মোঃ উজ্জ্বল মিয়া, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি
০৯:০৮ পি.এম
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের লেটিরকান্দা গ্রামে পৈতৃক ভিটা ও জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতে পৃথক দুটি মামলা করেছেন মো. খায়রুল ইসলাম (৪৮)। জমি দখল, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দায়ের করা এসব মামলায় জয়নাল, মোফাজ্জল হোসেন, আবুল বাশার, সেলিম ও দুলাল মিয়াসহ কয়েকজনকে বিবাদী করা হয়েছে।
মামলার আরজি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর জীবিকার প্রয়োজনে দীর্ঘদিন গ্রামের বাইরে ছিলেন খায়রুল ইসলাম। সম্প্রতি পৈতৃক ভিটায় বসবাসের উদ্দেশ্যে গ্রামে ফিরলেও বিরোধের কারণে সেখানে বসবাস করতে পারেননি। বর্তমানে তিনি অন্যত্র চার শতক জমি কিনে বসবাস করছেন।
খায়রুলের অভিযোগ, ১৯৮৮ সালে জয়নাল গং ৯১৬ দাগের ১২ শতক ফসলি জমি কিনলেও পরবর্তীতে ৯১৩ দাগের প্রায় ২৩ শতক পৈতৃক ভিটা দখল করে রাখেন। ওই জমিতে থাকা তাঁর বাবা-মায়ের কবরের আশপাশে গরু-ছাগল বেঁধে রাখার অভিযোগও করেন তিনি।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, পৈতৃক ভিটায় ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিলে জয়নাল, মোফাজ্জল হোসেন, আবুল বাশার ও দুলাল মিয়াসহ কয়েকজন তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে মারধর করেন। এ ঘটনায় প্রথম মামলাটি করেন তিনি। পরে মামলা প্রত্যাহারের জন্য জয়নাল ও সেলিমসহ কয়েকজন তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন—এমন অভিযোগে নিরাপত্তা চেয়ে দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করা হয়।
খায়রুল ইসলাম বলেন, “বাবা-মায়ের রেখে যাওয়া ভিটায় শেষ বয়সটা শান্তিতে কাটাতে চাই। ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতেই আইনের আশ্রয় নিয়েছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. সেলিম মিয়া। তিনি বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। দলিলে কিছু ভুলত্রুটি ছিল। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও খায়রুল ইসলাম বসতে রাজি হননি।”
মামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের অপেক্ষায় রয়েছেন বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ জানিয়েছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে সংরক্ষিত নথি ও স্মারক ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সংঘাতময় ঘটনাগুলোর সাক্ষ্য বহন করে। তিনি এই মন্তব্যটি জুলাই জাদুঘর পরিদর্শনের পর করেছেন।
আজ, সুসান ভাইজের নেতৃত্বে ইউনেস্কো বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন করে। প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ।
পরিদর্শনের সময়, ইউনেস্কো প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মহাপরিচালকের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময়, এহসান মাহমুদ শিক্ষা, গবেষণা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে ইউনেস্কোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এহসান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা জুলাই জাদুঘরকে শুধু পরিদর্শনের জায়গা হিসেবে নয়, বরং ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ কাজ এগিয়ে নিতে ইউনেস্কোর সঙ্গে আমরা যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী।’
জুলাই জাদুঘরের গ্যালারিগুলো পরিদর্শন শেষে, সুসান ভাইজ মন্তব্য করেন, ‘জাদুঘরটিতে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও স্মারক সংগ্রহ দেখানো হয়েছে, যা ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টের সংঘাতময় ঘটনাগুলোর সাক্ষ্য বহন করে।’
তিনি আরো বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন এবং স্বজন হারিয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এসব দলিল যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা উচিত।’
এ সময় ইউনেস্কো বাংলাদেশের শিক্ষা বিভাগের প্রধান নরিহিদি ফুরুকাওয়া এবং সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান কিযী তাহনিন উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ : কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ মন্তব্য করেছেন যে, দেশের খাদ্য উৎপাদনকে ব্যাহত না করে চরাঞ্চল, লবণাক্তপ্রবণ এলাকা, খরাপ্রবণ অঞ্চল এবং অন্যান্য কম ফসলি জমিতে তুলা চাষের পরিমাণ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি দেশের তুলার মানের প্রশংসা করে বলেন, তুলা উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সুনির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি এবং বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।
আজ বিশ্ব তুলা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর খামারবাড়িস্থ তুলা ভবনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের সীমিত কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রেখে কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণ এবং রপ্তানি বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এজন্য যেসব এলাকায় প্রচলিত খাদ্যশস্য উৎপাদন তুলনামূলক কম, সেখানে তুলাসহ বিকল্প ফসলের আবাদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, কৃষি গবেষণা এবং উদ্ভাবনের কোনো বিকল্প নেই। কম জমিতে বেশি উৎপাদন, উন্নতমানের পণ্য এবং উৎপাদন খরচ কমানোর মাধ্যমে কৃষিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা সম্ভব। গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প এবং বিনিয়োগে সরকার সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে প্রকল্পের উদ্দেশ্য কার্যকর এবং লাভজনক উৎপাদন নিশ্চিত করা হতে হবে।
মন্ত্রী রঙিন তুলার সম্ভাবনা তুলে ধরে বলেন, প্রাকৃতিকভাবে রঙিন তুলা উৎপাদন করা গেলে কাপড় তৈরিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক রং ব্যবহারের প্রয়োজন কমে যাবে। পরিবেশবান্ধব এবং রাসায়নিকমুক্ত পণ্যের বিশ্ববাজারে চাহিদা রয়েছে।
তুলা উৎপাদন সম্প্রসারণের জন্য বিস্তারিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে তুলার উৎপাদন ৫ লাখ বেলে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রতিবছর কত জমিতে আবাদ বাড়ানো হবে, কোন কোন এলাকায় নতুন করে তুলা চাষ সম্প্রসারণ করা হবে এবং কতজন কৃষককে সম্পৃক্ত করা হবে-এসব তথ্য সুনির্দিষ্টভাবে পরিকল্পনায় উল্লেখ থাকতে হবে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সলিম খান এবং সম্মানীয় অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির মহাসচিব অধ্যাপক এএসএম গোলাম হাফিজ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ : স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রতিনিধিদল।
আজ সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর অফিসকক্ষে তারা সাক্ষাৎ করেন।
এসময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ কার্যালয়ের আন্তর্জাতিক পরামর্শক ড. ফ্রান্সিসকো কাটায়ামা ও প্রফেসর ড. আবুল কালাম এবং লিয়াজোঁ ও কো-অর্ডিনেশন কর্মকর্তা মো. মোহাসিন আজাদ উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে, প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। তিনি স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, প্রান্তিক পর্যায়ে জনগণের জন্য মানসম্মত ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিদের অবহিত করেন।
এসময় বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের বর্তমান চাহিদা, ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার এবং সরকারের পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন সহযোগিতা কৌশল প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষের আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং উদ্যোক্তা অ্যাডভোকেট মো. মোস্তাফিজুর রহমান তার উদ্যোগে ইবি ও স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাস সংলগ্ন আইইএলটিএস প্ল্যাটফর্ম নিয়ে এসেছেন। ঢাকায় গিয়ে সময় ও বিপুল অর্থের অপচয় রোধ করতে, তার পরিচালিত আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও ভিসা কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান goingFly (গোয়িং ফ্লাই)-এ এখন বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন শেখপাড়াতেই আন্তর্জাতিক মানের আইইএলটিএস (IELTS) এবং ফাউন্ডেশন ইংলিশ শেখার পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু হতে যাচ্ছে।
আগামী ১১ অক্টোবর (রোববার) বিকাল ৪ টায় goingFly-এর শেখাপাড়া ব্রাঞ্চে এই বিশেষ আইইএলটিএস প্রিপারেশন কোর্সের উদ্বোধনী ক্লাসের ঘোষণা দিয়েছেন উদ্যোক্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনও আয়োজন করা হয়েছে।
আইনজীবী ও উদ্যোক্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান তার ছাত্রজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন শেখপাড়া এলাকার শিক্ষার্থীদের প্রধান সমস্যা ছিল তথ্যের ঘাটতি এবং ভালো পরামর্শের অভাব। অধিকাংশ শিক্ষার্থী অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে আইইএলটিএস ও উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির জন্য ঢাকায় চলে যায়, যার ফলে তাদের এনার্জি ও বহুমূল্য সময় নষ্ট হয়। নিজ এলাকার শিক্ষার্থী ও অনুজদের প্রতি এই সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং উদ্যোক্তা মানসিকতা থেকেই goingFly-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ সেবাকে সরাসরি হাতের নাগালে নিয়ে আসা হয়েছে।
ঢাকার শীর্ষস্থানীয় প্ল্যাটফর্মে দীর্ঘদিন সফলভাবে ক্লাস নেওয়া অভিজ্ঞ শিক্ষকবৃন্দ সরাসরি শেখপাড়ায় ক্লাস পরিচালনা করবেন। এর মধ্যে প্রধান মেন্টর হিসেবে থাকবেন মাহাদুর রহমান, যিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় ক্লাস নেওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
শেখপাড়াতে পেপার বেসড পরীক্ষা বন্ধ হয়ে অনলাইন ও কম্পিউটার ভিত্তিক পরীক্ষা চালু হওয়ায়, রূপান্তরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক কম্পিউটার সেটআপ প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এই উদ্যোক্তা জানান, আইইএলটিএস কোর্স (১৫,০০০ টাকা), ফাউন্ডেশন ইংলিশ (৫,০০০ টাকা) এবং মক টেস্ট (৫,০০০ টাকা)—সব মিলিয়ে ২৫,০০০ টাকার অল-ইন-ওয়ান প্যাকেজটি উদ্বোধনী দিনসহ আগামী ৩ দিনের মধ্যে ফ্রি ভর্তি হলে পাওয়া যাবে মাত্র ১০,০০০ টাকায়। ৩ মাসের কোর্স সম্পন্ন করার পর কোনো শিক্ষার্থী যদি তার দক্ষতার কোনো উন্নতি দেখতে না পায়, তবে সম্পূর্ণ কোর্স ফি ফেরত দেওয়া হবে।
তিনি জানান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ফি-তে বিশেষ সুবিধা এবং goingFly-এর সৌজন্যে ফ্রি প্রসেসিং ও ব্যাংক স্পন্সরশিপের দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। মূলত প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক চিন্তাভাবনা না, এটি সম্পূর্ণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে এই যাত্রা শুরু। সবার সহযোগিতা কামনা করছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ