ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চুড়ি, নাকফুল না পরলে কি স্বামীর ক্ষতি হয়?


চুড়ি, নাকফুল না পরলে কি স্বামীর ক্ষতি হয়?

ইসলামি শরিয়তের আলোকে কুসংস্কার পরিহার করা আবশ্যক। এটি সমাজ এবং সভ্যতার জন্য মারাত্মক একটি ব্যাধি। আমাদের সমাজে কুসংস্কারের প্রচলন বেশ প্রকট। যেসব কাজের ভিত্তি শরিয়তে পাওয়া যায় না, অথচ প্রথা ও রেওয়াজের ওপর ভিত্তি করে করা হয়, সেগুলোকে কুসংস্কার বলা হয়।

অনেকে জানতে চান, চুড়ি, নাকফুল না পরলে কি স্বামীর ক্ষতি হয়?

এর উত্তরে ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, বিয়ের পর যদি স্ত্রী চুড়ি বা নাকফুল না পরেন, তাহলে স্বামীর হায়াত কমে যায়; তবে এটি একেবারেই মনগড়া এবং ভিত্তিহীন একটি ধারণা। এটি কেবল একটি কুসংস্কার; এগুলো বিশ্বাস করা যাবে না।

আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে

মহান আল্লাহ সমস্ত মানুষের হায়াত নির্দিষ্ট করে রেখেছেন। কোন ব্যক্তির মৃত্যু সে সময়ের পূর্বে বা পরে হবে না। তাই ঐ সমস্ত ভ্রান্ত ধারণা পরিত্যাগ করা অপরিহার্য। (আদ-দুররুল মুখতার মাআ শামি- ৯/৬০২, ফাতওয়া হিন্দিয়া- ৫/৩৫৭)

অলংকার পরিধানের জন্য নারীদের নাক-কান ফোঁড়ানো জায়েজ। নারী সাহাবিরা কানে অলংকার পরিধান করতেন বলে বর্ণিত হয়েছে।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঈদের দিনে বের হয়ে দুই রাকাত নামাজ পড়লেন। আগে-পরে কোনো নামাজ পড়লেন না। তারপর বেলালকে (রা.) সাথে নিয়ে নারীদের কাছে গেলেন। তাদেরকে উপদেশ দিলেন এবং সদকা করার নির্দেশ দিলেন। তখন নারীরা তাদের কানের দুল এবং হাতের কঙ্কণ খুলে দিতে লাগলেন। (সহিহ বুখারি: ১৪৩১)

এই হাদিস থেকে নারীদের নাক ফোঁড়ানোর ব্যাপারে নবিজির (সা.) অনুমোদন ও তা জায়েজ হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

কোনো হাদিসে নাক-কান ফোঁড়ানোর ব্যাপারে নবিজির (সা.) নিষেধাজ্ঞা বা উৎসাহ পাওয়া যায় না। কেউ চাইলে নাক-কান ফোঁড়াতে পারে, কেউ চাইলে কেবল কান বা শুধুমাত্র নাক ফোঁড়াতে পারে, আর কেউ চাইলে নাক-কান ফোঁড়ানো থেকে বিরতও থাকতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রেমিকের বাড়িতে ১৮ দিন ধরে তরুণীর অবস্থান, পরবর্তীতে...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:০২ পি.এম


প্রেমিকের বাড়িতে ১৮ দিন ধরে তরুণীর অবস্থান, পরবর্তীতে...

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বগাইয়া উত্তর গ্রামে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১৮ দিন ধরে অবস্থান করছেন ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী। এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের বগাইয়া গ্রামের কয়েছ মিয়ার বাড়িতে গত ৩ জুন বিকেল থেকে ওই তরুণী অবস্থান করছেন। শুধু বাড়িতে নয়, তিনি প্রেমিক কয়েছ মিয়ার চাচার ঘরেও অবস্থান নেন। তবে এর মধ্যেই ৪ জুন কয়েছ মিয়া অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন।

কয়েছ মিয়া ওই এলাকার হাজি রফিক উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা একাধিকবার দুই পক্ষকে নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করেন, তবে কোন সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী তরুণীর দাবি, দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ের প্রস্তাব হয়েছিল এবং পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার অভিযোগ, কয়েছ শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে এবং ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করেন। এরপর সম্পর্ক থেকে সরে যান কয়েছ। পরে পারিবারিক চাপে তিনি অন্য কোথাও বিয়ের আকদ সম্পন্ন করলেও তা টেকে না বলে দাবি করেছেন।

তরুণীর অভিযোগ, এর পর কয়েছ তার ব্যক্তিগত ভিডিও ব্যবহার করে তার স্বামীর কাছে পাঠান, ফলে তার দাম্পত্য জীবন ভেঙে যায়। সে কারণেই তিনি বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন এবং স্বীকৃতি না পেলে আত্মহত্যার হুমকিও দিয়েছেন বলে জানান।

অন্যদিকে, তরুণীর মা জানান, বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে অগ্রগতি হয়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন শিহাব জানান, দুই পক্ষকে নিয়ে একাধিকবার বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, কয়েছ অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে তুলেছেন।

এ বিষয়ে কয়েছ মিয়া বলেন, তিনি মেয়েটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিল, তবে এখন তার অন্য বিয়ে হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় মেম্বাররা সমাধান করবেন।

ইউপি সদস্য পাবলু মিয়া জানান, উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা হলেও কেউই সমঝোতায় আসেননি। বর্তমানে তরুণী কয়েছের চাচার ঘরে অবস্থান করছেন।

এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উচ্ছেদ অভিযানে ফরিদপুরে সওজের দখলকৃত জমি উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:০৪ পি.এম


উচ্ছেদ অভিযানে ফরিদপুরে সওজের দখলকৃত জমি উদ্ধার

সদর উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নের তেতুলতলা এলাকায় মোবাইল কোর্টের উচ্ছেদ অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের প্রায় ৩১ শতাংশ সরকারি জমি। উদ্ধারকৃত জমির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে।

গতকাল রোববার দুপুর ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, ফরিদপুরের সহযোগিতায় এই অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

প্রশাসন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফরিদপুর সদর উপজেলার গঙ্গাবর্দী মৌজার এসএ ২০২৪ ও ২০২৫ দাগভুক্ত সওজ’র অধিগ্রহণকৃত ও রেকর্ডীয় জমিতে অবৈধভাবে মাটি ভরাট করে সেমিপাকা মার্কেট নির্মাণের কাজ করা হয়েছিল। এই বিষয়ে অভিযুক্ত হামজা (পিতা-মৃত আব্দুস সালাম), গ্রাম-শলাকুন্ডকে সওজ ও উপজেলা প্রশাসন থেকে একাধিকবার নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি সেটি অমান্য করেন।

এরপর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ ও ভেঙে ফেলা হয়। অভিযানের সময় উদ্ধার হওয়া ইট ও বালু প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয় এবং প্রাপ্ত অর্থ সরকারি ট্রেজারিতে জমা দেওয়া হয়।

অভিযানে কোতয়ালি থানা পুলিশের একটি দল এবং আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। সওজ’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাফিজ তানজিম উপস্থিত থেকে জমির সীমানা চিহ্নিত করে উচ্ছেদ কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, অভিযানে সওজ’র প্রায় ৩১ শতাংশ জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে, যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদোন্নতি বঞ্চিত অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আবেদন যাচাইয়ের জন্য কমিটি গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:০৬ পি.এম


পদোন্নতি বঞ্চিত অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আবেদন যাচাইয়ের জন্য কমিটি গঠন

২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত এই সময়কালে রাজনৈতিক কারণে যাঁরা পদোন্নতি ও পদায়ন বঞ্চিত হয়েছেন, সেই সঙ্গে যাঁরা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন, তাঁদের আবেদন পর্যালোচনার জন্য সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-৪ শাখা থেকে সম্প্রতি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, সাতজন অবসরপ্রাপ্ত ও অকালীন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার আবেদন যাচাই-বাছাই করার জন্য এবং এ বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে পাঁচ সদস্যের একটি এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক।

কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন প্রতিনিধি, অর্থ বিভাগের একজন প্রতিনিধি এবং আইন ও বিচার বিভাগের একজন প্রতিনিধি।

প্রতিনিধিদের পদমর্যাদা যুগ্মসচিবের নিচে হবে না বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া, কমিটি আবেদনকারীদের দাখিল করা তথ্য ও নথিপত্র যাচাই-বাছাই করবে এবং রাজনৈতিক কারণে পদোন্নতি ও পদায়ন বঞ্চনার অভিযোগের সত্যতা পর্যালোচনা করবে।

তবে যেসব বিষয়ে আদালতের সুস্পষ্ট আদেশ রয়েছে, সেসব বিষয় কমিটির কার্যপরিধির বাইরে থাকবে। একটি সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে কমিটিকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দিতে হবে।

এদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-৪ শাখা কমিটির সচিবালয় হিসেবে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে।

কমিটির সদস্যরা সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের সদস্যদের মতো প্রতি সভার জন্য সমপরিমাণ সম্মানী পাবেন বলেও জানানো হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আকনুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বৈষম্য ও প্রশাসনিক বঞ্চনার অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনায় এ উদ্যোগ প্রশাসনে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় মৎস্য অভয়ারণ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:০৭ পি.এম


খুলনায় মৎস্য অভয়ারণ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন

জেলার ডুমুরিয়া উপজেলায় স্থায়ী মৎস্য অভয়ারণ্য স্থানীয় মৎস্য খাতের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এটি এক সময় বিলুপ্তির পথে থাকা বহু দেশীয় মাছের প্রজাতি পুনরুদ্ধারে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। উল্লেখ্য, মৎস্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে গড়ে তোলা এই অভয়ারণ্যগুলো পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণের একটি সফল মডেল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

এদিকে, বাজারে প্রবল চাহিদার কারণে কৃষকরা, বিশেষ করে বেকার যুবকরা ক্রমবর্ধমান দেশীয় প্রজাতির মাছের চাষ শুরু করেছে। অনেকেই এই চাষের মাধ্যমে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন।

ডুমুরিয়া উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থলে নিরাপদ প্রজনন, বংশবৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য বেশ কয়েকটি নদী ও উন্মুক্ত জলাশয়ে স্থায়ী মৎস্য অভয়ারণ্য গড়ে তোলা হয়েছে। এই এলাকাগুলোতে মাছ ধরা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যার ফলে প্রজননক্ষম মাছ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পারে এবং পোনা মাছ স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে।

মৎস্য কর্মকর্তাদের বক্তব্য হলো, এই উদ্যোগটি ইতোমধ্যে উৎসাহব্যঞ্জক ফল দিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে পাবদা, গুলশা, টেংরা, আইড়, চিতল, শিং, মাগুর, গজাল ও শোলসহ বেশ কয়েকটি দেশীয় প্রজাতির মাছের চাষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েক বছর আগে স্থানীয় বাজারে যেসব প্রজাতি খুব কম দেখা যেত, এখন সেগুলো নিয়মিতভাবে ধরা পড়ছে।

জেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তারা বকাসস’কে জানিয়েছেন, প্রাকৃতিক উপায়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলজ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে মৎস্য অভয়ারণ্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর সুফল শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ভোগ্য হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মরা সিঙ্গা নদীর মৎস্য অভয়ারণ্যের আশপাশের এলাকাগুলোতে এখন কাতলা, রুইসহ ৫ থেকে ১০ কেজি ওজনের বড় মাছ নিয়মিত ধরা পড়ছে। শরফপুরের বানিয়াখালী অভয়ারণ্যের কাছে মরা ভদ্রা নদী এবং মির্জাপুর মরা নদীতেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে, যেখানে বড় আকারের কার্প ও পাঙ্গাস মাছ ধরা পড়েছে। অতিরিক্ত জলজ উদ্ভিদ, প্ল্যাঙ্কটন এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র জীবের পুনরুদ্ধার প্রাকৃতিক খাদ্য শৃঙ্খলকে পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করেছে। উন্নত আবাসস্থল সংলগ্ন উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের চলাচল সুবিধা বৃদ্ধি করেছে, যা স্থানীয় জেলেদের জন্য অধিক মাছ আহরণ ও আয় বৃদ্ধিতে অবদান রাখছে।

তবে, মৎস্য বিশেষজ্ঞরা অভয়ারণ্য কর্মসূচির মাধ্যমে অর্জিত সাফল্যকে টেকসই করার জন্য অবৈধ মাছ ধরার জাল, ক্ষতিকর কীটনাশক এবং নির্বিচারে মাছ ধরার পদ্ধতি প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের ধারাবাহিক নজরদারি এবং সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ ডুমুরিয়ার মৎস্য অভয়ারণ্যকে মাছ সংরক্ষণ ও টেকসই উৎপাদনের জন্য একটি জাতীয় মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সহায়ক হতে পারে।

স্থানীয় অংশীদাররা আশা করছেন, মৎস্য অধিদপ্তরের চলমান উদ্যোগ এবং ক্রমবর্ধমান জনসচেতনতা ও সম্পৃক্ততা ডুমুরিয়ার স্থায়ী মৎস্য অভয়ারণ্যকে দেশের টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনার অন্যতম সফল উদাহরণে পরিণত করবে।

ডুমুরিয়ার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মো. জিল্লুর রহমান রেগান বাসসকে বলেন, ‘এই অভয়ারণ্যগুলো প্রজননক্ষম মাছের জন্য নিরাপদ প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। গত কয়েক বছরে আমরা এমন অনেক দেশীয় মাছের চাষ লক্ষ্য করেছি। যেগুলো প্রাকৃতিক জলাশয়ে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, সরকারি তত্ত্বাবধান এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।’

খুলনা মৎস্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বাসসকে জানান, মাছ চাষিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধি এবং টেকসই নিশ্চিত করতে আধুনিক মৎস্যচাষ কৌশলের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মৎস্য অধিদপ্তর পুকুর ও ঘেরের গভীরতা বৃদ্ধি, জৈব নিরাপত্তা জোরদার করা, পরীক্ষাগারে পরীক্ষিত ভাইরাসমুক্ত পিসিএফ পোনা সরবরাহ এবং উত্তম মৎস্যচাষ পদ্ধতির মতো পদক্ষেপগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%