০৬:১১ পি.এম
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মের প্রতিবাদে এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সংসদ অভিযান নিয়ে দেশটির রাজধানী দিল্লিতে পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন চলাকালীন, নিরাপত্তা বলয় ভেঙে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সংসদ ভবনের মূল ফটকের বাইরে তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতেই বাইরে এই বিশাল কাণ্ড ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায়, চারদিকের উত্তেজনার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কনভয়কে এক পর্যায়ে কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থেকে তাড়াতাড়ি সংসদ ভবন ছেড়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। সোমবার (২০ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইম বাংলার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার সকাল থেকেই সংসদ চত্বরের আশপাশে পুলিশ লোহার ব্যারিকেড বসিয়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা সেই সব ব্যারিকেড উড়িয়ে দিয়ে সংসদের দিকে অগ্রসর হতে চেষ্টা করেন। এসময় পুলিশের সঙ্গে প্রথম দফায় ধস্তাধস্তিতে কয়েকজন আন্দোলনকারী ও পুলিশের কর্মী আহত হয়। তারপর, আন্দোলনের আগুন মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে মধ্য দিল্লির কনট প্লেস, শাস্ত্রীয় ভবন, রেল ভবন, কনস্টিটিউশন ক্লাব এবং রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার সামনের ভিআইপি এলাকাতে। পুলিশ এবং আধা সামরিক বাহিনীকে বিভিন্ন পয়েন্টে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল প্রয়োগ করতে দেখা যায়। বিশেষ করে রেল ভবনের সামনের এলাকায় দীর্ঘক্ষণ ধরে রক্তক্ষয়ী উত্তেজনা চলার পর অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে মিছিলের অগ্রগতি আটকে দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে সংসদের দক্ষিণদিকে প্রধান যানবাহনের প্রবেশপথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে মধ্য দিল্লিতে বহু রাস্তার উপর মাইলের পর মাইল দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জনপথ, রাজীব চক, পটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং সেবাতীর্থ—এই পাঁচটি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে লাখো সাধারণ যাত্রীকে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে। মাণ্ডি হাউসসহ কয়েকটি মেট্রো স্টেশনের ভিতরে এবং বাইরে বিক্ষোভকারীদের সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান দিতে দেখা যায়। দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জন্তর মন্তর, সংসদ চত্বর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) মোতায়েন রয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, এই বিতর্কিত কর্মসূচির জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক অনুমতি নেই। পাশাপাশি, সংসদ ভবনের আশপাশে ১৬৩ ধারা বলবৎ থাকায় নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি মানুষের জমায়েতের উপর আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অনুমতি ছাড়া কোনো মিছিল বা সমাবেশ করতে গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন, তারা কর্মসূচির বিষয়ে পুলিশকে আগেই লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন। প্রশাসন গায়ের জোরে এই কর্মসূচি বন্ধ করতে সচেষ্ট। বিক্ষোভস্থলের আশপাশে মোবাইল এবং ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও এসেছে সিজেপি সমর্থকদের তরফ থেকে। এই চরম উত্তেজনার মাঝে সিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দাবি করেছে, কেন্দ্রীয় সরকার তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে; যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা আসেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন