প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কোনো ব্যক্তি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের কোনো স্থাবর নিদর্শনের ক্ষতিসাধন করলে তাকে অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। আর যদি জাদুঘরের কোনো অস্থাবর নিদর্শন চুরি, পাচার বা নষ্ট করা হয়, সেক্ষেত্রে অপরাধীর জন্য অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ড অথবা পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডের বিধান রয়েছে।
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন ২০২৬’-এ এমন বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ আইনটির প্রণয়ন করা হয়েছে ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল। তার মধ্যে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, নিদর্শন ও দলিলাদি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার জন্য এ আইন তৈরি হয়েছিল।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর গত ৫ আগস্ট উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের পর থেকেই সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উদ্বোধিত সেই ঐতিহাসিক জাদুঘর আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইনের ৪ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, জাদুঘরের প্রধান কার্যালয় ঢাকা শহরের গণভবনে স্থাপিত হবে। আইন অনুযায়ী ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে যে সকল গোপন কারাগারে মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেগুলোকে জাদুঘর হিসেবে ঘোষণা, সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের অধিকার জাদুঘরের থাকবে। যদি কোনও গোপন কারাগার কোনো সংস্থার অধীনে থাকে, তাহলে সেই সংস্থাকে তা বর্তমান অবস্থাতেই জাদুঘরের কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য থাকতে হবে এবং মানবতাবিরোধী কারাগারসমূহ জাদুঘরের শাখা জাদুঘর হিসেবে পরিচালিত হবে।
আইনের ৫ ধারায় বলা হয়েছে, জাদুঘরের কার্যাবলির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে- জুলাই গণঅভ্যুত্থান, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ও পলায়ন সম্পর্কিত ঐতিহাসিক নিদর্শন ও স্মৃতিচিহ্ন, পূর্ববঙ্গের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত নিদর্শন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিরোধী কার্যক্রম এবং ফ্যাসিবাদের উত্থান সংক্রান্ত স্মৃতিচিহ্ন, প্রামাণ্য দলিল এবং সংশ্লিষ্ট বস্তু ও নিদর্শন অনুসন্ধান, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রদর্শন।
আইনের ১৫ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, জাদুঘরের পর্ষদের সুপারিশ ও সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে প্রদর্শন ও সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বা অন্য কোনো জাদুঘর অথবা কোনো ব্যক্তির সাথে জুলাই অভ্যুত্থানের নিদর্শন স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বিনিময় অথবা উপহার প্রদান ও গ্রহণ করতে পারবে। তবে, এই বিনিময়, উপহার প্রদান বা গ্রহণের জন্য চুক্তি সম্পাদন করা আবশ্যক।
আইনের ১৬ ধারায় বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট কোনো নিদর্শন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে রয়েছে কিনা, এ ব্যাপারে বিশ্বাস করার যুক্তিগ্রাহ্য কারণ থাকলে মহাপরিচালক বা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মচারী উক্ত স্থান পরিদর্শন করতে পারবেন এবং এ আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।
জাদুঘরে প্রবেশাধিকার বিষয়ে আইনের ১৭ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, জাদুঘরে প্রবেশের জন্য পর্ষদ কর্তৃক নির্ধারিত প্রবেশমূল্যের বিনিময়ে জনগণের প্রবেশাধিকার থাকবে।
আইনের ২২ ধারায় স্থাবর নিদর্শন ধ্বংস বা বিনষ্টের বিষয়ে বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি জাদুঘরের কোনো স্থাবর নিদর্শন বা তার কোনো অংশবিশেষ ধ্বংস, বিনষ্ট, পরিবর্তন বা ক্ষতিসাধন করেন, তবে এটি অপরাধ গণ্য হবে। এর জন্য তাকে অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।
আইনের ২৩ ধারায় নির্ধারিত হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি জাদুঘরের কোনো অস্থাবর নিদর্শন চুরি, পাচার, ধ্বংস, বিনষ্ট, পরিবর্তন বা ক্ষতিসাধন করে, তবে সেটিও অপরাধ হবে এবং সেজন্য তাকে অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
অন্যদিকে, ২৪ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি জাদুঘরের সংগৃহীত বা নিবন্ধিত কোনো নিদর্শনের উপর খোদাইকরণ, লিখন, লিপি উৎকীর্ণ বা স্বাক্ষর করেন, তাহলে এটি অপরাধ হবে এবং তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা অনধিক এক বছরের কারাদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
আইনের ২৫ ধারায় বলা হয়েছে, যদি জাদুঘরের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এই ধারায় উল্লেখিত অপরাধসমূহের দায়ে অভিযুক্ত হন, তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত দণ্ডের পাশাপাশি শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে বিভাগীয় কার্যক্রম গ্রহণের ব্যবস্থা করা যাবে। এ ক্ষেত্রে আদালতে মামলা চলমান থাকলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন