যার সূত্রপাত হয়। ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা যেকোনো উৎস যাচাইয়ের ব্যাপারে অসুবিধার কথা জানান। চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জানান, অনুমতিপত্র দেওয়া হয়েছে কিন্তু মাছের উৎস শনাক্ত করতে কিছু সমস্যা হয়েছে। ভোলা সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মন্তব্য করেন কঠিন পরিস্থিতি সৎ কর্মকর্তাদের কাজ করতে নিরুৎসাহিত করবে। কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা জানান, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে সরকারের নিষেধাজ্ঞা ১৫ই এপ্রিল থেকে ১১ই জুন পর্যন্ত কার্যকর করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ট্রাক তল্লাশি করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইএলও মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ, শ্রম খাতের উন্নয়নে গুরুত্বারোপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:২৩ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইএলও মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ, শ্রম খাতের উন্নয়নে গুরুত্বারোপ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ. হোংবো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের শুরুতে আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ. হোংবো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান তার দায়িত্ব গ্রহণ করায়। তিনি বলেন, "জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।" আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সঙ্গে বাংলাদেশ দীর্ঘ বছরের পার্টনারশিপকে আরও জোরদার করতে আগ্রহী রয়েছে এবং শ্রম খাতের উন্নয়নে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ অব্যাহত রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইএলওর ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি তুলে ধরেন, "শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।"

এসময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান আইএলও মহাপরিচালক। তিনি উল্লেখ করেন, "এই অর্জন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।" এছাড়া, বর্তমান সরকারের স্বল্প সময়ের মধ্যে অন্যান্য কূটনৈতিক সাফল্য অর্জনের জন্য ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

বৈঠকে আইএলও মহাপরিচালক আরও বলেন, "শ্রম খাতে সরকারের চলমান সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে বাংলাদেশের আন্তরিকতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে।"

শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদা মোকাবিলার জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিষয়গুলি উভয় পক্ষ আলোচনা করেন।

এছাড়া, দেশের তৈরি পোশাক খাতের অগ্রগতি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অর্জন নিয়ে আলোচনা হয়। সর্বশেষে, শ্রম খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিতে সরকার ও আইএলওর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমিকবান্ধব ও টেকসই কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। আইএলও মহাপরিচালক বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ এবং শ্রম খাতের উন্নয়নে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব মাহ্দী আমিন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (জাতিসংঘ) মো. কামরুজ্জামান, বাংলাদেশে আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স তুনোঁ (Max Tuñón) এবং আইএলও সদর দপ্তর, জেনেভার মহাপরিচালকের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিতোমি নাকাগোমে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেটে হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৩ শিশুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:২৫ পি.এম


সিলেটে হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৩ শিশুর

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হাম উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি সোমবার (২০ জুলাই) সকালে নিশ্চিত করেছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এটি জানিয়েছেন যে, সিলেট বিভাগে এ ঘটনার পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৩ জনে।

মারা যাওয়া তিন শিশুর নাম হলো- তাসফিয়া, আব্দুল্লাহ ও তানভীর। তিনজনের বয়সই দেড় বছরের নিচে।

বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা মোট ২৬৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নতুন করে কেউ শনাক্ত হয়নি। তবে এ সময়ে সন্দেহভাজন ৫৮ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত বিভাগে মোট ৫৪৫ জন ল্যাব-নিশ্চিত (কনফার্মড) হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ৪ জন নিশ্চিত হামের রোগী ছিলেন সেটি নিশ্চিত করা গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনা বিভাগে কৃষকদের ৪২ কোটি টাকার বেশি কৃষিঋণ মওকুফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:২৭ পি.এম


খুলনা বিভাগে কৃষকদের ৪২ কোটি টাকার বেশি কৃষিঋণ মওকুফ

খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ৫৬ হাজার ৭৪৮ জন কৃষকের কৃষিঋণ মওকুফ করা হচ্ছে। এছাড়া, ঋণের অর্থ পরিশোধ না করায় যাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছিল, তাদের মামলা তুলে নেওয়া হয়েছে। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী, এই কৃষকদের ঋণ মওকুফ করা হচ্ছে।

কৃষি ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, কৃষি ঋণ মওকুফের আওতায় এসেছে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ৫৬ হাজার ৭৪৮ জন কৃষক। তাদের ঋণের অর্থের পরিমাণ ৪১ কোটি ৭৯ লাখ ৫৬ হাজার ২৫৬ টাকা। এর মধ্যে খুলনা মহানগর ও জেলার ১১ থানা ও উপজেলা এলাকায় ৬ হাজার ৭৬৭ জন কৃষকের ৪ কোটি ১২ লাখ ৫৪ হাজার ৪২৫.৯ টাকা মওকুফের আওতায় আনা হয়েছে।

নির্বাচনকালীন সময় পর্যন্ত যেসব কৃষকের ১০ হাজার টাকার কৃষিঋণ ছিল, তারা এই মওকুফের আওতায় এসেছে। কৃষি ব্যাংক খুলনা বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে ঋণ গ্রহীতাদের মওকুফের বিষয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঋণের অর্থ পরিশোধ না করায় যাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছিল, তাদের মামলা তুলে নেওয়া হয়েছে।

খুলনা বিভাগীয় কৃষি ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এ ব্যাংকের জোনাল অফিসের আওতায় খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর ও নড়াইল জেলায় ৩০ হাজার ২৪৮ জন কৃষককে ঋণ মওকুফের আওতায় আনা হয়েছে। যার অর্থের পরিমাণ ২১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। কৃষি ব্যাংক খুলনা জেলা অফিসের তথ্যমতে, খুলনা মহানগর ও জেলার ১১ থানা ও উপজেলা এলাকায় ৬ হাজার ৭৬৭ জন কৃষকের ৪ কোটি ১২ লাখ ৫৪ হাজার ৪২৫ টাকার ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এর মধ্যে বটিয়াঘাটায় ১৮৩ জনের ১২ লাখ ৪৮ হাজার ৪৭৫.৫ টাকা, দাকোপে ২৩৭ জনের ১৮ lakh ১১ হাজার ৫৮ টাকা, দৌলতপুরে ৮৭ জনের ৫ লাখ ৩৬ হাজার ১৫৫ টাকা, দিঘলিয়ায় ২২৮ জনের ১৩ লাখ ৬২ হাজার ৩৮৮ টাকা, ডুমুরিয়ায় ২ হাজার ৭১১ জনের ১ কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার ৮৫৫ টাকা, ফুলতলায় ৬৭৩ জনের ৪৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬৩৩ টাকা, কয়রায় ১ হাজার ৪৪৮ জনের ১ কোটি ৫ লাখ ৪৮ হাজার ১১০ টাকা, খুলনায় ২১ জনের ১ লাখ ৮ হাজার ৮৬৬ টাকা, লবণচরায় ১৪ জনের ৩৮ হাজার ১৯৬ টাকা, পাইকগাছায় ২৯৫ জনের ১৯ lakh ৮৭ হাজার ৪৮৬ টাকা, রূপসায় ৬২১ জনের ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৬৮৩ টাকা ও তেরখাদায় ২৪৯ জনের ২৩ লাখ ৫৫ হাজার ৫২০ টাকা।

যাইহোক, নির্বাচনের পূর্বের ১০ হাজার টাকার বেশি এবং নির্বাচন পরবর্তীতে খুলনা জোনের আওতায় ৫ জেলায় গত ৩০ জুন ঋণগ্রস্ত হয়েছে আরও ২ লাখ ৩ হাজার কৃষক। এই ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা। খুলনার রূপসা ইলাইপুর গ্রামের মৃত ইউসুফ মিনার ছেলে মো. ছলেমান মিনা ১৯৯২ সালে ৬ হাজার টাকা ঋণ নেন। সুদ আসলসহ ১০ হাজার টাকা হয়ে গেলে ব্যাংকের চাপে ৫ হাজার টাকা পরিশোধের পর তার ঋণ স্থিতি ছিল ৫ হাজার ৩৮ টাকা। একই এলাকার সামছুর রহমান ১৯৯০ সালে এ শাখা থেকে ৭ হাজার টাকা ঋণ নেন। সুদ আসলসহ তার ঋণস্থিতি রয়েছে ১২ হাজার ১৭১ টাকা। তালিমপুর গ্রামের হাজী কুব্বাত আলীর ছেলে মোমিন উদ্দীন ১৯৮৯ সালে ৬ হাজার টাকা ঋণ নেন। বর্তমানে তার ঋণস্থিতি রয়েছে ১১ হাজার ৭৭৪ টাকা। তারা তিনজনই রূপসা উপজেলার কৃষি ব্যাংক পূর্ব রূপসা ঘাট শাখা থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। তিনজনই ঋণ মওকুফের আওতায় আসায় তাদের মুখে আনন্দের হাসি ফুটেছে।

কুষ্টিয়া বিভাগীয় কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক উৎপল কবিরাজ জানিয়েছেন, কৃষি ব্যাংক কুষ্টিয়া জোনের আওতাভুক্ত মাগুরা, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় ঋণ মওকুফের আওতায় ২৬ হাজার ৫শ’ জন কৃষককে আনা হয়েছে। তাদের ঋণের পরিমাণ ২০ কোটি ৪৭ লাখ ৫৬ হাজার ২৫৬ টাকা। ব্যাংকের এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া ৫ জেলার কৃষকদের তালিকা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে এসব কৃষকদের ঋণমুক্ত করে কাগজপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%