সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৫১ পি.এম
বগুড়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে রাবেয়া বেগম (৫০) নামের এক নারীর মৃত্যু ঘটেছে। সোমবার বেলা ১১টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার শহরদীঘি এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত রাবেয়া ওই এলাকার হালিম খাঁ’র স্ত্রী ছিলেন।
নিহতের স্বামীর তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ জানায় যে, রাবেয়া বেগম মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তিনি নিয়মিতভাবে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। সোমবার সকালে পরিবারের সদস্যদের অজান্তে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এক পর্যায়ে তিনি রেললাইনের উপর উঠে পড়েন। তখন সান্তাহার থেকে লালমনিরহাটগামী করতোয়া এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার বিষয়ে পুলিশের এসআই বাবলুর রহমান বলেন, নিহত নারীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়নি। পরে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তপনা, চাঁদাবাজি, জমি ও বাড়ি দখলের ঘটনা অহরহ ঘটে চললেও রাতের আঁধারে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুর-১-এর ভাঙচুর ও গুঁড়িয়ে দেওয়া রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার এবং সালমান মুক্তাদির স্টুডিও পরিদর্শন শেষে তিনি এই সব কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ইতিহাস বাংলাদেশে এর আগে ঘটেনি। বিভিন্ন দেশে এমন ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা দেখা গেছে। কিন্তু বাংলাদেশে একটি জনকল্যাণমূলক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ১৯৭৪ সাল থেকে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে দরিদ্র মানুষ থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান পর্যন্ত চিকিৎসা ও টিকাদান সেবা পেয়ে আসছেন। এটি বিদেশি দাতা সংস্থার সহযোগিতায় পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্যকেন্দ্র। এমন একটি প্রতিষ্ঠান ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া শুধুমাত্র একটি স্থাপনার ওপর হামলা নয়; এটি জনস্বাস্থ্য ও সাধারণ মানুষের অধিকারকে আঘাত করার শামিল।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন জাতিসংঘ সফরে ছিলেন, ঠিক সেই সময়ে রাজধানীতে একটি ঐতিহ্যবাহী স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে দেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এ ঘটনায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন এবং বিষয়টি আমাদের জানিয়েছেন।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র দখলের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মী ও একজন মহিলা এমপির সম্পৃক্ততার অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা কারও বিরুদ্ধে আগাম রায় দিতে চাই না। তবে গণমাধ্যমে যেসব অভিযোগ এসেছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। সরকারকে অবিলম্বে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় আনতে হবে।
তিনি বলেন, সারারাত ধরে হামলা ও ভাঙচুর চলেছে। ট্রাকে করে বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, পাশে পুলিশ অবস্থান করলেও তারা লুটপাট প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই ব্যর্থতার দায় অবশ্যই নির্ধারণ করতে হবে।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনার দুই দিনের মধ্যে ইসিবি চত্বরে তরুণ প্রজন্মের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এরপর আদাবরে দিনদুপুরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, মুগদায় জমি দখলের অভিযোগ এবং আশুলিয়ার একটি মাদ্রাসায় চাঁদার দাবিতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সবকিছু মিলিয়ে দেশে যেন লুটপাট ও দখলের এক মহড়া চলছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের একজন পরিচিত ব্যক্তির প্রতিষ্ঠান যদি এভাবে হামলার শিকার হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার অবস্থা কী! তা সহজেই অনুমেয়। রাষ্ট্র যদি নাগরিকের জানমাল, সম্পদ ও প্রতিষ্ঠান রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের ভাবমূর্তি ও জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে অবিলম্বে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
তিনি রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ধ্বংসের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুনর্নির্মাণ করে জনসাধারণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ সময় এবি পার্টির নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. আবদুল ওহাব মিনার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া, আলতাফ হোসাইন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহকারী দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হালিম নান্নু, মশিউর রহমান মিলু, সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুর রব জামিল, যুব পার্টির উত্তরের সদস্য সচিব ইশরাত জাহান, বরিশালের নেতা ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ, মিরপুর মডেল থানার আহ্বায়ক শেখ মনিরুজ্জামান, রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী, বরিশাল জেলা নেতা ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল ইসলাম, মোঃশাকিল, বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রপক্ষ আহ্বায়ক আইয়ুব নবী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেটকে দেশের প্রথম প্লাস্টিক দূষণমুক্ত শহর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনে (সিসিক) প্রথমবারের মতো ‘বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট’ স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সিসিককে সহযোগিতা করবে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ।
সোমবার, নগরীর একটি হোটেলে ‘জিওসাইকেল সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘এ রোডম্যাপ টু বিকাম এ প্লাস্টিক পল্যুশন ফ্রি সিটি’ শীর্ষক সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়।
সেমিনারের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন, “আমরা প্লাস্টিক দূষণমুক্ত একটি আধুনিক নগর গড়ে তুলতে চাই। সিলেটকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরীতে পরিণত করতে স্থানীয় সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক অংশগ্রহণ এবং বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের কার্যকর বাস্তবায়ন প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সিসিক এই ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নগর গড়ে তোলার জন্য সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। তিনি যত্রতত্র প্লাস্টিক ও বর্জ্য না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার আহ্বান জানান।
অতিরিক্ত, সিসিক প্রশাসক বলেন, কৌশলগত অংশীদারত্ব, আধুনিক অবকাঠামো এবং জনসচেতনতার সমন্বয়ের মাধ্যমে সিলেটকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও পরিবেশবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সিটি কর্পোরেশন।
সেমিনারের শুরুতে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখা ‘জিওসাইকেল’-এর কার্যক্রম নিয়ে একটি অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। পরে সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন সিলেট নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম নিয়ে উপস্থাপনা করেন। জিওসাইকেলের পৌর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তুলে ধরেন হেড অব জিওসাইকেল লতিফুর রহমান।
সেমিনারে নগরীর লালমাটিয়া ডাম্পিং গ্রাউন্ডে অবস্থিত মেটেরিয়াল রিকভারি ফ্যাসিলিটি (এমআরএফ)-এর অগ্রগতি ও কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা করা হয়। ২০২৪ সালে সিসিক ও লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে স্থাপিত এ প্ল্যান্টে নগরীর বর্জ্য থেকে প্লাস্টিক ও অন্যান্য অপচনশীল উপাদান পৃথক করা হচ্ছে। পৃথক করা প্লাস্টিক নিরাপদ কো-প্রসেসিংয়ের জন্য লাফার্জহোলসিমের ছাতকস্থ জিওসাইকেল প্ল্যান্টে পাঠানো হয়।
এমআরএফের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় সিসিক ও লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ বায়োড্রায়িং প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। সেমিনারে জানানো হয়, বায়োড্রায়িং প্রযুক্তিতে অণুজীবের প্রাকৃতিক বিপাকীয় তাপ ও নিয়ন্ত্রিত বায়ুপ্রবাহ ব্যবহার করে বর্জ্যের অতিরিক্ত আর্দ্রতা কমানো হয়। এর ফলে বর্জ্যকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, নগরায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান প্রয়োজন। সিসিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সিলেটকে দেশের একটি মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। এমআরএফ আধুনিকায়নের মাধ্যমে নগরীকে প্লাস্টিক দূষণমুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, জিওসাইকেলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি টেকসই উন্নয়ন ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে কাজ করছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্য ল্যান্ডফিল ও নদীতে পড়া থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি নিরাপদ কো-প্রসেসিংয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
সেমিনারে মূল আলোচক হিসেবে আরও বক্তব্য দেন উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক সামা হক চৌধুরী, পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর সিলেটের উপমহাপরিদর্শক শিপন চৌধুরী এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের প্রধান ড. মো. সালাতুল ইসলাম মজুমদার।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন সিসিক, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, পরিবেশবিদ, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যমকর্মী ও তরুণ সমাজের প্রতিনিধিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘদিন ধরে চলা ছাত্র বিক্ষোভ ও ক্রমবর্ধমান জনরোষের প্রেক্ষাপটে পদত্যাগের পর, সার্বিয়ার সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভূসিক আগামী ২৫ অক্টোবর আগাম সংসদীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই আগাম নির্বাচন সার্বিয়ার চলমান গভীর রাজনৈতিক সংকট সমাধান করতে সক্ষম হবে না; বরং ক্ষমতা ধরে রাখার উদ্দেশ্যে ভূসিক এবং তার ক্ষমতাসীন পপুলিস্ট দল ‘সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি’ (এসএনএস) এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
২০২৪ সালে সার্বিয়ার একটি রেলওয়ে স্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জনের নির্মম মৃত্যুর ঘটনা ঘটার পর, সার্বিয়া জুড়ে তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার জন্য সরকারের দুর্নীতি, চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে বিচার দাবি করেন। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ একটি শক্তিশালী সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়, যেখানে রাজধানীর রাজপথে ১ লাখেরও বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করে।
সংবিধান অনুযায়ী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের আগে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। তাছাড়া, সার্বিয়ার সংবিধান অনুসারে ভূসিক টানা তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন না। তাই রাজনৈতিক জীবনের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এবং ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভূসিক তার ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনৈতিক প্রভাবকে প্রেসিডেন্সি থেকে পার্লামেন্টে স্থানান্তরিত করার চেষ্টা করছেন।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, গত দুই বছরে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দুর্নীতির অভিযোগের কারণে ক্ষমতাসীন এসএনএস দল তাদের রাজনৈতিক বৈধতা হারিয়েছে। রাজপথ থেকে এখন ছাত্র নেতারা নির্বাচনী প্রচারণায় মনোযোগ দিয়েছেন এবং ‘স্টুডেন্ট লিড’ নামে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। জনমত জরিপ বলছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা পার্লামেন্টে প্রবেশ করতে পারেন, যা সার্বিয়ার রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভূসিক তার ক্ষমতা ধরে রাখলেও সার্বিয়ায় বিরাজমান অস্থিরতা ও রাজনৈতিক বিভাজন কমার কোনো লক্ষণ নেই। সার্বিয়ার জনগণ এখন পরিবর্তন ও দুর্নীতিমুক্ত শাসনের অপেক্ষায় দিন গুনছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পঞ্চগড় জেলার প্রশাসকের কাছে তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ অনুযায়ী আবেদন করার পরও জেলার উন্নয়ন ও রাজস্ব আয়ের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা। তারা বিভাগীয় কমিশনারের হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন।
তথ্য অনুযায়ী, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বিভিন্ন জলমহাল, নদীর পাথর ও বালু ইজারা দিয়ে রাজস্ব আয়ের তথ্য এবং রাজস্ব আয় থেকে কী কী উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে, সেই তথ্য জানতে চেয়ে আবেদন করেন স্থানীয় সংবাদকর্মী মো. সম্রাট হোসাইন ও নাজমুস সাকিব মুন। এছাড়া, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ এর জন্য নির্বাচন পরিচালনায় কোন খাতে কী বরাদ্দ ছিল, তার ব্যয় বিবরণও জানতে চাওয়া হয়।
মো. সম্রাট হোসাইনের আবেদনের পর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসিফ আলী, গত ১০ সেপ্টেম্বর একটি চিঠি প্রদান করেন, যেখানে তথ্য দিতে অপারগতার কথা উল্লেখ করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ এর ২ (চ) ধারায় তথ্য প্রদান করা যাবে না। একইভাবে, নাজমুস সাকিব মুনকেও একই ধারায় তথ্য দিতে অপারগতার চিঠি প্রদান করা হয়।
জানা যায়, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এই সাংবিধানিক অধিকার বাস্তবায়নে প্রণীত “তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯” এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, প্রত্যেক নাগরিকের তথ্য জানার অধিকার রয়েছে। সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য সরবরাহ করতে হবে।
প্রতিটি দপ্তরে একজন “নির্ধারিত কর্মকর্তা” থাকতে হবে, যিনি তথ্য সরবরাহে বাধ্য। অযৌক্তিকভাবে তথ্য না দিলে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জরিমানার বিধান রয়েছে। এছাড়া, সরকারি ওয়েবসাইটে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য স্বপ্রণোদিতভাবে প্রকাশের বাধ্যবাধকতাও আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সময়ের কন্ঠস্বর পঞ্চগড় প্রতিনিধি নাজমুস সাকিব মুন বলেন, "তথ্য অধিকার আইনের আবেদন ফরমে আবেদন করি কিন্তু আমাকে কোন তথ্য দেয়নি জেলা প্রশাসন।"
এ বিষয়ে আইনজীবী মো. রাহিদুল ইসলাম বলেন, "তথ্য না দিয়ে দায় এড়ানো সংস্কৃতি, শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতা নয় এটি আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন। সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে, অবিলম্বে সব দপ্তরের তথ্য, হালনাগাদ প্রকাশ এবং তথ্য গোপনে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। তথ্য জনগণের অধিকার, এটি কোনো অনুগ্রহ নয়।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ