১০:৫৮ পি.এম
দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম, খুন এবং গণহত্যার অন্তত ১০টি মামলার তদন্ত চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন এ তথ্য জানিয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে আইনি এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়াও শুরু করেছে।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তার, তার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা, ধরন এবং প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম।
এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম আবদুল কাইয়ুম এবং সাবেক আইজিপি বাহারুল ইসলামও এই আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তব্য দেন।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
আমিনুল ইসলাম বলেন, 'তার (বেনজীর) বিরুদ্ধে আমাদের এখানে প্রায় ১০টির মতো মামলা রয়েছে এবং আমরা ইনভেস্টিগেশন করে যাচ্ছি। প্রত্যেকটার সাথে তার কানেকশন রয়েছে। তিনি যখন র্যাবের প্রধান ছিলেন, তখন গুমের সাথে যেগুলো মামলা রয়েছে, সেগুলো অলরেডি চলমান।'
বেনজীরকে শাপলা চত্বরের ঘটনার ‘অন্যতম কুশীলব’ হিসেবে উল্লেখ করে আমিনুল বলেন, 'তার বিরুদ্ধে আমাদের তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে। চট্টগ্রামের একরাম কমিশনার হত্যাকাণ্ডে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল। এছাড়া আরও অন্তত ৭ থেকে ১০টি মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে, যেগুলোর প্রত্যেকটার সাথে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা আছে।'
আমিনুল দাবি করেন, বেনজীর 'অসংখ্য হত্যাকাণ্ডে' জড়িত ছিলেন, তিনি র্যাবের প্রধান হিসেবে অসংখ্য হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত রয়েছেন। পুলিশ প্রতিষ্ঠানের আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময়ও তিনি অসংখ্য অপরাধের সাথে জড়িত ছিলেন।
ট্রাইব্যুনালের তরফে জানানো হয় যে, সাবেক আইজিপিকে ফিরিয়ে আনতে ট্রাইব্যুনালের ওয়ারেন্টের কপি ইতোমধ্যে পুলিশের বিশেষ শাখা এনসিবিতে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
আমিনুল ইসলাম বলেন, 'আমরা চিঠি দেব। ইতোমধ্যে আমরা সরকারের কাছে আমাদের ওয়ারেন্টগুলোর কপি দিয়েছি। আমরা এ ব্যাপারে বিশ্বাস করি যে আমাদের সরকারের পুলিশের এক সংস্থা রয়েছে, যার মাধ্যমে রেড নোটিস বা কালার কোডের নোটিস পাঠানো হয়। আমরা ইতোমধ্যে আমাদের ওয়ারেন্টের কপি তাদেরকে দিয়েছি।'
তিনি যোগ করেন, 'আমরা চিঠিটা পাঠাব আমাদের তদন্ত সংস্থা থেকে এনসিবিকে, সেখানে থেকে তা সংশ্লিষ্ট ইন্টারপোলে যাবে।'
২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক ছিলেন বেনজীর। তিনি ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত র্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন এবং ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর অবসর গ্রহণ করেন।
তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা ছিল। তবে ২০২৪ সালের মার্চে সংবাদপত্রে তার সম্পদ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে আদালত বিষয়টি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয়।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪
এরপর দুর্নীতি দমন কমিশন বেনজীর ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে এক ডজনের বেশি দুর্নীতির মামলা করেছে। এর সাথে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিচার বহির্ভূত হত্যা, গুম, খুনের অভিযোগ নিয়েও তদন্ত চলছে।
এতসব অভিযোগ মাথায় রেখে বিদেশে পালিয়ে থাকা সাবেক এই পুলিশ প্রধানকে ধরতে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিস’ জারি করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন যে, সেই রেড নোটিসের ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে। মন্ত্রী আরও জানান, দুবাইয়ের এনসিবির সঙ্গে সমন্বয় করে 'অতি দ্রুতই' তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
সোমবার ট্রাইব্যুনালের সংবাদ সম্মেলনে সাবেক আইজিপি বাহারুল ইসলাম এনসিবির কর্মপদ্ধতি ব্যাখ্যা করে বলেন, “রেড নোটিস আসলে ইন্টারপোলের একটি ফাংশন। আমাদের এখানে একটা ব্যুরো আছে, এটাকে বলে ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো, এনসিবি। এটি পরিচালনা করেন পুলিশের লোকেরা। কিন্তু কমিউনিকেশনগুলো হয় সব ইন্টারপোলের সাথে। তাই আমরা এখান থেকেই আসলে রেড নোটিসের আবেদনগুলো পাঠাই ইন্টারপোলের হেডকোয়ার্টারে।'
আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?
বাহারুল ইসলাম আরও বলেন, 'ইন্টারপোলের কাজ শেষ। এর পর ওইটার প্রেক্ষিতে আরব আমিরাতের ইন্টারপোলের শাখা স্থানীয় পুলিশ, মানে দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। এর আগেও আরব আমিরাত থেকে খুনের মামলার আসামি আনা হয়েছিল। সেখানে পুলিশ আমাদের জানিয়েছে এবং বাংলাদেশে তাকে নিয়ে আসতে সিআইডির পুলিশ অফিসার গেছেন।'
সাবেক আইজিপি বাহারুল ইসলাম বলেন, 'সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে বাংলাদেশের কোনো বন্দিবিনিময় চুক্তি নেই। তবে কূটনৈতিক চ্যানেলে তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট সময় আগে আমাদের ওয়ারেন্টগুলো দিয়ে আবেদনের জন্য এসেছি। তারা ৩০ দিনের মধ্যে আমাদের অতিরিক্ত তথ্য চেয়েছেন।'
বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার পর ট্রাইব্যুনালে হাজির ও রিমান্ডের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, 'তাকে যদি বাংলাদেশে আনা হয়, আমাদের এই ট্রাইব্যুনালেও তাকে আনা হবে। যেগুলোতে বিচার চলছে সেখানে হাজির করা হবে, যেগুলো তদন্তাধীন আছে সেগুলোতেও তাকে রিমান্ডে নেওয়া হবে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ট্রাইব্যুনাল সর্বোচ্চ কঠোর হস্তে এই বিচারটি সম্পন্ন করবে।'
সূত্র: বিডিনিউজ
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন