মামুন বিল্লাহ কালিগঞ্জ সাতক্ষীরা
০৪:১৫ এম
সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলা নলতা ইউনিয়নে বিএনপির আয়োজনে ৩১ মে রবিবার বিকাল ৪টায় মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন নলতা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ আশরাফুল ইসলাম ওসমান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সাবেক এমপি কাজী আলাউদ্দীন। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের খুলনা বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আইয়ুব হোসেন (মুকুল)।
মোঃ মোখলেছুর রহমান এবং মাষ্টার শাহিনুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সদস্য শেখ নুরুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির শেখ এবাদুল ইসলাম, শেখ শরিফুল ইসলাম বাবু, আক্তারুজ্জামান বাপ্পী, নলতা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম খোকন, উপজেলা কৃষকদলের আহবায়ক রোকনুজ্জামান রোকন প্রমুখ।
সভায় সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সভার শেষপ্রান্তে শহীদ জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল মুসলিম উম্মাহর রূহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের একটি কাগজ তৈরির কারখানায় ভয়াবহ রাসায়নিক ট্যাংক বিস্ফোরণের ঘটনায় ৯ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা এই মর্মান্তিক শিল্প দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১১ এ পৌঁছেছে।
ঘটনার কয়েক দিন পর, ৩০ মে, উদ্ধারকারীরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে সমস্ত মরদেহ উদ্ধার ও শনাক্ত করতে সক্ষম হন। কাউলিটজ কাউন্টির করোনার অফিস নিহতদের পরিচয়公開 করেছে, তাদের বয়স ২৬ থেকে ৫৮ বছরের মধ্যে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন— গিলবার্ট বার্নাল, টাইলার কোভিংটন, ব্র্যাডলি কোভিংটন, রবার্ট রব্ব উইলসন, ডেল মিলার, জ্যারেড অ্যামনস, ব্রেডন ফিঙ্কাস, ক্লিনটন সিজে ডোরান, জন ফোর্সবার্গ, নরম্যান বার্লো এবং ডিলন মিলার।
স্থানীয় সময় ২৬ মে সকাল সোয়া ৭টার দিকে লংভিউতে অবস্থিত ‘নিপ্পন ডাইনাওয়েভ প্যাকেজিং কোম্পানি’র কারখানায় এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছিল। কাগজ তৈরির কাজে ব্যবহৃত ‘হোয়াইট লিকার’ নামের অত্যন্ত ক্ষারীয় ও ক্ষতিকারক রাসায়নিক ভর্তি একটি বিস্তৃত ট্যাংক আকস্মিকভাবে ফেটে গেলে এই বিপর্যয় ঘটে। এ ঘটনায় লাখ লাখ গ্যালন রাসায়নিক পুরো কারখানা চত্বরে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে ১ জনের মৃত্যু এবং রাসায়নিক ডগ্ধসহ ৯ জন আহত হওয়ার খবর জানানো হয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু ঘটে এবং ৯ জন কর্মী নিখোঁজ ছিল। লংভিউ ফায়ার ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিফট পরিবর্তনের সময় অনেক কর্মী যখন একটি ব্রেক রুমে অবস্থান করছিলেন, ঠিক তখনই এ বিস্ফোরণ ঘটে।
ট্যাংক ফেটে যাওয়ার পর পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং অস্থিতিশীল হয়ে ওঠায় উদ্ধারকারীদের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে সব এলাকায় তল্লাশি চালানো সম্ভব হয়নি। উপচে পড়া ক্ষতিকারক রাসায়নিক যাতে স্থানীয় জনপদের খাবার পানির উৎসে মিশে না যায়, সেজন্য তা অন্যদিকে ডাইভার্ট করতে এবং উদ্ধারকৃত মরদেহগুলো রাসায়নিকমুক্ত বা ডিকনট্যামিনেট করতে উদ্ধারকারী দলগুলোকে কয়েকদিন ধরে ব্যাপক ও জটিল প্রচেষ্টা চালাতে হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে লংভিউ ফায়ার ডিপার্টমেন্টের চিফ ব্র্যাড হ্যানিগ শেষ নিখোঁজ কর্মীদের মরদেহ উদ্ধারের ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, এই উদ্ধার প্রক্রিয়া শোকার্ত পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘ নিরাময় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার অন্তত একটি সান্ত্বনা দিতে পারে।
এই ঘটনার পর ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের আধুনিক ইতিহাসে এটি অন্যতম ভয়াবহ শিল্প বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ছড়িয়ে পড়া রাসায়নিকের কিছু অংশ কলম্বিয়া নদী এবং কাছাকাছি কিছু নালায় গিয়ে পড়লেও তা জনপদের খাবার পানির ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি এবং বাতাসেও কোনো দূষণ ছড়ায়নি।
উল্লেখ্য, জুস এবং দুধের কার্টন তৈরির জন্য ব্লিচড পেপারবোর্ড প্রস্তুতকারী এই নিপ্পন ডাইনাওয়েভ কারখানায় এর আগে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা লঙ্ঘন এবং অগ্নিকাণ্ডের মতো বেশ কিছু রেকর্ড রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের বিভিন্ন অংশে যখন সংঘাত চলছে তখন আগামীকাল সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করেছে ইথিওপিয়া। সেখানে অংশ নেবেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদও। তবে চলমান সংঘাতের কারণে অনেক মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, দেশটির উত্তরের টাইগ্রে অঞ্চল পুরোপুরি এই নির্বাচনের বাইরে থাকবে। ২০২২ সালে শেষ হওয়া ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ থেকে এখনো পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।
দেশটিতে আসন্ন নির্বাচনটি ১৯৯১ সালে সামরিক শাসনের পতনের পর সপ্তম নির্বাচন। ওই পরিবর্তনের ফলে দুই বছর পর ইরিত্রিয়া ইথিওপিয়া থেকে আলাদা হয়ে যায়। বর্তমানে আবারও ইথিওপিয়া ও তার উত্তরের প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে।
নির্বাচনে কে জিততে পারে? প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ সরাসরি নির্বাচিত হন না। ভোটাররা ৫৪৭ সদস্যের পার্লামেন্টে প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। যে দল কমপক্ষে ২৭৪ আসন পায়, তারাই সরকার গঠন করে আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশ পরিচালনা করে।
৪৯ বছর বয়সী আবি ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসেন। তখন তিনি ইথিওপিয়ান পিপলস রেভল্যুশনারি ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-এর বিরুদ্ধে ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর ক্ষমতায় আসেন। এই জোটটি ১৯৯১ সাল থেকে ক্ষমতায় ছিল এবং মূলত টাইগ্রে অঞ্চলের রাজনীতিকদের দ্বারা প্রভাবিত ছিল।
পরবর্তীতে তিনি ইথিওপিয়ান পিপলস রেভল্যুশনারি বিলুপ্ত করে নিজের ‘প্রোসপারিটি পার্টি’ গঠন করেন, যা আগের তুলনায় বেশি কেন্দ্রিক এবং কম ফেডারেল শাসন কাঠামোর দিকে ঝোঁকে।
কেন আবি আহমেদের সমালোচনা বাড়ছে? বিরোধীরা অভিযোগ করেন, তার সরকার মতপ্রকাশ দমন করছে। বিরোধীদের নির্বাসনে যেতে বাধ্য করছে এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের গ্রেফতার করছে। তার শাসনামলে ২০২০ সালে টাইগ্রে অঞ্চলে দুই বছরের যুদ্ধ শুরু হয়। যেখানে আফ্রিকান ইউনিয়নের মধ্যস্থতাকারীর মতে প্রায় ৬ লাখ মানুষ মারা যায় এবং অঞ্চলটি দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়।
রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স-এর ২০২৫ সালের সূচকে ইথিওপিয়া ১৮০ দেশের মধ্যে ১৪৮তম স্থানে রয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বলেছে, সরকার সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করছে এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ওপর হয়রানি চালাচ্ছে।
রয়টার্সের তিন সাংবাদিকের অনুমোদন বাতিল করার পর কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক ও স্বাধীন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দমনমূলক প্রবণতার একটি উদ্বেগজনক ধারা।
সমর্থকদের দৃষ্টিভঙ্গি কী? সমর্থকরা বলছেন, আবি দেশকে উন্নত করেছেন। রাজধানী আদ্দিস আবাবা দ্রুত আধুনিকায়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এটি ‘করিডর ডেভেলপমেন্ট’ ও ‘রিভারসাইড’ প্রকল্পের অংশ। তবে এসব উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অনেক মানুষকে উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে সমালোচনাও রয়েছে।
ইথিওপিয়ার অর্থনীতি বাড়ছে, কিন্তু মুদ্রাস্ফীতির কারণে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক তার অর্থনৈতিক সংস্কারকে সমর্থন দিয়েছে, তবে শর্ত দিয়েছে—দেশকে বৈদেশিক মুদ্রা বাজার উন্মুক্ত করতে হবে এবং ঋণ নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। ২০২৪ সালে দেশের মোট ঋণ ছিল ৩৬.৫ বিলিয়ন ডলার।
ইথিওপিয়ার জনসংখ্যা ১৩৫.৯ মিলিয়ন—আফ্রিকায় দ্বিতীয় বৃহত্তম। এটি দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশগুলির একটি। তবে নিরাপত্তাহীনতা, মূল্যস্ফীতি এবং যুদ্ধ-পরবর্তী প্রভাব দেশটিকে চাপে রেখেছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি টাইগ্রের পাশাপাশি আমহারা ও ওরোমিয়া অঞ্চলে সশস্ত্র সংঘাত চলছে। আমহারা অঞ্চলের ফানো মিলিশিয়া এবং ওরোমো লিবারেশন আর্মি সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে এবং লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। দুই গোষ্ঠীই বেশি স্বায়ত্তশাসন চায়। আমহারা মিলিশিয়া মনে করে সরকার তাদের দুর্বল করতে চায়। ওরোমো গোষ্ঠী মনে করে তারা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। ২০২৪ সালে এসব সংঘাতে প্রায় ৯,৪০০ জন নিহত হয়েছে।
সরকার বলছে, আমহারা ও ওরোমিয়ার ৯৭% এলাকা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। তবে বিরোধীরা তা মানছে না।
টাইগ্রেতে কী হচ্ছে? টাইগ্রে অঞ্চলে প্রায় ৬ মিলিয়ন মানুষ বাস করে। ২০২২ সালের শান্তিচুক্তির পর সেখানে অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠিত হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি রাজনৈতিক উত্তেজনা আবার বেড়েছে। টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র হয়েছে।
ভোটারদের প্রত্যাশা ৫ কোটি ৫ লাখের বেশি মানুষ ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করেছে। অনেক তরুণ ভোটার আশা করছে, নির্বাচন স্থিতিশীলতা আনবে। একজন তরুণ ভোটার বিবিসিকে বলেছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা হলে তার শিক্ষা ও জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ২০২১ সালের নির্বাচনে আবির দল বিপুল বিজয় পেয়েছিল। সরকার বলছে, এবার তারা সব আসন জিততে চায় না, বরং বিরোধীদেরও সুযোগ দিতে চায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরাকের উত্তরাঞ্চলে সক্রিয় সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিভিন্ন ঘাঁটিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হামলা শুরু করেছে। ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনীর এই হামলা বিমান ও স্থল হামলার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
রোববার (৩১ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে। যদিও, এখনও এই অভিযানে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, তা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
আইআরজিসির স্থল বাহিনী এই বিশেষ সামরিক অভিযানটি পরিচালনা করছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে এবং অভিযানের কৌশলগত কারণে কোন কোন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, সেটি সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য বা নির্দিষ্ট স্থানের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
ইরাকের কুর্দিস্তান সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে বেশ কিছু ইরান-বিরোধী সশস্ত্র এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান নিয়ে তৎপরতা চালাচ্ছিল। যা তেহরানের জন্য জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের ডাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধায়ক বৈঠক শেষ পর্যন্ত স্থগিত করতে হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আহ্বান জানানো সত্ত্বেও ৮০ জন বিধায়কের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও বৈঠকে মাত্র ২০ জন উপস্থিত হয়েছেন। ফলে নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করে পরে নতুন তারিখে বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোববার বিকালে কলকাতায় এই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা, দলের শীর্ষ নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগ এবং বিভিন্ন এলাকায় চলমান কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে বৈঠকটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছিল।
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার অভিযোগের পর রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর মধ্যে দলীয় সংসদ সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপরও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা করতেই বিধায়কদের নিয়ে এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।
বৈঠক স্থগিত হওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দলের নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, গতকালের ঘটনার পর বহু এলাকায় বিধায়করা সরাসরি আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়ে পড়েছেন। অনেক জায়গায় দলীয় কর্মীদের আটক করারও অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান।
কুণাল ঘোষের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই একের পর এক বিধায়ক দলের নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করে বৈঠক পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
তারা জানান, নিজেদের এলাকায় কর্মীদের পাশে থাকাসহ আটক কর্মীদের মুক্ত করার চেষ্টা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কারণে এই মুহূর্তে কলকাতায় আসা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, বিধায়করা নেতৃত্বকে আশ্বস্ত করেছেন যে তারা দলের সঙ্গে রয়েছেন এবং দলের যে কোনো নির্দেশ পালন করতে প্রস্তুত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কয়েকদিন সময় প্রয়োজন বলে তারা মত দিয়েছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল তিনটার কিছু আগে পরিস্থিতি বিবেচনা করে বৈঠক সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যেসব বিধায়ক ইতোমধ্যে উপস্থিত হয়েছিলেন, তাদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করা হলেও আনুষ্ঠানিক বৈঠক আর অনুষ্ঠিত হয়নি।
রাজনৈতিক মহলে অবশ্য এই ঘটনাকে ঘিরে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা বৈঠকে কম উপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এটি সাংগঠনিক দুর্বলতার কোনো ইঙ্গিত নয়। বরং রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণেই অধিকাংশ বিধায়ক উপস্থিত থাকতে পারেননি।
তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শিগগিরই নতুন তারিখ ঘোষণা করে আবারও বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক আয়োজন করা হবে। সেই বৈঠকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলীয় কর্মসূচি এবং আগামী দিনের সাংগঠনিক রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ