ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট না পড়েই জানবেন মূল কথা, এলো নতুন এআই ফিচার


হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট না পড়েই জানবেন মূল কথা, এলো নতুন এআই ফিচার

হোয়াটসঅ্যাপে না পড়েই জানবেন চ্যাটের মূল কথা, এলো নতুন এআই ফিচার

 

হোয়াটসঅ্যাপে প্রতিদিন অসংখ্য মেসেজ আসছে। বিশেষ করে গ্রুপ চ্যাটে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জমা হতে পারে শত শত বার্তা।

আরও পড়ুন: অপপ্রচার ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুদৃঢ় অবস্থান গড়ছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী

 

ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় সব মেসেজ পড়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। এবার সেই সমস্যা সমাধানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করা যাবে।

 

এর একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: ১৫০ ভরি স্বর্ণের বিরোধে যুবদল নেতা সাকের খুন : পুলিশ

হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত হয়েছে একটি নতুন সুবিধা, যার মাধ্যমে মেটা এআই ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ও গ্রুপ চ্যাটের অপঠিত মেসেজগুলোর সংক্ষিপ্তসার তৈরি করা সম্ভব।

 

ফলে দীর্ঘ কথোপকথনের প্রতিটি মেসেজ আলাদাভাবে না পড়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো দ্রুত জানা যাবে।

কিভাবে কাজ করবে এই সুবিধা?

আরও পড়ুন: সরকার উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে কাজ করছে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

হোয়াটসঅ্যাপে কোনো ব্যক্তিগত বা গ্রুপ চ্যাটে অনেক অপঠিত মেসেজ জমা হলে সেগুলোর একটি সংক্ষিপ্তসার তৈরি করা যাবে। এতে দীর্ঘ কথোপকথনের মূল বিষয়গুলো অল্প সময়ের মধ্যে জানা সম্ভব হবে।

বিশেষ করে কাজের ব্যস্ততা, ক্লাস বা অন্য কোনো কারণে দীর্ঘ সময় হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে না পারলে এই সুবিধা উপকারী হতে পারে।

 

হোয়াটসঅ্যাপে এআই দিয়ে মেসেজের সারাংশ দেখার প্রক্রিয়া:

আরও পড়ুন: সুন্দরবনের ক্ষতি হয় এমন কিছু অনুমোদন করা হবে না: বন প্রতিমন্ত্রী ড. ফরিদ

১. স্মার্টফোনে হোয়াটসঅ্যাপ খুলুন।

২. যে ব্যক্তিগত বা গ্রুপ চ্যাটে অনেক অপঠিত মেসেজ রয়েছে, সেটি নির্বাচন করুন।

৩. অপঠিত মেসেজের ওপরে থাকা ‘[সংখ্যা] unread messages’ অপশনে ট্যাপ করুন।

৪. এরপর নতুন একটি স্ক্রিন দেখা যাবে। সেখানে শর্তগুলো পড়ে Continue অপশনে ট্যাপ করতে হবে।

আরও পড়ুন: দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর ২৬ ইসিবির সড়ক যোগাযোগ বিপ্লব

 

৫. কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করার পর হোয়াটসঅ্যাপ ওই চ্যাটের অপঠিত মেসেজগুলোর একটি সংক্ষিপ্তসার তৈরি করবে।

৬. সংক্ষিপ্তসারটি ঠিকঠাক মনে না হলে সেটি নিয়ে ফিডব্যাক দেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে?

আরও পড়ুন: কুয়েতে বন্ধুকে হত্যার দায়ে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে প্রকাশের জেরে

দীর্ঘ চ্যাটের মূল বিষয় দ্রুত বুঝে নেওয়াই এই সুবিধার সবচেয়ে বড় সুবিধা। কোনো গ্রুপে একসঙ্গে অনেক মানুষ মেসেজ করলে সবগুলো আলাদাভাবে পড়ার প্রয়োজন কমে যাবে।

এ ছাড়া কোন মেসেজ আগে দেখা বা উত্তর দেওয়া প্রয়োজন, সেটিও দ্রুত বোঝা যাবে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন বাছাই করতেও সময় কম লাগবে।

প্রচারমূলক বা অপ্রয়োজনীয় মেসেজও আগে থেকেই চিহ্নিত করা সহজ হতে পারে।

ব্যক্তিগত মেসেজ কতটা নিরাপদ?

হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, এআই দিয়ে চ্যাটের সংক্ষিপ্তসার তৈরিতে প্রাইভেট প্রসেসিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার দাবি করেছে মেটা।

হোয়াটসঅ্যাপের দাবি অনুযায়ী, এআই-নির্ভর এই প্রক্রিয়ায় চ্যাটের সংক্ষিপ্তসার তৈরি করা হলেও ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত কথোপকথনের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তবে এআই তৈরি করা সারাংশ সবসময় শতভাগ নির্ভুল নাও হতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্যের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে মূল মেসেজ দেখে নেওয়াই ভালো।

নতুন এই সুবিধার ফলে দীর্ঘ হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট দ্রুত বুঝে নেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ বাছাই করা আরো সহজ হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২৯ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৬৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৫০ পি.এম


২৯ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৬৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার

চলতি আগস্ট মাসের ২৯ দিনে দেশে ২৬৬ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ৩২ হাজার ৮২৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টের ২৯ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

২০২৫ সালের ১ থেকে ২৯ আগস্ট দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২১৮ কোটি ২০ লাখ ডলার। আর চলতি বছরে একই সময়ে এসেছে ২৬৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এবার রেমিট্যান্স বেড়েছে ২২ দশমিক ৩০ শতাংশ বা ৪৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভূমিমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধির সৌজন্য সাক্ষাৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৫২ পি.এম


ভূমিমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধির সৌজন্য সাক্ষাৎ

ঢাকা, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ : ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুর সঙ্গে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিভেন রড্রিগেজ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

আজ রোববার ভূমি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী ভূমি ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইউএনডিপিসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি ভূমি ব্যবস্থাপনায় সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ এবং সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

এ সময় ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনা ও এর ডিজিটালাইজেশনের বিভিন্ন পরিকল্পনা সম্পর্কে ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধিকে অবহিত করেন।

ভূমিসেবা ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রমকে বাংলাদেশের একটি অসাধারণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেবা ডিজিটালাইজেশন জনগণকে ক্ষমতায়িত করে এবং সরকারি উদ্যোগের স্বচ্ছতা বাড়ায়। কারণ, এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বহুলাংশে কমে যায়।

ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধি জানান, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে, দুর্যোগ সহনশীলতা জোরদার করতে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের গতি বাড়াতে তিনি বাংলাদেশ সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, সুশীল সমাজ, বেসরকারি খাত এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন।

স্টিভেন রড্রিগেজ আরও বলেন, ‘ইউএনডিপি’র হয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় অবদান রাখার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের।’

তিনি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ সরকার, এ দেশের জনগণ এবং আমাদের উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে চাই, যেন আমাদের আগের সব অর্জন অব্যাহত থাকে এবং তার ভিত্তিতে নতুন, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাধান তৈরি করা যায়, যা সরাসরি মানুষের কল্যাণে আসবে।’

সাক্ষাৎকালে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ এবং ইউএনডিপি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেলের জালে বিরল ‘স্লেন্ডার সানফিশ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৫৪ পি.এম


জেলের জালে বিরল ‘স্লেন্ডার সানফিশ’

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ‘স্লেন্ডার সানফিশ’। প্রায় ২ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের অদ্ভুত আকৃতির মাছটি মহিপুর মৎস্য বন্দরে আনার পর স্থানীয় মানুষ ও মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। বিরল মাছটি একনজর দেখতে বন্দরে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ।

রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের সঙ্গে মাছটি জালে ধরা পড়ে। পরে জেলেরা সেটি মহিপুর মৎস্য বন্দরে নিয়ে এসে শাহীন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি আড়তে তোলেন। তবে অপরিচিত ও অস্বাভাবিক আকৃতির হওয়ায় মাছটি কিনতে কেউ আগ্রহ দেখাননি।

জেলেদের ভাষ্য, মাছটির গঠন ও আকৃতি সাধারণ সামুদ্রিক মাছের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ায় প্রথমে তারা এর পরিচয় শনাক্ত করতে পারেননি। মাছটি বিষাক্ত হতে পারে—এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়। এ কারণে মাছ ব্যবসায়ীরাও এটি কিনতে আগ্রহ দেখাননি।

জেলে সাইফুল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাগরে মাছ শিকার করছি। জালে বিভিন্ন ধরনের মাছ ধরা পড়লেও এমন মাছ আগে কখনো দেখিনি। মাছটির আকৃতি ও গঠন অন্য মাছের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।

আরেক জেলে আবদুর রহমান বলেন, অন্যান্য মাছের সঙ্গে জালেই মাছটি ধরা পড়ে। বন্দরে নিয়ে আসার পর এটি দেখতে অনেক মানুষ ভিড় করেন। তবে মাছটি বিষাক্ত হতে পারে—এমন কথা শুনে কেউ কিনতে চাননি।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ, অ্যাকুয়াকালচার ও মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, মাছটির বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণে প্রাথমিকভাবে এটিকে স্লেন্ডার সানফিশ বলে মনে হচ্ছে। এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘ রাঞ্জানিয়া লেভিস’। এটি সাধারণ বাণিজ্যিক সামুদ্রিক মাছ নয়; মূলত খোলা সমুদ্রের মহাসাগরীয় প্রজাতি। অনেক সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে মাছ ধরার জালে অন্যান্য মাছের সঙ্গে এ ধরনের মাছ ধরা পড়ে। বঙ্গোপসাগরেও এ প্রজাতির উপস্থিতির তথ্য রয়েছে।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, বঙ্গোপসাগর জীববৈচিত্র্যে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। স্লেন্ডার সানফিশ ধরা পড়ার ঘটনাটিও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণা ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হতে পারে। এ ধরনের বিরল প্রজাতির মাছ ধরা পড়লে জেলেদের দ্রুত মৎস্য বিভাগকে জানানো উচিত। এতে মাছটির সঠিক পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সপ্তাহে দুই দিন অফিসে, বাকি তিন দিন ‘উধাও’ সরকারি কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৫৫ পি.এম


সপ্তাহে দুই দিন অফিসে, বাকি তিন দিন ‘উধাও’ সরকারি কর্মকর্তা

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সাব-রেজিস্ট্রার ধীমান সেন সপ্তাহের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে মাত্র দুই দিন অফিসে উপস্থিত থাকেন।

 

অফিসের বাকি তিন দিন তিনি উপস্থিত থাকেন না। এর ফলে দলিল নিবন্ধনসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য ক্রেতা-বিক্রেতা ও জমি-সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

দলিল লেখক এবং সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, সাব-রেজিস্ট্রারের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে দলিল সম্পাদনা ও নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ অফিসে কখন সাব-রেজিস্ট্রার থাকবেন এবং কখন দলিল সম্পাদন হবে—এ বিষয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ছেন।

 

এতে তাদের সময় ও অর্থ দুটিই অপচয় হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সরেজমিনে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সাব-রেজিস্ট্রারের অফিসের পাশের কক্ষে মোহরার (নথি রক্ষক) জল্পনা রানী দাস ও রুনু প্রভা দাস বসে আছেন। তারা জানান, সাব-রেজিস্ট্রার সপ্তাহে দুই দিন অফিসে আসেন। প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার তিনি কার্যালয়ে উপস্থিত থাকেন।

 

অফিসে উপস্থিত না থাকার বাকি সময় তিনি কখনো লক্ষ্মীপুরে, আবার কখনো চট্টগ্রামে থাকেন।

অফিসের বাইরে অপেক্ষমাণ সেবাপ্রত্যাশী ইলিয়াস ও আতর জামান বলেন, জমি কেনাবেচার দলিল সম্পাদনের জন্য তারা অনেক আগেই প্রস্তুতি নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে এসেছেন। কিন্তু কর্মকর্তা অফিসে না থাকায় পুরো প্রক্রিয়া আটকে যাচ্ছে। বিশেষ করে নির্ধারিত তারিখে দলিল সম্পাদন করতে না পারায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে বিরোধ এবং আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তারা জানান, গত তিন দিন ধরে অফিসে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে।

 

আরেক সেবাপ্রার্থী ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘এভাবে আর কতদিন আসব? অফিসে এলে শুনি সাব-রেজিস্ট্রার নেই, দলিল নিবন্ধন হবে না। মানুষের এই ভোগান্তি দেখার কেউ নেই?’

সেবাপ্রত্যাশী এবং কয়েকজন দলিল লেখক জানান, সাব-রেজিস্ট্রারের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে কার্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একদিকে সরকারি সেবা নিতে আসা মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে দলিল নিবন্ধন-সংক্রান্ত কাজেও জট তৈরি হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন দলিল লেখক অভিযোগ করেন, সাব-রেজিস্ট্রার তাঁর ইচ্ছামতো অফিস করেন। তিনি মন চাইলে আসেন, না চাইলে আসেন না। তাদের দাবি, সপ্তাহে যে দুই দিন তিনি অফিস করেন, ওই দুই দিনে প্রায় দুই শতাধিক দলিল নিবন্ধন করা হয়। প্রতিটি দলিলের জন্য তিনি দুই হাজার টাকা করে নেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। কোনো দলিলে জটিলতা থাকলে টাকার অঙ্ক আরো বেড়ে যায় বলে দাবি করেন তারা।

তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সাব-রেজিস্ট্রার ধীমান সেন অস্বীকার করেছেন।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে একাধিকবার তাঁর মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলে রাত ৯টা ২০ মিনিটে তিনি ফোনে কথা বলেন। এ সময় তিনি সপ্তাহে দুই দিন অফিস করার কথা স্বীকার করে বলেন, বাকি তিন দিন তিনি অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকেন। তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন সপ্তাহে দুই দিন অফিস করার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনা সত্য। আমার জানামতে, তিনি সপ্তাহে দুই দিন অফিস করেন। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব।’

লক্ষ্মীপুর জেলা সাব-রেজিস্ট্রার নীরোদ বরণ বিশ্বাস বলেন, ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত অফিস করা বাধ্যতামূলক। তিনি কেন অনিয়মিত অফিস করছেন, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সেবাপ্রত্যাশীদের দাবি, সরকারি কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি। একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে একটি উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%