বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪৩ পি.এম
ঝালকাঠি, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঝালকাঠিতে আমড়ার হাট বাজার জমে উঠেছে। ভিমরুলীর ভাসমান হাটে বর্তমানে তাজা আমড়ার বিপুল সমারোহ দেখা যাচ্ছে। কৃষি বিভাগের মতে, অন্যান্য ফসলের তুলনায় লাভজনক হওয়ায় এই জেলায় আমড়ার চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, এই বছর ঝালকাঠি জেলার চার উপজেলার ৬০৫ হেক্টর জমিতে আমড়ার চাষ করা হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ৪ হাজার ৫শ’ ৯০ (৪৫৯০) মেট্রিক টন আমড়া। বর্তমানে এর বাজার মূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬০২ হেক্টর জমিতে আমড়ার চাষ করা হয়েছিল, যেখানে উৎপাদন হয়েছিল ৪ হাজার ৭০ (৪০৭০) মেট্রিক টন। দুই বছরের মধ্যে আমড়ার আবাদ বেড়েছে তিন হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদন বেড়েছে ৫২০ মেট্রিক টন।
বরিশাল অঞ্চলের আমড়ার জন্য দেশব্যাপী বিপুল চাহিদা রয়েছে। সুস্বাদু এই ফলের অধিকাংশ চাহিদা পূরণ হচ্ছে ঝালকাঠি থেকে। জেলার বিভিন্ন হাটে প্রতিদিনই আমড়ার বেচাকেনা চলে। এর মধ্যে ভিমরুলী গ্রামের ভাসমান হাটটি সবচেয়ে বড়। এই হাট থেকে ঢাকাসহ সারাদেশে পুষ্টিকর এই ফল সরবরাহ করা হয়। চাহিদা ও লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছর জেলায় আমড়ার আবাদ বাড়ছে। এই বছর আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকাররা ভিমরুলীর ভাসমান হাট থেকে ১ হাজার থেকে ১৬শ’ টাকা মণ দরে আমড়া কিনছেন।
আমড়া চাষী ও পাইকারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আমড়ার আকার ও রঙ অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হয়। এজন্য প্রতি মণ আমড়া ১ হাজার থেকে ১৬’শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়।
আমড়া চাষী অনিমেষ হালদার জানান, তিনি ৬ বিঘা জমিতে আমড়ার চাষ করেছেন। মৌসুমি ফল হিসেবে এবছর আমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। জমিতে থাকা প্রতিটি গাছ থেকে ৪ হাজার টাকার আমড়া পাওয়া যাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সর্বমোট ৬ বিঘা জমি থেকে ৬ লাখ টাকা অর্জন হবে।
কির্ত্তিপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ভবেন্দ্রনাথ হালদার বাসস’কে জানান, পেয়ারা চাষে বর্তমানে লাভ নেই। এবছর অনাবৃষ্টির কারণে পেয়ারা ফলন ভালো হয়নি। যা হয়েছে তাতে আবার অ্যানথ্রাক্স (কালো ছিট পড়া) রোগ দেখা দিয়েছে। পেয়ারা পাকতে শুরু করলে প্রতিদিন গাছ থেকে নামিয়ে বাজারে আনতে হয়। একজন শ্রমিকের খরচ ৭শ’ টাকা, কিন্তু পেয়ারা বিক্রি হয় ৪শ’ টাকায়। এরচেয়ে জমিতে আমড়ার চাষ করলে লাভ বেশি হয়। দু’জন শ্রমিক নিয়োগ করলে তারা ১০/১২টি গাছের আমড়া নামাতে পারে। প্রতিদিন আমড়া নামাতে হয় না, পরিপক্ক হলে একদিনেই সব নামানো সম্ভব। তাছাড়া একটি বাতাবী লেবু (জাম্বুরা) গাছ লাগালেও সেখান থেকে কমপক্ষে ২ হাজার টাকা বিক্রি করা সম্ভব।
স্বরূপকাঠির পাইকার নোমান খান বলেন, ‘ফলন মোটামুটি ভালো। আমরা এখানে চাষীদের থেকে আমড়া কিনে ঢাকায় চালান করি। প্রতিমণ আমড়াতে ২শ’ টাকা লাভ থাকে। এর মধ্যে শ্রমিক, পরিবহন, খাবার খরচ বাদে একশ’ টাকা লাভ হয়।’
ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বাসস’কে বলেন, ‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে এবং রোগবালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এই জেলায় প্রতিবছরই আমড়ার আবাদ বাড়ছে। ফলে শিক্ষিত ও বেকার যুব সমাজের জন্য ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমানে আমড়া একটি অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের রাজনীতিতে তরুণদের নেতৃত্বাধীন ‘কাকরোচ আন্দোলন’ একটি প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। চলমান তীব্র বিতর্কের মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা নিয়ে তাদের সাম্প্রতিক আন্দোলন দেশটির নির্বাচন কমিশনের দিকে লক্ষ্য করে।
বিরোধী দলগুলোর সমর্থন নিয়ে এই বিক্ষোভ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।
একটি সংবাদপত্রের অনুসন্ধানে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অনিয়মের তথ্য উঠে আসার পর, ভারতের তরুণভিত্তিক ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এবং বিরোধী দলগুলো মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে।
‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছর শুরু হওয়া ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সম্ভবত কমিশনের বাকি দুই সদস্যের অনুমোদন ছাড়াই নেওয়া হয়েছিল।
পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটারদের নাম নথিভুক্তকরণ, বাদ দেওয়া, পুনর্বহাল এবং ভোটার তালিকার তথ্যের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে গত ১০ মাসে অপর দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী অন্তত ১৪টি আনুষ্ঠানিক আপত্তি উত্থাপন করেছেন। এর মধ্যে একটি আপত্তিতে কমিশনার সান্ধু অভিযোগ করেন যে, নির্বাচন কমিশন দুই কমিশনারের লিখিত পরামর্শ উপেক্ষা করে কাজ করেছে, যা সম্পূর্ণ “অনুমোদনহীন এবং বেআইনি”।
তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত নির্বাচন কমিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রকাশিত অভিযোগগুলোতে ঘটনার কেবল একটি দিক তুলে ধরা হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ভিন্নমত থাকা একটি স্বাভাবিক ঘটনা।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে কাকরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপক মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে “ভারতের গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি” হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর পদত্যাগের দাবি জানান।
ডিপক হুঁশিয়ারি দেন যে, শনিবারের মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে আগামী ২ অক্টোবর ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকীতে মুম্বাই থেকে শুরু করে সারা দেশে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করা হবে। তবে ডিপকের বেঁধে দেওয়া শনিবারের নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও পদত্যাগ করেননি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।
পরবর্তীতে মুম্বাই পুলিশ ২ অক্টোবরের প্রস্তাবিত কর্মসূচির অনুমতি না দিলে, অভিজিৎ ডিপক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) তাঁর সমর্থকদের ওপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা না মেনে গণগ্রেপ্তার বরণ করার আহ্বান জানান। এরপরই শুক্রবার আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং প্রশাসনিক বাধা সত্ত্বেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সরব বিরোধী জোট
সিজেপির সুরে সুর মিলিয়ে নির্বাচন কমিশন ও জ্ঞানেশ কুমারের কড়া সমালোচনা করেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলো।
কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র পবন খেরা বলেন, “জ্ঞানেশ কুমার যা করেছেন তা কোনো দেশদ্রোহের চেয়ে কম নয়”। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, “যদি বাকি দুই কমিশনারের অজ্ঞাতে বা অনুমোদন ছাড়া এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে... তবে সেই সমস্ত সিদ্ধান্ত এবং পুরো এসআইআর প্রক্রিয়াই আইনত অবৈধ”।
বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, নির্বাচনে সুবিধা পাইয়ে দিতে নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাথে যোগসাজশে ভোটার তালিকা ম্যানিপুলেট করেছে—যদিও কমিশন ও বিজেপি উভয় পক্ষই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখ লাখ অনুসারী থাকা এই কাকরোচ আন্দোলন গত জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের তুমুল রাজপথের আন্দোলনের মুখে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগে বাধ্য করেছিল।
বর্তমানে এই গোষ্ঠীটি প্রধানত তিনটি দাবি উত্থাপন করেছে:
১. মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা।
২. এসআইআর প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করা, আসন্ন সমস্ত নির্বাচন স্থগিত রাখা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইনটি বাতিল করা।
৩. বাদ পড়া কোটি কোটি ভোটারের নাম একটি স্বাধীন পর্যালোচনার মাধ্যমে পুনর্বহাল করা।
সিভিল রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট অমৃতা জোহরি ডয়চে ভেলেকে (ডিডব্লিউ) বলেন, নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করার পেছনে এসআইআর প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা ও জনসাধারণের উদ্বেগের বড় ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, “কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা বা জনপরামর্শ ছাড়াই যেভাবে এই প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে এবং এতে দুই কমিশনারের ধারাবাহিক আপত্তির বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে, তা জনআস্থায় বড় ধাক্কা দিয়েছে”।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুধীন্দ্র কুলকার্নি এই আন্দোলনকে একক কোনো রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের চেয়েও একটি বলিষ্ঠ ‘প্রেসার গ্রুপ’ (চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী) হিসেবে দেখছেন। ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, “সিজেপি-র জন্য স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ তৈরি হওয়া কঠিন। এটি আপাতত একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে কাজ করতে পারে, তবে আগামী সংসদ নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, তাদের বিরোধী জোটের সঙ্গেই সমন্বয় করতে হবে”।
তবে রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও বিশ্লেষক রাধিকা রামাসেশন বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। তিনি বলেন, “ভোটাধিকার নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও সংবিধানের সুরক্ষার সাথে জড়িত। তরুণ সমাজ, যারা প্রথমবার ভোট দিচ্ছে, তাদের জীবনের ওপর এটি সরাসরি প্রভাব ফেলে। সিজেপি তাদের আন্দোলনের পরিধি বাড়ালেও মূল ইস্যুতে তাদের প্রভাব কমবে না”।
সামনে কী ঘটতে যাচ্ছে?
জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করতে অস্বীকার করায় সবার দৃষ্টি এখন ২ অক্টোবর মুম্বাইয়ে সিজেপির প্রস্তাবিত রাজপথের কর্মসূচির দিকে।
তবে শুধু আন্দোলন করে কোনো মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানো সম্ভব নয়। ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, একমাত্র লোকসভা ও রাজ্যসভা—সংসদের দুই কক্ষে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই কেবল অসদাচরণ বা অক্ষমতার প্রমাণ সাপেক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করা সম্ভব।
ভারতের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি ডয়চে ভেলেকে বলেন, “রাস্তায় আন্দোলন করে সরানোর চেয়ে আইনি পথই বেশি বাস্তবসম্মত। তিন সদস্যের কমিশনে একতরফা নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে, এবং সেখানে সুপ্রিম কোর্টকে হস্তক্ষেপ করতে হতে পারে”।
নির্বাচন কমিশনের সাথে এই লড়াই তরুণদের পরিচালিত 'কাকরোচ আন্দোলনের' জন্য একটি বড় পরীক্ষা, যা নির্ধারণ করবে ভারতীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাদের অবস্থান কতটা সুদৃঢ় হতে চলেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ঝালকাঠির রাজাপুর-কাঁঠালিয়া এলাকার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বদলির খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ঠিকাদার ও সাধারণ মানুষ। তার বদলির সিদ্ধান্তের জন্য বিএডিসির চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মো. মোস্তাফিজুর রহমান সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিএডিসির অধীন বিভিন্ন টেন্ডার ও উন্নয়নকাজে প্রভাব বিস্তার করতেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তিকে সামনে রেখে তিনি টেন্ডার কার্যক্রমে অংশ নিতেন এবং নিজের লোকজনের মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করতেন বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার।
অভিযোগ রয়েছে, কাঁঠালিয়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে শৌলজালিয়া ইউনিয়নেই বিএডিসির বেশ কয়েকটি কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। এসব কাজের ক্ষেত্রে ‘আলমগীর’ নামের এক ব্যক্তিকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করা হতো বলেও স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন।
এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত মোস্তাফিজুর রহমান বর্তমানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির বিভিন্ন নেতার নাম ব্যবহার করে একইভাবে প্রভাব বিস্তার করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে কথা বললে কোনো কোনো ঠিকাদারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নকাজের তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে মোস্তাফিজুর রহমান প্রভাব বিস্তার করে আর্থিক সুবিধা নিতেন। রাজাপুর-কাঁঠালিয়ার বাইরেও বিভিন্ন এলাকায় তার কার্যক্রম রয়েছে এবং এসব কাজ দেখভালের জন্য তার নিজস্ব লোকজন রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সম্প্রতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে বাগেরহাট জেলায় বদলি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে এই বদলি ঠেকাতে তিনি বিএডিসি চেয়ারম্যানের দপ্তরে যোগাযোগ ও তদবির করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তার বদলির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজাপুর ও কাঁঠালিয়ার বেশ কয়েকজন ঠিকাদার বিএডিসির চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাদের দাবি, মোস্তাফিজুর রহমান একই কর্মস্থলে থাকলে সাধারণ ও নিরীহ ঠিকাদারদের কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
গার্ডার ব্রিজ নির্মাণেও অনিয়মের অভিযোগ
কাঁঠালিয়া উপজেলায় একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের কাজ নিয়েও মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কাজটির রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার থাকলেও সেখানে নিম্নমানের কাজ হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই কাজটি অন্যের লাইসেন্স ব্যবহার করে আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা নিজেই নিম্নমানের কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ তাদের।
এছাড়া কাঁঠালিয়া উপজেলার জোড়া পোল এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নির্মিত একটি সেতুতে কাজ শেষ হওয়ার মাত্র দুই মাসের মধ্যে ফাটল দেখা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সেতুটির ফাটল রং করে ঢেকে দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে তদন্ত করলে ওই সেতুর নির্মাণকাজের মান ও অনিয়মের অভিযোগের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিএডিসির চেয়ারম্যানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তাহার এই দুর্নীতি অপরাধ ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়ে বাংলাদেশ হিউম্যান রিসেন্ট সোসাইটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রনি শিকদার চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করে। এমনকি অভিযোগকারী জানান তাহার বৃদ্ধির পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে রিট রিপিরেশন দায়ের করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পৌরসভার ধূলাউড়ি গ্রাম থেকে ৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মোঃ ইনামুল হক (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গতকাল মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) রাত আনুমানিক ১১:৩০ ঘটিকায় উপজেলার ধূলাউড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ইনামুল হক ধূলাউড়ি গ্রামের মৃত আয়নাল হকের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৪৫ পিস ইয়াবাসহ তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে গোমস্তাপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়ার সড়কের পাশে খড় দিয়ে ঢাকা একটি অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের বিভিন্ন অংশে শিয়ালের কামড়ের চিহ্ন দেখা গেছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের কামালপুর সাতবিল মাঠ এলাকার সড়কের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় কৃষক সানাউল্লাহ সকালে মাঠে কাজ করতে যাওয়ার সময় নির্জন সড়কের পাশে কয়েকটি শিয়ালকে একটি বস্তু ঘিরে টানাটানি করতে দেখেন। তিনি কাছে গিয়ে শিয়ালগুলো সরে যায়। এরপর তিনি দেখেন, ঘাস ও খড় দিয়ে ঢাকা অবস্থায় সেখানে এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে রয়েছে। মরদেহটির একাংশ শিয়াল দ্বারা ক্ষতবিক্ষত হয়েছে।
এটি দেখে সানাউল্লাহ চিৎকার করলে আশপাশের মাঠে কাজ করা অন্যান্য কৃষকরা সেখানে ছুটে আসেন। পরে খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে জড়ো হন।
এরপর দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহতের পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ শনাক্ত করতে ঝিনাইদহ থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইমসিন টিমকে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এটি হত্যাকাণ্ড কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, মরদেহটি আনুমানিক দুই থেকে তিন দিনের পুরোনো। মরদেহের মুখমণ্ডলসহ শরীরের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য কাজ চলছে। এজন্য ঝিনাইদহ থেকে সিআইডির ক্রাইমসিন টিম আসছে।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, শিয়ালের টানাটানিতে মরদেহটি খড়ের বাইরে বেরিয়ে আসে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পরে তারা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, পরিচয় শনাক্তসহ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ