ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পিকফোর্ডের পানির বোতলে মিলল আর্জেন্টিনাকে ঠেকানোর কৌশল


পিকফোর্ডের পানির বোতলে মিলল আর্জেন্টিনাকে ঠেকানোর কৌশল

ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে এসেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের পরে আর্জেন্টিনার উদযাপনের মাঝেই সামনে এসেছে আরও একটি চমকপ্রদ ঘটনা। ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের পানির বোতলে পাওয়া গেছে আর্জেন্টিনাকে আটকে দেওয়ার একটি গোপন পরিকল্পনা।

ম্যাচ শেষে যেবার আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা সমর্থকদের সঙ্গে বিজয় উদযাপন করতে ব্যস্ত ছিলেন, তখন দলের ম্যাসাজ থেরাপিস্ট মার্সেলো ‘ড্যাডি’ ডি’আন্দ্রেয়া পিকফোর্ডের পানির বোতলটি হাতে পান। বোতলের গায়ে একটি কাগজে লেখা ছিল আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য পেনাল্টি শুটারদের নাম, এবং তারা সাধারণত কোন দিকে শট নেন, সেই তথ্যটিও সেখানে বিদ্যমান ছিল।

টেলিভিশনের ক্যামেরায় দেখা যায়, বোতলটি লিওনেল মেসি, নিকোলাস গঞ্জালেস ও মার্কোস সেনেসির কাছে নিয়ে যান ডি’আন্দ্রেয়া। মেসি মনোযোগ দিয়ে কাগজটি পড়ার চেষ্টা করেন। এরপর সকলেই মিলে সেটি নিয়ে আলোচনা করতে থাকেন। তবে ম্যাচ যখন শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে চলে যায়, তখন সেই নোটই হতে পারত পিকফোর্ডের বড় অস্ত্র।

আরও পড়ুন: ইসরাইল নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অধরাই

সেখানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, যার মধ্যে ম্যাচে গোল করা এনজো ফার্নান্দেজের নামও ছিল। নিজের নাম খুঁজে পেয়ে হেসে ফেলেন মিডফিল্ডার ফার্নান্দেজ। এরপর আকাশের দিকে তাকিয়ে ইশারা করেন, যেন টাইব্রেকারে যেতে না হওয়ায় স্বস্তি অনুভব করছেন তিনি।

পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই কাগজের বিশদ ছবি প্রকাশ করেন আর্জেন্টিনার ফিটনেস কোচ লুইস মার্তিন। এতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, পিকফোর্ড আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য পেনাল্টি শুটারদের জন্য আলাদা আলাদা নির্দেশনা লিখে রেখেছিলেন।

নিরীক্ষকঙ্গণে ম্যাচজুড়েই পিকফোর্ড এবং আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছিল চোখে পড়ার মতো। কয়েক দফা বাক্যবিনিময় এবং ধাক্কাধাক্কির পরে ইংল্যান্ডের অ্যান্থনি গর্ডন গোল করলে বিতর্কিত ভঙ্গিতে উদযাপন করেন পিকফোর্ড। পরে আর্জেন্টিনা সমতা ফেরালে পিকফোর্ডের সামনে উদযাপনে মাতেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে, লিকুদ পার্টি এগিয়ে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫৫ এম


পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ৯

পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি বিক্ষোভকারী সংগঠনের সমর্থকদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আঞ্চলিক নির্বাচনের প্রাসঙ্গিক ঘটনা হিসেবে বুধবার (১৫ জুলাই) বড় একটি মিছিল করার পরিকল্পনা করেছিল সংগঠনটি। তবে তার আগেই বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই সংঘর্ষের পেছনে মূল বিরোধ হচ্ছে আঞ্চলিক আইনসভার ১২টি সংরক্ষিত আসন নিয়ে।

এসব আসন ভারত পাকিস্তানের অন্যান্য অঞ্চলে বসবাসকারী শরণার্থীদের জন্য নির্ধারিত। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এই ব্যবস্থা স্থানীয় মানুষের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কমিয়ে দিচ্ছে। তাদের দাবি, সংরক্ষিত আসনের কারণে নির্বাচনে স্থানীয় জনগণের মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না।

পুঞ্চ বিভাগের কমিশনার ওয়াহিদ খান জানিয়েছেন, পুঞ্চ এলাকায় বিক্ষোভকারীরা একটি নিরাপত্তা বহরের পথ আটকে দেন। এ সময় তারা দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের ওপরও হামলা চালান। তিনি দাবি করেছেন যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আত্মরক্ষার জন্য পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা ব্যবস্থা নেন। ওয়াহিদ খান পুরানো একটি তথ্য উল্লেখ করে বলেন যে, তারারখাল এলাকায় সংঘর্ষে ছয়জন বিক্ষোভকারী এবং একজন পুলিশ সদস্য নিহত হন। অন্যদিকে রাওয়ালাকোটে আরেকটি সংঘর্ষে একজন বিক্ষোভকারী ও একজন নিরাপত্তার বাহিনীর সদস্য প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে মোট সাতজন বিক্ষোভকারী এবং দুইজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন।

যৌথ কর্মপরিষদ বা জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) নামক সংগঠনটিকে গত জুন মাসে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। সংগঠনটি বুধবার রাওয়ালাকোটের দিকে মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। পুঞ্চ বিভাগের কমিশনার বলেছেন, রাওয়ালাকোট শহরে যাতে মিছিলকারীরা প্রবেশ করতে না পারেন, সে জন্য নিরাপত্তা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের হিসাব অনুযায়ী, জুন মাসে অস্থিরতা শুরু হওয়ার পর থেকে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে সহিংস ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ জন নিহত হয়েছেন। নির্বাচন ঘিরে চলমান এই উত্তেজনায় পরিস্থিতি আরো অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বালেন্দ্র শাহকে ‘নেপালি হিটলার’ বলে আখ্যায়িত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫৯ এম


বালেন্দ্র শাহকে ‘নেপালি হিটলার’ বলে আখ্যায়িত

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র (বালেন) শাহের শাসনব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের উপর তীব্র সমালোচনা করে তার বিরুদ্ধে ‘নেপালি হিটলার’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির উচ্চকক্ষের একটি সংসদ সদস্য।

গত বুধবার, নেপালের জাতীয় পরিষদের (উচ্চকক্ষ) একটি বৈঠকে জনতা সমাজবাদী পার্টির (জেএসপি) সংসদ সদস্য মহন্ত ঠাকুর এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন।

সংসদে দেওয়া তার বক্তব্যে মহন্ত ঠাকুর বালেন শাহের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনকে ‘অদক্ষ’ এবং ‘অকার্যকর’ বলে উল্লেখ করে বলেন, এই সরকার জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারের এমন কর্মকাণ্ডের ফলে নেপালের জনগণের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রশাসন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে তাদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর ব্যবস্থা করছে, যার ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বেসরকারি স্কুল এবং নার্সিং হোমগুলোর উপর সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক নীতি লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের ভবিষ্যতের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। সরকারের এমন অনড় অবস্থান দেশের অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করবে বলে তার আশঙ্কা।

মহন্ত ঠাকুর আরও দাবি করেছেন, বর্তমান প্রশাসন ট্রেড ইউনিয়ন ও ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিবাদ সহ্য না করে সেগুলো বিলুপ্ত করার চেষ্টা করছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যালয়ে হস্তক্ষেপ করছে।

সরকারের এমন একনায়কতান্ত্রিক আচরণকে সমালোচনা করে মহন্ত ঠাকুর বলেন, তিনি (বালেন শাহ) যে যা বলছেন তা-ই যেন আইন হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যা দেশকে এক অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেট্রোরেলের নিরাপত্তা জোরদারে ৯ সদস্যের কমিটি গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:০১ এম


মেট্রোরেলের নিরাপত্তা জোরদারে ৯ সদস্যের কমিটি গঠন

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য মেট্রোরেলের নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্যতা ও টেকসই পরিচালনা নিশ্চিত করতে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে।

বুধবার ডিএমটিসিএল একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর মেট্রোরেলের একটি দুর্ঘটনার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে একটি সেফটি অডিট কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত ও পরিদর্শন করার পর কমিটি ‘আইডেন্টিফিকেশন অব অপারেশনাল রিস্কস, সেফটি অডিট অ্যান্ড স্ট্রাকচারাল ইন্টিগ্রেটি অব দ্য কনস্ট্রাকটেড করিডর অব এমআরটি-৬’ শীর্ষক প্রতিবেদন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের মাধ্যমে আদালতে জমা দেয়।

প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে উচ্চ আদালত ডিএমটিসিএলকে ২৮টি সুপারিশ কার্যকর করার নির্দেশ দেন। এর মধ্যে আটটি সুপারিশ স্বল্পমেয়াদি, ১০টি মধ্যমেয়াদি এবং ১০টি দীর্ঘমেয়াদি।

এ ছাড়াও, ডিএমটিসিএলের চলমান এবং ভবিষ্যৎ সব এমআরটি প্রকল্পে বাস্তবায়নের জন্য কমিটির আরো ছয়টি কৌশলগত সুপারিশ অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এসব নির্দেশনা দ্রুত এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সুপারিশ বাস্তবায়ন, সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সমন্বয় এবং সার্বিক অগ্রগতি নিয়মিত তদারকি করবে। একই সঙ্গে, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবং ডিএমটিসিএলের প্যানেল আইনজীবীর মাধ্যমে অগ্রগতি প্রতিবেদন নিয়মিত উচ্চ আদালতে দাখিল করা হবে।

ডিএমটিসিএল জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তারা কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ ও আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এমআরটি লাইন-৬-এর পরিচালনা ব্যবস্থা আরো নিরাপদ, শক্তিশালী এবং আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হবে বলে সংস্থাটি আশা করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কোটি টাকা ব্যয়েও বর্ষায় জলমগ্ন যশোর শহর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:০৪ এম


কোটি টাকা ব্যয়েও বর্ষায় জলমগ্ন যশোর শহর

বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকা খরচ করে তৈরি হয়েছে ড্রেন।

রক্ষণাবেক্ষণেও ব্যয় হচ্ছে বিপুল অর্থ।

অথচ সামান্য বৃষ্টিতে ডুবছে দেশের প্রথম শ্রেণির পৌরসভা যশোর।

সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবেছে দেশের প্রথম শ্রেণির পৌরসভা যশোর।

 

জানা যায়, শহরের বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। পরিকল্পনার ঘাটতি, অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ আর খাল-ড্রেন সংযোগের দুর্বলতায় প্রতি বছরই একই ভোগান্তির পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

অবশ্য পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে, পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দেশের প্রাচীন ও প্রথম শ্রেণির পৌরসভা যশোর। এ পৌরসভার পানি নিষ্কাশনে ৯টি ওয়ার্ডে মোট ড্রেনের দৈর্ঘ্য ২৫১ দশমিক ৯৬ কিলোমিটার। এসব ড্রেনের প্রায় অর্ধেক শত কোটি টাকা ব্যয়ে পাকা করা হয়েছে।

পাশাপাশি ড্রেন পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বছরে দুই কোটির অধিক বরাদ্দ থাকে। বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয় হলেও স্বস্তিতে নেই যশোর পৌরসভার বাসিন্দারা।

একটু বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় পানি জমে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা।

বিশেষ করে ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা পড়েন চরম ভোগান্তিতে।

ঘরে বাইরে সর্বত্র দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় জীবন বিষিয়ে উঠে তাদের।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও পরিকল্পনার ঘাটতি, অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ, খাল-ড্রেন সংযোগের দুর্বলতায় প্রতি বছর একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

ফলে মানসিক ও অর্থনৈতিক দুইভাবেই ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তারা।

এ বিষয়ে শহরের শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা অপু আহমেদ বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকায় পানি জমে যায়। পুরো শহরের পানি ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য দিয়ে হরিণার বিলে নামে।

মাঝে দীর্ঘ রেললাইন। ছোট দুটি রেল কালভার্ট আছে। কিন্তু তা দিয়ে পর্যাপ্ত পানি বের হয় না। এরপর মহাসড়ক। সেখানে মাত্র একটি কালভার্ট। ফলে বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

তা ছাড়া পানি নিষ্কাশনের যে ড্রেনগুলো আছে, সেগুলো ঠিকমত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয় না। বছরে দুই থেকে তিনবার যদি ড্রেন পরিষ্কার করা হয় তাহলে জলাবদ্ধতা কম হতো।’

যশোর শহরের বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা।

তিনি আরও বলেন, ‘এখন পানি জমে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বাড়ির ভেতরে ময়লা পানি, বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাড়ি থেকে বেরোনো যায় না। বাড়ির বাচ্চাসহ সবাই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

পানি নিষ্কাশনের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও পরিকল্পনার অভাবে তা কাজে আসছে না।’

শহরের টিবি ক্লিনিক এলাকার বাসিন্দা শাহিন হোসেন বলেন, ‘আমাদের এলাকাটা অপেক্ষাকৃত নিচু। দুই দশক ধরে আমরা বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার শিকার হই।

বৃষ্টি হলেই ড্রেনের পানি উপচে সড়ক ও বাড়ি ঘরে উঠে আসে। সপ্তাহের পর সপ্তাহ ময়লা পানির মধ্য বসবাস করতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘এ জলাবদ্ধতার একটাই কারণ ড্রেনেজ ব্যবস্থা। শহরের ড্রেনগুলো ভৈরব নদীর দিকে মুখ না করে হরিণার বিলমুখী করা হয়েছে।

বিলের পাশ দিয়ে বাইপাস মহাসড়ক, বিলের ভিতর বাসস্ট্যান্ড, মেডিকেল কলেজ, বসতবাড়ি গড়ে উঠেছে। ড্রেনের পানি গিয়ে বিলে নামতে পারছে না।

তা ছাড়া ড্রেন অপ্রশস্ত ও অগভীর হওয়ায় তা উপচে পানি সড়ক ও বাড়ি ঘরে ঢুকে পড়ছে। এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ না নিয়ে প্রতিবছর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার নামে কোটি টাকা ব্যয় করা হয়।

যা আদৌ কোন কাজে আসছে না। ফলে পৌর কর্তৃপক্ষকে নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করতে হবে।’

বেজপাড়া আনসার ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা জিল্লুর রহমান ভিটু বলেন, ‘বর্তমানে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের অধিকাংশ ঘরে পানি আছে। পানি ড্রেন থেকে ক্লিয়ার হচ্ছে না, ড্রেন জ্যাম।

পানি নিষ্কাশনের জায়গা সৃষ্টি না করে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে ড্রেন তৈরি করা বা ড্রেন পরিষ্কার করা সমস্যার সমাধান নয়।

এটা হচ্ছে সেই ‘গাড়ির আগে ঘোড়াজুড়ে দেয়ার’ মতো অবস্থা। আমরা দেখছি বৃষ্টিতে কী অবস্থা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের শহরের বুকের ওপর দিয়ে একটি নদী এবং আমাদের বগলের তলা দিয়ে আরেকটি নদী ভৈরব ও মুক্তেশ্বরী গেছে। আমাদের পানি ভৈরব-মুক্তেশ্বরীতে গিয়ে পড়বে, সেই যাওয়ার জায়গাটা তৈরি করতে হবে।

নদী দখলদারদের উচ্ছেদ করতে হবে।’

জিল্লুর রহমান ভিটু আরও বলেন, ‘পাশাপাশি আরেকটা কাজ রয়েছে—নাগরিকদের সচেতন করার একটা উদ্যোগ থাকতে হবে।

আমরা দেখি অনেকে ড্রেনের মধ্যে ময়লাটা ফেলে দিচ্ছে। এটা বন্ধ করাতে হবে। এর জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিতে হবে।

এর জন্য যদি অর্থ ব্যয় করতে হয়, অর্থ ব্যয় করে পরিকল্পিতভাবে নাগরিকদের সচেতন করতে হবে। কিন্তু পৌরসভার থেকে কোনো ব্যবস্থাই নিতে পারছে না।’

এ দিকে পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. রফিকুল হাসানের দাবি, পানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে পানি নেমে যাবে।

ফলে এ বছর জলাবদ্ধতা কম হবে। তা ছাড়া শহরের যেসব এলাকায় বেশি জলাবদ্ধতা হচ্ছে, সেগুলো এরই মধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। মূলত শহরের পানি হরিণার বিল হয়ে মুক্তেশ্বরী নদীতে যায়।

পৌরসভার সীমানা শেষে জমির মালিকরা তাদের জমিতে পানি প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।

তিনি জানান, অনেক স্থানে মাটি ফেলে উঁচু করা হয়েছে। এ পানি মুক্তেশ্বরী নদীতে নিতে হলে জমি অধিগ্রহণ করা জরুরি।

অথবা মহাসড়কের পাশ দিয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি করে ভৈরব নদীতে নিতে হবে; যা ব্যয় বহুল।

আমরা বিষয়টি স্থানীয় এমপি ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে অবহিত করেছি।

সরকার থেকে বরাদ্দ পেলে পর্যায়ক্রমে এসব সমস্যার সমাধান করা হবে।

প্রসঙ্গত, ১৪ দশমিক ৭২ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের যশোর পৌরসভায় প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের বসবাস। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার এই ত্রুটি দ্রুত দূর করার দাবি নগরবাসীর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%