বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
১২:০৪ এম
জিয়াউর রহমানের জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হতো না, এমন মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন।
বুধবার (২২ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথাটি বলেছেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেছেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন বলেই আমরা একটি দেশ, একটি মানচিত্র, স্বাধীনতা এবং একটি ভূখণ্ড পেয়েছি। দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শন।
জবি উপাচার্য বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর নির্যাতনের সময় যখন জাতি দিশেহারা ছিল, তখন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে পথ দেখিয়েছিলেন। কেবল ঘোষণা দিয়েই তিনি থেমে থাকেননি, জেড ফোর্স গঠন করে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বও দিয়েছেন।
জবি উপাচার্য আরও বলেছেন, জাতি যখনই ক্রান্তিলগ্নে উপনীত হয়েছে, তখনই পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন জিয়াউর রহমান। জাতিকে সংকট থেকে উত্তরণের পথ দেখানোর জন্য যে তিনি দর্শন দিয়ে গেছেন, তার নাম বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ।
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে রাষ্ট্রীয় অস্তিত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার দর্শন হিসেবে উল্লেখ করে উপাচার্য জানান, এদেশকে যদি ফ্যাসিবাদমুক্ত রাখতে হয়, তাহলে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শনকে আত্মস্থ করতেই হবে। আমরা এ দর্শন প্রতিষ্ঠা ও মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাবো।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে খাটো করার উদ্দেশ্যে কোনো ধরনের অপপ্রচার বা বট আইডির মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা এই ক্যাম্পাসে চলতে দেওয়া হবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের জাতীয় সংসদে পৃথক সংসদীয় আসন সৃষ্টির দাবি ওঠে। জুলাই বিপ্লবের চেতনা, রাষ্ট্র সংস্কার ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সংগঠিত এ বৈঠকে বক্তারা বলেন, জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে গণভোটের সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করা আবশ্যক।
মহামান্য বক্তারা আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা প্রবাসীদের রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে সরাসরি যুক্ত করার মাধ্যমে তাদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্যারিসের নিকটস্থানীয় পন্থায় একটি রেস্তোরাঁয় ‘জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকটির আয়োজন করে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ফ্রাঙ্কো বাংলা। উক্ত বৈঠকে ফ্রান্সপ্রবাসী সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, কমিউনিটি নেতা ও সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।
এই গোলটেবিল বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন ইউরো বার্তার সম্পাদক মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম এবং সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য পেশ করেন ফ্রাঙ্কো বাংলার সভাপতি শহিদুল ইসলাম। বৈঠকে বক্তারা ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পূর্বাপর প্রেক্ষাপট, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ভূমিকা ও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, জুলাই বিপ্লবের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। যদি এটি বিলম্বিত হয়, তবে জুলাইয়ে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি অবমূল্যায়ন করা হবে।
রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে স্বৈরতান্ত্রিক শক্তির উত্থান রোধ করতে হবে বলেও বক্তারা অভিমত প্রকাশ করেন।
বৈঠকে ৮ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মাঝে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, জাতীয় সংসদে প্রবাসীদের জন্য পৃথক সংসদীয় আসন সৃষ্টি এবং প্রবাসীদের মরদেহ সম্পূর্ণ সরকারি খরচে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় পরিবারের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা।
নাগরিক পরিষদ ফ্রান্সের সভাপতি আবুল খায়ের লস্কর বলেন, জুলাইয়ের চেতনার উপর ভিত্তি করে দলমত নির্বিশেষে সকলকে দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ গঠনে অংশ নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্টা সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
যেকোনো অপশক্তি যেন নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে নাগরিক সমাজকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিশিষ্ট অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট মীর জাহান বলেন, জুলাই বিপ্লবের স্পিরিট ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য, দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
বিসিএফের সভাপতি মো. নূর বলেন, জুলাইয়ের আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায়। ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো রক্তের বিনিময়ে স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে না হয়, সে জন্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশে ও বিদেশে নাগরিক সমাজ, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্টদের এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ইউরো বার্তার সম্পাদক মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম বলেন, ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই—এসবই আমাদের জাতীয় জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এসব চেতনাকে ধারণ করে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে। কোনো বৈষম্য তৈরি করা যাবে না।
এটিএন বাংলার ফ্রান্স প্রতিনিধি রাবেয়া আক্তার সুবর্ণা বলেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। তারা দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ নিয়ে দেশের বাইরেও আন্দোলনের পাশে ছিলেন।
এতে বক্তব্য রাখেন নাগরিক পরিষদ ফ্রান্সের সভাপতি আবুল খায়ের লস্কর, অ্যাক্টিভিস্ট মীর জাহান, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব কাজী হাবিব, এনসিপি ফ্রান্সের যুগ্ম-আহ্বায়ক মনোয়ার পাটওয়ারী, বাংলা টেলিগ্রামের সম্পাদক শাহ সুহেল আহমদ, সিনিয়র সাংবাদিক হাবীবুল্লাহ ফাহাদ, অনুক্ত সংবাদ-এর সম্পাদক অনুক্ত কামরুল, অ্যাক্টিভিস্ট খালেদ মাহমুদ, বিসিএফ প্রেসিডেন্ট এমডি নূর, যুগান্তর প্রতিনিধি সরদার হাসান ইলিয়াস তানিম, বাংলা ভিশনের প্রতিনিধি ইয়াসির আরাফাত খোকন, মহাকাশ গবেষক একরামুল কবির সালমান, এনটিভি প্রতিনিধি আবুল কালাম মামুন, ডিবিসি নিউজ প্রতিনিধি ইকবাল জাফর, অ্যাক্টিভিস্ট শাহ সাইফুল ইসলাম, আদাফ পরিচালক ওয়াদুদ তানভীর, সাংবাদিক আবু তাহের রাজু, ফিদা পরিচালক সায়েম জামিল প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে ফ্রান্সের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিত্ব, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীতে বাসি খাবার সংরক্ষণ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহারের অভিযোগে দুই বিরিয়ানি হাউজকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এই জরিমানা করেছে। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে নোয়াখালী সদর উপজেলার টাউনহল মোড় ও দত্তেরহাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের সময় জেলা শহরের টাউন হল মোড়ের মেসার্স হাজী বিরিয়ানি হাউজে বাসি খিচুড়ি, তেহারি, বিরিয়ানি এবং সিদ্ধ ডিম পলিথিনে ভরে ফ্রিজে সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং সংরক্ষণ করা বাসি খাবার জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।
অন্যদিকে, দত্তেরহাট এলাকার মেসার্স টোকিও কাচ্চি বাড়িতে কাচ্চিতে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নিষিদ্ধ কেওড়া জল এবং খাবার রঙিন করতে ‘কাশ্মীরি চিলি’ নামে রং ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া ফ্রিজে রান্না করা ও কাঁচা খাবার একসঙ্গে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল।
এসব অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে আরো ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করা হয়।
এ ছাড়া অভিযানে সরকার নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি হচ্ছে কি না, তা মনিটরিং করা হয়। অভিযানে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করার পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আছাদুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে জেলা বিশেষ টাস্কফোর্স টিম ও জেলা ব্যাটালিয়ন আনসারের একটি দল অংশ নেয়।
জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরে ঘটেছে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা, যেখানে ট্রাফিক পুলিশের পোশাক ও পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। শেষ পর্যন্ত সিএনজি ও অটোরিকশা চালকদের সচেতনতার কারণে আটক হয়েছে এক ভুয়া ট্রাফিক পুলিশ। আটককৃত ব্যক্তির নাম সুমন গাজী, যিনি হাজীগঞ্জ উপজেলায় বাস করেন। জানা গেছে, তিনি বেশ কিছুদিন ধরেই চাঁদপুরের পালবাজার এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ পরিচয়ে সিএনজি ও অটোরিকশা থামিয়ে চালকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে আসছিলেন। ঘটনার দিন, মঙ্গলবার, তিনি প্রথমে নিজেকে ট্রাফিক পুলিশের সদস্য পরিচয় দেন। এরপর তিনি নিরাপদ সড়কের সদস্য বলেও দাবি করেন। কিন্তু চালকদের সন্দেহ হলে তারা তাকে আটক করে, এবং পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে ডোপ টেস্ট করলে তার মাদক সেবনে নিহিত প্রমাণ মেলে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি অসহায় মানুষের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করে পাওয়া টাকায় মাদক সেবন করতেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পরে আদালতে পাঠানোর পর আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে যে, কেউ যদি পুলিশের পরিচয় দিয়ে অবৈধভাবে টাকা দাবি করে, তাহলে তার পরিচয় নিশ্চিত করে দ্রুত পুলিশকে জানানো উচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শীর্ষ শিক্ষাব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে ককরোচ আন্দোলন বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। এই আন্দোলন গত মাসের শুরুর দিকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সীমাবদ্ধ ছিলো। তবে এখন এটি শিক্ষাব্যবস্থা, কর্মসংস্থান এবং সরকারের জবাবদিহির প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে বিস্তৃত হয়ে গেছে। এই কারণেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশাসনকে নতুন করে নড়েচড়ে বসতে হয়েছে।
জেন-জিদের এই বিশাল বিক্ষোভ মোদি সরকারের জন্য একটি বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্দোলনকারীরা এবার সরাসরি মোদি সরকারের জবাবদিহি চাইছেন। প্রথম দিকে মাত্র একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ছিল তাদের ক্ষোভ, কিন্তু এখন তারা পূর্ণ শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতার দায় চাপাতে শুরু করেছেন।
বিক্ষোভকারীরা জানাচ্ছেন, শুধু মন্ত্রী বদলে কিছু হবে না, তারা পুরো সরকারের জবাবদিহি দাবি করছেন। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই আন্দোলন পূর্ববর্তী অনেক বিক্ষোভ থেকে ভিন্ন এবং এটি সরকারের উপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। আগের আন্দোলনগুলোতে সরকার ধর্ম, জাতি বা রাজনৈতিক পরিচয়ের মাধ্যমে বিক্ষোভকে বিভক্ত করতে পারলেও, এবারের আন্দোলন বাস্তব সমস্যার ভিত্তিতে গঠিত। কর্মসংস্থান, পরীক্ষা, শিক্ষা এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা কেন্দ্রিক এই আন্দোলনকে নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর আন্দোলন হিসাবে দেখা হচ্ছে না।
এই আন্দোলন এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চললেও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কোনো প্রতিনিধি এখনও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেননি। শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশ্ন করছেন, প্রশ্ন ফাঁসের দায় কার, কী সংস্কার হবে, কেন কেউ দায় স্বীকার করছেন না—এগুলো জানতে চাইছেন।
আন্দোলনের ৩২তম দিনে সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও, উভয় পক্ষের অবস্থান এখনও কঠোর হয়ে রয়েছে। আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আলোচনা শুরু করতে হলে প্রথম উদ্যোগ সরকারের পক্ষ থেকেই নিতে হবে।
অন্যদিকে বিরোধী জোটও সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধের অভিযোগ তুলে চাপ বাড়িয়ে চলেছে সংসদ ও রাজপথে। বুধবার সকালে যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে।
যাবতীয় ঘটনার মধ্যে বুধবার বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) যখন তাকে আটক করা হয় তখন পুলিশের একজন সদস্য কানে কানে বলেন, এই (মোদি) সরকারের পতন ঘটাও।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ