প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভোলায় সামুদ্রিক ইলিশ ও অন্যান্য প্রজাতির মাছ জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনার ফলে মাছ পরিবহনের বৈধতা, অনুমতি পত্র ও সংশ্লিষ্ট আইনের প্রয়োগ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তথ্যসূত্র অনুযায়ী, ভোলার চরফ্যাশন সামরাজ থেকে তিনটি ট্রাকে সামুদ্রিক ইলিশ, কাঁকড়া সহ অন্যান্য মাছ জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন। মাছগুলোর আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। তিনটি আলাদা ট্রাকে থাকা সামুদ্রিক ইলিশ, কাঁকড়া ও অন্যান্য মাছ যাচাই-বাছাইয়ের পর একটি ট্রাক মুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে দুইটি ট্রাক থেকে ১৫৫ ও ১৬০টি কক্সসেট ভর্তি সামুদ্রিক ইলিশ, কাঁকড়া ও অন্যান্য প্রজাতির মাছ বিতরণ করা হয়েছে বিভিন্ন মাদ্রাসা, এতিমখানা ও ১ হাজারের বেশি অসহায় মানুষের মাঝে। সেই একই সময়ে, পুরো ঘটনায় মাছ পরিবহনের বৈধতা, অনুমতিপত্র ও আইনপ্রয়োগের বিষয় নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। ১২ মে রাত ১০ টার দিকে চরফ্যাশন সামরাজ এলাকা থেকে তিনটি ট্রাকে মোট ১৫৫টি ও ১৬০টি কক্সসেট ভর্তি মাছ আটক হয়েছে। পরদিন ১৩ মে কোস্ট গার্ড ও ভোলা জেলা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জব্দকৃত মাছ বিতরণ হয় বিভিন্ন এতিমখানা, লিল্লাহ বোডিং ও অসহায় মানুষের মাঝে। কিন্তু বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিতরণ হওয়া মাছ নিয়ে পরে অনিয়ম, লুট এবং লাপাত্তা হওয়ার অভিযোগ উঠে। যা নতুন করে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে। জব্দকৃত মাছের মালিকরা দাবি করছেন যে, মাছ পরিবহনের জন্য তাদের কাছে প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র ছিল। তবে মাছ বিতরণ নিয়ে অভিযোগ উঠলে ২২ জুন হাইকোর্টে অন্য পক্ষ রিট আবেদন করে। অথচ অপর পক্ষের দাবি, অনুমতিপত্র থাকা সত্ত্বেও মাছ জব্দ করা হয়েছে। ফলে এই ঘটনায় আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের নিষেধাজ্ঞার সময় কোটিপতি মাছ পরিবহনের জন্য সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অনুমতিপত্র দিতে পারেন কিনা, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরবর্তীতে ঘটনাটি নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সমস্যার সূত্রপাত হয়। ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা যেকোনো উৎস যাচাইয়ের ব্যাপারে অসুবিধার কথা জানান। চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জানান, অনুমতিপত্র দেওয়া হয়েছে কিন্তু মাছের উৎস শনাক্ত করতে কিছু সমস্যা হয়েছে। ভোলা সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মন্তব্য করেন কঠিন পরিস্থিতি সৎ কর্মকর্তাদের কাজ করতে নিরুৎসাহিত করবে। কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা জানান, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে সরকারের নিষেধাজ্ঞা ১৫ই এপ্রিল থেকে ১১ই জুন পর্যন্ত কার্যকর করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ট্রাক তল্লাশি করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন