বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৪:৩২ এম
দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও ২০২৭ সালের ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার সুযোগ ফিরে পেলেন কট্টর ডানপন্থী নেতা, মেরিন লে পেন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্যারিসের আপিল আদালত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অর্থ অপব্যবহারের মামলায় তার দণ্ড বহাল রাখলেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ওপর আরোপিত অযোগ্যতার মেয়াদ কমিয়ে দিয়েছেন।
ফলে, আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আইনি বাধা আর থাকছে না ফ্রান্সের ন্যাশনাল র্যালি দলের এই নেত্রীর সামনে।
তবে আদালতের রায় সম্পূর্ণভাবে লে পেনের জন্য স্বস্তির নয়। অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে তার দণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। তাকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক বছরের জন্য ইলেকট্রনিক নজরদারির শর্ত দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে, নির্বাচনে অযোগ্যতার মেয়াদ কমিয়ে দেওয়ার ফলে তিনি ২০২৭ সালের নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
ফরাসি গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আপিল আদালতের এই সিদ্ধান্ত মেরিন লে পেনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে আবারও ফ্রান্সের ক্ষমতার লড়াইয়ের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। এর আগে নিম্ন আদালতের রায়ে তাকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল, যার কারণে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। নতুন রায়ে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে।
মেরিন লে পেন ও তার দল, ন্যাশনাল র্যালির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অর্থ দলীয় কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থে নিয়োজিত কিছু সংসদীয় সহকারী প্রকৃতপক্ষে ফ্রান্সে দলের সাংগঠনিক কাজে যুক্ত ছিলেন। এই মামলায় বিপুল পরিমাণ অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।
লে পেন শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, তাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার জন্য এই মামলা করা হয়েছে।
আদালতের রায়ের পরও তিনি তার রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান জানিয়েছেন। তার সমর্থকরা বলছেন, এই মামলা তাকে থামাতে পারেনি, বরং তিনি এখন আরো শক্তিশালী অবস্থানে ফিরে এসেছেন।
আদালতের এই সিদ্ধান্ত ফ্রান্সের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। কারণ, মেরিন লে পেন শুধু একটি দলের প্রধান নন, গত এক দশকে তিনি দেশটির সবচেয়ে প্রভাবশালী বিরোধী নেতাদের একজন হয়ে উঠেছেন। ২০১৭ ও ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও তিনি দ্বিতীয় দফার ভোটে পৌঁছেছিলেন। দুইবারই বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কাছে পরাজিত হলেও তার ভোটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সাংবিধানিক কারণে আগামী ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ম্যাক্রোঁ অংশ নিতে পারবেন না। ফলে নতুন নেতৃত্বের লড়াইয়ে মেরিন লে পেন অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে থাকবেন। তার দল ন্যাশনাল র্যালি বর্তমানে ফ্রান্সের অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
লে পেনের রাজনৈতিক উত্থানের মূল ভিত্তি হলো অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা, জাতীয় পরিচয় এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ। তার দল দীর্ঘদিন ধরে কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে।
সমর্থকদের মতে, তিনি সাধারণ মানুষের বাস্তব সমস্যা রাজনীতির কেন্দ্রে এনেছেন। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, তার রাজনীতি ফরাসি সমাজে বিভাজন বাড়াচ্ছে।
ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ অভিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্যও এই রাজনৈতিক পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ন্যাশনাল র্যালি ক্ষমতায় এলে অভিবাসন আইন, নাগরিকত্ব, বিদেশিদের অধিকার এবং মুসলিম সম্প্রদায়কে ঘিরে নীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।
মেরিন লে পেনের মামলা বর্তমানে ফ্রান্সে একটি বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে, জনপ্রিয় কোনো রাজনীতিক আদালতে দণ্ডিত হওয়ার পরও কি জনগণের ভোটে দেশের সর্বোচ্চ পদে যাওয়ার সুযোগ পাবেন?
লে পেনের সমর্থকরা বলছেন, শেষ সিদ্ধান্ত জনগণের।
অন্যদিকে বিরোধীরা মনে করছেন, দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত একজন নেত্রীর প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফরাসি রাজনীতিতে নতুন নৈতিক সংকট তৈরি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানদের সম্মেলনে, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ক্রমবর্ধমান বিশাল আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জোরালো আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পদ্ধতিগত জ্ঞান বিনিময়, উদ্ভাবন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ‘জাতিসংঘ পুলিশ জ্ঞান ও উদ্ভাবন নেটওয়ার্ক’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত ‘পঞ্চম জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানদের সম্মেলন- ইউএনকপস ২০২৬’-এ তিনি যোগদান করেন। সেখানে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
এবারের দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে (৭-৮ জুলাই) জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের পুলিশ প্রধান এবং নীতি-নির্ধারকগণ বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় তিনটি মূল প্লেনারি সেশনে অংশ নিচ্ছেন। সেশনগুলো হলো- ‘জাতিসংঘ পুলিশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা’, ‘জাতিসংঘ পুলিশিংয়ে উদ্ভাবন ও নতুন প্রযুক্তি’ এবং ‘আন্তঃদেশীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি’ ।
সম্মেলনের প্রথম সেশনে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জসমূহ দিন দিন অত্যন্ত জটিল রূপ ধারণ করছে। প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং অপরাধী চক্রগুলোর আন্তঃদেশীয় নেটওয়ার্কের কারণে প্রথাগত পুলিশিং ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।’
বাংলাদেশকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যতের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ তার ফর্মড পুলিশ ইউনিটকে (এফপিইউ) আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলেছে। আমাদের পুলিশ বাহিনীতে ইতোমধ্যে সোয়াত, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, সাইবার ও সংগঠিত অপরাধ তদন্ত বিশেষজ্ঞ, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং ইন্টেলিজেন্স-লেড পুলিশিং ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি ও সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।’
বিশ্ব পরিমণ্ডলে মেধা ও দক্ষতার পদ্ধতিগত আদান-প্রদানের লক্ষ্যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি ‘জাতিসংঘ পুলিশ জ্ঞান ও উদ্ভাবন নেটওয়ার্ক’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন। এর মাধ্যমে সদস্য রাষ্ট্রগুলো নিজেদের সেরা অনুশীলন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা শেয়ার করতে পারবে।
তিনি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রস্তুতি জোরদার করার লক্ষ্যে বার্ষিক পরিবেশ পুলিশিং সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাব করেন। মন্ত্রী একটি অভিযোজনক্ষম, উদ্ভাবনী এবং শান্তি ও মানবতার প্রতি দায়বদ্ধ জাতিসংঘ পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সুনির্দিষ্ট ও দূরদর্শী প্রস্তাবনা এবং বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের সুদৃঢ় অঙ্গীকার বিশ্ব নেতৃবৃন্দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত ও সমাদৃত হয়েছে।
সম্মেলনে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিরা ছাড়াও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম (ডিপিও), অপারেশনাল সাপোর্ট (ডিওএস) এবং রাজনৈতিক ও শান্তি বিনির্মাণ বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেলরা অংশ নিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে মিশরের নাটকীয় ৩-২ গোলের হার নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানী এবার দাবি করেছেন, ম্যাচটিতে মিশরকে ‘‘ডাকাতি’’ করে হারানো হয়েছে।
গত মঙ্গলবারের ম্যাচে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ারের কিছু সিদ্ধান্ত এবং ভিএআরের ব্যবহারে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার কাছে অভিযোগ করেছে। পরদিনই মেয়র জোহরান মামদানী মন্তব্য করেন।
ম্যাচটির সবচেয়ে বিতর্কিত ঘটনা ঘটে দ্বিতীয়ার্ধে। মিশরের মোস্তফা জিকো একটি চমৎকার গোল করলেও, ভিএআর রিভিউ শেষে দেখা যায়, গোল হওয়ার ঠিক ২০ সেকেন্ড আগে একটি ফাউল হয়েছিল। রেফারি সেই অজুহাতে গোলটি বাতিল করে দেন। এরপর আর্জেন্টিনা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে।
বুধবার নিউইয়র্কে যানজট নিরসন ও দ্রুত বাস সেবা সংক্রান্ত একটি কর্মসূচির উদ্বোধনে বক্তব্য রাখছিলেন মেয়র জোহরান মামদানী। নিউইয়র্কবাসীদের সময় বাঁচানোর গুরুত্ব সম্পর্কে বলার সময় তিনি আচমকাই বিশ্বকাপের বিতর্কিত ম্যাচটির প্রসঙ্গ টেনে আনেন।
মেয়র বলেন, দ্রুত বাস সেবার ফলে বছরে একজন যাত্রীর অন্তত দুই দিনের সমপরিমাণ সময় বাঁচবে, যা তারা তাদের পরিবারকে দিতে পারবেন। এর পর তিনি যোগ করেন: ‘‘এর মানে হলো, আপনি আপনার বন্ধুদের সাথে এই বিষয়ে একমত হওয়ার সময় পাবেন যে— গতকাল মিশরের সাথে অন্যায় করা হয়েছে, মিশরকে ডাকাতি করে হারানো হয়েছে। সর্বোপরি, এর অর্থ হলো নিউ ইয়র্কবাসীদের সেই মূল্যবান সময় ফিরিয়ে দেওয়া, যা তাদের কাছে পর্যাপ্ত নেই।’'
ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মিশরের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ার এবং তার দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয়। তারা একটি বিবৃতিতে জানায়: ‘‘আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ম্যাচে যে ধরণের রেফারিং এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি সিস্টেমের ত্রুটিপূর্ণ ব্যবহার দেখা গেছে, সে বিষয়ে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন চুপ থাকতে পারে না।’'
তারা আরও দাবি করে, বিশ্বের একাধিক ফুটবল বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকরাও এই ম্যাচটির বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যা বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চের সততা ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিশরের এক তারকা ফুটবলার জনপ্রিয় ক্রীড়া মাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেছেন যে এই বিশ্বকাপ ‘ফিক্সড’ বা পাতানো হয়েছে। তার দাবি, পেনাল্টি বাতিল এবং মিশরের বৈধ গোল বাতিলের পেছনে আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে রেফারির ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একটি চলন্ত বিমানের মাঝ আকাশে আচমকাই দরজা খুলে নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক ফ্লাইট ইন্সট্রাক্টর (বিমান চালনা শিক্ষক)। উড্ডয়নরত অবস্থায় শিক্ষক লাফ দিলেও তা সত্ত্বেও এক ২২ বছর বয়সী অনভিজ্ঞ ছাত্রী বিমানটিকে অতি বিচক্ষণতার সাথে নিরাপদে মাটিতে নামিয়ে এনেছেন।
এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে আর্জেন্টিনার মধ্যাঞ্চলের টোলেডো শহরে গত শনিবার। বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে দেশটির পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে। নিহত পাইলটের নাম হল লিয়েন্দ্রো আন্দ্রেস বার্টাজো (৪২)।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘টিএন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বার্টাজো সেসনা ১৫০ মডেলের একটি ছোট প্রশিক্ষণ বিমানে ২২ বছর বয়সী রোজারিও নামের শিক্ষার্থীকে নিয়ে উড়াল দিয়েছিলেন। ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে রোজারিও জানান, বিমানটিতে মাঝ আকাশে থাকা অবস্থায় বার্টাজো হঠাৎ বলেন, “তুমি জানো তোমাকে কী করতে হবে, চালাতে থাকো।” এরপর তিনি মাথার হেডসেট ও সিটবেল্ট খুলে ফেলেন এবং বিমানের দরজা খুলে নিচে ঝাঁপ দিয়ে পড়েন।
ফ্লাইং প্যারট কর্ডোবা ফ্লাইং স্কুলের পরিচালক এদুয়ার্দো আলভারেজ জানান, বার্টাজো অত্যন্ত অভিজ্ঞ পাইলট ছিলেন এবং পার্শ্ববর্তী দেশ চিলিতেও ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করেছেন। সকালেও তিনি অন্য এক শিক্ষার্থীকে নিয়ে সফলভাবে ফ্লাইট পরিচালনা করেছিলেন। তার এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের আগে কোনো পূর্বাভাস ছিল না। আলভারেজ আরও জানিয়েছেন, “তিনি (বার্টাজো) পাশে অন্য একজন মানুষ থাকা অবস্থায় বিমানের ভেতর এই দুঃখজনক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মানুষের মন এত জটিল যে এটা ভাবা বা বোঝা অসম্ভব।''
চলন্ত অবস্থায় বিমানের দরজা খোলা অত্যন্ত কঠিন উল্লেখ করে আলভারেজ বলেন, এটি ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার বেগে চলা গাড়ির দরজা খোলার মতো প্রতিরোধী বাতাসের মুখোমুখি হওয়ার মতো।
শিক্ষকের এই আকস্মিক আত্মহননে Schüler রোজারিও সম্পূর্ণ স্তব্ধ ও বড় ধাক্কা খেয়ে যাওয়ার পরও খুব সাহসিকতার সাথে কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করাতে সক্ষম হন। এই রহস্যময় আত্মহত্যার ঘটনার পেছনে সুনির্দিষ্ট কী কারণ ছিল, তা জানতে দেশটির সরকারি আইনজীবীরা তদন্ত শুরু করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যদি ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার কোনো প্রচেষ্টা করে, তাহলে মার্কিন সামরিক বাহিনী তার কঠোর জবাব দেবে—এমন সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বুধবার (৮ জুলাই) ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত একটি সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই কড়া বার্তা প্রদান করেছেন।
ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরান যদি এই প্রণালিটি বন্ধ করার চেষ্টা করে, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এটাই হচ্ছে অনস্বীকার্য সত্য। তিনি পূর্ববর্তী একটি সমঝোতার প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের মধ্যে মূল চুক্তিটি ছিল এমন—আপনারা যদি জাহাজে হামলা চালানো বন্ধ করেন, তাহলে আমরা আমাদের অবরোধ তুলে নেব। কিন্তু যদি আপনারা জাহাজে গুলি বা হামলা চালিয়ে যেতে থাকেন, তাহলে আমরাও পাল্টা আঘাত করব।
গত রাতে ঘটে যাওয়া একটি হামলায় ইঙ্গিত করে ভ্যান্স ইরানকে সতর্ক করে বলেন, তারা চাইলে এই নিয়ম মেনে চলতে পারে। অন্যথায়, তারা গত রাতে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল, ঠিক একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তির সম্মুখীন হবে। যতক্ষণ না তারা সেই নৌপথকে উন্মুক্ত করছে এবং জাহাজে হামলা চালানো বন্ধ করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এই ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ