বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৭:০৬ পি.এম
পাকিস্তানের সরকার দেশি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর কঠোর নতুন বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে।
পারস্পরিকভাবে, সাংবাদিকদের ওপর নতুন করে দমন-পীড়নও চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মানুষের অধিকার রক্ষা করতে কাজ করা মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় সাংবাদিকদের মতে, এই পদক্ষেপ দেশটিতে স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্যতম শেষ পথটিও সংকুচিত করে দেবে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান স্বাধীন সাংবাদিকতার পথগুলো বন্ধ করে দিতে ব্যাপক নতুন দমনপীড়ন শুরু করেছে। সরকার যে নতুন বিধি-নিষেধ জারি করেছে, এর ফলে বিদেশি সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের পাকিস্তানের তিনটি প্রধান শহরের বাইরে ভ্রমণের জন্য এখন থেকে সরকারি অনুমতি নিতে হবে।
সম্প্রতি বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের নির্বাচন কভার করার হার বৃদ্ধির ফলে এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। বিতর্কিত এই অঞ্চলে রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে গত জুন মাসের শুরু থেকে বিক্ষোভকারীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
দেশটির একটি শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা এক বিবৃতিতে জানায়, দেশে সাংবাদিকদের সরকারি অনুমোদন নেওয়ার এই শর্ত ভয়ঙ্কর একটি বার্তা দেয়। এর অর্থ সরকার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর প্রতিবেদনকে স্বাগত জানায় না। বিশেষ করে কাশ্মীরে চলমান অসন্তোষ নিয়ে রিপোর্ট করা পাকিস্তানি সাংবাদিকরা এই নতুন নিয়মের ফলে তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন।
নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ‘কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস’-এর তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ১ অগাস্ট দুই স্বাধীন সাংবাদিককে আটক করা হয় এবং তাদের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। একইভাবে, পাকিস্তানের সংবাদ সংস্থায় কাজ করা বেশ কয়েকজন সাংবাদিক অভিযোগ করেছেন, ‘ভুয়া ও মিথ্যা তথ্য’ ছড়ানোর অভিযোগ তুলে তাদের প্রতিবেদনের জন্য আদালতে তলব করা হয়েছে। সর্বশেষ গত রবিবার পাকিস্তান সরকার আলজাজিরার হয়ে কাজ করা এক স্থানীয় সাংবাদিকের প্রতিবেদনের সমালোচনা করে। তিনি সাম্প্রতিক কাশ্মীরের প্রাদেশিক নির্বাচন কভার করছিলেন।
এদিকে, পাকিস্তান বিদেশি সংবাদমাধ্যমে কাজ করা সকল সাংবাদিককে অবিলম্বে কাশ্মীর এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার সঙ্গে কাজ করা যে কোনো সাংবাদিককে রাজধানী ইসলামাবাদ এবং করাচি ও লাহোর ছাড়া অন্য যেকোনো স্থান থেকে প্রতিবেদন করার জন্য সরকারিভাবে অনুমোদন নিতে হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সিনিয়র সহযোগী এশিয়া ডিরেক্টর প্যাট্রিসিয়া গোসম্যান বলেছেন, পাকিস্তানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা ইতোমধ্যে সংকুচিত ছিল। এর মাঝে সাংবাদিকদের নতুন বিধি-নিষেধ একটি উদ্বেগজনক পদক্ষেপ। কারণ দেশে বিদেশি সংবাদমাধ্যমে কাজ করা সাংবাদিকদের কেবল তিনটি শহরের ভিতরেই চলাচল সীমাবদ্ধ ছিল। ইসলামাবাদ, করাচি ও লাহোর ছাড়া দেশের অন্য কোনো স্থানে যাওয়ার জন্য তাদের সরকারি অনুমিত প্রয়োজন হয় এবং এই অনুমতি পেতেও মাসের অধিক সময় লাগে। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে ১৮০ টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫৩তম।
এদিকে, সাংবাদিকদের ওপর বিধি-নিষেধ তুলে নেওয়ার জন্য দেশটির ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টস দাবি তুলেছে। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, সরকার যদি গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে, তবে এই নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে দাবি করেছে যে, নতুন নিয়ম থাকা সত্ত্বেও বিদেশি সংবাদমাধ্যম আগের মতোই কাজ continue করতে পারবে। মন্ত্রণালয় তাদের জন্য ভ্রমণ পাস ইস্যু করার নতুন একটি ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে।
এ বিষয়ে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মিডল ইস্ট পলিসি কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো ও পাকিস্তান বিশ্লেষক কামরান বুখারি বলেন, পাকিস্তানের নেতৃত্বকে বুঝতে হবে যে, এই পদক্ষেপগুলো কার্যকর হবে না, বরং বিপরীত ফল দেবে। এটি ঘটনার বিবরণ কিংবা তথ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের ঐতিহ্যবাহী চেষ্টা। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও এআই-এর যুগে এখন অতীতের এসব হাতিয়ার আর কাজ করে না।
সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, গত কয়েক বছরে পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমের ওপর সেন্সরশিপ, ব্যাংক হিসাব জব্দ, সরকারি বিজ্ঞাপন বন্ধ, সাংবাদিকদের জোরপূর্বক অপসারণ এবং নির্বিচারে গ্রেপ্তারের ঘটনা বেড়েছে। আরও অভিযোগ উঠেছে, গত এক বছরে নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিনিধিরা কয়েকজন সাংবাদিককে সরকারপন্থী ইংরেজি সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠার জন্য উৎসাহিত করেছে। পাকিস্তানের শীর্ষ সম্পাদকদের সংগঠন সরকারী নীতিকে সংবাদমাধ্যমের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসাবেও অভিহিত করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চ্যাম্পিয়ন হলে শুধু সম্মান নিবেন না, পকেটে টাকা গরম হবে। ইতালির শীর্ষ লিগ সিরি আ’র বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলানও উভয়টি পেয়েছে।
জুভেন্টাসের (৩৬) পর সর্বোচ্চ ২১ বার চাম্পিয়ন হয়েছে তারা।
চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় শ্রেষ্ঠত্বের ট্রফির সঙ্গে ইন্টারের অ্যাকাউন্টে যোগ হয়েছে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২২ কোটি ৭৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা (১৮ মিলিয়ন ডলার)। বিশাল অঙ্কের টাকা পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই খুশি আই নেরাজ্জুরিরা। তবে, এই খুশির মুহূর্তেই উবে যাবে ইন্টারের খেলোয়াড়দের যদি তারা শোনে অন্য একটি লিগে উত্তরণ পাওয়া ক্লাবের অর্থের প্রাপ্তি কত?
শুধু ইন্টার নয়, পাঠকদের চোখও কপালে উঠবে।
বিশ্বাস না হলে মিলিয়ে দেখুন। দ্বিতীয় স্তর থেকে ইংল্যান্ডের শীর্ষ স্তর প্রিমিয়ার লিগে সুযোগ পাওয়া একটি করে দল কমপক্ষে ১৭০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার পায়। অর্থাৎ, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ২৩৭ কোটি ৫৪ লাখ ৭০ হাজার থেকে ৩ হাজার ৭১২ কোটি ৬৪ লাখ ১০ হাজার টাকা পায়।
২০২৬-২৭ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে সুযোগ পাওয়া ৩ দল হচ্ছে—কভেন্ট্রি সিটি, ইপসউইচ টাউন ও হাল সিটি।
প্লে অফ থেকে সুযোগ পাওয়া হাল সিটির আয় বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার ৬৫০ কোটি ৭৬ লাখ ৩৭ হাজার টাকা (২৯৫ মিলিয়ন ডলার)। এটি শুধুমাত্র প্রিমিয়ার লিগে প্রমোশন আয়। অর্থাৎ, লিগজয়ী ইন্টারের থেকে হাল সিটির আয় ১৬ গুণেরও বেশি।
দুই ভিন্ন লিগের দুই ক্লাবের আয়ের এই আকাশ-পাতাল পার্থক্য নিচের অন্যতম কারণগুলোর জন্য—
বিশাল সম্প্রচার স্বত্ব।
বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রিমিয়ার লিগ। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক টিভি সম্প্রচার স্বত্ব মিলিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকায় বিক্রি হয়। আয়ের বড় অংশ ক্লাবগুলোর মধ্যে বণ্টন করে লিগ কর্তৃপক্ষ।
প্রমোশন এবং ‘প্যারাসুট পেমেন্ট’।
চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে প্রিমিয়ার লিগে প্রমোশন পাওয়াটাই দলগুলোর কাছে লাভজনক। কেননা, প্রিমিয়ার লিগে সুযোগ পেলেই সেন্ট্রাল টিভি রেভিনিউ, স্পন্সরশিপ এবং পরে অবনমিত হলেও কয়েক বছর ‘প্যারাসুট পেমেন্ট’ (অবনমিত দলকে আর্থিক সুবিধা) মিলিয়ে একেকটি ক্লাব কমপক্ষে ১৭০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার আয় করে।
সিরি আ’র সীমিত প্রাইজ মানি।
ইতালিয়ান লিগ সিরি আ’র চ্যাম্পিয়ন প্রাইজ মানি তুলনামূলক অনেক কম। মূল্যটা প্রায় ১৮-২৫ মিলিয়ন ডলার হয়। চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় পরে চ্যাম্পিয়নস লিগ ও নিজস্ব স্পন্সরশিপ থেকে আলাদা আয় করলেও শুধু লিগ জয় থেকে পাওয়া অর্থ প্রিমিয়ার লিগের প্রমোশন পাওয়া দলের অর্থের ধারেকাছেও থাকে না।
সুষম রাজস্ব বণ্টন।
প্রিমিয়ার লিগের মোট আয়ের বড় একটি অংশ লিগের সব ক্লাবকে প্রায় সমানভাবে বণ্টন করা হয়। এতে করে প্রমোশন পাওয়া দল বা টেবিলের তলানির ক্লাবও বিপুল পরিমাণ অর্থ পায়। সাধারণত ইউরোপের অন্য লিগে এমনটা দেখা যায় না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের কাছ থেকে আরও বেশি ডিজেল চাওয়া হয়েছে বলে জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান যে, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই যান্ত্রিক ত্রুটির সমাধান শেষে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) গ্যাস সরবরাহ শুরু করবে। মন্ত্রী বলেন, "বিকেল থেকে গ্যাস সঞ্চালন আবার শুরু হবে। সঞ্চালন শুরু হলে ধীরে ধীরে আমাদের যেখানে প্রেসার কমে গেছে, প্রেসারটা উন্নত হবে এবং মোটামুটি যে সমস্যার মধ্যে পড়েছি, সে সমস্যা উৎরে যেতে পারবো।"
গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কতদিন লাগবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "স্বাভাবিক হতে দুই-তিন দিন তো লাগবে। মিনিমাম দুই-তিন দিন লাগবে। এটা (এফএসআরইউ) বন্ধ হওয়ার আগে যেমন ছিল, তেমনই হবে।"
গ্যাস সংকটের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন জায়গায় প্রচুর লোডশেডিং হচ্ছে; এ বিষয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, "স্বাভাবিকভাবে গ্যাস না থাকলে মানুষও পাবে না, আমার পাওয়ার স্টেশনও পাবে না। এখন আমার যে পাওয়ার স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে, ওগুলো আবার চালু করবো।"
এ সময় বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, "বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিলের অভিযোগ এলে যখন আমরা বলি, বিলগুলো নিয়ে আসেন, তখন তো বিল নিয়ে আসে না কেউ আমাদের কাছে।" তিনি জানান, "এক, জুন মাস থেকে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছি আমরা। দুই, মার্চ মাসে যে গরম ছিল, জুন মাসে সে গরম ছিল না। এখন কিছুদিন আগে আপনাদেরই এক সাংবাদিক ফেসবুকে দিয়েছিলেন যে তার বিল ছিল সাড়ে ৩ হাজার টাকা, ৭ হাজার টাকা আসছে। আমার লোক যে, পরীক্ষা করে দেখে আসছে, উনি দুটি এসি চালান। উনার ফ্রিজ আছে। ব্লেন্ডার চালান উনি। এত কিছু চালানোর পরেও ৭ হাজার টাকা যদি বেশি বিদ্যুতের বিল হয়, আমার মনে হয় না পৃথিবীর কোথাও ৭ হাজার টাকা দিয়ে এরকম এত কিছু চালানো যায়।"
ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে মিটিং হয়েছে। সেখানে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না?— এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, "ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে রুটিন মিটিং হয়েছে। যেহেতু আমাদের প্রতিবেশী দেশ, আমাদের অনেক স্বার্থের ব্যাপার আছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।" ভারত থেকে ডিজেল আমদানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "ভারতের সঙ্গে একটা পাইপলাইন আছে, সেখান থেকে ডিজেল আসে; তাদের বলেছি আরও বেশি দেওয়ার জন্য।"
শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে কোনো কথা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, "আমি শেখ হাসিনা সম্পর্কে কিছু বলতে চাই না, উনি তো অনেক কিছুই করেন। দেশটাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন উনি।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় বাসের ধাক্কায় সাইদুল ইসলাম (৩২) নামের একজন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন একজন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে ১১টা ২০ মিনিটের দিকে উপজেলার নিজকুঞ্জরা ইউটার্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত সাইদুল ইসলাম ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বারইয়ারহাট থেকে ছাগলনাইয়ার দিকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা যাচ্ছিল। অটোরিকশাটি যখন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিজকুঞ্জরা ইউটার্ন এলাকায় পৌঁছায়, তখন পেছন থেকে একটি স্টার লাইন পরিবহনের বাস সেটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
এতে অটোরিকশাচালক সাইদুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের তৎপরতায় তাকে উদ্ধার করে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় অটোরিকশার এক যাত্রীও আহত হয়েছেন, যাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফাজিলপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, দুর্ঘটনার পর রেকারের সাহায্যে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অটোরিকশাকে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতসহ প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বানারীপাড়া বন্দর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাতে শ্রেণিকক্ষ থেকে ৫টি সিলিং ফ্যান চুরির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায় যে, গতকাল ৫ আগস্ট ‘গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে বেলা ২টার দিকে প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক এবং দপ্তরি প্রতিদিনের মতো প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে তালা লাগিয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।
আজ ৬ আগস্ট সকাল ৮:৩০ মিনিটে শিক্ষক ও কর্মচারীরা বিদ্যালয়ে এসে গেট ও দরজার তালা ভাঙা এবং দরজা ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে ভেতরে ঢুকে শ্রেণিকক্ষ থেকে ৫টি ফ্যান গায়েব থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত করেন। ঘটনার খবর পেয়ে বানারীপাড়া থানা পুলিশের একাধিক টিম বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে যায়। পুলিশ পরিদর্শনের পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে। চুরির বিষয়ে বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বায়েজিদুর রহমান প্রশাসনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, "বানারীপাড়া বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফ্যান চুরির খবর পেয়ে আমাদের পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। চোর চক্রকে সনাক্ত করতে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন চৌকস কর্মকর্তা তদন্ত শুরু করেছেন।"
উল্লেখ্য, বিদ্যালয়টিতে বিগত কয়েক বছর ধরে কোনো সীমানা প্রাচীর নেই। উত্তর ও পূর্ব দিক খোলা থাকায় সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রাঙ্গণটিতে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসী ও শিক্ষকদের মতে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাবেষ্টনী না থাকায় বিদ্যালয়টি চোর চক্র ও অসামাজিক কার্যকলাপের সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ