বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:১৩ পি.এম
ছেলের ১৮তম জন্মদিনে উপহার হিসেবে গত ২৫ অক্টোবর স্বপ্নের এল ক্লাসিকো দেখতে গিয়েছিলেন ফ্রানতিশেক ভাভরেক। কিন্তু কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে উল্লাসের পর সেই স্বপ্নটি পরিণত হয় এক তিক্ত অভিজ্ঞতায়।
স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কার কাছে অভিযোগ করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থক ফ্রানতিশেক ভাভরেক। স্লোভাকিয়ার এই নাগরিকের দাবি, বার্সেলোনার মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে এমবাপ্পের গোল উদযাপনের পর তাকে ও তার ছেলেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে ট্যাক্সিতে বসে মোবাইল ফোনে ম্যাচের বাকি অংশ দেখতে হয় তাদের।
ভাভরেক জানান, ছেলে ডেনিসের ১৮তম জন্মদিন উপলক্ষে তিনি এই ম্যাচ দেখার পরিকল্পনা করেছিলেন। দুটি টিকিটের জন্য খরচ হয়েছিল ২ হাজার ৮০০ ইউরো (৩ লাখ ৮৭ হাজার টাকা)। তার দাবি, মাঠে প্রবেশের সময় নিরাপত্তাকর্মীরা তাদেরকে রিয়ালের জার্সি খুলতে বলেন। জার্সি কোথায় রাখবেন জানতে চাইলে দেখিয়ে দেওয়া হয় আবর্জনার পাত্র।
এ প্রসঙ্গে ভাভরেক বলেন, “আমি ডেনিসকে বলেছিলাম, আমরা রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থক। আমাদের জার্সি কখনো আবর্জনার পাত্রে ফেলব না।”
এরপর ভাভরেক বলেন, “আমরা রিয়ালের জার্সি পরেই প্রায় এক ঘণ্টা ছিলাম। এমবাপ্পের প্রথম গোলের পর শুধু দাঁড়িয়ে একে-অপরকে জড়িয়ে ধরেছিলাম। এরপর নিরাপত্তাকর্মীরা আমাদের বের করে দেয়।
ভাভরেকের ভাষ্য, “আমরা কোনো সহিংস আচরণ করিনি, কাউকে হুমকি দিইনি কিংবা সহিংসতায় উসকানিও দিইনি। শুধু দাঁড়িয়ে একে-অপরকে জড়িয়ে ধরে গোল উদযাপন করেছি।”
তিনি আরো জানান, নিরাপত্তাকর্মীরা প্রথমে জার্সি খুললে ক্যাম্প ন্যুতে ফেরার সুযোগ দেওয়ার কথা বললেও পরে সিদ্ধান্ত বদলান। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের পর তারা স্টেডিয়াম ছাড়েন। শেষ পর্যন্ত ট্যাক্সিতে বসে মোবাইল ফোনে খেলা দেখেন বাবা-ছেলে।
রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থক ভাভরেকের অভিযোগ নিয়ে এখনো বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বাবা-ছেলের এই ত্যাগ স্বীকার বৃথা যায়নি। এল ক্লাসিকোয় এমবাপ্পের জোড়া গোলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সাকে ২-১ ব্যবধানে হারায় রিয়াল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের সদরপুরে উপজেলা ছাত্রদলের নবনির্বাচিত আহ্বায়ক কমিটিকে স্বাগত জানাতে আনন্দ র্যালি আয়োজন করেছে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে অনুষ্ঠিত এই র্যালিতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। বিশেষ করে, উপজেলা ছাত্রদলের নবনির্বাচিত সদস্য সচিব তুষার মাহমুদের নেতৃত্বে বড় মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ কর্মসূচিতে একটি নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
মিছিলটি ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের বাসভবনের সামনে থেকে তুষার মাহমুদের নেতৃত্বে শুরু হয়। পরে এটি বিভিন্ন সড়ক ঘুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে পৌঁছায়। এ সময়, উপজেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পৃথক মিছিল নিয়ে সেখানে সমবেত হন। পরে, সব মিছিল একত্র হয়ে নবনির্বাচিত আহ্বায়ক কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে একটি সম্মিলিত আনন্দ র্যালি বের করে।
র্যালিতে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলেন। তাদের অংশগ্রহণের ফলে কর্মসূচিতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। র্যালিটি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বেপারিবাড়ির মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে, সেখানে একটি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
পথসভায় বক্তব্য দেন সদরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী বদরুত জামান বদু, সদস্য সচিব তরিকুল ইসলাম কবির মোল্লা, যুবদল নেতা মুন্সি ইশরাত হোসেন ও আজিজুল ইসলাম নান্নু, উপজেলা ছাত্রদলের নবনির্বাচিত আহ্বায়ক নজরুল কবির নিরব, সদস্য সচিব তুষার মাহমুদসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
বক্তারা নবনির্বাচিত আহ্বায়ক কমিটিকে অভিনন্দন ও স্বাগত জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে সংগঠনকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবেন।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি। নতুন কমিটির নেতাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করার আহ্বান জানান তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় সাবমারসিবল পাম্পের পানির সঙ্গে বের হওয়া গ্যাসের আগুন লাগার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা গ্যাসের উৎস নিশ্চিত করার জন্য বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পরীক্ষা-নিরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
বান্ধবাড়ি ইউনিয়নের ভাসাই বাজারে একটি সাবমারসিবল পাম্পে এই ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী কামরুল শেখ স্থাপন করেছিলেন। আজ রাতের দিকে পাম্পের পাইপের মুখে গ্যাস লাইট ধরানোর পর আগুনের শিখা দেখা যায়। বৃহস্পতিবার, এই ঘটনার পর উৎসুক জনতা তাঁর দোকানের সামনে জড়ো হন।
ব্যবসায়ী কামরুল শেখ জানান, মাছবাহী গাড়ির জন্য পানি সরবরাহের উদ্দেশ্যে প্রায় এক বছর আগে ২৮০ ফুট গভীরতায় পাম্পটি স্থাপন করা হয়েছিল। গত এক সপ্তাহ ধরে পাম্প থেকে পানি কম উঠছিল। বুধবার রাতে কৌতূহলবশত পাইপের মুখে গ্যাস লাইট ধরালে আগুন জ্বলে ওঠে এবং এরপর থেকে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
কলেজ ছাত্র তরিক মোল্লা বলেন, "পাম্পের মুখে আগুন জ্বলতে দেখে আমরা বিস্মিত। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা কৌতূহল তৈরি হয়েছে। মাটির নিচে গ্যাসের কোনো উৎস রয়েছে কি না, তা বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা করে নিশ্চিত করা হলে প্রকৃত বিষয়টি জানা যাবে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ-উল-আরেফীন জানান, "ঘটনাটি জানার পর সংশ্লিষ্ট তহশিলদারদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছি। শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
তবে পাম্পের পানির সঙ্গে বের হওয়া পদার্থটি কী ধরনের গ্যাস এবং এর উৎস কোথায়, তা এখনো বিশেষজ্ঞ পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের গ্ল্যামার দিয়ে ভক্তদের আকৃষ্ট করেন প্রায়ই। এবার তিনি ভক্তদেরকে সরাসরি কফি খাওয়ার আমন্ত্রণ জানালেন। তবে এতে একটি বিশেষ শর্ত রয়েছে— কফির বিল দিতে হবে ভক্তকেই।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ফেসবুকে নিজের কফি খাওয়ার মুহূর্তের কিছু ছবি প্রকাশ করে এই আমন্ত্রণ জানান জয়া। ছবিগুলোতে তাকে একটি নজরকাড়া লুকে দেখা যায়। সাদা রঙের পোশাক পরিহিত জয়ার লুকটি ছিল ক্যাজুয়াল, তবে তার গ্ল্যামারের কোনো অভাব ছিল না।
কখনও মৃদু হাসি দিয়ে কফির কাপ ঠোঁটের কাছে নিচ্ছেন, আবার কখনও মিষ্টি চোখে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে; এভাবেই ছবিগুলোতে পোজ দিয়েছেন তিনি। তার এমন সুন্দর মুহূর্তের সঙ্গ কে না চাইবে? এই ভাবনা থেকেই হয়তো এবার সোজাসুজি ভক্তদের নিমন্ত্রণ জানালেন এই অভিনেত্রী।
ছবির ক্যাপশনে জয়া লিখেছেন, ‘কফি খাবে কেউ!! বিলটা নিজের, সঙ্গটা আমার!’
তার এই মজার পোস্টটিতে মুহূর্তের মধ্যে ভক্তদের মধ্যে সাড়া পড়ে গেছে। রসবোধপূর্ণ এই আমন্ত্রণে ভক্ত-অনুরাগীরা মজার সব মন্তব্যে মেতে উঠেছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, কফির বিল দিতে তাদের কোনো আপত্তি নেই।
সব মিলিয়ে জয়ার এই পোস্টটি বেশ আলোচনায় এসেছে, বিশেষ করে তার এই ‘সরল আমন্ত্রণ’-নিয়ে অভিনেত্রীর প্রশংসা করছেন অনেকে।
জয়া আহসান একমাত্র বাংলাদেশি অভিনয়শিল্পী, যিনি তিনবার ভারতের সম্মানজনক ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার (ইস্ট) জয় করেছেন। এছাড়া, অভিনয়ে অনবদ্য অবদানের জন্য বাংলাদেশে ৫টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ৭টি মেরিল প্রথম আলো পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সংকট এবং উৎপাদন খাতে বড় ধরনের বিঘ্নের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কাতার। কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি ‘কাতারএনার্জি’ (QatarEnergy) অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ‘উডসাইড এনার্জি’র (Woodside Energy) সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক ২০ বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায়, কাতার যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতি বছর প্রায় ৩০ লক্ষ টন (৩ মিলিয়ন টন) তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি (LNG) কিনবে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা এলএনজি প্রকল্প থেকে এই গ্যাস সরবরাহ করা হবে। ফ্রি-অন-বোর্ড (FOB) শর্তে এই সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রকল্পটির দ্বিতীয় লিকুইফ্যাকশন ট্রেনের উৎপাদন শুরু হলে প্রাথমিক চালান আসা শুরু হবে এবং তৃতীয় ট্রেনের কাজ সম্পন্ন হলে সরবরাহের পরিমাণ পূর্ণ বাৎসরিক ৩ মিলিয়ন টনে উন্নীত হবে। লুইজিয়ানার লেক চার্লসের কাছে অবস্থিত এই মেগা প্রকল্পটিতে মোট তিনটি ট্রেন রয়েছে, যার সম্মিলিত বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১ কোটি ৬৫ লক্ষ টন। মার্কিন এই প্রকল্প থেকে প্রথম দফার বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহ আনুষ্ঠানিকভাবে ২০৩০ সালে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের কারণে কাতার নিজেদের সরবরাহ ঘাটতি মোকাবেলা করতে মার্কিন বাজারের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। সম্প্রতি রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে হামলার ফলে কাতারের নিজস্ব এলএনজি উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর উৎপাদন পুনরুদ্ধার করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া, হরমুজ প্রণালীতে পরিবহন বিঘ্নিত হওয়া এবং নিজস্ব চালানের ওপর বলপূর্বক নিয়ন্ত্রণ বা 'ফোর্স মেজর' (Force Majeure) পরিস্থিতির মেয়াদ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর কারণে বৈশ্বিক বাজারে শক্তির বিকল্প উৎস হিসেবে মার্কিন এলএনজি সংগ্রহকে কৌশলগত প্রতিরক্ষা বা হেজ হিসেবে দেখছে দোহা।
এই চুক্তির ফলে কাতারএনার্জি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এলএনজি রফতানিকারক হওয়ার পাশাপাশি মার্কিন এলএনজির সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে। টেক্সাসের গোল্ডেন পাস প্রকল্প এবং সম্প্রতি চেনিয়ারের (Cheniere) সঙ্গে হওয়া চুক্তির ধারাবাহিকতায় উডসাইডের সঙ্গে এই নতুন চুক্তি কাতারএনার্জির দীর্ঘমেয়াদী বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ও বৈচিত্র্যকরণ কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ