ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

শেরপুরে পাঁচ দিনব্যাপী বই মেলা উদ্বোধন হয়েছে,


শেরপুরে পাঁচ দিনব্যাপী বই মেলা উদ্বোধন হয়েছে,

 

শেরপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদের আয়োজনে পাঁচ দিনব্যাপী বইমেলা উদ্বোধন হয়েছে।
৩ নভেম্বর সোমবার সকালে ডিসি উদ্যানে এই বইমেলা উদ্বোধন করেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।
মেলায় ফিতা কেটে উদ্বোধন শেষে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন প্রদর্শিত বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
ভ্রাম্যমান দোকান ও সৌখিন পাঠক বুকশপ এর পরিচালনায় এবং শেরপুর জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শাকিল আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাইফুল ইসলাম কমল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিক, বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল চৌধুরী, গাঙচিল সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক রফিক মজিদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, শেরপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদের সভাপতি রাহাতুল ইসলাম আলো, কবি হানজালা, কবি হাসান শরাফত, সাংবাদিক কাজী মাসুম সহ শহরের বিভিন্ন স্তরের লেখক, পাঠক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মেলায় দশটি স্টলে দেশি-বিদেশি বরেন্দ্র লেখকের গল্প, উপন্যাস, ছড়া-কবিতা, ভ্রমণ কাহিনী, থ্রিলার ও অনুবাদ গ্রন্থ এবং শেরপুরের লেখকদের বই স্থান পায়।
৫ দিনব্যাপী এই মেলা প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

আরও পড়ুন: সাজেকের অবরোধে কৃষিপণ্য ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীবাহী যান চলাচলে ছাড়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রুশ হামলায় নিহত ২৬, ইউক্রেনের শান্তি আলোচনা আশাহীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩৫ পি.এম


রুশ হামলায় নিহত ২৬, ইউক্রেনের শান্তি আলোচনা আশাহীন

ঢাকা, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ : ইউক্রেন জানায়, রাশিয়ার হামলায় মানবিক সহায়তা বিতরণের জন্য ব্যবহৃত একটি স্কুলে অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছে। এই ঘটনার ফলে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে একটি স্থানীয় যুদ্ধবিরতি সফলভাবে শেষ হয়েছে, যা শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছিল।

সংবাদ সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইউক্রেনের দাবি, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রাশিয়া দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন এলাকায় আবার হামলা শুরু করেছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর এটি ছিল দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি।

মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্যোগে রাশিয়ার দখলে থাকা ওলেশকি শহরে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই বিরল যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। গত মঙ্গলবার শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতিটি রবিবার শেষ হয় এবং এ সময় কোনো পক্ষই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেনি।

যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টা পর, খেরসনের পাশের জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের একটি গ্রামে রাশিয়া দফায় দফায় হামলা চালায়। এতে অন্তত ২৬ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা ওই অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর নিশ্চিত করেছেন।

নিহতদের মধ্যে কয়েকজন স্থানীয় একটি স্কুলে মানবিক সহায়তা নিতে এসেছিলেন। ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগের প্রকাশিত ভিডিওতে হামলায় স্কুল ভবনটি ধ্বংস হয়ে যেতে দেখা যায়। ধ্বংসস্তূপের বিভিন্ন অংশ থেকে তখনো ধোঁয়া বের হচ্ছিল এবং উদ্ধারকর্মীরা সেখানে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছিলেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার দৈনিক ভাষণে বলেন, ‘প্রতি সোমবার ওই স্কুলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ সেখানে পৌঁছানোর পরপরই রাশিয়া প্রথম দফায় কয়েকটি আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বোমা হামলা চালায়। এরপর আবারও হামলা হয়। দ্বিতীয় দফায় আরও কয়েকটি বোমা নিক্ষেপ করা হয়, যার লক্ষ্য ছিল আশ্রয়কেন্দ্রটি।’

অঞ্চলটির ভারপ্রাপ্ত গভর্নর মিখাইলো সেমিকিন টেলিগ্রামে জানান, নিহতদের মধ্যে দুজন উদ্ধারকর্মী ও চারজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।

জরুরি সেবা বিভাগ নিহত দুই উদ্ধারকর্মীর পরিচয় প্রকাশ করেছে, তারা হলেন ৪৪ বছর বয়সী ডেনিস কোনোভালেঙ্কো ও ওলেক্সি সুশচেভস্কি।

বিভাগটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রতিদিনই তারা মানুষের সহায়তায় বের হতেন। বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে কাজ করে এবং নিজের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে তাঁরা অন্যদের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করতেন।’

জেলেনস্কি বলেন, ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতির পর এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যখন পরবর্তী পদক্ষেপের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখা যেতে পারত।

তিনি বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে রাশিয়া সম্পূর্ণ বিপরীত বার্তা দিচ্ছে। রাশিয়া আরও হত্যাকাণ্ডের পথেই এগোতে চায়। এর অবশ্যই জবাব দিতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুলশানে ‘গোল্ড কিনেন’ এর প্রথম এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩৬ পি.এম


গুলশানে ‘গোল্ড কিনেন’ এর প্রথম এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার উদ্বোধন

রাজধানীর গুলশানে উদ্বোধন করা হয়েছে স্বর্ণ কেনাবেচা ও সঞ্চয়বিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ‘গোল্ড কিনেন’-এর প্রথম এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা এখন সরাসরি ২২ ক্যারেট হলমার্কড ও সার্টিফায়েড গোল্ড বার এবং কয়েন দেখে কেনার সুযোগ পাবেন।

সোমবার (২ নভেম্বর) গুলশান অ্যাভিনিউয়ের এলিগ্যান্ট স্কয়ার ভবনে এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারটির উদ্বোধন করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, সেন্টারটিতে ০.৫, ১, ২, ৫ ও ১০ গ্রামের গোল্ড বার এবং ২ ও ৪ গ্রামের গোল্ড কয়েন সংগ্রহের ব্যবস্থা রয়েছে। গ্রাহকরা সরাসরি এসব স্বর্ণের পণ্য দেখে পছন্দ অনুযায়ী কেনাকাটা করতে পারবেন। পাশাপাশি গোল্ড কিনেন অ্যাপের মাধ্যমে স্বর্ণ কেনা, বিক্রি ও সঞ্চয়ের সুবিধাও পাবেন।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বর্ণ কেনা ও সঞ্চয়কে সাধারণ মানুষের জন্য আরও সহজ, নিরাপদ ও সুবিধাজনক করাই তাদের লক্ষ্য। নতুন এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারের মাধ্যমে গ্রাহকরা সরাসরি পণ্য দেখার পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে কেনাকাটা করতে পারবেন।

২০২২ সালে যাত্রা শুরু করে ‘গোল্ড কিনেন’। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকরা ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ২২ ক্যারেট হলমার্কড ও সার্টিফায়েড স্বর্ণ কিনতে ও সঞ্চয় করতে পারেন। গ্রাহকদের কেনা স্বর্ণ ব্যাংকমানের নিরাপত্তাব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা হয় এবং প্রয়োজনে যেকোনো সময় তা বিক্রির সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকায় নির্দিষ্ট এলাকায় হোম ডেলিভারি এবং দেশব্যাপী ৬৫০টির বেশি পিকআপ পয়েন্ট থেকে গোল্ড বার বা কয়েন সংগ্রহের সুবিধা রয়েছে।

আয়োজকরা বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল প্রযুক্তির মাধ্যমে গোল্ড ক্রয় ও সঞ্চয়কে মানুষের জন্য সহজ, নিরাপদ ও সুবিধাজনক করে তোলা। এই এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারের মাধ্যমে গ্রাহকরা এখন আমাদের পণ্য সরাসরি দেখতে, জানতে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ক্রয় করতে পারবেন। আমরা বিশ্বাস করি, এই উদ্যোগ গ্রাহকদের আস্থা আরও দৃঢ় করবে।

প্রযুক্তি, স্বচ্ছতা ও সুবিধাকে একত্র করে স্বর্ণ কেনাবেচা এবং সঞ্চয়ের অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ করাই প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী কাজে লাগাতে ব্যর্থ, সতর্ক বিশ্বব্যাংক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩৭ পি.এম


বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী কাজে লাগাতে ব্যর্থ, সতর্ক বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশের সামনে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার জন্য জনসংখ্যার অনুকূল বয়সকাঠামো কাজে লাগানোর সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। ২০৪৫ সালে দেশে জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জনের সময়কাল শিখরে পৌঁছাবে। তবে, পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দেশ পিছিয়ে রয়েছে। প্রবীণ জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। এই কারণে কর্মক্ষম জনগণের বিশাল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে না পারলে জনসংখ্যাগত সুবিধা অর্থনৈতিক চাপে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

‘ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ ইন সাউথ এশিয়া: ফ্রম টেলউইন্ডস টু হেডউইন্ডস ফর ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার জনসংখ্যার বয়সকাঠামোয় পরিবর্তন এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব বর্ণনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের হাতে জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগানোর জন্য প্রায় দুই দশক সময় রয়েছে। ২০৪৫ সালে এই সুযোগ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ কিছুটা বেশি সময় পেলেও কাঠামোগত দুর্বলতা কাটাতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার কর্মক্ষম জনগণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে কমতে শুরু করবে। ২০৪৯ সালের মধ্যে অঞ্চলটি বার্ধক্যপ্রবণ অর্থনীতিতে পরিণত হবে। তখন মোট জনসংখ্যার ১৪ শতাংশের বয়স হবে ৬৫ বছর বা তার বেশি। বাংলাদেশও ২০৫১ সালের মধ্যে প্রবীণ জনগোষ্ঠীপ্রধান দেশে পরিণত হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০০ সাল থেকে কর্মক্ষম বয়সী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দক্ষিণ এশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রতিবছর গড়ে ০.৪ শতাংশ অতিরিক্ত প্রবৃদ্ধি যুক্ত হয়েছে। একই সময়ে শ্রম উৎপাদনশীলতা বেড়েছে বছরে ১.১ শতাংশ। তবে, জনসংখ্যার বয়সকাঠামোর এই সুবিধা স্থায়ী হবে না। ২০০০ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে জনসংখ্যার বার্ষিক অবদান কমে ০.১ শতাংশে নেমে আসবে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট মন্তব্য করেন, দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিগুলো আগের তুলনায় দ্রুত বার্ধক্যের দিকে এগোচ্ছে। এ অবস্থায় উন্নত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণ জনগণের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এখনই নীতিগত উদ্যোগ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। প্রবীণ জনগণের চাহিদা মোকাবিলার প্রস্তুতিও নিতে হবে। এর মাধ্যমে কর্মক্ষম জনগণের সুবিধা কাজে লাগানোর পাশাপাশি সুস্থ প্রবীণদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রেখে দ্বিতীয় দফায় জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জনের ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের ঘাটতিকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুকূল বয়সকাঠামো থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। সীমিত আনুষ্ঠানিক চাকরি সৃষ্টি, নারীদের শ্রমবাজারে কম অংশগ্রহণ এবং দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি এ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৮৪ শতাংশ কর্মী, অর্থাৎ ৫ কোটি ৮০ লাখ মানুষ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। উচ্চশিক্ষা অর্জন করেও অনেককে আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারীদের ৪৪ শতাংশই অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে যুক্ত। আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি ধীর। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো কর্মী ছাঁটাই করেছে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিন পেসমে বলেন, বাংলাদেশের জনমিতিক সুযোগ কাজে লাগানো নির্ভর করছে এখন নেওয়া পদক্ষেপের ওপর। প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা, তরুণদের বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ করে তোলা এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের প্রবেশের বাধা দূর করতে হবে। প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও অবসরকালীন আয় নিশ্চিত করার ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। এ জন্য অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বাড়ানোও জরুরি।

প্রবীণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও দক্ষিণ এশিয়া পিছিয়ে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘায়ু বাড়লেও সুস্থ ও কর্মক্ষমভাবে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা নেই অনেকের। স্বাস্থ্যসেবা, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা এবং পেনশন ব্যবস্থাও ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত নয়। দক্ষিণ এশিয়ার কর্মক্ষম জনগণের মাত্র ১৭ শতাংশ পেনশন ব্যবস্থায় অবদান রাখেন। প্রবীণদের মাত্র ১০ শতাংশ পেনশন সুবিধা পান, যা বিশ্বে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কভারেজগুলোর একটি।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্বিমুখী নীতি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। প্রথমত, উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান বাড়ানো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহজ করা, ব্যবসায়িক বিধিবিধান সহজ করা এবং শিক্ষা ও দক্ষতার মান উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণ জনগণের কর্মক্ষমতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি নারীদের কর্মসংস্থানে বিদ্যমান বাধা দূর করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, প্রবীণদের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ও কার্যকর পেনশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এতে বয়স্ক জনগণের জীবনমান ও আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ার পাশাপাশি সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে, যা দীর্ঘ মেয়াদে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনসংখ্যার বয়সকাঠামোয় পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একদিকে যেমন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতের নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে আনছে। সময় থাকতে কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার করা না গেলে এই পরিবর্তনের সুফল ধরে রাখা কঠিন হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামের বাবার ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জানে আলম লিখন: বরিশাল

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩৭ পি.এম


সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামের বাবার ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

 

আজ ৩ নভেম্বর—আমাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত বেদনাবিধুর একটি দিন। আজ আমার প্রিয় বাবার ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। দেখতে দেখতে বাবাকে হারানোর ২৩ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এত বছর পরও তাঁর শূন্যতা আমাদের হৃদয় থেকে একটুও মুছে যায়নি। আজও প্রতিটি স্মৃতি, প্রতিটি মুহূর্তে বাবার অভাব গভীরভাবে অনুভব করি।

২০০৩ সালের ৩ নভেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানী ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার বাবা শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে সেদিন তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চিরদিনের জন্য আমাদের ছেড়ে চলে যান। সময়ের পরিক্রমায় জীবনের অনেক কিছু বদলে গেছে, বদলে গেছে আমাদের পারিবারিক জীবনও। কিন্তু বাবাকে হারানোর সেই শূন্যতা আজও আমাদের পরিবারের প্রতিটি সদস্যের হৃদয়ে গভীরভাবে রয়ে গেছে।

আমার বাবা ছিলেন অত্যন্ত ভালো মনের একজন মানুষ। আমার দেখা জীবনের যতটুকু সময়ে তাঁকে পেয়েছি, কখনো কারও সঙ্গে তাঁকে ঝগড়া-বিবাদে জড়াতে দেখিনি। কারও সঙ্গে মনোমালিন্য কিংবা খারাপ আচরণ করতে দেখিনি। তিনি ছিলেন সহজ-সরল, বিনয়ী ও মাটির মানুষ। মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন, কাউকে কষ্ট দিতে চাইতেন না। তাঁর ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে বড় দিক ছিল—তিনি কখনো কারও সঙ্গে অন্যায় করতে চাইতেন না।

বাবার জীবনটাও খুব সহজ ছিল না। ছোটবেলায় তাঁর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি তাঁর মাকেও হারান। জীবনের শুরুর সময়েই তাঁকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। দাদির কাছে বড় হয়েছেন, পার করেছেন অনেক কঠিন সময়। শৈশবের সেই অভাব-অনটন ও প্রতিকূলতা তাঁকে জীবনের বাস্তবতা চিনতে শিখিয়েছিল। হয়তো সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে আরও বেশি মানবিক, সহনশীল ও বিনয়ী করে তুলেছিল।

বাবা আমাদের পরিবারের জন্য ছিলেন নির্ভরতার একটি জায়গা, ভালোবাসার আশ্রয়। তাঁর উপস্থিতি আমাদের পরিবারকে এক সুতোয় বেঁধে রেখেছিল। কিন্তু একসময় তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর চিকিৎসার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছিল। খালা-মামারাও সাধ্যমতো চিকিৎসার ব্যয় বহন করেছেন। সবাই চেয়েছিলেন, বাবা সুস্থ হয়ে আবার আমাদের মাঝে ফিরে আসুন। কিন্তু সব চেষ্টা ও প্রত্যাশাকে পেছনে ফেলে একদিন তিনি চিরবিদায় নিলেন।

বাবার মৃত্যুর পর আমাদের পরিবার যেন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল। তাঁর চলে যাওয়ায় যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা আজও পূরণ হয়নি। একজন বাবাকে হারানো মানে শুধু একজন মানুষকে হারানো নয়; হারিয়ে ফেলা জীবনের এক নির্ভরতার জায়গা, ভালোবাসার আশ্রয় এবং কঠিন সময়ে মাথার ওপর থাকা ছায়া। সময় অনেক দূর এগিয়ে গেছে, কিন্তু বাবাকে হারানোর কষ্ট আজও একই রকম রয়ে গেছে।

আজও বাবার বলা কিছু কথা কানে বাজে। বিশেষ করে জীবনের শেষ সময়ে দেওয়া তাঁর একটি উপদেশ আমার হৃদয়ে গভীরভাবে গেঁথে আছে। তিনি বলেছিলেন—

“জীবনে যতদিন বেঁচে থাকবি, কখনো কারও সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবি না, কাউকে ব্ল্যাকমেইল করবি না। মানুষের সঙ্গে অন্যায় করবি না।”

বাবার এই কথাগুলো শুধু উপদেশ নয়, আমার কাছে জীবনের অন্যতম মূল্যবান শিক্ষা। জীবনের নানা পরিস্থিতিতে তাঁর সেই কথাগুলো মনে পড়ে। মানুষ হিসেবে সৎ থাকা, কারও সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা না করা এবং অন্যায়ের পথ থেকে দূরে থাকার যে শিক্ষা তিনি দিয়ে গেছেন, তা আজও আমার চলার পথের পাথেয়।

বাবা, আপনি আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু আপনার স্মৃতি, আপনার ভালোবাসা এবং আপনার দেওয়া শিক্ষা আমাদের হৃদয়ে বেঁচে আছে। পৃথিবীতে কিছু মানুষের শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। আপনি ছিলেন আমাদের কাছে তেমনই একজন মানুষ। মহান আল্লাহর কাছে একটাই প্রার্থনা—তিনি যেন আপনার জীবনের সব ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেন, কবরের আজাব থেকে হেফাজত করেন, আপনার কবরকে প্রশস্ত ও নূরে পরিপূর্ণ করে দেন এবং আপনাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন।

আমার বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন তাঁকে ক্ষমা করে জান্নাতবাসী করেন। আমিন।

বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর ভালোবাসায় স্মরণ করছি আমার প্রিয় বাবাকে।

আজ আমার শ্রদ্ধেয় বাবার মৃত্যুবার্ষিকী। আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আল্লাহ যেন আমার বাবাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন। বাবা, তুমি ওপারে যেখানেই থাকো, মহান আল্লাহ তোমাকে ভালো রাখুন এবং শান্তিতে রাখুন। আমিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%