০১:০৭ পি.এম
জেলার ডুমুরিয়া উপজেলায় স্থায়ী মৎস্য অভয়ারণ্য স্থানীয় মৎস্য খাতের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এটি এক সময় বিলুপ্তির পথে থাকা বহু দেশীয় মাছের প্রজাতি পুনরুদ্ধারে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। উল্লেখ্য, মৎস্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে গড়ে তোলা এই অভয়ারণ্যগুলো পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণের একটি সফল মডেল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
এদিকে, বাজারে প্রবল চাহিদার কারণে কৃষকরা, বিশেষ করে বেকার যুবকরা ক্রমবর্ধমান দেশীয় প্রজাতির মাছের চাষ শুরু করেছে। অনেকেই এই চাষের মাধ্যমে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন।
ডুমুরিয়া উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থলে নিরাপদ প্রজনন, বংশবৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য বেশ কয়েকটি নদী ও উন্মুক্ত জলাশয়ে স্থায়ী মৎস্য অভয়ারণ্য গড়ে তোলা হয়েছে। এই এলাকাগুলোতে মাছ ধরা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যার ফলে প্রজননক্ষম মাছ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পারে এবং পোনা মাছ স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ডাম্পট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কায় ৩ জন নিহত, ১৮ আহত
মৎস্য কর্মকর্তাদের বক্তব্য হলো, এই উদ্যোগটি ইতোমধ্যে উৎসাহব্যঞ্জক ফল দিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে পাবদা, গুলশা, টেংরা, আইড়, চিতল, শিং, মাগুর, গজাল ও শোলসহ বেশ কয়েকটি দেশীয় প্রজাতির মাছের চাষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েক বছর আগে স্থানীয় বাজারে যেসব প্রজাতি খুব কম দেখা যেত, এখন সেগুলো নিয়মিতভাবে ধরা পড়ছে।
জেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তারা বকাসস’কে জানিয়েছেন, প্রাকৃতিক উপায়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলজ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে মৎস্য অভয়ারণ্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর সুফল শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ভোগ্য হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মরা সিঙ্গা নদীর মৎস্য অভয়ারণ্যের আশপাশের এলাকাগুলোতে এখন কাতলা, রুইসহ ৫ থেকে ১০ কেজি ওজনের বড় মাছ নিয়মিত ধরা পড়ছে। শরফপুরের বানিয়াখালী অভয়ারণ্যের কাছে মরা ভদ্রা নদী এবং মির্জাপুর মরা নদীতেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে, যেখানে বড় আকারের কার্প ও পাঙ্গাস মাছ ধরা পড়েছে। অতিরিক্ত জলজ উদ্ভিদ, প্ল্যাঙ্কটন এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র জীবের পুনরুদ্ধার প্রাকৃতিক খাদ্য শৃঙ্খলকে পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করেছে। উন্নত আবাসস্থল সংলগ্ন উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের চলাচল সুবিধা বৃদ্ধি করেছে, যা স্থানীয় জেলেদের জন্য অধিক মাছ আহরণ ও আয় বৃদ্ধিতে অবদান রাখছে।
তবে, মৎস্য বিশেষজ্ঞরা অভয়ারণ্য কর্মসূচির মাধ্যমে অর্জিত সাফল্যকে টেকসই করার জন্য অবৈধ মাছ ধরার জাল, ক্ষতিকর কীটনাশক এবং নির্বিচারে মাছ ধরার পদ্ধতি প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: চাঁদা না পেয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা, গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি, থানায় অভিযোগ
মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের ধারাবাহিক নজরদারি এবং সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ ডুমুরিয়ার মৎস্য অভয়ারণ্যকে মাছ সংরক্ষণ ও টেকসই উৎপাদনের জন্য একটি জাতীয় মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সহায়ক হতে পারে।
স্থানীয় অংশীদাররা আশা করছেন, মৎস্য অধিদপ্তরের চলমান উদ্যোগ এবং ক্রমবর্ধমান জনসচেতনতা ও সম্পৃক্ততা ডুমুরিয়ার স্থায়ী মৎস্য অভয়ারণ্যকে দেশের টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনার অন্যতম সফল উদাহরণে পরিণত করবে।
ডুমুরিয়ার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মো. জিল্লুর রহমান রেগান বাসসকে বলেন, ‘এই অভয়ারণ্যগুলো প্রজননক্ষম মাছের জন্য নিরাপদ প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। গত কয়েক বছরে আমরা এমন অনেক দেশীয় মাছের চাষ লক্ষ্য করেছি। যেগুলো প্রাকৃতিক জলাশয়ে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, সরকারি তত্ত্বাবধান এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।’
খুলনা মৎস্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বাসসকে জানান, মাছ চাষিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধি এবং টেকসই নিশ্চিত করতে আধুনিক মৎস্যচাষ কৌশলের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বেগম খালেদা জিয়ার নামে সিলেটের পুরানো কারাগারে জায়গায় পার্ক নির্মাণ হচ্ছে
তিনি আরও বলেন, মৎস্য অধিদপ্তর পুকুর ও ঘেরের গভীরতা বৃদ্ধি, জৈব নিরাপত্তা জোরদার করা, পরীক্ষাগারে পরীক্ষিত ভাইরাসমুক্ত পিসিএফ পোনা সরবরাহ এবং উত্তম মৎস্যচাষ পদ্ধতির মতো পদক্ষেপগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন