প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকা খরচ করে তৈরি হয়েছে ড্রেন।
রক্ষণাবেক্ষণেও ব্যয় হচ্ছে বিপুল অর্থ।
অথচ সামান্য বৃষ্টিতে ডুবছে দেশের প্রথম শ্রেণির পৌরসভা যশোর।
সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবেছে দেশের প্রথম শ্রেণির পৌরসভা যশোর।
জানা যায়, শহরের বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। পরিকল্পনার ঘাটতি, অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ আর খাল-ড্রেন সংযোগের দুর্বলতায় প্রতি বছরই একই ভোগান্তির পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
অবশ্য পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে, পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দেশের প্রাচীন ও প্রথম শ্রেণির পৌরসভা যশোর। এ পৌরসভার পানি নিষ্কাশনে ৯টি ওয়ার্ডে মোট ড্রেনের দৈর্ঘ্য ২৫১ দশমিক ৯৬ কিলোমিটার। এসব ড্রেনের প্রায় অর্ধেক শত কোটি টাকা ব্যয়ে পাকা করা হয়েছে।
পাশাপাশি ড্রেন পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বছরে দুই কোটির অধিক বরাদ্দ থাকে। বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয় হলেও স্বস্তিতে নেই যশোর পৌরসভার বাসিন্দারা।
একটু বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় পানি জমে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা।
বিশেষ করে ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা পড়েন চরম ভোগান্তিতে।
ঘরে বাইরে সর্বত্র দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় জীবন বিষিয়ে উঠে তাদের।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও পরিকল্পনার ঘাটতি, অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ, খাল-ড্রেন সংযোগের দুর্বলতায় প্রতি বছর একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
ফলে মানসিক ও অর্থনৈতিক দুইভাবেই ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তারা।
এ বিষয়ে শহরের শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা অপু আহমেদ বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকায় পানি জমে যায়। পুরো শহরের পানি ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য দিয়ে হরিণার বিলে নামে।
মাঝে দীর্ঘ রেললাইন। ছোট দুটি রেল কালভার্ট আছে। কিন্তু তা দিয়ে পর্যাপ্ত পানি বের হয় না। এরপর মহাসড়ক। সেখানে মাত্র একটি কালভার্ট। ফলে বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
তা ছাড়া পানি নিষ্কাশনের যে ড্রেনগুলো আছে, সেগুলো ঠিকমত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয় না। বছরে দুই থেকে তিনবার যদি ড্রেন পরিষ্কার করা হয় তাহলে জলাবদ্ধতা কম হতো।’
যশোর শহরের বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা।
তিনি আরও বলেন, ‘এখন পানি জমে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বাড়ির ভেতরে ময়লা পানি, বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বাড়ি থেকে বেরোনো যায় না। বাড়ির বাচ্চাসহ সবাই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
পানি নিষ্কাশনের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও পরিকল্পনার অভাবে তা কাজে আসছে না।’
শহরের টিবি ক্লিনিক এলাকার বাসিন্দা শাহিন হোসেন বলেন, ‘আমাদের এলাকাটা অপেক্ষাকৃত নিচু। দুই দশক ধরে আমরা বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার শিকার হই।
বৃষ্টি হলেই ড্রেনের পানি উপচে সড়ক ও বাড়ি ঘরে উঠে আসে। সপ্তাহের পর সপ্তাহ ময়লা পানির মধ্য বসবাস করতে হয়।’
তিনি বলেন, ‘এ জলাবদ্ধতার একটাই কারণ ড্রেনেজ ব্যবস্থা। শহরের ড্রেনগুলো ভৈরব নদীর দিকে মুখ না করে হরিণার বিলমুখী করা হয়েছে।
বিলের পাশ দিয়ে বাইপাস মহাসড়ক, বিলের ভিতর বাসস্ট্যান্ড, মেডিকেল কলেজ, বসতবাড়ি গড়ে উঠেছে। ড্রেনের পানি গিয়ে বিলে নামতে পারছে না।
তা ছাড়া ড্রেন অপ্রশস্ত ও অগভীর হওয়ায় তা উপচে পানি সড়ক ও বাড়ি ঘরে ঢুকে পড়ছে। এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ না নিয়ে প্রতিবছর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার নামে কোটি টাকা ব্যয় করা হয়।
যা আদৌ কোন কাজে আসছে না। ফলে পৌর কর্তৃপক্ষকে নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করতে হবে।’
বেজপাড়া আনসার ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা জিল্লুর রহমান ভিটু বলেন, ‘বর্তমানে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের অধিকাংশ ঘরে পানি আছে। পানি ড্রেন থেকে ক্লিয়ার হচ্ছে না, ড্রেন জ্যাম।
পানি নিষ্কাশনের জায়গা সৃষ্টি না করে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে ড্রেন তৈরি করা বা ড্রেন পরিষ্কার করা সমস্যার সমাধান নয়।
এটা হচ্ছে সেই ‘গাড়ির আগে ঘোড়াজুড়ে দেয়ার’ মতো অবস্থা। আমরা দেখছি বৃষ্টিতে কী অবস্থা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের শহরের বুকের ওপর দিয়ে একটি নদী এবং আমাদের বগলের তলা দিয়ে আরেকটি নদী ভৈরব ও মুক্তেশ্বরী গেছে। আমাদের পানি ভৈরব-মুক্তেশ্বরীতে গিয়ে পড়বে, সেই যাওয়ার জায়গাটা তৈরি করতে হবে।
নদী দখলদারদের উচ্ছেদ করতে হবে।’
জিল্লুর রহমান ভিটু আরও বলেন, ‘পাশাপাশি আরেকটা কাজ রয়েছে—নাগরিকদের সচেতন করার একটা উদ্যোগ থাকতে হবে।
আমরা দেখি অনেকে ড্রেনের মধ্যে ময়লাটা ফেলে দিচ্ছে। এটা বন্ধ করাতে হবে। এর জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিতে হবে।
এর জন্য যদি অর্থ ব্যয় করতে হয়, অর্থ ব্যয় করে পরিকল্পিতভাবে নাগরিকদের সচেতন করতে হবে। কিন্তু পৌরসভার থেকে কোনো ব্যবস্থাই নিতে পারছে না।’
এ দিকে পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. রফিকুল হাসানের দাবি, পানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে পানি নেমে যাবে।
ফলে এ বছর জলাবদ্ধতা কম হবে। তা ছাড়া শহরের যেসব এলাকায় বেশি জলাবদ্ধতা হচ্ছে, সেগুলো এরই মধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। মূলত শহরের পানি হরিণার বিল হয়ে মুক্তেশ্বরী নদীতে যায়।
পৌরসভার সীমানা শেষে জমির মালিকরা তাদের জমিতে পানি প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।
তিনি জানান, অনেক স্থানে মাটি ফেলে উঁচু করা হয়েছে। এ পানি মুক্তেশ্বরী নদীতে নিতে হলে জমি অধিগ্রহণ করা জরুরি।
অথবা মহাসড়কের পাশ দিয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি করে ভৈরব নদীতে নিতে হবে; যা ব্যয় বহুল।
আমরা বিষয়টি স্থানীয় এমপি ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে অবহিত করেছি।
সরকার থেকে বরাদ্দ পেলে পর্যায়ক্রমে এসব সমস্যার সমাধান করা হবে।
প্রসঙ্গত, ১৪ দশমিক ৭২ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের যশোর পৌরসভায় প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের বসবাস। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার এই ত্রুটি দ্রুত দূর করার দাবি নগরবাসীর।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন