০৫:৫০ পি.এম
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের ফকিরপাড়ায়, এলাকার ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে অন্তত ১০টি পরিবারের বসতভিটা বিলীন হয়ে গেছে। সোমবার তোলা। কালের কণ্ঠের খবর অনুযায়ী, দশানী, জিঞ্জিরাম ও ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বাড়তে শুরু করেছে। এতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নদীভাঙন। গত এক সপ্তাহের প্রবল ভাঙনে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বেশ কিছু পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। একটি ভাঙন আতঙ্কের কারণে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দারা। তাদের দাবি, ত্রাণ নয়, ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে দশানী নদী, ব্রহ্মপুত্র নদ ও জিঞ্জিরাম নদীর পানি বেড়েছে। এতে প্রবল স্রোত বইছে, এবং স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভাঙন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য এলাকার মধ্যে রয়েছে, মেরুরচর ইউনিয়নের শেখেরচর, মাইছেনির চর, ভাটি কলকিহারা, ফকিরপাড়া, খেওয়ারচর, জাগিরপাড়া, ঘুঘরাকান্দি, বেতমারী, নিলাক্ষিয়া ইউনিয়নের কুশলনগর, সাজিমারা, সাধুরপাড়া ইউনিয়নের আইড়মারী, কুতুবেরচর। এসব এলাকায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন যে, ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে শতাধিক বসতভিটা। গাছপালা ও ফসলি জমি নদীর মাঝে চলে গেছে। প্রতিনিয়ত নদীপারের মানুষ অসহায় হয়ে পড়ছেন। তারা আতঙ্কের কারণে ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন এবং খোলা জায়গায় নিরাপত্তাহীনতায় আবাসিত রয়েছেন। নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন তারা এবং এখনো সরকারি কিংবা বেসরকারি পক্ষ থেকে কোনো সহায়তা পায়নি ক্ষতিগ্রস্তরা। তবে ত্রাণ নয়, নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চাচ্ছেন তারা। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কলকিহারা গ্রামের জিনেত আলী, শাহ কামাল, হোসেন মণ্ডল জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরে সাতবার নদীভাঙনের কবলে পড়েছেন তারা। বসতবাড়ি, ফসলি জমি এখন নদীর পানির নিচে। এবারের ভাঙনে ঘরবাড়ি টেনেটুনে তোলার স্থানও নেই। তাদের অনেকেই খোলা জায়গায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নদীভাঙন নিয়ে কথা হয় উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের ফকিরপাড়া গ্রামের বিল্লাল, কালাম, মজমত, শরফত আলী, জাগিপাড়া গ্রামের আবদুল কুদ্দুস, শেখেরচর গ্রামের আতিকুর রহমান ও কুশলনগর গ্রামের মীর কাসেমের সঙ্গে। তারা জানান, পানি কমার সময়েও নদী ভাঙে, এবং বাড়ার সময়েও ভাঙন চলে। এ পর্যন্ত তারা তিন-চারবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন। এবারো আবার ভাঙনের কবলে পড়েছেন। তারা জানাচ্ছেন, ত্রাণের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান হবে না, তাদের দরকার নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান। স্থানীয় মেরুরচর হাছেন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের ভাষ্য, ‘নদী ভাঙলে মানুষ যে কতটা অসহায় হয়ে পড়ে, তা নিজের চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘পাঁচ-সাতবার করে অনেকের বসতভিটা নদীতে চলে গেছে। জায়গা-জমি সব নদীতে। তাদের ছেলে-মেয়ে এখন খোলা জায়গায় বসবাস করছেন। এলাকার জনগণ ভাঙনের স্থায়ী সমাধান চায়।’ মেরুরচর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মঞ্জু জানিয়েছেন, ‘নদীভাঙনে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মেরুরচর ইউনিয়নের মানুষ। বর্তমানে নদীতে পানি বাড়ছে, ফলে ভাঙন বেড়ে যাচ্ছে। দ্রুত ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ শুরু করবে বলে জানতে পেরেছি। পাশাপাশি, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। বরাদ্দ অনুযায়ী তাদের সহায়তা করা হবে।’ নিলাক্ষিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান জানিয়েছেন, ‘সাজিমারা ও কুশলনগর এলাকায় বেশ কিছু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীতে চলে গেছে ফসলি জমি ও গাছপালা। এলাকাবাসী স্থায়ী সমাধান চায়।’ বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন জানিয়েছেন, ‘নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করা হবে। নদীভাঙনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং তারা ব্যবস্থা নেবেন।’ জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান খানের ভাষ্য, ‘বাঙালপাড়া ও ঘুঘরাকান্দি এলাকায় ভাঙন রোধে কাজ চলমান। ভাঙনকবলিত এলাকার তালিকা রয়েছে, দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন