প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বগাইয়া উত্তর গ্রামে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১৮ দিন ধরে অবস্থান করছেন ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী। এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের বগাইয়া গ্রামের কয়েছ মিয়ার বাড়িতে গত ৩ জুন বিকেল থেকে ওই তরুণী অবস্থান করছেন। শুধু বাড়িতে নয়, তিনি প্রেমিক কয়েছ মিয়ার চাচার ঘরেও অবস্থান নেন। তবে এর মধ্যেই ৪ জুন কয়েছ মিয়া অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন।
কয়েছ মিয়া ওই এলাকার হাজি রফিক উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা একাধিকবার দুই পক্ষকে নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করেন, তবে কোন সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী তরুণীর দাবি, দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ের প্রস্তাব হয়েছিল এবং পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার অভিযোগ, কয়েছ শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে এবং ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করেন। এরপর সম্পর্ক থেকে সরে যান কয়েছ। পরে পারিবারিক চাপে তিনি অন্য কোথাও বিয়ের আকদ সম্পন্ন করলেও তা টেকে না বলে দাবি করেছেন।
তরুণীর অভিযোগ, এর পর কয়েছ তার ব্যক্তিগত ভিডিও ব্যবহার করে তার স্বামীর কাছে পাঠান, ফলে তার দাম্পত্য জীবন ভেঙে যায়। সে কারণেই তিনি বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন এবং স্বীকৃতি না পেলে আত্মহত্যার হুমকিও দিয়েছেন বলে জানান।
অন্যদিকে, তরুণীর মা জানান, বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে অগ্রগতি হয়নি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন শিহাব জানান, দুই পক্ষকে নিয়ে একাধিকবার বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, কয়েছ অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে তুলেছেন।
এ বিষয়ে কয়েছ মিয়া বলেন, তিনি মেয়েটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিল, তবে এখন তার অন্য বিয়ে হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় মেম্বাররা সমাধান করবেন।
ইউপি সদস্য পাবলু মিয়া জানান, উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা হলেও কেউই সমঝোতায় আসেননি। বর্তমানে তরুণী কয়েছের চাচার ঘরে অবস্থান করছেন।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন