ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের সাথে সংঘর্ষে স্প্যানিশ ফুটবলারের মৃত্যু, ম্যাচ পরিত্যক্ত


প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের সাথে সংঘর্ষে স্প্যানিশ ফুটবলারের মৃত্যু, ম্যাচ পরিত্যক্ত

স্প্যানিশ ফুটবলে একটি অন্ধকার ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের সাথে সংঘর্ষের পর হার্ট অ্যাটাকে প্রাণ হারিয়েছেন স্পেনের ক্লাব সিডি তেনেরিফের স্ট্রাইকার হেসুস দে মিগেল। এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে গত সোমবার (২ নভেম্বর) স্প্যানিশ দ্বিতীয় বিভাগের (লা লিগা হাইপারমোশন) একটি ম্যাচে।

যেভাবে ঘটেছিল ভয়াবহ ঘটনাটি

ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে (১০৮তম মিনিটে) তেনেরিফে ও এফসি অ্যান্ডোরার মধ্যে খেলা তখন ২-২ গোলে সমতায় ছিল। ঠিক সেই সময় একটি লম্বা পাস (লং বল) কিক করে দূরে সরানোর জন্য অ্যান্ডোরার গোলরক্ষক হেসুস নিজের গোলপোস্ট ছেড়ে প্রায় মাঝমাঠের কাছে চলে আসেন। বাতাসে ভাসতে থাকা বলটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার লড়াইয়ে ওওনোর হাঁটু দে মিগেলের বুকে খুব জোরে আঘাত করে।

আরও পড়ুন: মোশারফ-তানভীরের ঝড়ে ২৬৮ রান, সোনারগাঁওয়ের ইউআইইউর বিরুদ্ধে বড় জয়

আঘাতের তীব্রতায় দে মিগেল মাঠে নিথর হয়ে পড়ে যান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দুই দলের খেলোয়াড়রা চিৎকার করে মাঠের মেডিকেল টিমকে ডাকতে থাকেন। মাঠে প্রায় ৫ মিনিট ধরে তাঁকে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস ও জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্সে করে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নিয়ে যাওয়া হয়। এই মারাত্মক ফাউলের কারণে গোলরক্ষককে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয় এবং রেফারি ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন।

রাতেই পরিস্থিতির অবনতি এবং প্রয়াণ

হাসপাতালে নেওয়ার পথে দে মিগেল কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হন। চিকিৎসকরা তাঁকে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম হলেও তাঁর স্নায়বিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন থাকার সময় ৩ নভেম্বর (মঙ্গলবার) সকাল ৮ টায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

‘বেদনায় আমরা চূর্ণ-বিচূর্ণ’ – স্তব্ধ ক্লাব কর্তৃপক্ষ

আরও পড়ুন: ইব্রাহিমের গোলে ভুটানকে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করলো বাংলাদেশ

দে মিগেলের অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ক্লাব সিডি তেনেরিফে এক আবেগঘন বিবৃতিতে জানায়, ‘বেদনায় আমরা চূর্ণ-বিচূর্ণ। গলায় কান্না চেপে এবং এটি যে সত্যি তা বিশ্বাস করতে না পেরে আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে আমাদের খেলোয়াড় হেসুস দে মিগেল আলমেদার মর্মান্তিক মৃত্যুর কথা জানাচ্ছি। আমাদের সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কোনো ভাষা নেই; এই গভীর শোক ও শূন্যতা কমানোর মতো পৃথিবীতে কিছুই অবশিষ্ট নেই।’

প্রতিপক্ষ ক্লাব এফসি অ্যান্ডোরাও তাদের অফিশিয়াল সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে গভীর সমবেদনা জানিয়ে লিখেছে, ‘ভগ্ন হৃদয় ও গভীর দুঃখের সাথে আমরা হেসুস দে মিগেলের পরিবার, সতীর্থ এবং তেনেরিফে ক্লাবের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। ওপারে ভালো থেকো।’

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি পুরো ফুটবল বিশ্বের খেলোয়াড়দের মাঠের নিরাপত্তা নিয়ে আবারো বড় ধরণের প্রশ্ন তুলেছে। রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনাসহ স্পেনের শীর্ষ ফুটবল ক্লাবগুলো এই তরুণ স্ট্রাইকারের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

আরও পড়ুন: সাফের আন্তর্জাতিক ফুটবল আসরে চিকিৎসাসেবার দায়িত্বে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বজুড়ে ১২ কোটি দর্শককে আকৃষ্ট করছে 'নোবডি ওয়ান্টস দিস' প্রেমের সিরিজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:১৮ পি.এম


বিশ্বজুড়ে ১২ কোটি দর্শককে আকৃষ্ট করছে

প্রেমের কাহিনী, কিন্তু এই কাহিনীতে রয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাসের পার্থক্য, পারিবারিক প্রতিবন্ধকতা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং সম্পর্কের বিভিন্ন টানাপোড়েন। নেটফ্লিক্সের রোমান্টিক কমেডি সিরিজ ‘নোবডি ওয়ান্টস দিস’ এই ধরনের ভিন্নধর্মী কাহিনীর উপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে এবং এটি বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সিরিজটির তৃতীয় মৌসুম মুক্তির পর এটি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

২০২৪ সালে প্রথম মৌসুমের মাধ্যমে শুরু হওয়া সিরিজটির প্রধান দুই চরিত্র হলেন জোয়ান ও নোয়াহ। জোয়ান একজন যৌনতা বিষয়ক পডকাস্টার এবং নোয়াহ একজন ইহুদি ধর্মযাজক। সম্পূর্ণ ভিন্ন জীবনদর্শনের দুই মানুষের প্রেম, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার কাহিনীই সিরিজটির মূল আকর্ষণ। এই চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছেন ক্রিস্টেন বেল ও অ্যাডাম ব্রডি।

তৃতীয় মৌসুমে জোয়ান ও নোয়াহর সম্পর্ক নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। আগের দুই মৌসুমে তাঁদের প্রেম টিকে থাকবে কি না, সেটিই ছিল মূল প্রশ্ন। তবে নতুন মৌসুমে একসঙ্গে বসবাসের বাস্তবতা, ব্যক্তিগত অভ্যাসের সংঘাত এবং পরিবারের হস্তক্ষেপ মোকাবেলার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে প্রেমের পাশাপাশি সম্পর্কের বাস্তব চিত্রও গল্পে প্রতিফলিত হয়েছে।

নতুন মৌসুমটি সমালোচকদের কাছ থেকেও প্রশংসা অর্জন করেছে। রিভিউ সংগ্রহকারী ওয়েবসাইট রটেন টম্যাটোজে সমালোচকদের ২০টি পর্যালোচনার ভিত্তিতে এর স্কোর ৯০ শতাংশ। যদিও দর্শকদের স্কোর ৬৯ শতাংশ। সিরিজটির অন্যতম শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে ক্রিস্টেন বেল ও অ্যাডাম ব্রডির পর্দার রসায়ন। তাঁদের স্বাভাবিক অভিনয়, খুনসুটি এবং আবেগঘন মুহূর্ত দর্শকদের আকৃষ্ট করছে।

দর্শকসংখ্যার হিসাবেও সিরিজটি এগিয়ে রয়েছে। গত ২২ অক্টোবর তৃতীয় মৌসুম মুক্তির পর প্রথম চার দিনে এটি ৬২ লাখ ভিউ পেয়েছে। নেটফ্লিক্সের ইংরেজি ভাষার সিরিজের তালিকায় এটি দ্বিতীয় অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছে। বিশ্বের ৫৬টি দেশের সেরা ১০ সিরিজের তালিকায়ও এটি স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে ১১টি দেশে এটি শীর্ষ অবস্থানে ছিল।

সব মিলিয়ে ২০২৪ সালে মুক্তির পর থেকে ‘নোবডি ওয়ান্টস দিস’ নেটফ্লিক্সের বিশ্বসেরা ১০ সিরিজের তালিকায় মোট ১১ সপ্তাহ অবস্থান করেছে। এই সময়ে সিরিজটির মোট ভিউ ১২ কোটি ছাড়িয়েছে। প্রেম ও সম্পর্কের পরিচিত গল্পকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেই সিরিজটি বিশ্বজুড়ে দর্শকদের আগ্রহ ধরে রেখেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিঙ্গাপুরের প্রতি পুলিশের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:২৯ পি.এম


সিঙ্গাপুরের প্রতি পুলিশের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ পুলিশের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সিঙ্গাপুরের সহায়তা চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আবেদন জানিয়েছেন। সাইবার স্পেস নিরাপত্তা, ডিজিটাল জালিয়াতি ও স্ক্যাম প্রতিরোধের জন্য এই সহায়তা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের অনাবাসী হাইকমিশনার ডেরেক লো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশেষ করে চট্টগ্রামের বে টার্মিনাল প্রকল্প, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিকায়ন নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার সিঙ্গাপুর পোর্ট অথরিটির (পিএসএ ইন্টারন্যাশনাল) মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের বে টার্মিনালে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন থেকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ ও পরিচালনার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বে টার্মিনাল বাস্তবায়নে পিএসএ’র প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, এটি চালু হলে বাংলাদেশের শিপিং খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে, যা তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের শ্রমিকদের সামগ্রিক কল্যাণেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

মন্ত্রী এ বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দেন।

হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সংক্রান্ত আলোচনা চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে। মন্ত্রী দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা বৃদ্ধিতে এটি দ্রুত বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাইবার স্পেস নিরাপত্তা, ডিজিটাল জালিয়াতি ও স্ক্যাম প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশের জন্য প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির অনুরোধ জানান। তিনি বাংলাদেশ পুলিশে ‘অতিরিক্ত আইজিপি’র নেতৃত্বে নতুন ‘পুলিশ সাইবার ইউনিট’ গঠনের প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সিঙ্গাপুর প্রতিনিধি দল এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও যৌথ সাইবার তদন্ত সহায়তার ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি প্রদান করে।

হাইকমিশনার সিঙ্গাপুর কো-অপারেশন প্রোগ্রাম (এসসিপি)-এর আওতায় বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা ও তরুণ সংসদ সদস্যদের সিঙ্গাপুরে অভিজ্ঞতা বিনিময় সফর ও বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সুযোগ প্রদানের প্রস্তাব করলে মন্ত্রী এটিকে স্বাগত জানান।

বৈঠকে উভয়পক্ষ দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরও জোরদার করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। হাইকমিশনার মন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে সিঙ্গাপুর সফরের আমন্ত্রণ জানান।

সাক্ষাৎকালে সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফিলিপ ওং, পিএসএ ইন্টারন্যাশনালের আঞ্চলিক প্রধান ওং জি পিং, এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুরের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রতিনিধি বেঞ্জামিন চু, সিঙ্গাপুর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেস্ক অফিসার মিথিনী ত্যাগরাজন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এবার ‘ধর্মনিরপেক্ষতার’ দোহাই দিয়ে শতাব্দীপ্রাচীন মসজিদ সরিয়ে নিচ্ছে মোদি সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৩০ পি.এম


এবার ‘ধর্মনিরপেক্ষতার’ দোহাই দিয়ে শতাব্দীপ্রাচীন মসজিদ সরিয়ে নিচ্ছে মোদি সরকার

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দিল্লি হাইকোর্টকে জানিয়েছে যে, কৃষি ভবন চত্বরে অবস্থিত শতাব্দীপ্রাচীন একটি মসজিদ সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকারি দপ্তরের মতো স্থানে স্থায়ী কোনো ধর্মীয় কাঠামো রাখা বা তৈরি করা ‘আইনসম্মত নয় এবং এটি সরকারি সম্পত্তির ধর্মীয় নিরপেক্ষ (সেক্যুলার) চরিত্রের সাথে সাংঘর্ষিক।’

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সেন্ট্রাল ভিস্তা পুনর্ন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষি ভবন ও পার্শ্ববর্তী শাস্ত্রী ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকারের এই বক্তব্যের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো স্পষ্টভাবে স্বীকার করা হলো যে প্রকল্প এলাকা থেকে উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে অবস্থিত এই 'কাদিমি মসজিদ'টি সরিয়ে নেওয়া হবে।

এর আগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের পক্ষ থেকে সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন ছয়টি মসজিদ সুরক্ষার আবেদন জানানো হয়েছিল। তখন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানিয়েছিলেন, এসব সম্পত্তির কিছুই হচ্ছে না এবং প্রকল্পের কাজ অনেক দূরের বিষয়।

তবে সরকারের নতুন অবস্থানের প্রেক্ষাপটে সোমবার দিল্লি হাইকোর্ট জানতে চান—সরকারি অফিস চত্বরে ধর্মীয় কাঠামো নিষিদ্ধ করার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম বা নির্দেশিকা রয়েছে কি না।

বিচারপতি অনীশ দয়াল মন্তব্য করেন, ‘আমাদের বুঝতে হবে যে বিকল্প জায়গা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মগুলো আসলে কী। আপনারা কি বলতে চাইছেন যে কোনো ধর্মের প্রার্থনার জন্যই বিকল্প স্থান দেওয়া যাবে না? সব সম্প্রদায়ের জন্যই কি এমন কোনো নিয়ম রয়েছে যে সরকারি কোনো জায়গায় প্রার্থনার সুযোগ থাকবে না? আমরা শুধু এই বিষয়টি জানার জন্য কৌতুহলী।’

আদালত এই বক্তব্যের আইনি ভিত্তি ও প্রভাব স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়ে মসজিদ কমিটিকে আগামী ২৩ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির আগে সরকারের বক্তব্যের জবাব দেওয়ার সময় দিয়েছেন।

ভেঙে ফেলার আশঙ্কায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ওয়াকফ-তালিকাভুক্ত এই মসজিদটির পরিচালনা কমিটি আদালতের দ্বারস্থ হয়। কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রকের অধীনস্থ কেন্দ্রীয় গণপূর্ত বিভাগ গত ১৯ জানুয়ারি কৃষি ভবন ও শাস্ত্রী ভবনের স্থানে কমন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটের ৪ ও ৫ নম্বর ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করার পর এই উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, মসজিদটি অপসারণের তালিকায় সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও নতুন ভবনের নকশায় এর কোনো অস্তিত্ব ছিল না।

গত ২৭ অক্টোবর নগর উন্নয়ন মন্ত্রকের ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর এক স্থিতিবস্থা প্রতিবেদনে জানায়, এটি একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রাঙ্গণে থাকা মসজিদটি অপসারণ করা আবশ্যক।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কৃষি ভবন ও কেন্দ্রীয় সচিবালয় প্রাঙ্গণ সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনিক ও পাবলিক সার্ভিস কাজের জন্য নির্ধারিত নিরপেক্ষ সরকারি সম্পত্তি। এখানে কোনো স্থায়ী ধর্মীয় কাঠামো রাখা বা এর দাবি করা অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তাছাড়া সেন্ট্রাল ভিস্তা পুনর্ন্নয়ন মাস্টার প্ল্যানের সাথেও এটি মেলানো সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, ১৯৪০ সালের এক চুক্তি অনুযায়ী জামা মসজিদের পরিচালনা কমিটিকে এটি কেবল প্রার্থনার কাজে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

মসজিদ কমিটি আদালতে দাবি করেছে যে, পুনর্ন্নয়ন এড়ানো অসম্ভব হলে নিকটবর্তী কোনো সুবিধাজনক স্থানে বিকল্প প্রার্থনার ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক। স্বাধীনতা-উত্তর সময় থেকে কৃষি ভবন ও আশেপাশের সরকারি দপ্তরের কর্মচারীরা কাজের ফাঁকে এখানে প্রার্থনা করে আসছেন।

এর জবাবে কেন্দ্র জানিয়েছে, ভূমির মালিক হিসেবে সরকার কৃষি ভবন বা সচিবালয় চত্বরে মসজিদের জন্য বিকল্প জায়গা বরাদ্দ দিতে বাধ্য নয়। তাছাড়া নিকটবর্তী ইন্ডিয়া গেটের কাছেই 'শাহী মসজিদ জাবতা গঞ্জ' নামে আরেকটি সক্রিয় মসজিদ রয়েছে, যা নিকটস্থ দূরত্বে প্রার্থনার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেতানিয়াহু জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানালেন, ফের প্রধানমন্ত্রী হতে চান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৩১ পি.এম


নেতানিয়াহু জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানালেন, ফের প্রধানমন্ত্রী হতে চান

মঙ্গলবার ইসরাইলের বিরোধী শিবিরের নেতারা বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন। গাদি আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী পদে সমর্থন দেওয়ার পর এটি তাদের প্রথম একত্রিত আলোচনা। এদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার নেতৃত্বে একটি ‘বৃহত্তর জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।

গত সপ্তাহের হাড্ডাহাড্ডি নির্বাচনে কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি, ফলে বিরোধীদের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আইজেনকটের দল ইয়াশার জানায়, ‘পরিবর্তন ব্লক’-এর নেতারা মঙ্গলবার সকালে হার্জলিয়ায় বৈঠক করবেন। সেখানে তারা জোটের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করবেন।

নির্বাচনে আইজেনকটের ব্লক ৪৮টি আসন অর্জন করেছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর শিবির ৫৩টি আসন পেয়েছে, যার মধ্যে তার লিকুদ পার্টির আসন সংখ্যা ২৭। ১২০ আসনের পার্লামেন্টে আরব-প্রধান তালিকাগুলো ১৯টি আসন নিয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। ফলে সরকার গঠনে তাদের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সোমবার নেতানিয়াহু আরব দলগুলোকে বাদ দিয়ে ‘বৃহত্তর জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বৃহত্তম দলের নেতা হিসেবে পরবর্তী জোট সরকারের নেতৃত্ব তারই দেওয়া উচিত।

লিকুদ পার্টির টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইহুদি জনগণের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা লিকুদকে বৃহত্তম দল হিসেবে এবং আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরবর্তী সরকার পরিচালনার জন্য বেছে নিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে এবং সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না—এমন যেকোনো দলের সঙ্গে একটি বৃহত্তর সরকার গঠন করতে চাই।’

আরব-প্রধান তালিকাগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, দলগুলো ‘সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে এবং ইহুদি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব অস্বীকার করে।’

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলার নিন্দা জানিয়ে আরব ইসরাইলি দলগুলোর নেতারা ফিলিস্তিনি ইসলামপন্থী সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে আখ্যায়িত করেননি। রা’আম পার্টির নেতা ইসরাইলকে ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও অন্য নেতারা এ সংজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

নির্বাচনের আগে এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরব-প্রধান দুটি তালিকার প্রধানরা একটি অভিন্ন লক্ষ্য তুলে ধরেছিলেন। তাদের বক্তব্য ছিল, তারা যে সরকারকে ‘বর্ণবাদী’ বলে মনে করেন, সেটির পতন ঘটানো।

বিরোধী শিবিরে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে মতভেদ রয়েছে। আইজেনকটের ব্লকের দলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও সোমবার পর্যন্ত সব নেতাই তাকে পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। আরব দলগুলোও আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

তবে আরব দলগুলোর সমর্থন নেওয়া হবে কি না, তা বিরোধী শিবিরের অন্যতম বিতর্কিত বিষয়। আইজেনকটের শিবিরে ডেমোক্র্যাটস পার্টির বামঘেঁষা নেতা ইয়ার গোলান আরব দলগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের পক্ষে। অন্যদিকে ডানপন্থী ইসরায়েল বেইতেনু পার্টির নেতা আভিগদর লিবারম্যান এর তীব্র বিরোধিতা করছেন।

আইজেনকটের দল সরাসরি ঘোষণা না দিলেও এ ধারণা নাকচ করেছে বলে মনে হচ্ছে। নাফতালি বেনেটের মধ্য-ডানপন্থী টুগেদার পার্টির অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।

ইসরাইলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, বিভিন্ন দলের সমর্থনের সংখ্যা ও রাজনৈতিক শক্তি বিবেচনায় নিয়ে প্রেসিডেন্ট সাধারণত সবচেয়ে বেশি সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেন।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর শিবিরে তার কট্টর ডানপন্থী মিত্ররা এবং অতি-অর্থোডক্স শাস পার্টি তার নাম সুপারিশ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্য অতি-অর্থোডক্স দলের অবস্থান অবশ্য এখনো পরিষ্কার নয়।

সরকার গঠনের প্রক্রিয়া

ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বুধবার থেকে দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ শুরু করবেন। প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য তার হাতে সাত দিন সময় রয়েছে, অর্থাৎ ১১ নভেম্বর পর্যন্ত।

প্রেসিডেন্টের মনোনীত প্রার্থী জোট সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে এ সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো যেতে পারে। প্রথম প্রার্থী ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কাউকে দায়িত্ব দিতে পারবেন। দ্বিতীয় প্রার্থীও সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন।

দ্বিতীয় প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হলে পার্লামেন্টের ৬১ জন সদস্য প্রেসিডেন্টকে তৃতীয় কোনো প্রার্থী বেছে নেওয়ার অনুরোধ করতে পারবেন। ১৪ দিনের মধ্যে এমন অনুরোধ করা না হলে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হবে এবং নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%