মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৩৮ এম
‘ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’—প্রিয়জনের কাছে মনের বার্তা পাঠানোর জন্য খামের ওপর ডাকটিকিট ব্যবহার করার দিনগুলো আজ স্মৃতির পটে ভাসছে। কাগজের বুকে আঙুলের স্পর্শ, কালির গন্ধ এবং ডাকপিয়নের ঘণ্টার শব্দের জন্য যে অপেক্ষার আকুলতা ছিল, তা আধুনিক যুগের কোনো খুদে বার্তায় পাওয়া যায় না।
হারিয়ে যাওয়া সেই আবেগ ও হাতের লেখার শিল্পকে স্মরণ করে আজ ১ সেপ্টেম্বর ‘আন্তর্জাতিক চিঠি দিবস’ পালন করা হচ্ছে।
এক সময় মানুষের যোগাযোগের সবচেয়ে বড় ভরসা ছিল চিঠি। শেরশাহর ঘোড়ার ডাক থেকে শুরু করে যুদ্ধক্ষেত্র, বন্ধুত্ব কিংবা প্রেমের মান-অভিমান—সব জায়গায় এই কাগজের চিঠির রাজত্ব ছিল। মুখে না বলতে পারা আবেগ এবং মনের গহিনের কত কথা যে অক্ষরে অক্ষরে জমা থাকত চিঠির মধ্যে! শুধু প্রিয়জনের খবরই নয়, হাতের ছোঁয়ামাখা একটি চিঠির জন্য ডাকপিয়নের পথ চেয়ে থাকার সেই মধুর প্রতীক্ষায় কত ইতিহাস ও স্মৃতি লুকিয়ে ছিল।
ইংরেজি সাহিত্যিক সমারসেট মম যেমনটি বলেছিলেন, আজকের বাস্তবতায় তা সত্যি হতে চলেছে—চিঠি লেখা আসলেই এক হারিয়ে যাওয়া শিল্প। বর্তমানের ব্যস্ত সময়ে মুঠোফোন এবং খুদে বার্তার ভিড়ে চিঠির আবেদন কমলেও, অনুভূতি প্রকাশের জন্য কাগজের গুরুত্ব আজও শেষ হয়ে যায়নি। দাপ্তরিক কাজের ঝক্কি ছাড়া মানুষ এখন আর ডাকঘরে না গেলেও, অন্তরের কথা জানাতে আজও অনেকে চিঠিকেই বেছে নেন।
চিঠি লেখার এই স্মৃতি ও শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে ২০১৪ সাল থেকে অস্ট্রেলীয় লেখক রিচার্ড সিম্পকিনের উদ্যোগে প্রতিবছর ১ সেপ্টেম্বর ‘আন্তর্জাতিক চিঠি দিবস’ পালিত হয়ে আসছে।
নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে তিনি নিজ দেশের খ্যাতনামা ব্যক্তিদের চিঠি পাঠাতেন। সেই উত্তর পাওয়ার আনন্দ তাকে এতটাই অনুপ্রাণিত করেছিল যে, হারিয়ে যাওয়া এই চর্চাকে নতুন প্রজন্মের কাছে ফিরিয়ে আনতেই তিনি দিবসটির প্রচলন করেন। ডিজিটাল যুগে যোগাযোগের হাজারো মাধ্যম এলেও, চিঠির উষ্ণতা ও আবেগ চিরকাল অনন্যই থেকে যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মসজিদে নববীতে আগত মুসল্লি, ওমরাহ পালনকারী ও দর্শনার্থীদের ইবাদত ও জিয়ারতের অভিজ্ঞতাকে আরো স্বাচ্ছন্দ্যময় ও সমৃদ্ধ করতে মদিনায় একটি সমন্বিত সেবাব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এই কার্যক্রমটি নগরীর বিভিন্ন সরকারি ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে পরিচালনা করছে।
আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা এর প্রধান লক্ষ্য, যা আগমন থেকে শুরু করে মদিনা ত্যাগ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
মসজিদে নববীতে আগত দর্শনার্থীদের জন্য প্রতিদিন ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মসজিদ ও এর বিশাল প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, জীবাণুমুক্তকরণ, মুসল্লিদের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সুসংগঠিত করা, পর্যাপ্ত শৌচাগার ও অজুর স্থান প্রস্তুত রাখা এবং সার্বক্ষণিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা এসব প্রস্তুতির অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, দর্শনার্থীদের জন্য জমজমের পানি সরবরাহ ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এসব ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো—মুসল্লিরা যেন ব্যস্ততা ও অসুবিধার পরিবর্তে প্রশান্ত পরিবেশে নামাজ, ইবাদত ও জিয়ারত করতে পারেন।
মসজিদে নববীকে ঘিরে মদিনার নগর পরিবেশও ক্রমেই আরো দর্শনার্থীবান্ধব করে তোলা হচ্ছে। পথচারীদের চলাচলের সুবিধার্থে ফুটপাত ও হাঁটার পথ উন্নত করা, সবুজ এলাকা বাড়ানো, ছায়াঘেরা স্থান তৈরি, আধুনিক আলোকসজ্জা এবং বিভিন্ন গণসুবিধার উন্নয়ন করা হচ্ছে।
বিশেষভাবে প্রতিবন্ধী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে পৃথক ও সহজগম্য পথ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ফলে বয়স্ক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দর্শনার্থীরাও তুলনামূলক সহজে মসজিদ ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে যাতায়াত করতে পারছেন।
নিরাপত্তা, ট্রাফিক, পৌরসভা ও বাণিজ্যিক খাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো একযোগে কাজ করছে। যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে সৃষ্ট চাপ মোকাবেলায় নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ব্যবস্থা। একই সঙ্গে হোটেল, রেস্তোরাঁ, বাজার, খাদ্যপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য আতিথেয়তা কেন্দ্রের সেবার মান পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে মদিনায় অবস্থানকালে দর্শনার্থীরা মানসম্মত সেবা পান।
মদিনার এই সমন্বিত সেবা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো আল্লাহর মেহমানদের জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ তৈরি করা।
বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, মানবসম্পদ ও আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দর্শনার্থীদের সেবার মান আরো উন্নত করার চেষ্টা চলছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগের ফলে মদিনায় আগত হজযাত্রী, ওমরাহ পালনকারী ও অন্য দর্শনার্থীরা যেন নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও মানসিক প্রশান্তির সঙ্গে ইবাদত এবং ঐতিহাসিক স্থানগুলো জিয়ারত করতে পারেন, সেই পরিবেশ আরো সুদৃঢ় হচ্ছে।
সূত্র : সৌদি প্রেস এজেন্সি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে এক রূপকথার রাতে ফুটবলবিশ্ব একটি অসাধারণ ইতিহাসের সাক্ষী হলো। তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামাল এবং ব্রাজিলের উইঙ্গার রাফিনিয়ার জোড়া গোলে বার্সেলোনা রায়ো ভায়েকানোকে ৫-২ ব্যবধানে পরাজিত করেছে।
একই সঙ্গে স্প্যানিশ ফুটবলে ইয়ামালের মাধ্যমে ৫০ গোলের একটি অবিশ্বাস্য মাইলফলক সৃষ্টি হয়েছে, যা ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে।
ম্যাচের শুরুতে রায়ো ভায়েকানো কিছুটা ভিন্নতার আভাস দিয়েছিল। ১২তম মিনিটে সের্হিও ক্যামেলোর দুর্দান্ত গোলের মাধ্যমে অতিথিরা বার্সাকে চমকে দিয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। তবে এই ধাক্কা খেয়ে হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা জেগে উঠতে বিলম্ব করেনি।
দুই মিনিটের মধ্যে তারা দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। ১৯তম মিনিটে রাফিনিয়া সমতায় ফেরান এবং ২১তম মিনিটে ইয়ামাল ব্যবধান ২-১ করেন। চলতি মৌসুমে তরুণ এই উইঙ্গারের এটি ছিল প্রথম গোল।
দ্বিতীয়ার্ধে বার্সেলোনার আক্রমণের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পায়।
ইয়ামাল এবং রাফিনিয়া উভয়েই নিজেদের জোড়া গোল পূর্ণ করেন। এর মধ্যে রায়ো ডিফেন্ডার ফ্লোরিয়ান লেজেউনের একটি আত্মঘাতী ভুলের ফলে গোলের ব্যবধান আরও বাড়ে। অন্যদিকে, রায়োর হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন ক্যামেলো, যা হারের ক্ষত কিছুটা কমায়। এখন টানা তিন জয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে রয়েছে ফ্লিকের গানাররা, যেখানে শেষ তিন ম্যাচে তারা ১২টি গোল করেছে।
৫০ গোলের এই মহাকাব্যিক মাইলফলকে পৌঁছাতে ইয়ামালের বয়স লাগল মাত্র ১৯ বছর ৪৯ দিন।
এটি রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি রাউল গঞ্জালেসের (১৯ বছর ২৪৯ দিন) রেকর্ড ভেঙেছে। আতলেতিকো মাদ্রিদের সাবেক তারকা ফার্নান্দো তোরেসও (২০ বছর ২২১ দিন) পেছনে পড়েছেন।
বার্সেলোনার ইতিহাসের পাতাতেও এটি একটি নতুন অধ্যায়। ১৯৩৫ সালে ২০ বছর ৩৫৬ দিন বয়সে ৫০ গোল করে ৯০ বছর ধরে এই রেকর্ডটি নিজের দখলে রেখেছিলেন প্রয়াত ফরোয়ার্ড জোসেফ এসকোলা। এমনকি ক্লাবের ইতিহাসের সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসিও এত দ্রুত এই অর্জনে পৌঁছাতে পারেননি, মেসির ৫০তম গোলটি এসেছিল ২১ বছর ১২০ দিন বয়সে।
ইউরোপের সেরা পাঁচ লিগের আধুনিক সময়ের সুপারস্টার কিলিয়ান এমবাপ্পে (১৯ বছর ২৪১ দিন) এবং আর্লিং হাল্যান্ডকেও (২০ বছর ১৯৬ দিন) পেছনে ফেলে সবচেয়ে কম বয়সে ৫০ গোলের রেকর্ড এখন এই স্প্যানিশ সেনসেশনের ঝুলিতে রয়েছে।
এখন পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতায় বার্সার জার্সি গায়ে ইয়ামাল ১৫৪ ম্যাচে অংশগ্রহণ করেছেন, যার মধ্যে ১২৬টিতে তিনি ছিলেন শুরুর একাদশে। গোল করেছেন ৫১টি এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৪৫টি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া প্রবাহিত হতে পারে। এই কারণে আবহাওয়া অধিদপ্তর চারটি সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় এ বিষয়টি জানানো হয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা উপকূল ও উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ অবস্থান করছে। এই লঘুচাপটি পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্র বন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এই পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে, যতক্ষণ না পরবর্তী নির্দেশনা আসে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ফলে মৃতের সংখ্যা বর্তমানে ৯৫৫ জনে পৌঁছেছে। প্রায় ৪ হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছে। দেশের নুয়াকোট জেলার একটি বাড়ি থেকে একসঙ্গে ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা এই দুর্যোগের ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
মঙ্গলবার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নুয়াকোটের বেত্রাবতী এলাকার ওই বাড়ি থেকে সোমবার সকালে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, বন্যার পানিতে বাড়িটি ভেসে যাওয়ার পর সেখানে মরদেহগুলো আটকা পড়ে ছিল।
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে বরফ ও পাথরের ধসের ফলে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদী ব্যবস্থায় প্রবল স্রোত নেমে এসে উত্তর ও মধ্য নেপালের বহু শহর ও গ্রাম প্লাবিত করেছে। এই পরিস্থিতিতে ঘরবাড়ি, যানবাহন, সড়ক ও সেতুর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যার পর নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে ঘন কাদা, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কয়েকটি টানেলে ৯০০ জনের বেশি শ্রমিক আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ১১টি প্রকল্পের ৯৩৩ শ্রমিক নিখোঁজ বা আটকা পড়েছেন। রাশুয়া ও নুয়াকোট জেলার কয়েকটি টানেলে এখনও উদ্ধারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। ত্রিশূলী ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায় ৪০ থেকে ৪২ জন প্রকৌশলী কাজ করছিলেন। বন্যার পর তাঁদের সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ত্রিশূলী ৩বি প্রকল্পের ১১৮ শ্রমিকও নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপাল সেনাবাহিনী কাদা ও পানি সরাতে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ, খননযন্ত্র ও সার্চলাইট ব্যবহার করছে। তবে টানেলের ভেতরের পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় উদ্ধারকাজে সময় লাগছে।
এদিকে প্রতিবেশী ভারতের উত্তর প্রদেশের কুশীনগরের গণ্ডক নদী থেকে ১৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জন নারী ও সাতজন পুরুষ রয়েছেন। মরদেহগুলো নেপালে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে হাসপাতালগুলোতে ভিড় করছেন পরিবারের সদস্যরা। অনেক মরদেহ দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্বজনদের কেউ পোশাক, গয়না, ট্যাটু বা ব্যক্তিগত সামগ্রী দেখে মরদেহ শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষারও সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
নেপাল মরদেহ শনাক্ত ও উদ্ধারকাজে ফ্রিজার, ডিএনএ কিট, লাইডার, ড্রোন ও সেতু নির্মাণের সরঞ্জাম চেয়েছে। ভারত, চীন, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা করছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় প্রায় ৬৫ হাজার মানুষের জরুরি পানি, পয়োনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা প্রয়োজন। এ ছাড়া ২২ হাজারের বেশি শিশুর সুরক্ষা সহায়তা দরকার। ১৯টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; এর মধ্যে ৯টি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এবং ৮টি স্কুল বর্তমানে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ১০ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩২৩ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩৯টি দেশের প্রায় ৫৯০ বিদেশি নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ