বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১১:২১ এম
সড়ক, সেতু ও রেল পরিবহন মন্ত্রী রবিউল আলম বলেছেন, পদ্মা রেলওয়ে সেতুর নিচে মাটি অপসারণ প্রকল্পের প্রয়োজনেই করা হয়েছে এবং এতে সেতুর নিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি নেই। সম্প্রতি ভায়াডাক্টের নিচে মাটি কাটার বিষয়ে যেভাবে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তাতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেল সেতুর ভায়াডাক্টের নিচে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী রবিউল আলম মন্তব্য করেন, ‘মাটি অপসারণের বিষয়টি সত্য হলেও এটি কোনো অপরিকল্পিত বা স্বেচ্ছাচারী কাজ নয়। বরং প্রকল্পের চুক্তি ও নকশা অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই কাজ করা হচ্ছে। ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভায়াডাক্ট নির্মাণের সময় ভারী যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের জন্য জলাভূমির ওপর অস্থায়ী ভরাট করা হয়েছিল।
প্রকল্প শেষ হওয়ার পর সেই ভরাট অপসারণ করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বাধ্যবাধকতা চুক্তিতেই রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইতিমধ্যে ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটারের মধ্যে ১৪ দশমিক ৪১ কিলোমিটার অংশের অস্থায়ী ভরাট অপসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার অংশের কাজ বাকি রয়েছে। পরিবেশের স্বাভাবিক জলপ্রবাহ ও জলাভূমির ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থেই এই কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।’
মন্ত্রী এটি উল্লেখ করেন যে, গড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ ফুট মাটি অপসারণের পর মূল প্রাকৃতিক স্তরে পৌঁছানো যাবে এবং সেই স্তরেরও প্রায় সাত থেকে আট ফুট নিচে রয়েছে পাইল ক্যাপ, যার পুরুত্ব ছয় ফুট। এর আরও নিচে প্রায় ২০০ ফুট গভীরে আটটি পাইলের ওপর পুরো ভায়াডাক্ট দাঁড়িয়ে আছে। ফলে মাটি অপসারণের সঙ্গে সেতুর কাঠামোগত নিরাপত্তার কোনো নেতিবাচক সম্পর্ক নেই।
এছাড়া, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ রেলওয়ের বিশেষজ্ঞদের নকশা ও তত্ত্বাবধানে কাজটি পরিচালিত হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘তাই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। ভবিষ্যতে রেলপথ সম্প্রসারণের প্রয়োজন হলেও সংশ্লিষ্ট রেলওয়ের জমি দেশের স্বার্থেই সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করা হবে। রেলওয়ের জায়গা রেলওয়ের প্রয়োজনেই ব্যবহার হবে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে যেটুকু মাটি অপসারণ প্রয়োজন, সেটুকু অবশ্যই করা হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ ও নিরাপত্তার বিষয়েও আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।’
সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জার্মানির তীব্র তাপদাহের মধ্যে পানিতে ডুবে নিহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। জীবন রক্ষাকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাঁতার কাটতে গিয়ে নদী ও লেকে ঘটে গেছে এ ঘটনাটি মাত্র কিছুদিনের মধ্যে। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ ও কিশোর।
এটি আসলে ‘জলে কুমির আর ডাঙায় বাঘ’ সমান অবস্থা। জার্মানিসহ গোটা ইউরোপে প্রচণ্ড তাপদাহে জনসাধারণ দিশাহারা। ফলে সেই গরম থেকে পরিত্রাণ পেতে লেক বা হ্রদের পানিতে ডুব দিতে গিয়ে মৃত্যু ঘটছে।
গত সপ্তাহে জার্মানিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা দেশটির ইতিহাসে একটি রেকর্ড। সাধারণ মানুষের জন্য বসতবাড়ি বা পার্কের গাছের ছায়াও ছিল নিরাপদ নয়। তাই স্বস্তির জন্য মানুষ ছুটেছিলেন আশপাশের নদী ও লেকের দিকে।
নদী ও হ্রদে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে এমন কিছু লোক সাঁতার জানলেও, অনেকের মৃত্যু হয়েছে শুধুমাত্র সাঁতার না জানার কারণে।
সম্প্রতি কয়েকদিনে জার্মানির জাক্সেন, নিদারজাক্সেন, নর্দরাইন ওয়েসাটফালেনসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নদী ও হ্রদের জলাধারে বেশ কিছু মানুষ ডুবে মারা গেছেন। এবং চলতি বছরে নয়, ২০২৫ সালে পানিতে ডুবে ৩৯৩ জন মারা গেছেন। ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা ছিল ৪০০ এর উপরে।
এদিকে জার্মানির তীব্র গরমের টানা চার দিনের পর এখন তাপমাত্রা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। দেশজুড়ে কোথাও কোথাও ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টি নেমে এসেছে, যা জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়েছে। কিন্তু তাদের আবহাওয়া অধিদফতর ডিডব্লিউডি সতর্ক করেছে যে, আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা আবার বৃদ্ধি পেতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২ জুলাই, ২০২৬ : হজের প্রাক-নিবন্ধনে হজযাত্রীদের আবশ্যিকভাবে যেসব তথ্য উল্লেখ করতে হবে, তা জানিয়ে পত্র জারি করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
বুধবার, মন্ত্রণালয়ের হজ-১ শাখা থেকে এ সম্পর্কিত পত্রটি জারি করা হয়েছে।
এ পত্রে হজে গমনেচ্ছু বাংলাদেশি সকল নাগরিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়েছে, ‘হজে গমনের প্রথম ধাপ হলো প্রাক-নিবন্ধন। হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধনকালে জাতীয় পরিচয়পত্র বা বাংলাদেশি পাসপোর্ট বা জন্মসনদ, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, মোবাইল নম্বর ও ব্যাংক হিসাব নম্বর থাকতে হবে। একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকলেও চলবে।’
এ পত্রে হজের আর্থিক লেনদেন নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমের হজযাত্রীর ব্যাংক হিসাব থাকা আবশ্যক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া, ইতঃপূর্বে যে সকল হজযাত্রী প্রাক-নিবন্ধনকালে ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রদান করেননি, তাদের নিবন্ধনের সময় ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিতে বলা হয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৭ সালের হজের জন্য ১ জুলাই থেকে প্রাক-নিবন্ধন শুরু হয়েছে। সৌদি সরকার ঘোষিত রোডম্যাপ অনুসারে, এ বছরের ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হজ নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বাংলাদেশি ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের বাইস্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি ড. রাসেল মাহমুদ জুয়েল ওয়েস্টক্লিফ ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিডিএ) ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পাশাপাশি, প্রায় ৯৬টি দেশের ৬৬১ জন স্নাতকের মধ্য থেকে তিনি এ বছরের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ড. জন লি লিগ্যাসি অব লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ডের জন্য নির্বাচিত হন।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের আগে ওয়েস্টক্লিফ ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট ড. অ্যান্থনি লি কয়েক মিনিট ধরে ড. জুয়েলের শিক্ষাগত সাফল্য, গবেষণায় অবদান, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, কেন ড. জুয়েলকে এই সম্মানজনক পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। সেই মুহূর্তের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ড. জুয়েল বলেন, আমি সত্যিই বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। অনুভূতিটা ছিল ভাষায় প্রকাশের অতীত।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের আগে গ্রিন রুমে ড. রাসেল মাহমুদ জুয়েল এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা ও শিক্ষকরা তার সঙ্গে সেলফি তোলার আগ্রহ প্রকাশ করলে তিনি উপলব্ধি করেন, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও অধ্যবসায় সার্থকতায় পৌঁছেছে।
চাঁদপুরের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা ড. জুয়েল প্রতিকূলতা পেরিয়ে বাংলাদেশে তিনটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বাংলাদেশ কাস্টমসে আট বছর চাকরির পর ২০২২ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। ডক্টরাল গবেষণায় তিনি সরকারি খাতে, বিশেষ করে কাস্টমস ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের জন্য একটি উদ্ভাবনী মডেল তৈরি করেন।
বাইস্যাকের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ৩৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে এক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করেন। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন প্রবাসী ও সামাজিক সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন এবং যুব নেতৃত্ব বিকাশে কাজ করছেন।
ড. জুয়েল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, জনস্বাস্থ্য ও ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন বিষয়ে ১৬টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন। তার গবেষণাকর্ম ৩৭০টিরও বেশি বার উদ্ধৃত হয়েছে, যা তাকে একজন উদীয়মান আন্তর্জাতিক গবেষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সারা দেশের সঙ্গে খাগড়াছড়ির দীঘিনালাতেও শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল থেকে দীঘিনালা সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
এ বছর একমাত্র কেন্দ্র হিসেবে দীঘিনালা সরকারি ডিগ্রি কলেজে উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১ হাজার ৪৬৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে দীঘিনালা সরকারি ডিগ্রি কলেজের ১ হাজার ২৪৫ জন, কুজেন্দ্র মল্লিকা মডার্ন কলেজের ১৭৩ জন এবং বাবুছড়া কলেজের ৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
পরীক্ষা শুরুর অনেক আগেই পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে থাকেন। প্রবেশপথে প্রয়োজনীয় তল্লাশি ও যাচাই-বাছাই শেষে নির্ধারিত সময়ে তারা নিজ নিজ কক্ষে প্রবেশ করেন। কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন অভিভাবকরা। পুরো এলাকায় ছিল শান্ত, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও উৎসাহব্যঞ্জক পরিবেশ।
কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানায়, নকলমুক্ত ও সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, যাতে পরীক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন।
পরীক্ষার্থীদের অনেকেই জানান, অনুকূল পরিবেশে পরীক্ষা শুরু হওয়ায় তারা স্বস্তির সঙ্গে প্রথম দিনের পরীক্ষা দিতে পেরেছেন। অভিভাবকরাও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ