বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৪:৫৬ এম
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে মিশরের নাটকীয় ৩-২ গোলের হার নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানী এবার দাবি করেছেন, ম্যাচটিতে মিশরকে ‘‘ডাকাতি’’ করে হারানো হয়েছে।
গত মঙ্গলবারের ম্যাচে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ারের কিছু সিদ্ধান্ত এবং ভিএআরের ব্যবহারে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার কাছে অভিযোগ করেছে। পরদিনই মেয়র জোহরান মামদানী মন্তব্য করেন।
ম্যাচটির সবচেয়ে বিতর্কিত ঘটনা ঘটে দ্বিতীয়ার্ধে। মিশরের মোস্তফা জিকো একটি চমৎকার গোল করলেও, ভিএআর রিভিউ শেষে দেখা যায়, গোল হওয়ার ঠিক ২০ সেকেন্ড আগে একটি ফাউল হয়েছিল। রেফারি সেই অজুহাতে গোলটি বাতিল করে দেন। এরপর আর্জেন্টিনা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে।
বুধবার নিউইয়র্কে যানজট নিরসন ও দ্রুত বাস সেবা সংক্রান্ত একটি কর্মসূচির উদ্বোধনে বক্তব্য রাখছিলেন মেয়র জোহরান মামদানী। নিউইয়র্কবাসীদের সময় বাঁচানোর গুরুত্ব সম্পর্কে বলার সময় তিনি আচমকাই বিশ্বকাপের বিতর্কিত ম্যাচটির প্রসঙ্গ টেনে আনেন।
মেয়র বলেন, দ্রুত বাস সেবার ফলে বছরে একজন যাত্রীর অন্তত দুই দিনের সমপরিমাণ সময় বাঁচবে, যা তারা তাদের পরিবারকে দিতে পারবেন। এর পর তিনি যোগ করেন: ‘‘এর মানে হলো, আপনি আপনার বন্ধুদের সাথে এই বিষয়ে একমত হওয়ার সময় পাবেন যে— গতকাল মিশরের সাথে অন্যায় করা হয়েছে, মিশরকে ডাকাতি করে হারানো হয়েছে। সর্বোপরি, এর অর্থ হলো নিউ ইয়র্কবাসীদের সেই মূল্যবান সময় ফিরিয়ে দেওয়া, যা তাদের কাছে পর্যাপ্ত নেই।’'
ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মিশরের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ার এবং তার দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয়। তারা একটি বিবৃতিতে জানায়: ‘‘আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ম্যাচে যে ধরণের রেফারিং এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি সিস্টেমের ত্রুটিপূর্ণ ব্যবহার দেখা গেছে, সে বিষয়ে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন চুপ থাকতে পারে না।’'
তারা আরও দাবি করে, বিশ্বের একাধিক ফুটবল বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকরাও এই ম্যাচটির বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যা বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চের সততা ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিশরের এক তারকা ফুটবলার জনপ্রিয় ক্রীড়া মাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেছেন যে এই বিশ্বকাপ ‘ফিক্সড’ বা পাতানো হয়েছে। তার দাবি, পেনাল্টি বাতিল এবং মিশরের বৈধ গোল বাতিলের পেছনে আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে রেফারির ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একটি চলন্ত বিমানের মাঝ আকাশে আচমকাই দরজা খুলে নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক ফ্লাইট ইন্সট্রাক্টর (বিমান চালনা শিক্ষক)। উড্ডয়নরত অবস্থায় শিক্ষক লাফ দিলেও তা সত্ত্বেও এক ২২ বছর বয়সী অনভিজ্ঞ ছাত্রী বিমানটিকে অতি বিচক্ষণতার সাথে নিরাপদে মাটিতে নামিয়ে এনেছেন।
এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে আর্জেন্টিনার মধ্যাঞ্চলের টোলেডো শহরে গত শনিবার। বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে দেশটির পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে। নিহত পাইলটের নাম হল লিয়েন্দ্রো আন্দ্রেস বার্টাজো (৪২)।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘টিএন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বার্টাজো সেসনা ১৫০ মডেলের একটি ছোট প্রশিক্ষণ বিমানে ২২ বছর বয়সী রোজারিও নামের শিক্ষার্থীকে নিয়ে উড়াল দিয়েছিলেন। ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে রোজারিও জানান, বিমানটিতে মাঝ আকাশে থাকা অবস্থায় বার্টাজো হঠাৎ বলেন, “তুমি জানো তোমাকে কী করতে হবে, চালাতে থাকো।” এরপর তিনি মাথার হেডসেট ও সিটবেল্ট খুলে ফেলেন এবং বিমানের দরজা খুলে নিচে ঝাঁপ দিয়ে পড়েন।
ফ্লাইং প্যারট কর্ডোবা ফ্লাইং স্কুলের পরিচালক এদুয়ার্দো আলভারেজ জানান, বার্টাজো অত্যন্ত অভিজ্ঞ পাইলট ছিলেন এবং পার্শ্ববর্তী দেশ চিলিতেও ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করেছেন। সকালেও তিনি অন্য এক শিক্ষার্থীকে নিয়ে সফলভাবে ফ্লাইট পরিচালনা করেছিলেন। তার এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের আগে কোনো পূর্বাভাস ছিল না। আলভারেজ আরও জানিয়েছেন, “তিনি (বার্টাজো) পাশে অন্য একজন মানুষ থাকা অবস্থায় বিমানের ভেতর এই দুঃখজনক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মানুষের মন এত জটিল যে এটা ভাবা বা বোঝা অসম্ভব।''
চলন্ত অবস্থায় বিমানের দরজা খোলা অত্যন্ত কঠিন উল্লেখ করে আলভারেজ বলেন, এটি ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার বেগে চলা গাড়ির দরজা খোলার মতো প্রতিরোধী বাতাসের মুখোমুখি হওয়ার মতো।
শিক্ষকের এই আকস্মিক আত্মহননে Schüler রোজারিও সম্পূর্ণ স্তব্ধ ও বড় ধাক্কা খেয়ে যাওয়ার পরও খুব সাহসিকতার সাথে কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করাতে সক্ষম হন। এই রহস্যময় আত্মহত্যার ঘটনার পেছনে সুনির্দিষ্ট কী কারণ ছিল, তা জানতে দেশটির সরকারি আইনজীবীরা তদন্ত শুরু করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যদি ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার কোনো প্রচেষ্টা করে, তাহলে মার্কিন সামরিক বাহিনী তার কঠোর জবাব দেবে—এমন সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বুধবার (৮ জুলাই) ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত একটি সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই কড়া বার্তা প্রদান করেছেন।
ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরান যদি এই প্রণালিটি বন্ধ করার চেষ্টা করে, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এটাই হচ্ছে অনস্বীকার্য সত্য। তিনি পূর্ববর্তী একটি সমঝোতার প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের মধ্যে মূল চুক্তিটি ছিল এমন—আপনারা যদি জাহাজে হামলা চালানো বন্ধ করেন, তাহলে আমরা আমাদের অবরোধ তুলে নেব। কিন্তু যদি আপনারা জাহাজে গুলি বা হামলা চালিয়ে যেতে থাকেন, তাহলে আমরাও পাল্টা আঘাত করব।
গত রাতে ঘটে যাওয়া একটি হামলায় ইঙ্গিত করে ভ্যান্স ইরানকে সতর্ক করে বলেন, তারা চাইলে এই নিয়ম মেনে চলতে পারে। অন্যথায়, তারা গত রাতে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল, ঠিক একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তির সম্মুখীন হবে। যতক্ষণ না তারা সেই নৌপথকে উন্মুক্ত করছে এবং জাহাজে হামলা চালানো বন্ধ করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এই ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সাক্ষাতে পাকিস্তানের হাইকমিশনার মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য আগের বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে এই বাণিজ্য আরও বৃদ্ধি পাবে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে মন্ত্রীর অফিসকক্ষে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন ও পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ ওয়াসিফ উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাতে আলোচনা হয়েছে নারী শিক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারীদের আত্মকর্মসংস্থান, কৃষি, ডেইরি, পোলট্রি, মৎস্য এবং ব্যবসা-বাণিজ্যসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়। মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এবং একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের নারীরা যেন তাদের হাতে তৈরি পণ্যসমূহ পাকিস্তানে কোনো বাধা ছাড়াই রপ্তানি করতে পারে, সে বিষয়ে পাকিস্তানের ইতিবাচক সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি একই সঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আম, কাঁঠাল ও আনারস আমদানির আহ্বান জানান পাকিস্তানকে। পাকিস্তানের হাইকমিশনার এসময় উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য আগের বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা করেন। তিনি জানান, পাকিস্তানে বাংলাদেশের জন্য ১০ হাজার টন পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা রয়েছে। এই সুযোগ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান। হাইকমিশনার বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা সাইবার সিকিউরিটি, ন্যানো টেকনোলজি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য পাকিস্তানে গেছেন। এছাড়া, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিবের একটি দল অ্যাকাডেমিক প্রশিক্ষণের জন্য পাকিস্তান সফর করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময়ে মন্ত্রী দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপের পরিমাণ বৃদ্ধি করার আহ্বান জানালে, পাকিস্তানের হাইকমিশনার স্কলারশিপের সংখ্যা বাড়ানোর ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লঘুচাপজনিত অতিবৃষ্টির কারণে যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ, মাঠ অথবা বিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, সেসব বিদ্যালয়ে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
বুধবার (৮ জুলাই) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহাম্মদ স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এই তথ্য জানানো হয়েছে। যেসব বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেগুলোতেও আশ্রয়কেন্দ্র চালু থাকা পর্যন্ত পাঠদান বন্ধ থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির কারণে যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, মাঠ এবং চলাচলের রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, সেসব বিদ্যালয়ে অবশ্যই শ্রেণি পাঠদান বন্ধ রাখতে হবে। ইতোমধ্যে যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, সেগুলো আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার পুরো সময়জুড়ে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। কোনো অবস্থাতেই অতি উৎসাহী হয়ে জলমগ্ন অথবা ঝুঁকিপূর্ণ কোনো বিদ্যালয়ে পাঠদান চালু রাখা যাবে না।
নির্দেশনাটি চট্টগ্রাম জেলার প্রতিটি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। তারা তাদের আওতাধীন সব উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বিষয়টি অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ