বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৬:৪০ পি.এম
লালমনিরহাটের আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় টানা চার দিন ধরে রয়েছেন। ঝড়ের সময় বজ্রপাতে পল্লী বিদ্যুতের ১০ এমভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে অঞ্চলের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
গত রোববার (২৮ জুন) সময় বয়ে যাওয়া ঝড় ও বজ্রপাতে আদিতমারী-২ সাবস্টেশনের (হাজীগঞ্জ) ওই ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়ে যায়। এর ফলে দুই উপজেলার কমলাবাড়ী, পলাশী, ভেলাবাড়ী, গোড়ল, চলবলা ও দুর্গাপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে প্রায় ৯২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকায় তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে। মোবাইল ফোন চার্জ দিতে না পারায় যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ না থাকার কারণে ফ্রিজে সংরক্ষিত মাছ-মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরাও অন্ধকারে পড়াশোনা করতে পারছেনা। দ্রুত ফেলে দেওয়া ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এ ব্যাপারে আদিতমারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মুহাম্মদ আব্দুল ফাত্তাহ বলেন, ‘বজ্রপাতে ১০ এমভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমারটি বিকল হওয়ায় প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছেন। ঢাকা থেকে নতুন ট্রান্সফরমার আনা হয়েছে এবং প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।’
সার্বিক বিষয়ে আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার আলোচিত পলাশ প্রামাণিক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুই প্রধান আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ১২ জুন রাতে ধার করা টাকা নিয়ে কালিয়া হরিপুর গ্রামে জুয়েল শেখের বাড়িতে একটি সালিস বৈঠক বসেছিল। এক পর্যায়ে জুয়েল ও হৃদয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে পলাশকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে।
এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত সাত আসামির মধ্যে দুই নারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত পলাশ প্রামাণিক (২৫) কামারখন্দ উপজেলার বড়পাকুরিয়া গ্রামের পাশান প্রামাণিকের ছেলে। জবানবন্দি দেওয়া দুই আসামি হলেন সদর উপজেলার কড্ডা কৃষ্ণপুর গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে হৃদয় শেখ (২০) এবং কালিয়া হরিপুর গ্রামের দেলবার হোসেনের ছেলে মো. জুয়েল শেখ (৩১)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোহাগ জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় পলাশকে প্রথমে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল এবং পরে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ জুন ভোরে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বাবা পাশান প্রামাণিক বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। এসআই সোহাগ আরও জানান, ঘটনার রাতে অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে র্যাবের সহায়তায় ঢাকায় আত্মগোপনে থাকা মনজেলা খাতুনকে ২৯ জুন এবং প্রধান দুই আসামি হৃদয় ও জুয়েলকে ৩০ জুন জয়পুরহাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ১ জুলাই আদালতে হাজির করা হলে হৃদয় ও জুয়েল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমন কুমার কর্মকার তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। বর্তমানে গ্রেপ্তার ছয় আসামিই কারাগারে রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হলি আর্টিজান ট্র্যাজেডির দশম বছর স্মরণে আয়োজন করা একটি অনুষ্ঠানে নিহত ৭ জন জাপানি নাগরিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।
বুধবার (২ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় মেট্রোরেল প্রদর্শনী ও তথ্যকেন্দ্র (এমইআইসি) আয়োজিত স্মরণসভায় এই শ্রদ্ধা জানানো হয়।
জাইকা জানায়, নিহত সাত জাপানি নাগরিক বাংলাদেশের মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রাথমিক পরিকল্পনা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাদের অবদানেই ঢাকা মেট্রোরেলের ভিত্তি রচিত হয়। এটি বর্তমানে রাজধানীর লাখো মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং বাংলাদেশ-জাপান অংশীদারিত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো, জাইকার দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক ইয়ামাদা তেতসুইয়া, জাইকা বাংলাদেশ অফিসের মূখ্য প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো, জাপানের পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী শিমাদা তোমোআকি, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং জাপান সরকার ও দূতাবাসের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শৌগাতুল আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন.
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুর পৌরসভার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গোয়ালচামট এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতাজনিত দুর্ভোগ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।
বৃহস্পতিবার তিনি জলাবদ্ধ এলাকাগুলো ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার কারণে তাদের নিত্যদিনের ভোগান্তির বিভিন্ন দিক সংসদ সদস্যের কাছে তুলে ধরেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতার কারণে সড়ক তলিয়ে থাকায় চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে, ফলে দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।
পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেন, গোয়ালচামট এলাকার জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। এটি দ্রুত ও স্থায়ীভাবে নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন।
এ সময় ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেন, সংসদ সদস্যের এই উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে এবং তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কাতারে আটকে থাকা তহবিলের একটি অংশ দেশের প্রয়োজনীয় পণ্য কেনায় ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বুধবার বলেন, দোহায় অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান।
যুদ্ধ বন্ধে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ফলে ওয়াশিংটন এখন ইরানের জব্দ করা সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ দিতে সম্মত হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির রিপোর্ট অনুযায়ী, অর্থ ছাড় এবং তা ব্যবহারের প্রক্রিয়া বিষয়ে এখনো কিছু স্পষ্ট নয়।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, গারিবাবাদি বলেছেন, ‘কাতারের কর্মকর্তাদের, বিশেষ করে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে প্রাথমিক ছয় বিলিয়ন ডলারের একটি অংশ ব্যয়ের বিষয়ে কয়েকটি বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ‘আমাদের দেশের জানানো প্রয়োজনের ভিত্তিতে পণ্য কেনা হবে এবং তা ইরানের জন্য সরবরাহ করা হবে বলে সম্মত হয়েছে।’
গারিবাবাদি যে অর্থের কথা উল্লেখ করেছেন, সেটি ২০২৩ সাল থেকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কাতারের সীমিত ব্যবহারের হিসাবগুলোতে স্থানান্তর করা ইরানের তেল বিক্রির আয়ের একটি অংশ।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই গত মাসে বলেছেন, অবমুক্ত হওয়া অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে তেহরান নেবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহের জন্য ইরান ওই অর্থ নিজের বিবেচনায় অবাধে ব্যবহার করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জুন মাসে বলেন, চুক্তির আওতায় সেই অর্থ অবমুক্ত হয়নি। তবে অবমুক্ত হলে পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের অনুমোদন থাকবে।
তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ওই অর্থ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য কেনা হতে পারে, বিশেষ করে সয়াবিনসহ কৃষিপণ্য।
এদিকে, ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ মঙ্গলবার এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন।
তিনি জানান, ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদের মধ্যে ১২ বিলিয়ন ডলার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দেওয়া হবে, যাতে তারা বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে, যেকোনো মূল্যে এবং যেকোনো মুদ্রায় প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ