প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্প্যানিশ ফুটবলে একটি অন্ধকার ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের সাথে সংঘর্ষের পর হার্ট অ্যাটাকে প্রাণ হারিয়েছেন স্পেনের ক্লাব সিডি তেনেরিফের স্ট্রাইকার হেসুস দে মিগেল। এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে গত সোমবার (২ নভেম্বর) স্প্যানিশ দ্বিতীয় বিভাগের (লা লিগা হাইপারমোশন) একটি ম্যাচে।
যেভাবে ঘটেছিল ভয়াবহ ঘটনাটি
ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে (১০৮তম মিনিটে) তেনেরিফে ও এফসি অ্যান্ডোরার মধ্যে খেলা তখন ২-২ গোলে সমতায় ছিল। ঠিক সেই সময় একটি লম্বা পাস (লং বল) কিক করে দূরে সরানোর জন্য অ্যান্ডোরার গোলরক্ষক হেসুস নিজের গোলপোস্ট ছেড়ে প্রায় মাঝমাঠের কাছে চলে আসেন। বাতাসে ভাসতে থাকা বলটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার লড়াইয়ে ওওনোর হাঁটু দে মিগেলের বুকে খুব জোরে আঘাত করে।
আঘাতের তীব্রতায় দে মিগেল মাঠে নিথর হয়ে পড়ে যান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দুই দলের খেলোয়াড়রা চিৎকার করে মাঠের মেডিকেল টিমকে ডাকতে থাকেন। মাঠে প্রায় ৫ মিনিট ধরে তাঁকে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস ও জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্সে করে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নিয়ে যাওয়া হয়। এই মারাত্মক ফাউলের কারণে গোলরক্ষককে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয় এবং রেফারি ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন।
রাতেই পরিস্থিতির অবনতি এবং প্রয়াণ
হাসপাতালে নেওয়ার পথে দে মিগেল কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হন। চিকিৎসকরা তাঁকে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম হলেও তাঁর স্নায়বিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন থাকার সময় ৩ নভেম্বর (মঙ্গলবার) সকাল ৮ টায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
‘বেদনায় আমরা চূর্ণ-বিচূর্ণ’ – স্তব্ধ ক্লাব কর্তৃপক্ষ
দে মিগেলের অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ক্লাব সিডি তেনেরিফে এক আবেগঘন বিবৃতিতে জানায়, ‘বেদনায় আমরা চূর্ণ-বিচূর্ণ। গলায় কান্না চেপে এবং এটি যে সত্যি তা বিশ্বাস করতে না পেরে আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে আমাদের খেলোয়াড় হেসুস দে মিগেল আলমেদার মর্মান্তিক মৃত্যুর কথা জানাচ্ছি। আমাদের সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কোনো ভাষা নেই; এই গভীর শোক ও শূন্যতা কমানোর মতো পৃথিবীতে কিছুই অবশিষ্ট নেই।’
প্রতিপক্ষ ক্লাব এফসি অ্যান্ডোরাও তাদের অফিশিয়াল সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে গভীর সমবেদনা জানিয়ে লিখেছে, ‘ভগ্ন হৃদয় ও গভীর দুঃখের সাথে আমরা হেসুস দে মিগেলের পরিবার, সতীর্থ এবং তেনেরিফে ক্লাবের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। ওপারে ভালো থেকো।’
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি পুরো ফুটবল বিশ্বের খেলোয়াড়দের মাঠের নিরাপত্তা নিয়ে আবারো বড় ধরণের প্রশ্ন তুলেছে। রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনাসহ স্পেনের শীর্ষ ফুটবল ক্লাবগুলো এই তরুণ স্ট্রাইকারের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন