০২:৪৪ এম
সম্প্রতি ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ৫৭তম বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলনে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর সাক্ষাৎ ‘গোপন বৈঠক’ হিসেবে উপস্থাপনের প্রয়াসকে বিজিবি ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে।
বাহিনীটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এটি একটি পূর্বনির্ধারিত ও অনুমোদিত সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল, যা সীমান্ত সম্মেলনের প্রথাগত কূটনৈতিক রীতির অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ ফাইনাল যেন ব্যালন ডি’অর জয়ের মঞ্চ
সোমবার (১৫ জুন) রাতে বিজিবি সফরদফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে যে সদ্য সমাপ্ত ৫৭তম বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক সম্মেলন সম্পর্কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিছু ব্যক্তি এবং দু-একটি সংবাদমাধ্যম বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন এবং কিছু তথ্য, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য উপস্থাপন করছেন, যা অনুমাননির্ভর এবং প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে অসম্পূর্ণ ধারণার ভিত্তিতে তৈরি। সঠিক তথ্যগুলো উপস্থাপনের জন্য বিষয়গুলো পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
এছাড়াও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদফতর, যৌথ নদী কমিশন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তাগণ প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
এ সম্মেলনে, বাংলাদেশ পক্ষ থেকে ৩১টি এবং ভারত পক্ষ থেকে ২১টি এজেন্ডা উপস্থাপন করা হয়। আলোচনা ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রামাণিক দলিল হলো ‘জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশনস (জেআরডি)’ যা বিজিবি ও বিএসএফ মহাপরিচালকরা স্বাক্ষর করেন।
আরও পড়ুন: ফরাসি ডাগআউটে এবার শুরু হচ্ছে জিদান অধ্যায়
সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালকের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন ইস্যুকে গুরুত্ব সহকারে উপস্থাপন করে, বিশেষ করে সীমান্তে নিরীহ ও নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশনস (জেআরডি)-তে প্রতিফলিত হয়েছে। সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামানোর বিষয়ে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানও তাতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এছাড়া, পুশ-ইন, সীমান্ত হত্যা, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে অবৈধ অবকাঠামো নির্মাণ, মাদক চোরাচালান, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং পার্বত্য অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রমসহ অন্যান্য উদ্বেগ আলোচনা এবং আনুষ্ঠানিকভাবে জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশনে নথিবদ্ধ হয়েছে।
সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক দলিলটি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সেখানে বিজিবির পক্ষ থেকে উত্থাপিত সব উদ্বেগ ও অবস্থান গঠনমূলকভাবে, স্পষ্টভাবে এবং কোনো ধরনের আপস ছাড়াই প্রতিফলিত হয়েছে। ১২ জুন বিজিবির প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ওই জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশনের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি হয়েছে।
শরীফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি আরও জানায় যে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিছু ব্যক্তি এবং দু-একটি সংবাদমাধ্যম ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালকের সাক্ষাৎকে ‘গোপন বৈঠক’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টাটি সম্পূর্ণরূপে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। পূর্বে অনুষ্ঠিত প্রতিটি সীমান্ত সম্মেলনেই আয়োজক দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অথবা সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার সঙ্গে অংশগ্রহণকারী বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ একটি প্রতিষ্ঠিত রীতি।
আরও পড়ুন: ২০১০–এর সঙ্গে ২০২৬-এর অবিশ্বাস্য ৭ মিল, আবারও কি বিশ্বকাপ জিতবে স্পেন?
ঢাকায় অনুষ্ঠিত ৫৬তম সীমান্ত সম্মেলনের সময় বিএসএফের ডিজি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে একই ধরনের সাক্ষাৎ করেছিলেন। এবারও মহাপরিচালক সিঙ্গে বিজিবির অন্য শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যা ভারতে যাওয়ার পূর্বেই নির্ধারিত ও অনুমোদিত ছিল। এই সাক্ষাতে সীমান্ত হত্যা এবং পুশ-ইন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান মহাপরিচালক বিজিবি দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করেছেন। আয়োজক দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ একটি স্বাভাবিক কূটনৈতিক রীতি, এটিকে রহস্যময় করে উপস্থাপন করা বাস্তবতার পরিপন্থী।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে জনগণের সঙ্গে একত্রে সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন, কাঁটাতার স্থাপন, মাদক ও মানবপাচার প্রতিহত করা, মিয়ানমার সীমান্তের অস্থিতিশীলতা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিজিবি মহাপরিচালকের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় দৃঢ় অবস্থান নিয়ে বিজিবি জনমনে আস্থা ফিরিয়ে এনেছে। কিন্তু বিভ্রান্তিমূলক ও অসত্য তথ্য প্রচারের মাধ্যমে বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বকে প্রমাণহীন ব্যক্তিগত আক্রমণের প্রচেষ্টা বাহিনীর মনোবল ভাঙার অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।
সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, মাদক চোরাচালান এবং সীমান্ত নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা জাতীয় স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মতামত ও বিশ্লেষণের অবকাশ অবশ্যই রয়েছে, তবে তা যাচাই করা তথ্য, প্রামাণিক নথি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্যের ভিত্তিতে হওয়া উচিত।
বিজিবি বর্তমানের মতো ভবিষ্যতেও পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধের সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও বদ্ধপরিকর বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
আরও পড়ুন: প্রতিরক্ষা বিমানে চড়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেলেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন