০১:০১ পি.এম
ইসলামি শরিয়তের আলোকে কুসংস্কার পরিহার করা আবশ্যক। এটি সমাজ এবং সভ্যতার জন্য মারাত্মক একটি ব্যাধি। আমাদের সমাজে কুসংস্কারের প্রচলন বেশ প্রকট। যেসব কাজের ভিত্তি শরিয়তে পাওয়া যায় না, অথচ প্রথা ও রেওয়াজের ওপর ভিত্তি করে করা হয়, সেগুলোকে কুসংস্কার বলা হয়।
অনেকে জানতে চান, চুড়ি, নাকফুল না পরলে কি স্বামীর ক্ষতি হয়?
এর উত্তরে ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, বিয়ের পর যদি স্ত্রী চুড়ি বা নাকফুল না পরেন, তাহলে স্বামীর হায়াত কমে যায়; তবে এটি একেবারেই মনগড়া এবং ভিত্তিহীন একটি ধারণা। এটি কেবল একটি কুসংস্কার; এগুলো বিশ্বাস করা যাবে না।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
মহান আল্লাহ সমস্ত মানুষের হায়াত নির্দিষ্ট করে রেখেছেন। কোন ব্যক্তির মৃত্যু সে সময়ের পূর্বে বা পরে হবে না। তাই ঐ সমস্ত ভ্রান্ত ধারণা পরিত্যাগ করা অপরিহার্য। (আদ-দুররুল মুখতার মাআ শামি- ৯/৬০২, ফাতওয়া হিন্দিয়া- ৫/৩৫৭)
অলংকার পরিধানের জন্য নারীদের নাক-কান ফোঁড়ানো জায়েজ। নারী সাহাবিরা কানে অলংকার পরিধান করতেন বলে বর্ণিত হয়েছে।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঈদের দিনে বের হয়ে দুই রাকাত নামাজ পড়লেন। আগে-পরে কোনো নামাজ পড়লেন না। তারপর বেলালকে (রা.) সাথে নিয়ে নারীদের কাছে গেলেন। তাদেরকে উপদেশ দিলেন এবং সদকা করার নির্দেশ দিলেন। তখন নারীরা তাদের কানের দুল এবং হাতের কঙ্কণ খুলে দিতে লাগলেন। (সহিহ বুখারি: ১৪৩১)
এই হাদিস থেকে নারীদের নাক ফোঁড়ানোর ব্যাপারে নবিজির (সা.) অনুমোদন ও তা জায়েজ হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
কোনো হাদিসে নাক-কান ফোঁড়ানোর ব্যাপারে নবিজির (সা.) নিষেধাজ্ঞা বা উৎসাহ পাওয়া যায় না। কেউ চাইলে নাক-কান ফোঁড়াতে পারে, কেউ চাইলে কেবল কান বা শুধুমাত্র নাক ফোঁড়াতে পারে, আর কেউ চাইলে নাক-কান ফোঁড়ানো থেকে বিরতও থাকতে পারেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন