০২:৫১ পি.এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার দেওয়া ভাষণে আমেরিকাকে মানব ইতিহাসের 'সর্বোচ্চ অর্জন' হিসেবে বিবেচনা করেছেন। এই অনুষ্ঠানে তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে 'কমিউনিস্ট' আখ্যা দিয়ে আবারও আক্রমণাত্মক বক্তব্য প্রদান করেন।
বজ্রপাত ও ঝড়ের কারণে ওয়াশিংটনে সমবেত জনতাকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ায় কয়েক ঘণ্টা বিলম্বের পর ট্রাম্পের ভাষণ শুরু হয়। এতে তিনি দাবি করেন যে, তিনি প্রেসিডেন্ট থাকাকালে যুক্তরাষ্ট্র 'আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গর্বিত'।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। জাতীয় উদযাপনে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে জোরালোভাবে তুলে ধরতে ট্রাম্প বড় ধরণের সমাবেশের ঘোষণা দেন। যদিও ৮০ বছর বয়সী এই রিপাবলিকান নেতা মূলত ঐতিহ্যগত দেশপ্রেমমূলক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন।
আরও পড়ুন: সাবেক মেয়র লিটনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১৬ নভেম্বর
ন্যাশনাল মলে জড়ো হওয়া কয়েক হাজার মানুষের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, 'আড়াই শতাব্দী ধরে আমাদের আমেরিকান প্রজাতন্ত্র মানব ইতিহাসের সর্বোচ্চ অর্জন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।' মঞ্চে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, কোরীয় যুদ্ধ এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধে অংশ নেওয়া সাবেক সেনাসদস্যদের সম্মান জানান।
কিন্তু কোরীয় ও ভিয়েতনাম যুদ্ধকে তিনি 'কমিউনিস্টদের' বিরুদ্ধে লড়াইয়ের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। এর মাধ্যমে শুক্রবার রাতে মাউন্ট রাশমোর স্মৃতিস্তম্ভে দেওয়া ভাষণের একই বার্তা পুনরায় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে আমাদের যোদ্ধারা কমিউনিজমের বিরুদ্ধে লড়েছেন। শুধু যাতে সেই হুমকি আবার কুৎসিত রূপে আমেরিকাতেই ফিরে আসে, তার জন্য নয়। আমরা তা হতে দেব না।'
'আমেরিকান হতে গর্ববোধ করি' - এবার নভেম্বরের অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প এই বিষয়টি বারবার সামনে আনছেন। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিষ্ঠাবিরোধী বামপন্থি অংশ প্রাইমারি নির্বাচনে ধারাবাহিক সাফল্য পাওয়ার পর তিনি এ প্রচারণা আরও জোরদার করেন।
তিনি বলেন, 'এটা ক্যানসারের মতো। এটাকে কেটে ফেলতে হবে।' ট্রাম্প তার ভাষণে সম্প্রতি ইরান ও ভেনেজুয়েলায় চালানো সামরিক অভিযানের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটন তেহরানের সামরিক শক্তিকে 'সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে।' তবে ট্রাম্পের স্বাভাবিক ভাষণের তুলনায় এ ভাষণ ছিল সংক্ষিপ্ত এবং এর দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৪৫ মিনিট।
আরও পড়ুন: আখতার দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য বার্তা দিলেন
ভার্জিনিয়া থেকে স্ত্রী ন্যান্সিকে নিয়ে অনুষ্ঠানটিতে আসা ৭০ বছর বয়সী রিচার্ড সুলিভান বলেন, 'আমরা ট্রাম্পকে ভালোবাসি। তার ভাষণও আমাদের খুব ভালো লেগেছে।' তিনি 'ফ্রিডম ২৫০' লেখা টি-শার্ট পরেছিলেন এবং বলেন, 'তিনি আমাদের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরেছেন। এখানে উপস্থিত প্রবীণ যোদ্ধাদেরও সম্মান জানান। তিনি আমাদের আমেরিকান হতে গর্ববোধ করান।'
ভাষণ শেষে শুরু হয় বিশাল আতশবাজির প্রদর্শনী। ট্রাম্প দাবি করেছেন, এটিই হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আতশবাজির আয়োজন।
১৭৭৬ সালে ব্রিটেন থেকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে তীব্র তাপপ্রবাহ উপেক্ষা করে উৎসবে অংশগ্রহণ করেন মানুষ। দেশের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানায়, রাজধানী ওয়াশিংটনে তাপমাত্রা রেকর্ড ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছায়। চার জুলাইয়ের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ।
এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে নিউইয়র্কে আতশবাজির সময়সূচি এগিয়ে আনা হয়। ফিলাডেলফিয়ার একটি কনসার্ট এবং বোস্টনের চার্লস নদীর তীরে উদযাপন থেকেও মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়। 'অসাধারণ দেশ' - বজ্রঝড়ের আশঙ্কায় ট্রাম্পের ভাষণের কয়েক ঘণ্টা আগে ন্যাশনাল মল খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা দেখা দেয়।
আরও পড়ুন: পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণের প্রস্তাব রাশিয়াকে খাদ্যমন্ত্রীর
অনেকে বেরিয়ে যেতে শুরু করলেও, কেউ কেউ যেতে অস্বীকৃতি জানান। আবার কেউ ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। এ সময় এএফপির সাংবাদিকরা 'চার্জ!' এবং 'ট্রাম্প! ট্রাম্প!' স্লোগান শুনতে পান। তবে ট্রাম্প ভাষণ দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। তিনি ফক্স নিউজকে বলেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ডি-ডে অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন প্রবীণ সেনারা যদি বৈরী আবহাওয়া মোকাবিলা করতে পারেন, তাহলে তিনিও পারবেন।
ওয়াশিংটনের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ৬২ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা র্যান্ডি কোল বলেন, 'এই অসাধারণ দেশে আমাদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে মানুষ যে ত্যাগ স্বীকার করেছে, তার তুলনায় সামান্য গরম সহ্য করা কিছুই নয়।' তবে ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে নিজেকে এবং নিজের রাজনৈতিক পরিচয়কে তুলে ধরার ট্রাম্পের চেষ্টা তার দ্বিতীয় মেয়াদে সৃষ্টি হওয়া গভীর রাজনৈতিক বিভাজনকেই আরও স্পষ্ট করেছে। শনিবার ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল হিলের কাছে সেই বিভাজনের চিত্রও দেখা যায়। মুখোশধারী কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে জড়ো হন। তাদের কেউ কনফেডারেট পতাকা বহন করছিলেন, আবার কারও পোশাকে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী সংগঠন 'প্যাট্রিয়ট ফ্রন্ট'-এর লোগো ছিল। তারা 'রিক্লেইম আমেরিকা' স্লোগান দেন। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের কাছে ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু উদযাপনের নয়, আত্মসমালোচনারও একটি উপলক্ষ। কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে দেখা গেছে, ৬১ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে ঘোষিত আদর্শের সঙ্গে বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তবতা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন