০৬:০৭ পি.এম
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায় দীর্ঘকাল ধরে একত্রে বসবাস করে আসছে। তিনি বলেন, "আমরা সবাই ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ, শুধু যে যার যার ধর্ম পালন করছি।"
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে মোংলায় কানাইনগর ও পৌরসভায় সার্বজনীন পূজা মন্দির পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: ইসরাইল নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অধরাই
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, "আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ধর্ম যার যার, উৎসব তার তার, কিন্তু নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার রয়েছে।" তিনি বলেন, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতির এই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে যেসব উদ্যোগ ও কর্মসূচি গ্রহণ করছেন, সেগুলোর জন্য দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
সেবামূলক নানা সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ কোনো সরকারি সেবা থেকেই প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত নাগরিকরা বাদ পড়বেন না। এজন্য সমাজের সকলকে উদার মানসিকতা ধারণ করার আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া দরিদ্র নারীদের পরিবার পরিচালনার জন্য নানা ধরনের আর্থিক ও সামাজিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে, লিকুদ পার্টি এগিয়ে
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "আমি আপনাদের টাকা-পয়সা চুরি করে খাব না, যেন কেউ আমাকে চোর বলতে না পারে।"
মোংলা বন্দর ও সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার পরিবেশগত সংকট তুলে ধরে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সারাদেশের মানুষ গাছ লাগানোর চেষ্টা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, "আমাদের এই উপকূলীয় অঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।" এখানকার পরিবেশ ও মানুষের সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তিনি জানান, "আপনাদের জন্য এলাকার সব সমস্যা সমাধানে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।"
ধর্মীয় অনুভূতির সার্বজনীন গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, "প্রত্যেকটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান আসে সাম্যের বার্তা নিয়ে।" তিনি জানান, শান্তি, সম্প্রীতি ও ঐক্যবদ্ধভাবে চলাই হলো সব ধর্মের মূলমন্ত্র। তবে তিনি lament করেন, "আমরা আজকাল স্বার্থপর হয়ে গেছি, পরিবারের বাইরে চিন্তা করতে পারি না।" তিনি বলেন, এই সংকীর্ণ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। জনগণের সব প্রত্যাশা ও সমস্যা পূরণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অর্থিতা হাওলাদার, মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান, উপজেলা বিএনপি সভাপতি আ: মান্নান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, সাংগঠনিক সম্পাদক শাকির হোসেন, বিএনপি নেতা শেখ রুস্তুম আলী, বাবুল হোসেন রনি, আ: হাকিম বাচ্চু, মো. নজরুল ইসলাম, কমলা বেগম ও আয়েশা সিদ্দিকাসহ আরও অনেকে।
আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ স্থলভাগে প্রবেশ, উপকূলে তাণ্ডবের আশঙ্কা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন