ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে রায় আজ


মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে রায় আজ

আজ ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি এবং সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই রায় ঘোষণা করা হবে। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এর আগে গত ২২ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করেন। এর আগে প্রসিকিউশন এবং আসামিপক্ষের দীর্ঘ শুনানির পর গত ১৪ মে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম এবং ফারুক আহাম্মদ। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মুনসুরুল হক চৌধুরী ও সিফাত মাহমুদ।

আরও পড়ুন: কমলনগরে নিষিদ্ধ সময়ে মা ইলিশ শিকারের দায়ে চারজনকে কারাদণ্ড ও জরিমানা

প্রসিকিউশন আদালতে দাবি করেছেন যে, ইনুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং তার সর্বোচ্চ শাস্তি হিসাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত। অন্যদিকে, আসামিপক্ষ বলছে, অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এবং তারা ইনুর খালাস চেয়েছেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উসকানি এবং প্ররোচনা দিয়েছিলেন হাসানুল হক ইনু। প্রসিকিউশনের দাবি, ইনুর প্ররোচনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেন। পাশাপাশি, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের অন্তর্ভুক্ত শীর্ষ নেতা হিসেবে সংঘটিত অপরাধের জন্য ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায়ও ইনুর ওপর বর্তায় বলে প্রসিকিউশন যুক্তি প্রদর্শন করেছেন।

শুনানির সময় প্রসিকিউশন আদালতে শেখ হাসিনা এবং ইনুর মধ্যে টেলিফোনে কথোপকথনের একটি রেকর্ড উপস্থাপন করেন। সেখানে জাসদ সভাপতি গণআন্দোলনকে জঙ্গিবাদ আখ্যা দিয়ে দমনের কথা বলেছেন।

তবে, আসামিপক্ষ বলছেন যে ওই কথোপকথনে আন্দোলন দমনে গুলি চালানো, বোমাবর্ষণ করা কিংবা নির্যাতনের নির্দেশ দেওয়ার কথা নেই। তাদের দাবি, প্রসিকিউশনের দাখিলকৃত নথিতেও এমন কোনো তথ্য নেই যা প্রমাণ করে যে ইনু আন্দোলন দমনে গুলি বা নির্যাতনের নির্দেশ দিয়েছেন, উসকানি দিয়েছেন অথবা কোনো ষড়যন্ত্রের অংশগ্রহণ করেছেন।

আরও পড়ুন: ঢাকা-সৌদি রুটে ১০৭ ফ্লাইট বাতিল, ১৬ হাজার ৬২০ যাত্রী ভোগান্তিতে

মামলাটিতে গত ১ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। এর আগে একই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ দাখিল করে। সেদিন শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল ইনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয়।

২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট হাসানুল হক ইনু গ্রেপ্তার হন। পরে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন ইনু। তবে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে কুষ্টিয়ায় নিজের আসনে তিনি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।

আরও পড়ুন: সেতুমন্ত্রী: ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রথমার্ধে হলুদ কার্ড, দ্বিতীয়ার্ধে গোল করে ম্যাচের ‘নায়ক’ কাসেমিরো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:১৫ এম


প্রথমার্ধে হলুদ কার্ড, দ্বিতীয়ার্ধে গোল করে ম্যাচের ‘নায়ক’ কাসেমিরো

জাপানের বিরুদ্ধে ২-১ ব্যবধানের রুদ্ধশ্বাস জয়ে ব্রাজিল যখন শেষ ষোলো নিশ্চিত করল, তখন কাসেমিরো ম্যাচ সেরার পুরস্কার হাতে উল্লাসে মাতলেন। কিন্তু হিউস্টনের এই ম্যাচের প্রথম অর্ধের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল।

ম্যাচের শুরুতে ১৫ মিনিটে ট্যাকল করতে গিয়ে হলুদ কার্ড পেয়ে যান কাসেমিরো। এছাড়া মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর জন্য তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের তীব্র সমালোচনার শিকার হচ্ছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ঘটে সেই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন! নিজের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে সমালোচকদের মুখে ছাই দিয়ে ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা ফিফার 'ম্যান অব দ্য ম্যাচ' পুরস্কার জিতে নেন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কার্লো আনচেলত্তির পদ্ধতির নির্দেশনা অনুযায়ী খোলস ছেড়ে বের হন এই ব্রাজিলের ৫ নম্বর জার্সিধারী লড়াকু ফুটবলার। ৫৬ মিনিটে গাব্রিয়েল মাগালাইয়েসের চমৎকার ক্রস থেকে উড়ে আসা বলে লাফিয়ে উঠে এক চোখধাঁধানো হেডে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান কাসেমিরো।

কাসেমিরোর গোলেই মূলত ম্যাচে ফেরে সেলেসাওরা, যার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে ইনজুরি টাইমে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি জয়সূচক গোলটি করেন। ম্যাচের পরিসংখ্যান বোঝায় কাসেমিরোর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন। পুরো ম্যাচে তার পাসিং ছিল ৮৯ শতাংশ নিখুঁত। এর পাশাপাশি রক্ষণভাগকে সাহায্য করতে তিনি করেছেন ৪টি ক্লিয়ারেন্স, ১টি সফল ট্যাকল এবং ১টি ইন্টারসেপশন।

ফুটবল বিশ্ববাসীর সামনে পুরোনো শত্রু নরওয়ে অথবা চেনা আইভরি কোস্ট: শেষ ষোলোতে কার মুখোমুখি হবে ব্রাজিল? গত মৌসুমে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে খেলা কাসেমিরোর পরবর্তী গন্তব্য হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামি। ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলতে নামা এই অভিজ্ঞ সেনানী প্রমাণ করেছেন, চাপের মুখে কীভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে দলের জয়ের নায়ক হতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গভীর সমুদ্রে ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল, ভাসতে থাকা ১০ জেলে উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:১৬ এম


গভীর সমুদ্রে ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল, ভাসতে থাকা ১০ জেলে উদ্ধার

কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিনের উত্তর-পশ্চিমে গভীর সমুদ্রে একটি ফিশিং বোটের ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসতে থাকা ১০ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। সোমবার (২৯ জুন) রাতে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের মিস্ত্রিপাড়া ঘাট থেকে ‘এফবি সামিহা’ নামের একটি ফিশিং বোট ১০ জন জেলেকে নিয়ে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্রে গিয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৯টার দিকে সেন্ট মার্টিনের উত্তর-পশ্চিমে গভীর সমুদ্রে বোটটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। এতে এটি সাগরে ভাসতে থাকে।

পরে দুপুর ১টার দিকে বোটে থাকা একজন মাঝি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কোস্ট গার্ডের শাহপরী স্টেশনে সহায়তা চান। খবর পেয়ে কোস্ট গার্ডের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালায়। এই অভিযানে বিকল ফিশিং বোটসহ ১০ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়।

কোস্ট গার্ড জানায়, উদ্ধার হওয়া জেলেদের এবং ওই ফিশিং বোটটি পরবর্তীতে মালিকপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সমুদ্রে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জন্মশতবর্ষে রশীদ করীম, সুকান্ত ও মুনীর চৌধুরীকে নিয়ে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আবু তালেব, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:২১ এম


জন্মশতবর্ষে রশীদ করীম, সুকান্ত ও মুনীর চৌধুরীকে নিয়ে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত
 
 
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের উদ্যোগে 'জন্মশতবর্ষে রশীদ করীম, সুকান্ত ভট্টাচার্য এবং মুনীর চৌধুরী: জীবন ও সাহিত্য পাঠ' শীর্ষক বার্ষিক সেমিনার-২০২৫-২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
 
সোমবার (২৯ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের 'তরুণর সাধনা' সম্মেলন কক্ষে দিনব্যাপী এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারাফ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা (মাওলা প্রিন্স)।
 
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, "মানুষের সকল কিছু আবেগ দিয়ে না চললেও সাহিত্যের অনেকটা জুড়েই আছে আবেগ। সেই আবেগকে কাজে লাগিয়েই মনের বিকাশ সাধন করতে হবে।" তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং গবেষণা, সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও সিম্পোজিয়ামের আয়োজন আরও বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান।
 
সেমিনারের প্রথম অধিবেশনে 'রশীদ করীমের "বিদায়বেলার মালাখানি": সভ্যতার সংকটভাবনার নানামাত্রা' শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কল্পনা হেনা রুমি। এ অধিবেশনের আলোচক ছিলেন ড. অনিরুদ্ধ কাহালি।
 
দ্বিতীয় অধিবেশনে 'সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা: শৈলী পর্যালোচনা' শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. আহমেদুল বারী।
 
তৃতীয় অধিবেশনে 'মুনীর চৌধুরীর "কবর" এবং আরউইন শ-এর "ব্যরি দ্য ডেড": তুলনামূলক আলোচনা' শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. তারানা নূপুর। এ অধিবেশনের আলোচক ছিলেন শিক্ষাবিদ ও মুনীর চৌধুরী গবেষক ড. মোহাম্মদ জয়নুদ্দীন।
 
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. মো. সাহাবউদ্দিন এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. মো. মাহবুব হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রভাষক জুয়েনা জাহান এ্যানি এবং সহকারী অধ্যাপক ড. তানিয়া আক্তার।
 
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. ফারহানা শাহরিন এবং বরিশাল ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ আনিস হাসিনাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি ছিল। সেমিনারে কথাসাহিত্যিক রশীদ করীম, কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য এবং নাট্যকার মুনীর চৌধুরী-এর জীবন ও সাহিত্যকর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
 
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের জীবনগঠন, গবেষণা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে রশীদ করীম, সুকান্ত ভট্টাচার্য ও মুনীর চৌধুরীর মতো মনীষীদের কর্ম ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের মধ্যে গবেষণা ও সৃষ্টিশীল চর্চার অনুপ্রেরণা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রী চান শিক্ষাক্রমে থাকবে সংস্কৃতি-ক্রীড়া ও সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের মতো প্লাটফর্ম: মাহদী আমিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:২৭ এম


প্রধানমন্ত্রী চান শিক্ষাক্রমে থাকবে সংস্কৃতি-ক্রীড়া ও সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের মতো প্লাটফর্ম: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চান, যেখানে শিক্ষাক্রমের ভেতরে সংস্কৃতি থাকবে, ক্রীড়া থাকবে। সুপ্ত প্রতিভার বিকাশের মত করে আমরা একটি প্লাটফর্ম তৈরি করে দেবো। যেখানে যেই শিক্ষার্থী যেই সাবজেক্টে পড়তে ভালো লাগে, যা করতে ভালো লাগে, সরকার তার সর্বোচ্চ সহযোগিতা ও আন্তরিকতা দিয়ে সেই শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াবে। প্রধানমন্ত্রী একটি এমন শিক্ষা ব্যবস্থা চান, যেখানে আমরা দক্ষতা এবং যোগ্যতা তৈরি করব। আমাদের শিক্ষার্থীদের ভেতর কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার সেই গুণাবলি, মানবিক মূল্যবোধ এবং পারিবারিক শিক্ষা আমরা গড়ে তুলতে পারবো।

সোমবার বিকালে রাজধানী ঢাকা, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র এসব কথা বলেন।

এদিন সারা দেশে মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ জাতীয় প্রদর্শনী উপলক্ষ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসাবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

মাহদী আমিন বলেন, আয়োজনটা অনেকটাই ভিন্নমাতৃক এবং অত্যন্ত বৈচিত্রময় একটি অনুষ্ঠান। আমার মনে হয় আমরা বাংলাদেশের একটা নতুন ইতিহাস গড়েছি। সরকার গঠনের পর খুব স্বল্প সময়ে বাংলাদেশে প্রতিটি জেলার, প্রতিটি ইউনিয়নের, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করে এই আয়োজনের মাধ্যমে। আয়োজনটা হলো জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী教育 সংশ্লিষ্ট যে রূপকল্প রয়েছে, সেটির প্রতিফলন।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আমরা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান যে, আমাদের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের মূল প্রেরণা হলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। অত্যন্ত বিদ্যানুরাগী এবং বিজ্ঞান প্রেমী মানুষ তিনি। কোভিডের সেই সময়ে, যখন কেউ বাসা থেকে বের হতে পারতেন না, তখন খুদে বিজ্ঞানীদের নিয়ে ভার্চুয়াল সায়েন্স ফেয়ার আয়োজন করেছিলেন। অনেকেই জানেন না, তখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রধানমন্ত্রী এবং তার সহধর্মিণী ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের নিয়ে সারা বাংলাদেশ থেকে একত্রিত করে তাদেরকে প্রেরণা জুগিয়েছেন, উৎসাহিত করেছেন এবং উদ্বুদ্ধ করেছেন। সেটাকে ধারণ করেই সামনে ইউনিভার্সিটি লেভেলেও সায়েন্স ফেয়ার হবে।

মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, তখন আমাদের মনে হয়েছে, যদি ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন’ এবং ‘সুরভি’ নামের দুটো প্রতিষ্ঠান বছর ধরে সৃজনশীল কাজ স্থায়ীভাবে করতে পারে, যার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম এবং শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশে উদ্যোগ নিতে পারে, তাহলে সরকার হিসেবে আমরা সেটিকে পাথেয় করে অনেক বড় কিছু করতে পারব।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, এই আয়োজন মূলত ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন’ এবং ‘সুরভি’ দীর্ঘদিন ধরে যে প্রতিষ্ঠানিকভাবে কাজগুলো করছিল, সেটাই জাতীয় পর্যায়ের একটি সুবিস্তৃত উদ্যোগ। এজন্য প্রধানমন্ত্রী এবং ডা. জুবাইদা রহমানকে সবার পক্ষ থেকে মাহদী আমিন কৃতজ্ঞতা জানান।

আয়োজনে মূলত প্রধানমন্ত্রীর যে নির্বাচনি ইশতেহার ছিল, সেখানে প্রণীত নীতিমালার মাঝে ১০টি বিষয়কে কাভার করার চেষ্টা করেছেন তিনি জানান। প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলেছেন, তিনি একটি বাংলাদেশ চান যেখানে সমতা থাকবে, কোনো বৈষম্য থাকবে না। যার কারণে আমাদের দেখা যাবে যে আজকে ৬৪ জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে স্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসার প্রতিনিধিত্ব রয়েছে প্রতিযোগিতামূলক প্রসেসের মধ্য দিয়ে। আজকে এখানে যে ১০ জন শিক্ষার্থী বক্তব্য রেখেছেন, তারা বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফির সমস্ত অংশকে প্রতিনিধিত্ব করেছে। এখানে যে ১০১ টি প্রকল্প হয়েছে, সেখানে নিশ্চিত করেছি যে বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা, উপজেলা প্রান্তিক পর্যায় থেকে উঠে আসা প্রতিনিধিত্ব করছে।

মাহদী আমিন বলেন, আমরা নিশ্চিত করেছি যে এখানে সবাইকে একত্রিত করেছি, অন্তর্ভুক্ত করেছি এবং সকল ধর্ম, বর্ণ, অবস্থান, বিভিন্ন ভৌগোলিক পরিবেশ, রাজনৈতিক এবং পারিবারিক অবস্থান থাকতে পারে; প্রত্যেককে এক করে আমরা সামনে এনেছি। কারণ এইটাই ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের প্রতিফলন। সেটাই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনীতি, যার নাম বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। যার অর্থ এই দেশের প্রতিটি মানুষের, প্রতিটি শিশুর সমান অধিকার এবং সমান স্বাধীনতা থাকবে এবং রাষ্ট্রের চোখে, সরকারের চোখে সবাইকে সমানভাবে মূল্যায়ন করা হবে।

মাহদী আমিন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময় চেয়েছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেভাবে নারীদের প্রাধান্য দিয়েছিলেন, নারীদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় করেছিলেন; দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যেমন মেয়েদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ফ্রি এডুকেশন করেছিলেন। আজকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের ফ্রি এডুকেশনের ব্যবস্থা করেছি, স্কলারশিপের ব্যবস্থা করছি।

শুনলে খুশি হবেন যে, আমাদের প্রতিযোগিতায় ৮০০০ এর বেশি টিম অংশগ্রহণ করেছে। এখানে প্রায় ২৪০০০ শিক্ষার্থী এবং ১৬০০০ শিক্ষক অংশগ্রহণ করেছেন। ২৪০০০ শিক্ষার্থীর ভিতরে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছেলেদের চাইতে বেশি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের বলেছেন, বিএনসিসি, রোবার স্কাউট এবং গার্লস গাইডের প্রচারণা আমাদের স্কুলগুলোতে আরও বাড়াতে। আজকে এখানে হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। এই অডিটোরিয়ামের উপরে যদি আমরা তাকাই, বিএনসিসি, গার্লস গাইড, রোভার স্কাউটের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীরা। আজকে আমরা বাইরে দেখতে পেয়েছি যে ৪২৫ জন শিক্ষার্থী সেখানে কী সুন্দরভাবে তাদের ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণ করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ চান, যেখানে প্রতিটি মানুষ স্বাবলম্বী হিসেবে কাজ করবে। আমরা পাশ্ববর্তী কর্মকর্তাগণ, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা উপমা দিয়ে যতটা সম্ভব অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য চেষ্টা করেছি।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, এখানে স্টার্ট-আপ যে প্রজেক্টগুলো এসেছে, সেগুলো একটি সাধারণ পয়েন্ট রেখে সমাজের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। এগুলো বিনিয়োগ বাড়াতে সক্ষম হবে। এই প্রতিটি প্রকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, আমরা প্রতিটি প্রকল্পের নার্চার করব, যেখানে প্রয়োজন অর্থনৈতিক সহযোগিতা দেবো এবং তাদের মাসে মাসে কাজের আপডেট নেওয়ার চেষ্টা করব।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলেন যে, শিক্ষা ব্যবস্থার মূল কাণ্ডারি আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা। আর তাদের গড়ার কারিগর আমাদের শিক্ষকেরা। সেই শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেন একটি সুন্দর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ কারণে আমাদের প্রতিটি টিমে তিনজন করে শিক্ষার্থী এবং দুইজন করে শিক্ষক রয়েছেন। আমরা চাই সেই শিক্ষা ব্যবস্থা যেখানে শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাবার মতো ভালোবাসা এবং আন্তরিকতার সম্পর্ক গড়ে উঠবে। আর তাই আজকে আমরা এখানে সুশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক অ্যাওয়ার্ড দেবো ১০৪২ জন শিক্ষককে, যারা বাংলাদেশের প্রতিটি জেলাকে প্রতিনিধিত্ব করছে। আমরা ১০১ টি দলে ৩০৩ জন শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনে মেধাবী শিক্ষার্থী অ্যাওয়ার্ড প্রদান করব।

মাহদী আমিন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ স্কিমকে ধারণ করে, আজকে আমাদের সারা দেশে একযোগে ২৯৬২১ টি প্রতিষ্ঠান, অর্থাৎ বাংলাদেশে যতগুলো প্রতিষ্ঠান আছে, সরকারী পর্যায়ে যারা ক্লাস সিক্স থেকে এসএসসি এবং এইচএসসি পর্যন্ত পড়ায়, সেখানে প্রতি প্রতিষ্ঠানে তিনটি করে বৃক্ষরোপণ করেছি। এবং এর মাধ্যমে দেশের সর্বত্র ৮৮৬৩ টি গাছের চারা আমরা রোপণ করেছি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্তি প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ দেশের বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%