০৮:০৩ পি.এম
বহুল আলোচিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি বাস্তবায়নযোগ্য এবং এটি চূড়ান্তভাবে নকশা করা হয়েছে বলেই জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
রোববার (২১ জুন) জাতীয় সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের বিরোধী দলের সদস্য মো. নূরুল ইসলামের টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে এই তথ্য জানান মন্ত্রী।
এদিন তিনি মন্তব্য করেন, এটি জাতীয় স্বার্থে এবং দেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: ১০০ টাকার জন্য কলেজছাত্রী পিংকির মর্মান্তিক মৃত্যু
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প নতুন কোনো ধারণা নয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, ১৯৬০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে ব্যারেজ নির্মাণের উপযুক্ত স্থান নির্ধারণের জন্য চারটি আন্তর্জাতিক সমীক্ষা পরিচালিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০০২ সালে ওয়াটার রিসোর্সেস প্ল্যানিং অর্গানাইজেশন (ওয়ারপো) পরিচালিত প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় কুষ্টিয়ার ঠাকুরবাড়ি এবং রাজবাড়ীর পাংশা এলাকা সম্ভাব্য স্থান হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছিল।
এশী প্রকল্পটি বাস্তবায়নযোগ্য বলেই বক্তব্য রাখেন মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি উল্লেখ করেন, প্রকল্পটির ফিজিবিলিটি স্টাডির অনুমোদন ২০০৫ সালে দেওয়া হয়েছিল এবং চারটি দেশীয় ও তিনটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং পাঁচটি দেশীয় সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে পরিচালিত এই সমীক্ষা ২০১৩ সালে সম্পন্ন হয়।
মন্ত্রী জানান, সমীক্ষার সুপারিশের ভিত্তিতে প্রণীত নকশাটি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক যাচাই-বাছাই হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটির পর্যালোচনা ও মতামতের আলোকে তা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া, ২০১১ থেকে ২০২৫ সালের স্যাটেলাইট চিত্র ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রস্তাবিত এলাকায় নদীতীরের স্থিতিশীলতা রয়েছে। সেইসাথে, চর গঠনের ফলে ব্যারেজ নির্মাণের জন্য পরিবেশগত ও প্রযুক্তিগত অবস্থা অনুকূল হয়েছে।
তিনি আরো জানান, পদ্মার মতো বড় নদীর গতি-প্রকৃতি পরিবর্তনশীল হয়ে থাকে বলেই প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় হাইড্রো-মরফোলজিক্যাল পরিবর্তন হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। এই কারণে, নকশা হালনাগাদ এবং প্রয়োজনীয় অভিযোজন নিশ্চিত করতে দেশি ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: এনসিপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন
মন্ত্রীর মতে, প্রকল্পের জটিলতা বিবেচনায় বুয়েটের একজন অবসরপ্রাপ্ত খ্যাতিমান পানি বিশেষজ্ঞের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেলও গঠন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন