বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৩০ এম
খুলনা মহানগরীর ৮টি ওয়ার্ডের ৪৪৫টি পরিবারের মধ্যে মা ও শিশু পুষ্টি খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।
৩০ সেপ্টেম্বর, বুধবার, আলাদা অনুষ্ঠানে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর হাতে এ খাদ্য তুলে দেন।
দাতা সংস্থা ইউএনডিপি’র অর্থায়নে এবং খুলনা সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘লাইভলিহুড সাপোর্ট ফর আরবান পুওর কমিউনিটিস ইন বাংলাদেশ (এলএসইউপিসিবি)’ প্রকল্পের আওতায় এ পুষ্টি খাদ্য বিতরণ করা হয়।
বিকেলে নগরীর ৫নং ওয়ার্ড অফিসে মা ও শিশু পুষ্টি খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে কেসিসি প্রশাসক শিশুদের পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানোর পাশাপাশি, শিশুদের হাত ধোয়া, নিজে এবং নিজের চারপাশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে বিশেষ করে মায়েদের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ডেঙ্গু সংক্রমণ বিস্তার লাভ করছে। শিশুদের মশাবাহিত রোগের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে তিনি মায়েদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা নিজ নিজ বাড়ির পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখেন।
অনুষ্ঠানে নগরীর দৌলতপুর থানার ১ থেকে ৬নং ওয়ার্ডের ৩শটি পরিবারের প্রত্যেককে পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে ৩০টি ডিমসহ ডাল ও ভোজ্যতেল বিতরণ করা হয়।
পরে খালিশপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত একই প্রকল্পের অপর অনুষ্ঠানে ১৩ ও ১৫ নং ওয়ার্ডের ১৪৫টি পরিবারের মাঝে পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণ করা হয়। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
পৃথক পৃথকভাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেসিসি’র ৫নং ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গাজী সালাউদ্দিন এবং ১৫নং ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মো. ইমরুল হাসান টিটো।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক এম মুর্শিদ কামাল, শেখ ইমাম হোসেন, আব্দুল জলিল হাওলাদার, অ্যাডভোকেট ফজলে হালিমা লিটন, হাবিবুর রহমান বিশ্বাস ও কাজী একরাম মিন্টু।
অন্যান্যের মধ্যে কমিউনিটি ভলেন্টিয়ার রাজিয়া সুলতানা, কেয়া সুলতানা, রেশমা খাতুন, ফারহানা আক্তার, আফরোজা খাতুন, শুকরিয়া সুলতানা, স্বপ্না আক্তারসহ সিডিসি নেত্রীবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রকল্পের সিনিয়র কমিউনিটি ভলেন্টিয়ার শিউলি মোর্শেদা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের একটি আলোচিত তদন্ত থেকে আইনজীবী কার্ট ওলসেন সরে দাঁড়াচ্ছেন। তবে তিনি বিচার বিভাগ থেকে পদত্যাগ করছেন না। বরং তিনি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে চাকরিতে বহাল থাকবেন বলে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিভাগটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
ওলসেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং জো বাইডেনের আমলের কর্মকর্তাদের নিয়ে চলা তথাকথিত ‘বৃহৎ ষড়যন্ত্র’ তদন্তে যুক্ত ছিলেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ফ্লোরিডার দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলার মার্কিন অ্যাটর্নিকে পাঠানো এক ই-মেইলে তিনি ওই তদন্ত থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা জানান।
এর আগে, তার ই-মেইলকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে বিচার বিভাগের মিয়ামি ও ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা মনে করেছিলেন, ওলসেন পুরো বিচার বিভাগ থেকেই পদত্যাগ করছেন। পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তার পদত্যাগের খবর প্রকাশিত হলে তিনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, তিনি আইনজীবী হিসেবে বিচার বিভাগে কাজ চালিয়ে যেতে চান।
ওলসেনের ভূমিকা নিয়ে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঙ্ক বলেন, ওলসেন পদত্যাগ করেননি এবং তিনি আগের জায়গাতেই কাজ করছেন। তবে পরে বিচার বিভাগের এক কর্মকর্তা বিষয়টি পরিষ্কার করে জানান, ওলসেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে চাকরিতে থাকলেও ‘বৃহৎ ষড়যন্ত্র’ তদন্তে আর দায়িত্ব পালন করবেন না।
তবে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, এরপর তিনি কী দায়িত্ব পালন করবেন। কারণ তদন্ত থেকে সরে দাঁড়ানোর আগে তার নিরাপত্তা অনুমতিপত্র নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছিল বলে বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন দুই ব্যক্তি জানিয়েছেন। ওই অনুমতিপত্র না থাকায় গোপন নথি ও তথ্য পর্যালোচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে তার পক্ষে যুক্ত থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।
এই তদন্তে ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে গোয়েন্দা মূল্যায়ন এবং সাবেক বিশেষ কৌঁসুলি জ্যাক স্মিথের মাধ্যমে ট্রাম্পের গোপন নথি সংরক্ষণসংক্রান্ত তদন্তের মতো বিষয়ও রয়েছে।
ওলসেন উত্তর ক্যারোলিনার মধ্যাঞ্চলীয় জেলার মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয়ে বদলি হয়ে নির্বাচনসংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও দুই সূত্র জানিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সেখানে যাবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে, চলতি বছর ‘বৃহৎ ষড়যন্ত্র’ তদন্ত এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত সাবেক কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান জন ব্রেনানের বিরুদ্ধে চলা তদন্ত থেকে সরে দাঁড়ানো তৃতীয় কৌঁসুলি হলেন ওলসেন। এর আগে এপ্রিল মাসে মারিয়া মেডেটিস লংকে তদন্ত থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি তদন্তে থাকা প্রমাণের শক্তি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। পরে তার জায়গায় দায়িত্ব নেন জো ডি জেনোভা। তিনিও সেপ্টেম্বর মাসে তদন্ত পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে বিচার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিরোধের মধ্যে পদত্যাগ করেন।
ওলসেন চলতি বছরের বসন্তে ফ্লোরিডার দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলার মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে যোগ দেন। এর আগে তিনি হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্টের নিয়োগে নির্বাচন নিরাপত্তা ও অখণ্ডতাবিষয়ক পরিচালক হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে।
২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল বদলে দেওয়ার প্রচেষ্টাতেও ওলসেন যুক্ত ছিলেন। সে সময় তিনি টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের সঙ্গে কাজ করে সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে নির্বাচনের ফল বাতিলের আহ্বান জানিয়েছিলেন। চলতি বছর জর্জিয়ার ফুলটন কাউন্টির নির্বাচনসংক্রান্ত মামলাটি নিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থায় সুপারিশ করেছিলেন। পরে তদন্তকারীরা ২০২০ সালের নির্বাচনের ব্যালট ও অন্যান্য সামগ্রীসহ বেশ কয়েকটি বাক্স জব্দ করে।
এছাড়া ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে অ্যারিজোনাসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে তিনি বিচার বিভাগে সুপারিশ করেছিলেন বলেও সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তান দাবি করেছে যে, আফগানিস্তানে সন্ত্রাসীদের আস্তানায় বিমান হামলা চালিয়ে অন্তত ২২ জন জঙ্গিকে হত্যা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য প্রকাশ করে।
বিবৃতিতে জানানো হয়, অপারেশন গজব লিল-হক-এর আওতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আফগানিস্তানের দুটি স্থানে সন্ত্রাসী ক্যাম্প ও আস্তানায় হামলা চালানো হয়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল ফিতনা আল-খাওয়ারিজ, ফিতনা আল-হিন্দুস্তান এবং তাদের সহযোগীরা।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলায় সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে এবং প্রাথমিক হিসাবে ২২ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। এছাড়া, আস্তানাগুলোতে মজুত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদও ধ্বংস করা হয়েছে।
পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় আরো জানায়, আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি হচ্ছে। ইসলামাবাদ দাবি করেছে, হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল।
২০২১ সালে আফগান তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানে আন্তসীমান্ত সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে ইসলামাবাদ। তারা বারবার কাবুলকে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে হামলা চালানো বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে আফগান কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান অপারেশন গজব লিল-হক শুরু করে। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনার পর ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি হলেও জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ে এখনো দুই দেশের মধ্যে বিরোধ বিদ্যমান। সূত্র: জিও নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের কট্টরপন্থি আইনপ্রণেতা হামিদ রেজাইকে তার দায়িত্ব পালনকালে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনিই প্রথম সংসদ সদস্য (এমপি) যিনি কারারুদ্ধ হয়েছেন। গালফ নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
হামিদের কারাবাসের ঘটনা ইরানের রক্ষণশীল রাজনৈতিক শিবিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। হামিদ রেজাইকে ১০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার পর পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ-বাঘের গালিবাফ এবং প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেইর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন কট্টর রক্ষণশীলরা।
গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি সংবাদপত্রের নিবন্ধের কারণে রেজাইকে এই সাজা দেওয়া হয়। ওই নিবন্ধে গালিবাফের বিরুদ্ধে ‘সংসদীয় নথি কারসাজি’ করার অভিযোগ তোলা হয়েছিল।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইরান ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে ইরানে যখন নতুন বিতর্ক চলছে, তখন এই ঘটনা ক্ষমতাসীন রক্ষণশীলদের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
২০২৩ সালে তেহরান থেকে এমপি নির্বাচিত হন রেজাই। সংসদে আসার আগে তিনি কট্টরপন্থি সাপ্তাহিক ৯ দে পত্রিকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত ‘গালিবাফের সংসদীয় নথি কারসাজি’ শিরোনামের নিবন্ধের কারণে তাকে ‘অন্যের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য প্রকাশের’ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। রেজাই সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই গালিবাফ তার বিরুদ্ধে অভিযোগটি করেছিলেন। তিনি একজন ধর্মীয় নেতা হওয়ায় মামলাটি বিশেষ ধর্মীয় আদালতে বিচার হয়।
ইরান স্টাডিজবিষয়ক আইআরএএম সেন্টারের গবেষক রহিম ফারজামের মতে, ইরানের রক্ষণশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে পশ্চিমা দেশগুলো ক্রমেই ‘সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী বাস্তববাদী’ এবং ‘আলোচনাবিরোধী কট্টরপন্থিদের’ দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখছে।
ফারজাম বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কৌশলগত দিক নির্ধারণকে কেন্দ্র করেই এই দুই পক্ষের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে।
ফারজাম আরও জানান, এই বিভাজনের বিষয়টি এখন শুধু গণমাধ্যমের আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই; ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণী মহলেও এটি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সেখানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক অচলাবস্থার পেছনে তেহরানের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঐক্যের বার্তা দিচ্ছে তেহরান
তবে ফারজাম মনে করেন, ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সময়ে ঐক্য, প্রাতিষ্ঠানিক সংহতি ও জাতীয় দৃঢ়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
ইরানের নির্বাহী, আইনসভা ও বিচার বিভাগ—তিনটি শাখাই নিজেদের মধ্যে সমন্বয় ও ধারাবাহিকতার চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করছে। সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও একই ধরনের বার্তা দিচ্ছেন।
ফারজামের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এসব বক্তব্যের মাধ্যমে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভাজন নিয়ে বাইরের যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তেহরান বোঝাতে চাইছে, দেশটির কৌশলগত সিদ্ধান্ত কোনো নিয়ন্ত্রণহীন অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে পরিচালিত হচ্ছে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দেশটির বিরুদ্ধে যেকোনো হামলার ক্ষেত্রে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সৌদি আরব আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের শুরা কাউন্সিলের নবম অধিবেশনের তৃতীয় বর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন। খবরটি প্রকাশ করেছে আরব নিউজ।
মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক হামলাগুলো এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুতর সংকেত।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘নিরাপত্তা রক্ষায় বিন্দুমাত্র আপস না করেই আমরা উত্তেজনা প্রশমন এবং কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টায় সর্বাত্মক ভূমিকা পালন করছি। নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে কোনো হুমকি বা হামলা হলে কঠোর পদক্ষেপ নিতে আমরা দ্বিধা করব না।’
সৌদি যুবরাজ আরও জানান, আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষা, কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে সৌদি আরব উপসাগরীয় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, এই চুক্তিটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে দেশগুলোর যৌথ প্রচেষ্টার প্রতিফলন।
মোহাম্মদ বিন সালমান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ব বর্তমানে একটি গুরুতর জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি, যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে। তিনি জানান, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ অব্যাহত রাখার মাধ্যমে সৌদি আরব বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় ভূমিকা রেখে চলেছে।
তিনি আরও জানান, সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, আন্তর্জাতিক পানিপথে পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা এবং জলপথকে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে সৌদি আরব ‘বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।
মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, নিরাপত্তা রক্ষা এবং উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে সৌদি আরব তার অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে; পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও মানবিক সহায়তার নিরাপদ প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান হামলার তীব্র নিন্দা জানান সৌদি যুবরাজ। তিনি বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানাই, যেন তারা একটি দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করে।’
তিনি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনসহ ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের প্রতি সৌদি আরবের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইয়েমেন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরো ইয়েমেনে সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়াদের মোকাবিলায় ‘কোয়ালিশন টু রিস্টোর লেজিটিমেসি’ জোটের মাধ্যমে ইয়েমেনি সরকারকে সহায়তা করে যাচ্ছে সৌদি আরব।
এ ছাড়া সুদানের ঐক্য ও স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং দেশটির বৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষার প্রতিও সৌদি আরব সমর্থন অব্যাহত রেখেছে।
তিনি জানান, ২০১৬ সালের তুলনায় তেলবহির্ভূত রপ্তানি ১৫৫ শতাংশ বেড়েছে এবং অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের অবদান বেড়ে ৫১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
২০২৬ সালকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বছর উল্লেখ করে সৌদি যুবরাজ বলেন, সৌদি আরবের লক্ষ্য হলো এআই-ভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন ও সমাধান উদ্ভাবন এবং উৎপাদনশীলতা, সেবার মান ও মেধাবীদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে এগুলো ব্যবহার করে বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে পৌঁছানো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ