প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চান, যেখানে শিক্ষাক্রমের ভেতরে সংস্কৃতি থাকবে, ক্রীড়া থাকবে। সুপ্ত প্রতিভার বিকাশের মত করে আমরা একটি প্লাটফর্ম তৈরি করে দেবো। যেখানে যেই শিক্ষার্থী যেই সাবজেক্টে পড়তে ভালো লাগে, যা করতে ভালো লাগে, সরকার তার সর্বোচ্চ সহযোগিতা ও আন্তরিকতা দিয়ে সেই শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াবে। প্রধানমন্ত্রী একটি এমন শিক্ষা ব্যবস্থা চান, যেখানে আমরা দক্ষতা এবং যোগ্যতা তৈরি করব। আমাদের শিক্ষার্থীদের ভেতর কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার সেই গুণাবলি, মানবিক মূল্যবোধ এবং পারিবারিক শিক্ষা আমরা গড়ে তুলতে পারবো।
সোমবার বিকালে রাজধানী ঢাকা, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র এসব কথা বলেন।
এদিন সারা দেশে মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ জাতীয় প্রদর্শনী উপলক্ষ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসাবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
মাহদী আমিন বলেন, আয়োজনটা অনেকটাই ভিন্নমাতৃক এবং অত্যন্ত বৈচিত্রময় একটি অনুষ্ঠান। আমার মনে হয় আমরা বাংলাদেশের একটা নতুন ইতিহাস গড়েছি। সরকার গঠনের পর খুব স্বল্প সময়ে বাংলাদেশে প্রতিটি জেলার, প্রতিটি ইউনিয়নের, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করে এই আয়োজনের মাধ্যমে। আয়োজনটা হলো জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী教育 সংশ্লিষ্ট যে রূপকল্প রয়েছে, সেটির প্রতিফলন।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আমরা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান যে, আমাদের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের মূল প্রেরণা হলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। অত্যন্ত বিদ্যানুরাগী এবং বিজ্ঞান প্রেমী মানুষ তিনি। কোভিডের সেই সময়ে, যখন কেউ বাসা থেকে বের হতে পারতেন না, তখন খুদে বিজ্ঞানীদের নিয়ে ভার্চুয়াল সায়েন্স ফেয়ার আয়োজন করেছিলেন। অনেকেই জানেন না, তখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রধানমন্ত্রী এবং তার সহধর্মিণী ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের নিয়ে সারা বাংলাদেশ থেকে একত্রিত করে তাদেরকে প্রেরণা জুগিয়েছেন, উৎসাহিত করেছেন এবং উদ্বুদ্ধ করেছেন। সেটাকে ধারণ করেই সামনে ইউনিভার্সিটি লেভেলেও সায়েন্স ফেয়ার হবে।
মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, তখন আমাদের মনে হয়েছে, যদি ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন’ এবং ‘সুরভি’ নামের দুটো প্রতিষ্ঠান বছর ধরে সৃজনশীল কাজ স্থায়ীভাবে করতে পারে, যার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম এবং শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশে উদ্যোগ নিতে পারে, তাহলে সরকার হিসেবে আমরা সেটিকে পাথেয় করে অনেক বড় কিছু করতে পারব।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, এই আয়োজন মূলত ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন’ এবং ‘সুরভি’ দীর্ঘদিন ধরে যে প্রতিষ্ঠানিকভাবে কাজগুলো করছিল, সেটাই জাতীয় পর্যায়ের একটি সুবিস্তৃত উদ্যোগ। এজন্য প্রধানমন্ত্রী এবং ডা. জুবাইদা রহমানকে সবার পক্ষ থেকে মাহদী আমিন কৃতজ্ঞতা জানান।
আয়োজনে মূলত প্রধানমন্ত্রীর যে নির্বাচনি ইশতেহার ছিল, সেখানে প্রণীত নীতিমালার মাঝে ১০টি বিষয়কে কাভার করার চেষ্টা করেছেন তিনি জানান। প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলেছেন, তিনি একটি বাংলাদেশ চান যেখানে সমতা থাকবে, কোনো বৈষম্য থাকবে না। যার কারণে আমাদের দেখা যাবে যে আজকে ৬৪ জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে স্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসার প্রতিনিধিত্ব রয়েছে প্রতিযোগিতামূলক প্রসেসের মধ্য দিয়ে। আজকে এখানে যে ১০ জন শিক্ষার্থী বক্তব্য রেখেছেন, তারা বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফির সমস্ত অংশকে প্রতিনিধিত্ব করেছে। এখানে যে ১০১ টি প্রকল্প হয়েছে, সেখানে নিশ্চিত করেছি যে বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা, উপজেলা প্রান্তিক পর্যায় থেকে উঠে আসা প্রতিনিধিত্ব করছে।
মাহদী আমিন বলেন, আমরা নিশ্চিত করেছি যে এখানে সবাইকে একত্রিত করেছি, অন্তর্ভুক্ত করেছি এবং সকল ধর্ম, বর্ণ, অবস্থান, বিভিন্ন ভৌগোলিক পরিবেশ, রাজনৈতিক এবং পারিবারিক অবস্থান থাকতে পারে; প্রত্যেককে এক করে আমরা সামনে এনেছি। কারণ এইটাই ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের প্রতিফলন। সেটাই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনীতি, যার নাম বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। যার অর্থ এই দেশের প্রতিটি মানুষের, প্রতিটি শিশুর সমান অধিকার এবং সমান স্বাধীনতা থাকবে এবং রাষ্ট্রের চোখে, সরকারের চোখে সবাইকে সমানভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
মাহদী আমিন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময় চেয়েছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেভাবে নারীদের প্রাধান্য দিয়েছিলেন, নারীদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় করেছিলেন; দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যেমন মেয়েদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ফ্রি এডুকেশন করেছিলেন। আজকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের ফ্রি এডুকেশনের ব্যবস্থা করেছি, স্কলারশিপের ব্যবস্থা করছি।
শুনলে খুশি হবেন যে, আমাদের প্রতিযোগিতায় ৮০০০ এর বেশি টিম অংশগ্রহণ করেছে। এখানে প্রায় ২৪০০০ শিক্ষার্থী এবং ১৬০০০ শিক্ষক অংশগ্রহণ করেছেন। ২৪০০০ শিক্ষার্থীর ভিতরে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছেলেদের চাইতে বেশি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের বলেছেন, বিএনসিসি, রোবার স্কাউট এবং গার্লস গাইডের প্রচারণা আমাদের স্কুলগুলোতে আরও বাড়াতে। আজকে এখানে হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। এই অডিটোরিয়ামের উপরে যদি আমরা তাকাই, বিএনসিসি, গার্লস গাইড, রোভার স্কাউটের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীরা। আজকে আমরা বাইরে দেখতে পেয়েছি যে ৪২৫ জন শিক্ষার্থী সেখানে কী সুন্দরভাবে তাদের ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণ করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ চান, যেখানে প্রতিটি মানুষ স্বাবলম্বী হিসেবে কাজ করবে। আমরা পাশ্ববর্তী কর্মকর্তাগণ, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা উপমা দিয়ে যতটা সম্ভব অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য চেষ্টা করেছি।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, এখানে স্টার্ট-আপ যে প্রজেক্টগুলো এসেছে, সেগুলো একটি সাধারণ পয়েন্ট রেখে সমাজের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। এগুলো বিনিয়োগ বাড়াতে সক্ষম হবে। এই প্রতিটি প্রকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, আমরা প্রতিটি প্রকল্পের নার্চার করব, যেখানে প্রয়োজন অর্থনৈতিক সহযোগিতা দেবো এবং তাদের মাসে মাসে কাজের আপডেট নেওয়ার চেষ্টা করব।
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলেন যে, শিক্ষা ব্যবস্থার মূল কাণ্ডারি আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা। আর তাদের গড়ার কারিগর আমাদের শিক্ষকেরা। সেই শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেন একটি সুন্দর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ কারণে আমাদের প্রতিটি টিমে তিনজন করে শিক্ষার্থী এবং দুইজন করে শিক্ষক রয়েছেন। আমরা চাই সেই শিক্ষা ব্যবস্থা যেখানে শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাবার মতো ভালোবাসা এবং আন্তরিকতার সম্পর্ক গড়ে উঠবে। আর তাই আজকে আমরা এখানে সুশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক অ্যাওয়ার্ড দেবো ১০৪২ জন শিক্ষককে, যারা বাংলাদেশের প্রতিটি জেলাকে প্রতিনিধিত্ব করছে। আমরা ১০১ টি দলে ৩০৩ জন শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনে মেধাবী শিক্ষার্থী অ্যাওয়ার্ড প্রদান করব।
মাহদী আমিন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ স্কিমকে ধারণ করে, আজকে আমাদের সারা দেশে একযোগে ২৯৬২১ টি প্রতিষ্ঠান, অর্থাৎ বাংলাদেশে যতগুলো প্রতিষ্ঠান আছে, সরকারী পর্যায়ে যারা ক্লাস সিক্স থেকে এসএসসি এবং এইচএসসি পর্যন্ত পড়ায়, সেখানে প্রতি প্রতিষ্ঠানে তিনটি করে বৃক্ষরোপণ করেছি। এবং এর মাধ্যমে দেশের সর্বত্র ৮৮৬৩ টি গাছের চারা আমরা রোপণ করেছি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্তি প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ দেশের বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন