বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৩:৪৪ এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যদি চীন ইরানকে শত শত কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করে, তবে এটি হবে অত্যন্ত বিস্ময়কর এবং এটি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দেয়া আশ্বাসের বিপরীত। স্থানীয় সময় বুধবার (২৯ জুলাই) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন।
পাকিস্তানের মাধ্যমে চীন থেকে ইরানে ৪০০টি কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানো হতে পারে—এমন প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি বিস্ময়কর হবে। এমন ঘটনা ঘটতে পারে, কিন্তু এটি সত্যিই বিস্ময়কর হবে।’
ট্রাম্প দাবি করেছেন, উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করেছেন যে চীন এ ধরনের কোনো পদক্ষেপে অংশ নেবে না।
তিনি বলেন, ‘শি আমাকে খুব জোর দিয়ে বলেছিলেন যে তিনি এতে অংশ নেবেন না। আর তিনি জানেন, এমনটি হলে আমি খুবই হতাশ হব।’
একই সময় ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন। মিশরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর দামিয়েত্তায় বিস্ফোরণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাকে অবহিত করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির সমাধান হয়ে যাবে।
এরপর ইরানকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে হামলা চালাব, কারণ এবার আমাদের পালা। তারা জানে এটি আসছে।’
তবে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। ট্রাম্প বলেন, ‘দেখা যাক, কোনো একসময় আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারি কি না।’
এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরান চীনে তৈরি কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র (ম্যানপ্যাডস) উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার প্রথম চালান পেতে পারে। ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এটি ইরানের অন্যতম বড় অস্ত্র ক্রয় উদ্যোগ।
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ৬০ থেকে ৭০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই চুক্তির আওতায় ইরান ৩০০ থেকে ৪০০টি মানব বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (ম্যানপ্যাডস) কিনবে। এর মধ্যে চীনের তৈরি কিউডব্লিউ-১২ এবং এফএন-১৬ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাও রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ঝংছিং বাওশাং ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট এ চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। প্রতিষ্ঠানটি ইরান ও চীনা অস্ত্র সরবরাহকারীদের মধ্যে সমন্বয় করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
এ বৈঠকটি যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ সামরিক হামলার পর অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকে ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর একাধিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই背景ে এই বৈঠকের অধিবেশন আয়োজন করা হলো।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক জানাচ্ছে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু সূত্র জানা গেছে। প্রিন্স খালিদ গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু সফরটি কিছু কারণে পিছিয়ে দেওয়া হয়।
ওয়াশিংটনে প্রিন্স খালিদ খুবই সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থান করেন এবং বৈঠক শেষে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন।
সূত্রগুলো জানাচ্ছে, বৈঠকে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং ভ্যান্স যৌথ হামলা কীভাবে হয়েছে, সৌদি অবকাঠামোর ওপর হামলার জবাব এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। প্রিন্স খালিদ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের একটি বার্তা ভ্যান্সের কাছে পৌঁছান। অপর একটি সূত্র সিএনএনকে নিশ্চিত করে জানায় যে, চলমান যুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়ে সৌদি আরবের অবস্থান তুলে ধরাও এই সফরের লক্ষ্য ছিল।
সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরবের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান উত্তেজনা বাড়িয়ে কৌশলগত সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করতে পারে, আর এজন্য তারা ইরাকের ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া ও ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীকে ব্যবহার করতে পারে।
সৌদি আরব মনে করে যে, হুতি ও ইরাকি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক প্রতিক্রিয়া বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলাকে ‘লাল রেখা’ হিসেবে স্থির করতে এবং এর জবাব দেওয়া নিশ্চিত করবে। তা সত্ত্বেও, রিয়াদ এখনও উত্তেজনা কমানোর পক্ষে রয়েছে। তারা প্রকাশ্যভাবে এ বার্তা দিয়েছে যে, এই সংঘাত ইরানের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর যুদ্ধ নয় এবং তাদের এ বিষয়কে থেকে দূরে থাকা উচিত।
রয়টার্স এবং আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরবের যৌথ হামলায় পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) নামের গোষ্ঠীটির অন্তত ২০ জন যোদ্ধা নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হন।
একই সময়ে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে আকস্মিক হামলা চালায় ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এ হামলার জন্য ইরানকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে।
এদিকে, মিশরের দামিয়েত্তা বন্দরের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালে একটি গ্যাস সংরক্ষণ ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে। এতে জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং এরপর সেই আগুন পাশের আরেকটি গ্যাসবাহী জাহাজেও ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যামব্রে জানিয়েছে, বুধবার (২৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন ভাসমান গ্যাস সংরক্ষণ ট্যাংকার, যার নাম এনারগোস উইন্টার, উক্ত ড্রোনের আঘাতের শিকার হয়। হামলার পর জাহাজে আগুন লাগে এবং এটি পরে গ্যাসলগ সালেম নামের আরেকটি জাহাজে ছড়িয়ে পড়ে।
বন্দরসেবা প্রতিষ্ঠান ইঞ্চকেপ পৃথক একটি বার্তায় জানিয়েছে, দামিয়েত্তা বন্দরে দুটি গ্যাসবাহী ট্যাংকারে আগুন লাগার খবর নিশ্চিত করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীও সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা করেছে। তবে এর আগে মিশর ইরান-সংশ্লিষ্ট কোনো ড্রোন হামলার শিকার হয়নি বলে জানা গেছে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন, আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বিপদে-আপদে খোঁজ নেওয়া এবং তাদের আগলে রাখার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন।
সেই ধারাবাহিকতায়, এবারে অসুস্থ যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়নের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে সরাসরি যোগাযোগ করেছেন দলের এই শীর্ষ নেতা। এই ঘটনায় মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন এক আবেগের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে, নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টে নয়ন জানান, একটি ফোন কলেই বদলে যায় তার সকালটা। বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পর ওপাশ থেকে ভেসে আসে চিরচেনা সেই স্নেহভরা কণ্ঠ।
নয়ন শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর শুনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি রক্তে ইনফেকশন এবং প্লাটিলেট কমে যাওয়ার কারণে নয়নের শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য যথাযথ চিকিৎসা ও সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেন।
ফেসবুক পোস্টে নয়ন লেখেন, আমি আপ্লুত, কারণ আমার মতো একজন ক্ষুদ্র কর্মীর অসুস্থতার খোঁজ খবর তিনি নিলেন। এর পাশাপাশি সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। আমাদের সৌভাগ্য, আমরা তার মতো মহান নেতা পেয়েছি। আপনাদের জনাব তারেক রহমানের প্রতি আস্থা রাখতে হবে, তিনি সকলকে আগলে রাখবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বের কোলাহলময় সড়ক থেকে শুরু করে রাজনীতির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু—একজন নারীর জন্য পৃথিবীর রূপ কেমন? তিনি কি সেখানে অবাধে নিঃশ্বাস নিতে পারেন, নাকি প্রতিনিয়ত তাকে মুখোমুখি হতে হয় সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত বাধার? জাতিসংঘের সহায়তায় প্রকাশিত জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি (ডব্লিউপিএস) সূচকের ২০২৫-২৬ সংস্করণের নতুন প্রতিবেদন আবার সেই পুরোনো সত্যকেই সামনে এনেছে। মানচিত্রের ভৌগোলিক বিভাজনে নারীদের জীবনের গল্প সম্পূর্ণ আলাদা।
যেখানে উত্তর ইউরোপের হিমশীতল হাওয়ায় ভর করে নর্ডিক দেশগুলো তৈরি করেছে নারীদের অবাধ স্বাধীনতার স্বর্গরাজ্য, সেখানে এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক অঞ্চলে নারীদের বাঁচতে হচ্ছে কেবলই টিকে থাকার সংগ্রাম নিয়ে।
এই বৈশ্বিক মূল্যায়ন ১৮১টি দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি, ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার ১৩টি স্পর্শকাতর মাপকাঠিতে তৈরি করা হয়েছে। নর্ডিক অঞ্চলের দেশগুলো বরাবরের মতোই শীর্ষ পাঁচটি স্থান দখল করে রেখেছে। ০.৯৩৯ স্কোর নিয়ে তালিকায় সবার শীর্ষে ডেনমার্ক অবস্থান করছে। ঠিক তার পরপরই অবস্থান করছে আইসল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন ও ফিনল্যান্ড। শীর্ষ দশে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে লুক্সেমবার্গ, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়া ও নিউজিল্যান্ড।
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধে জর্জরিত দেশগুলো তালিকার ঠিক বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। ডেনমার্কের প্রাপ্ত স্কোরের তিন ভাগের এক ভাগ স্কোর নিয়ে তালিকার তলানিতে রয়েছে আফগানিস্তান। আফগানিস্তানের পাশাপাশি সংঘাতপূর্ণ ইয়েমেন, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, সিরিয়া, সুদান ও মিয়ানমারের মতো দেশগুলোতে নারীদের প্রতিদিন লড়াই করতে হচ্ছে বেঁচে থাকার ন্যূনতম নিরাপত্তার জন্য। সূচকটির তথ্য অনুযায়ী, তালিকার একদম নিচে থাকা দেশগুলোর ৭০ শতাংশের বেশি নারী সশস্ত্র সংঘাতময় এলাকার মাত্র ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে বাস করেন।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫৫তম (স্কোর ০.৫২৬)। এই অঞ্চলে বাংলাদেশের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে কেবল পাকিস্তান (১৬৯) ও মিয়ানমার (১৭২)। অন্যদিকে ভারত (১৩১) ও নেপাল (১২০) কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। এশিয়ায় নারীদের নিরাপদ বসবাসের দিক থেকে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সিঙ্গাপুর (১৭তম), জাপান (২২) ও তাইওয়ান (২৭)।
উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থানের সমতা, আইনি সুরক্ষা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় নারীদের অভাবনীয় অংশীদারত্বই মূলত নর্ডিক দেশগুলোকে শীর্ষ স্থানগুলোতে টিকিয়ে রেখেছে। ডব্লিউপিএস সূচক কেবল নারী-পুরুষের ব্যবধানকে মাপে না; বরং এটি স্পষ্ট বার্তা দেয়—যে দেশ নারীদের জন্য যত বেশি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক, সামগ্রিকভাবে সেই দেশের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ভিত্তি ততটাই মজবুত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিয়ানমার বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এই তথ্য জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। এছাড়া, মিয়ানমার মালয়েশিয়া থেকেও ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেবে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের সূত্রে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানায়, আনোয়ার ইব্রাহিম এই চুক্তিকে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট সমাধানের জন্য এবং মালয়েশিয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত রাখার ক্ষেত্রে একটি প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ বলে ওদের ফেরত পাঠাও, ফেরত পাঠাও। কিন্তু পাঠাব কোথায়? মিয়ানমার তো ওদের নিতে চায়নি। এই কারণেই মিয়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা জরুরি। এখন তারা প্রথমে ৫ হাজার জনকে নিতে সম্মত হয়েছে।’
এছাড়া, আনোয়ার ইব্রাহিম আরও জানান, মিয়ানমার বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাসকারী প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গাকেও ফেরত নিতে রাজি হয়েছে। তবে তিনি এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা উল্লেখ করেননি।
সম্প্রতি পেনাং রাজ্যের একটি আবাসন ছেড়ে শতাধিক রোহিঙ্গা কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) অফিসের সামনে জড়ো হওয়ার কয়েক দিন পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দিলেন। পরবর্তীতে রোহিঙ্গাদের ওই দলটিকে কুয়ালালামপুর, সেলানগোর ও পেনাংয়ের বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করে মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ।
আনোয়ার ইব্রাহিম জোর দিয়ে বলেন যে, এই আঞ্চলিক শরণার্থী সংকটের একটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের উদ্দেশ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চলতে থাকবে মালয়েশিয়া।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গা সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য, নির্যাতন ও নাগরিকত্বহীনতার শিকার হয়ে আসছে। চরম দুর্দশা থেকে বাঁচতে তারা প্রায়শই বিপজ্জনক সমুদ্রপথে অন্যান্য দেশে পালানোর চেষ্টা করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ