০১:১৮ পি.এম
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান লাভলুর বাড়িটি ভেঙে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্বাভাবিক কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ঘূর্ণিঝড় কিংবা ভূমিকম্প নয়; বরং এক রাতের ব্যবধানে তা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
দূর থেকে দেখলে মনে হবে, এটি যেন যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার একটি বহুতল ভবনে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা ভেকু (স্কেভেটর) দিয়ে পুরো বাড়িটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে, মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে এবং শেষে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, এই ঘটনার পেছনে স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নির্দেশ রয়েছে। যদিও এমপি ও তাঁর ভাই সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি লাভলু কাজী আত্মগোপনে রয়েছেন। বাড়িতে তাঁর বৃদ্ধা মা ও স্ত্রী বসবাস করতেন।
আরও পড়ুন: শীর্ষ মাদক ডিলার গ্রেফতার: ২ বোতল ভারতীয় সিরাপ দিয়ে আদালতে সোপর্দ করলো দামকুড়া থানা পুলিশ
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৭ জুলাই রাতে লাভলু কাজীর মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় নিয়ে যেতে হয়। পরে বাড়িটি সম্পূর্ণ ফাঁকা থাকার সুযোগে একদল দুর্বৃত্ত গভীর রাতে ভেকু নিয়ে এসে পুরো বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেয়। পরে ঘরের মূল্যবান মালামাল লুটপাট করা হয় এবং শেষে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
লাভলু কাজীর স্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, "আমাদের বাড়িটি পরিকল্পিতভাবে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় এমপি আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নির্দেশেই তাঁর ভাই ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ মদদে এই তাণ্ডব চালানো হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।"
মাধবখালী এলাকায় এই ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে, কিন্তু কেউই গণমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে রাজি হননি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে সবাই নীরব ভূমিকা পালন করছেন।
এদিকে, এমপি আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহীন চৌধুরী এই ঘটনার সাথে নিজেদের জড়িত থাকার দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। শাহীন দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট জমিটি মূলত সরকারি সম্পত্তি এবং লাভলু কাজী ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর ওই জমি দখল করে অবৈধভাবে বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন।
আরও পড়ুন: রায়পুরায় বাসে পুলিশের অভিযান, ১৪০ রাউন্ড সিসা গুলিসহ নারী আটক
ঘটনার পর মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে এই ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন