বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৮:৫৬ পি.এম
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সক্ষমতা উন্নয়নের উদ্দেশ্যে একটি অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল বিষয়ে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট (এনআইএলজি)-এর তৃতীয় তলার সেমিনার কক্ষে এই কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশস্থ সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সহযোগিতায় ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও সুইসকন্টাক্ট বাংলাদেশ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন গো ফর ইমপ্যাক্ট কর্মসূচির আওতায় জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট (এনআইএলজি)-এর উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আজমান আহমেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনআইএলজির প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ বিভাগের পরিচালক মো. কায়েসুজ্জামান। তিনি এবং এনআইএলজির সহকারী পরিচালক মনিকা মিত্র ম্যানুয়ালের ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেন, “মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতিকে বিজ্ঞানসম্মত চর্চার সঙ্গে যুক্ত করার উপায় আমাদের প্রণয়ন করতে হবে, যাতে পরিবেশের ওপর সঠিক ও ইতিবাচক প্রভাব নিশ্চিত করা যায়।” বিশেষ অতিথি আজমান আহমেদ চৌধুরী বলেন, “আজকের এই আয়োজন সফল করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তৃণমূল পর্যায়ে জলবায়ু-সহনশীল পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এনআইএলজি-র সাথে কাজ করে যাবে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ।”
সভাপতির বক্তব্যে মো. কায়েসুজ্জামান জানান, “এই ম্যানুয়ালগুলো এনআইএলজির নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা জলবায়ু সহনশীল পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিজেদের দায়িত্ব আরও কার্যকরভাবে পালন করতে পারেন।”
কর্মশালায় স্থানীয় সরকার বিভাগ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা, পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বগুড়া) ও বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া নওগাঁ ও সাতক্ষীরা জেলার স্থানীয় সরকার উপপরিচালক, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা ও কোইকা এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
প্যানেল আলোচকরা নতুন প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালের ওপর তাদের সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরেন। উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিয়ে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ তুলে ধরেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু সহনশীল পানি সম্পদ ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, এই ম্যানুয়ালের আলোকে এনআইএলজি চলতি বছরের মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নওগাঁ ও সাতক্ষীরা জেলার ৫৫১ জন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের ১৫টি ব্যাচে আবাসিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে।
গো ফর ইমপ্যাক্ট প্রকল্প সম্পর্ক
গো ফর ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের লক্ষ্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা এবং পানি ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে ন্যায্য ও জলবায়ু সহনশীল মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা। বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের অর্থায়নে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও সুইসকন্টাক্ট বাংলাদেশ যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে রূপান্তর (সাতক্ষীরা) ও ইএসডিও (নওগাঁ)।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দ মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯ মাস আগে দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি ২০২৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পদত্যাগ করবেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে ইসিবি এই ঘোষণা প্রদান করে।
ইউরোজোনের সুদের হার নির্ধারণের জন্য ইসিবির গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে লাগার্দের পদত্যাগের বিষয়টি সামনে আসে।
লাগার্দ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওবার্তায় জানান, ইসিবির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তার জন্য ছিল ‘গর্বের ও বিশাল সম্মানের’ বিষয়।
লাগার্দের পরবর্তী গন্তব্য হতে পারে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)।
তার আগাম বিদায়ের ফলে ইসিবির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো।
সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের মধ্যে রয়েছেন নেদারল্যান্ডসের সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংকপ্রধান ক্লাস নট, স্পেনের ব্যাংকার পাবলো হার্নান্দেজ দে কোস, জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যাংকপ্রধান ইয়োয়াখিম নাগেল এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট নাদিয়া কালভিনো। ইউরোপীয় কাউন্সিল ইসিবির প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দিয়ে থাকে।
২০১৯ সালের শেষ দিকে ইসিবির দায়িত্ব গ্রহণ করেন লাগার্দ। তার মেয়াদে করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করতে হয়েছে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের নান্দাইলে অনিবন্ধিত নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি)-এর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি বিধিমালার প্রতি অগ্রাহ্য করে শতাধিক ভুয়া কাজি উপজেলায় বিয়ে নিবন্ধনের নামে প্রতারণা করছে বলে বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে।
তথ্য অনুসারে, উপজেলার ১২ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভায় মোট ১৩ জন নিবন্ধিত কাজি থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে রয়েছেন ১০ জন। চণ্ডীপাশা ইউনিয়নসহ তিন ইউনিয়নে প্রায় ২০ বছর ধরে নিবন্ধিত কাজি নেই।
এদিকে, নিবন্ধিত কাজি না থাকার সুযোগে উপজেলায় ভুয়া কাজির সংখ্যা বাড়ছে। ফলে বিয়ের আসরে যে নিবন্ধন হচ্ছে, তা সরকারি খাতায় উঠছে কিনা, তা অনেক বর-কনে বা তাদের অভিভাবকদের জানা নেই।
১০ কাজির আটজনই শিক্ষক
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নান্দাইলের ১০ জন নিবন্ধিত কাজির মধ্যে মাত্র দুজন ছাড়া বাকি আটজনই কোনো না কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক। তাদের মধ্যে মাদরাসাপ্রধানও (সুপার বা অধ্যক্ষ) রয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে তারা নিয়মিত বেতন-ভাতা বা আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন, এবং একইসঙ্গে কাজি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন, যা সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত।
যা রয়েছে আইনে
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা ২০০৯ অনুযায়ী, সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে লাভজনক পদে কর্মরত ব্যক্তি কাজি হিসেবে লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য নন। অন্যদিকে, কেউ কাজি পদে থাকাকালে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে তার লাইসেন্স বাতিলযোগ্য।
টাকা দিলেই মেলে ভলিউম বই
উপজেলার বৈধ কাজিদের অধীনে অন্তত ‘সাব-কাজি’ পরিচয়ে ১০ জন করে মাঠে সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। এসব ‘সাব-কাজি’র শিক্ষাগত যোগ্যতা, আইনি কিংবা ধর্মীয় জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
‘সাব-কাজি’ পরিচয় দেওয়া আবুল খায়ের জানান, “কোনো কাজ না পেয়ে বাধ্য হয়ে মোটা অঙ্কের টাকা জমা দিয়ে একজন মূল কাজির কাছ থেকে একটা বই (ভলিউম) নিয়েছি। সেই বইয়ের জন্য প্রতি বিয়েতে মূল কাজিকে ৮০০ টাকা করে দিতে হয়।”
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি ‘সিটিজেন চার্ট’ অনুযায়ী বিয়ের খরচের তোয়াক্কা না করে বর-কনে বা তাদের পরিবারের কাছ থেকে ইচ্ছামতো ফি আদায় করছেন এই ‘সাব-কাজিরা’। আদায় করা ফির সিংহভাগ বৈধ কাজিদের পকেটে যাচ্ছে। সেখান থেকে সরকারের খাতে কোনো টাকা জমা হচ্ছে কিনা, তা দেখার কেউ নেই।
এক ইউনিয়নেই ১২ ভুয়া কাজি
নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের কাজি আনোয়ার কাদির দাবি করেন, তার ইউনিয়নে অন্তত ১২ জন ভুয়া কাজি সক্রিয়। আতিকুল্লাহ, শাহ আলম ও হেদায়েত উল্লাহ নামে তিনজনের কথা উল্লেখ করে আনোয়ার কাদির বলেন, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে অজ্ঞাত স্থান থেকে জাল বই বা ভলিউম এনে দেদারসে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করছে ভুয়া কাজিরা। এতে বৈধ কাজিরা যেমন বেকায়দায় পড়ছেন, তেমনি বর-কনের ভবিষ্যৎও হুমকিতে পড়ছে।
নান্দাইল পৌরসভার নিকাহ নিবন্ধক (কাজি) গোলাপ মওলা ‘সাব-কাজি’ (প্রকৃতপক্ষে সহকারী) রাখার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “একদিনে একাধিক বিয়ে হলে একার পক্ষে সামলানো সম্ভব হয় না। তাই লোক রাখতে হয়। তবে এখন ভুয়া বই ছাপিয়ে ভুয়া কাজি সেজে অসংখ্য প্রতারক মাঠে নামায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।”
আইনি অধিকার অরক্ষিত, ফাঁদে দুই পক্ষ
বিয়ের আসরে হুট করে অজ্ঞাত বই নিয়ে হাজির হওয়া ‘সাব-কাজি’ ও ভুয়া কাজিদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া অধিকাংশ সময়ই সরকারি মূল ভলিউমে বা ডাটাবেজে ওঠে না। ফলে বিয়ের পর দম্পতির মধ্যে কোনো ঝামেলা দেখা দিলে কাবিননামার খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেটি জাল।
কাবিননামা বৈধ না থাকায় নারীরা দেনমোহর ও খোরপোশের আইনি দাবি তুলতে পারছেন না, অন্যদিকে পুরুষরাও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
আইনে ‘সাব-কাজি’ বলে কিছু নেই
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী, সরকার নির্দিষ্ট এলাকার জন্য কেবল একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত কাজি নিয়োগ করে। এই লাইসেন্স অন্য কাউকে ভাড়া বা সাব-কন্ট্রাক্ট দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি।
যোগাযোগ করা হলে ময়মনসিংহ জেলা রেজিস্ট্রার প্রদীপ কুমার সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, “বৈধ কাজি ছাড়া অন্য কারো বিয়ে নিবন্ধন করার বিন্দুমাত্র আইনি ক্ষমতা নেই। ‘সাব-কাজি’ বলতে আইনের চোখে কোনো পদের অস্তিত্বই নেই। আর ফিও সরকার নির্ধারিত।” তিনি জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ভুয়া বা ‘সাব-কাজিদের’ বিরুদ্ধে অচিরেই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস কক্ষে সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় কানাডা হাইকমিশনের ট্রেড কমিশনার কাজী গুলাম ফরহাদ উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়, বিশেষ করে শিক্ষা খাতের উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ে।
আলোচনার সময় শিক্ষামন্ত্রী ক্রস-বর্ডার এডুকেশন, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গুরুত্ব এবং এসব বিষয়ে বাংলাদেশের পরিকল্পনার বিষয়গুলো প্রতিনিধিদলের সামনে তুলে ধরেন।
কানাডার হাইকমিশনার ক্রস-বর্ডার এডুকেশন, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, কারিগরি ও ভোকেশনাল খাতসহ শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারণের জন্য কানাডার আগ্রহের কথা জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সমাজের প্রতিটি স্তরে সততা, জবাবদিহি এবং নৈতিকতার চর্চা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি একই সঙ্গে ইভটিজিংসহ অন্যান্য সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধের জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘শিক্ষাঙ্গন থেকে জাতীয় ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি আধুনিক, মানবিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘শিক্ষার্থীরাই আগামীর বাংলাদেশের পথিকৃৎ। তাদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে একটি আধুনিক, মানবিক, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। তাই পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বের গুণাবলি, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হতে হবে।’
তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে দক্ষ চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিসিএস কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন পেশার যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে তাদের যোগ্যতা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাতে হবে।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের সাহস, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কায়সার কামাল বলেন, শিক্ষাঙ্গন শুধু জ্ঞান অর্জনের স্থান নয়; বরং সুনাগরিক, দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। সঠিক শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার অভাবে কিশোর গ্যাং ও মাদকাসক্তির মতো সামাজিক সমস্যা বিস্তার লাভ করছে। এসব সমস্যা থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বিতর্ক ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।
মাতৃভাষার পাশাপাশি বিদেশি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের প্রতিও শিক্ষার্থীদের মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও গণতান্ত্রিক চেতনার বিকাশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করলেই চলবে না, তাদের আচরণ, দায়িত্ববোধ ও অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার মানসিকতাও গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরো বলেন, জাতীয় উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চাকে উৎসাহিত করা জরুরি। শিক্ষাঙ্গণে সুস্থ বিতর্ক, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং গঠনমূলক মতবিনিময়ের পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
একটি সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মকে জাতীয় ভাবনায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, শিক্ষার্থীদের চিন্তা, মতামত ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে দেশ গঠনের প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। শিক্ষাঙ্গন থেকেই জাতীয় পর্যায়ের ইতিবাচক চিন্তা, সৃজনশীল উদ্যোগ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমাদের সাফল্যের দিকে তোমাদের বাবা-মায়ের পাশাপাশি গোটা জাতি তাকিয়ে আছে। নিজেদের যোগ্য, দক্ষ ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলো। আসুন, সবাই মিলে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলি।’
জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপ মো. জি কে গউছ, পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ এবং প্রফেসর মোহাম্মদ আবদুল মজীদ।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ