প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বের কোলাহলময় সড়ক থেকে শুরু করে রাজনীতির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু—একজন নারীর জন্য পৃথিবীর রূপ কেমন? তিনি কি সেখানে অবাধে নিঃশ্বাস নিতে পারেন, নাকি প্রতিনিয়ত তাকে মুখোমুখি হতে হয় সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত বাধার? জাতিসংঘের সহায়তায় প্রকাশিত জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি (ডব্লিউপিএস) সূচকের ২০২৫-২৬ সংস্করণের নতুন প্রতিবেদন আবার সেই পুরোনো সত্যকেই সামনে এনেছে। মানচিত্রের ভৌগোলিক বিভাজনে নারীদের জীবনের গল্প সম্পূর্ণ আলাদা।
যেখানে উত্তর ইউরোপের হিমশীতল হাওয়ায় ভর করে নর্ডিক দেশগুলো তৈরি করেছে নারীদের অবাধ স্বাধীনতার স্বর্গরাজ্য, সেখানে এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক অঞ্চলে নারীদের বাঁচতে হচ্ছে কেবলই টিকে থাকার সংগ্রাম নিয়ে।
এই বৈশ্বিক মূল্যায়ন ১৮১টি দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি, ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার ১৩টি স্পর্শকাতর মাপকাঠিতে তৈরি করা হয়েছে। নর্ডিক অঞ্চলের দেশগুলো বরাবরের মতোই শীর্ষ পাঁচটি স্থান দখল করে রেখেছে। ০.৯৩৯ স্কোর নিয়ে তালিকায় সবার শীর্ষে ডেনমার্ক অবস্থান করছে। ঠিক তার পরপরই অবস্থান করছে আইসল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন ও ফিনল্যান্ড। শীর্ষ দশে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে লুক্সেমবার্গ, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়া ও নিউজিল্যান্ড।
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধে জর্জরিত দেশগুলো তালিকার ঠিক বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। ডেনমার্কের প্রাপ্ত স্কোরের তিন ভাগের এক ভাগ স্কোর নিয়ে তালিকার তলানিতে রয়েছে আফগানিস্তান। আফগানিস্তানের পাশাপাশি সংঘাতপূর্ণ ইয়েমেন, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, সিরিয়া, সুদান ও মিয়ানমারের মতো দেশগুলোতে নারীদের প্রতিদিন লড়াই করতে হচ্ছে বেঁচে থাকার ন্যূনতম নিরাপত্তার জন্য। সূচকটির তথ্য অনুযায়ী, তালিকার একদম নিচে থাকা দেশগুলোর ৭০ শতাংশের বেশি নারী সশস্ত্র সংঘাতময় এলাকার মাত্র ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে বাস করেন।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫৫তম (স্কোর ০.৫২৬)। এই অঞ্চলে বাংলাদেশের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে কেবল পাকিস্তান (১৬৯) ও মিয়ানমার (১৭২)। অন্যদিকে ভারত (১৩১) ও নেপাল (১২০) কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। এশিয়ায় নারীদের নিরাপদ বসবাসের দিক থেকে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সিঙ্গাপুর (১৭তম), জাপান (২২) ও তাইওয়ান (২৭)।
উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থানের সমতা, আইনি সুরক্ষা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় নারীদের অভাবনীয় অংশীদারত্বই মূলত নর্ডিক দেশগুলোকে শীর্ষ স্থানগুলোতে টিকিয়ে রেখেছে। ডব্লিউপিএস সূচক কেবল নারী-পুরুষের ব্যবধানকে মাপে না; বরং এটি স্পষ্ট বার্তা দেয়—যে দেশ নারীদের জন্য যত বেশি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক, সামগ্রিকভাবে সেই দেশের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ভিত্তি ততটাই মজবুত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন