ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শায়েস্তাগঞ্জে হত্যা মামলার প্রধান আসামী ফারুক চুনারুঘাট থেকে গ্রেফতার


শায়েস্তাগঞ্জে হত্যা মামলার প্রধান আসামী ফারুক চুনারুঘাট থেকে গ্রেফতার

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে একটি হত্যা মামলার প্রধান এজাহার ভুক্ত পলাতক আসামী ফারুক মিয়া (৫০) কে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) ভোর রাতে আনুমানিক ৩ টা সময় চুনারুঘাট থানা এলাকায় রানিরকুট গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ফারুক মিয়া শায়েস্তাগঞ্জ থানার ১১ নং ব্রামণডোরা ইউনিয়নের ব্রামণডোরা গ্রামের মৃত শহিদ মিয়ার ছেলে । থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদ পেয়ে গত ৩ জুলাই দিবাগত রাতে শায়েস্তাগঞ্জ থানার একটি চৌকস অভিযানিক টিম বিশেষ অভিযান চালায়।

আরও পড়ুন: মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে বিএনপির পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

পরে চুনারুঘাট থানা পুলিশের সহযোগিতায় চুনারুঘাট থানাধীন ২নং আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের রানিরকুট এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্থানীয় সবুজ মিয়ার বসতবাড়ি ঘর থেকে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ ।

গত ২৯ জুন শায়েস্তাগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত একটি হত্যা মামলার প্রধান এজাহার ভুক্ত আসামী ছিলেন মোঃ ফারুক মিয়া। ঘটনার পর থেকেই তিনির আত্মীয় বাড়িতে পলাতক ছিলেন। শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছেন , গ্রেফতারের পর আসামী বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে । শনিবার যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের এমন বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে ও জানানো হয় ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খামেনির শেষ বিদায়ে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ৫ কোটি রুটি প্রস্তুত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২৬ পি.এম


খামেনির শেষ বিদায়ে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ৫ কোটি রুটি প্রস্তুত

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর চার মাস পরে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। এতে ২ কোটি মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশাল এই জনসমুদ্রের খাবার নিশ্চিত করতে ১৬টি ভ্রাম্যমাণ বেকারিসহ ৫ কোটি রুটি তৈরির প্রস্তুতি নিয়েছে দেশটি।

ইরানের আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ জানিয়েছে, আগত শোকগ্রস্ত মানুষদের খাওয়ানোর উদ্দেশ্যে ১৬টি ভ্রাম্যমাণ বেকারিসহ ৫ কোটি রুটি তৈরির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২ হাজার ৫০০টি অ্যাম্বুলেন্স, ২১টি হেলিকপ্টার, ১০০টি ড্রোন এবং ২০ হাজার ক্লাসরুম আবাসন হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বাসিজ আরো জানিয়েছে, তেহরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ট্রাফিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জুলাইয়ের তীব্র গরম থেকে জনতাকে বাঁচাতে মোসাল্লা কমপ্লেক্সের চত্বরে ৬ হাজারের বেশি পানির স্প্রিঙ্কলার বসানো হয়েছে।

ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ 'বিদায় অনুষ্ঠান' করার লক্ষ্য তাদের। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের টিকে থাকার এবং প্রতিরোধের ক্ষমতা প্রদর্শন করা হবে। তবে এই বিশাল আয়োজনের ফলে তেহরানের সাধারণ নাগরিকেরা তীব্র ট্রাফিক জ্যাম ও জ্বালানি সংকটের মতো নানা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

গতকাল শুক্রবার তেহরানে আনুষ্ঠানিকভাবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোক ও দাফন অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। টানা সাত দিন ধরে ইরান এবং ইরাকের বিভিন্ন শহরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল তেহরানে বিদেশি নেতাদের বেশির ভাগই খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। আজ সকাল থেকে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শোক ও শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে লাখ লাখ মানুষ সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে আছেন।

খামেনির জানাজায় অংশ নিতে তেহরানের মেট্রো স্টেশনগুলোর বাইরে মানুষের ঢল নেমেছে। গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর জন্য ভোর থেকেই লাখ লাখ মানুষ দ্রুতগামী এই গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুর অপেক্ষায় জড়ো হয়েছেন।

ইরানের বার্তা সংস্থা আইএসএনএ-এর পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে, কালো পোশাক পরিহিত শত শত শোকার্ত মানুষ বন্ধ স্টেশনের গেটের সামনে অপেক্ষা করছেন। গেট খোলার পর প্রতিটি ট্রেনেই ছিল উপচে পড়া ভিড়।

উল্লেখ্য, নিরাপত্তার কারণে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা ও খামেনির ছেলে মোজতবা আলী খামেনি শোক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন না। সম্প্রতি মোজতবাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে ইসরাইল। সেই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে আয়াতুল্লাহ খামেনিকে গত মার্চ মাসে দাফন করার পরিকল্পনা ছিল। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেই সূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। ওই দিনই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আগ্রাসন শুরু হয়েছিল।

আগ্রাসনের ৪০ দিনের মাথায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। গত ১৭ জুন দেশ দুটি একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে। এখন তারা কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্থায়ী শান্তিচুক্তির জন্য আলোচনা চালাচ্ছে।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গতকাল তেহরানে আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান, জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখেইল কাভেলাশভিলি, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান, তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইয়িলমাজ, রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ গতকাল ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

তেহরানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ভারতের বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন এবং কেন্দ্রীয় উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গারিটা, চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির সহসভাপতি হে ওয়েই, তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি প্রমুখ। এছাড়া ছিলেন ফিলিস্তিনের হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিরা।

তবে পশ্চিমা কোনো কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

সূত্র: সিএনএন, আলজাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি ঘটনার বিচার নিশ্চিত করবে সরকার: আইনমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২৯ পি.এম


জুলাই হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি ঘটনার বিচার নিশ্চিত করবে সরকার: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেখানো পথই জুলাইয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ।

আমরা সেই পথ ধরেই এগিয়ে যাবো।

আমরা প্রতিটি জুলাই হত্যা কান্ডের বিচার করতে বদ্ধপরিকর।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জুলাই জাতীয় সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার প্রতিটি বক্তব্যে বলেছেন, আমরা জুলাই সনদের প্রতিটি অনুচ্ছেদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে বদ্ধপরিকর।

এদিকে আরেক শ্রেণী জুলাই ও জুলাই সনদকে বিভ্রান্ত করার জন্য তথাকথিত গণভোটের মাধ্যমে এক ধরনের দাবি তুলেছে।

আমরা যখন সুনির্দিষ্টভাবে উপস্থাপন করেছি যে এটি জুলাই সনদের অংশ নয়, তখন তারা অন্য পথ অবলম্বনের চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, আমাদের এক পাশে বসে ফ্যাসিবাদ সার্বভৌমত্ব হরণের চেষ্টা করছে।

আরেক পাশে মৌলবাদীরা ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই থেকে সাবধান থাকার জন্য আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাই।

আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে এবং জুলাই সনদকে সামনে রেখে যেকোনো বিভ্রান্তির পথ পরিহার করতে আপনারা অতন্দ্র প্রহরীর মতো থাকবেন।

তারেক রহমান সামনের কাতারে থেকে আমাদের যে নির্দেশনা দেবেন, প্রধানমন্ত্রীর দেখানো পথ—সেটিই জুলাইয়ের পথ।

আইনমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন, জুলাইকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ আজ দুইভাবে বিভক্ত হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, একভাগ জুলাইকে নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের রীতিতে নেমেছে।

আর অন্যভাগ জুলাই সনদকে সামনে রেখে তা বাস্তবায়নে ধীরগতিতে না হলেও মধ্যম গতিতে এগিয়ে চলেছে।

সেই অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
জেলা-মহানগরী কর্মপরিষদ শিক্ষাশিবির

জামায়াতের বড় চ্যালেঞ্জ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও সামাজিক বাধা: ডা. শফিকুর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২৯ পি.এম


জামায়াতের বড় চ্যালেঞ্জ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও সামাজিক বাধা: ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াতের জেলা-মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্যদের নিয়ে শিক্ষাশিবিরের শেষ দিনে বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান।

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও সামাজিক বাধা। তিনি বলেন, মুসলিমরা সার্বজনীন গোষ্ঠী। কিন্তু আশ্চর্যজনক বিষয় হলো তাদেরকেই বলা হয় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী।

শনিবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর জেলা-মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্যদের নিয়ে তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরের শেষ দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উপমহাদেশের চারিটি দেশের মধ্যে আমাদের এ সংগঠনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলো এসেছে। অন্যদিকে ভারতে মুসলমানরা নিরাপদ নয়। তারা সবসময় জানমাল, ইজ্জত ও নিরাপত্তার ঝুঁকিতে রয়েছেন। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে মুসলিমরা সবসময় লড়াই করে যাচ্ছেন এবং তাদের রক্ত দিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, এই উপমহাদেশে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে মুসলমানরা। এর ফলে ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৮৬ বছরের অভিযাত্রায় অসংখ্য নেক বান্দা যুক্ত ছিলেন। তাদের ত্যাগ, কোরবানি ও সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং অনেকেই শহীদ হয়েছেন। আল্লাহর পথে তাদের ত্যাগ ও কোরবানির ফল এ জাতি পাবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরো বলেন, আল্লাহকে ডাকতে হবে এক্বিন ও ইখলাসের সঙ্গে। এক্বিন ও ইখলাস যেখানে একসঙ্গে থাকে সেখানে কোনো ফারাক থাকে না।

জামায়াত আমির বলেন, জামায়াতের মধ্যে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা একটি নেয়ামত, যা অন্য কোনো সংগঠনে নেই। এই সংগঠনের মধ্যে শৃঙ্খলা, নীতি-নৈতিকতা ও আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতা রয়েছে। মানুষের সারা জীবনের সুনাম ও অর্জন একটি ছোটখাটো দুর্ঘটনা ম্লান করে দিতে পারে বলেও তিনি শিক্ষাশিবিরের ডেলিগেটদের স্মরণ করিয়ে দেন।

বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিষয়ে তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনসহ আমরা ৯০টি আসন নিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছি। নির্বাচনে মানুষ প্রত্যাশা করেছিল যে, তারা একটি দুর্নীতিমুক্ত দলকে দায়িত্ব দেবে; যারা সমাজকে দুর্নীতি মুক্ত করবে। জামায়াতই একটি দল যারা এর উপযুক্ত। আল্লাহ আমাদের যতটুকু যোগ্য মনে করেছেন, ততটুকু দায়িত্ব দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য যদি হয় জামায়াতকে ক্ষমতায় আনা, তাহলে আমাদের ব্যাপ্তি দুনিয়া পর্যন্ত। আর যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হয়- তাহলে তার ব্যাপ্তি হবে আখিরাত পর্যন্ত। যিনি দেশ চালানোর সক্ষমতা রাখেন তার হক গোটা দেশের। দেশের অভ্যন্তরে থাকা পশুত্বকে দমনের আগে নিজের ভিতরের পশুত্বকে দমন করার আহ্বান জানান জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহ ও আল্লাহর কিতাবকে যারা আকড়ে ধরেন তারা কখনো পথ হারান না। আমাদের দুর্বল ঘর মজবুত করতে হবে। তা কেবল আল্লাহর নেয়ামতেই সম্ভব হবে। নারী ও পুরুষের সমন্বয়েই আমাদের সমাজ, সংগঠন ও দেশ। আমাদের মায়েদের সম্মান করতে হবে, তাদের কাজে সহযোগিতা করতে হবে ও দ্বীনের কাজে এগিয়ে আনতে হবে।

স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে সমাজ থেকে ভালো মানুষগুলোকে বাছাই করে নিতে হবে। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মানবিক যোগ্যতাসম্পন্নদের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এক্ষেত্রে যারা হালাল উপার্জন এবং সমাজে গ্রহণযোগ্যতা ও নেতৃত্ব দেয়ার সক্ষমতা রাখেন- তাকেই বাছাই করতে হবে; তিনি যে স্তরের জনশক্তিই হোন না কেন। এর মাধ্যমে সেখানে দায়িত্বশীল তৈরি হবে।

তিনি কর্মপরিষদের সদস্যদের সংশ্লিষ্ট আমিরকে সহযোগিতা, পরামর্শ দান এবং নিজ বিভাগের কাজ সুন্দরভাবে করার আহ্বান জানান।

জুলাই সনদ নিয়ে ছেড়ে কথা বলবো না: বিরোধীদলীয় নেতা

মানুষের অধিকারের পক্ষে; ন্যায়-ইনসাফ, দ্বীন, কালিমা, সততা, সত্য ও এলাকার মানুষের স্বার্থের পক্ষে সব সময় আপসহীন থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

তিনি গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর মিরপুরে একটি মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের কাফরুল জোন আয়োজিত বাছাইকৃত কর্মীদের নিয়ে এক শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিকের সভাপতিত্বে এবং সহকারী জোন পরিচালক শহীদুল্লাহর পরিচালনায় শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মুহাম্মদ আব্দুর রব, মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা, সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. আব্দুস সামাদ প্রমুখ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত নির্বাচনে জাতি একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করেছিল। সে লক্ষ্যে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রদান করা হয়েছিল গণরায়ও। দেশে ন্যায়-ইনসাফের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু দুষ্ট লোকেরা আঁতাত করে জনগণের দেওয়া সে রায় ছিনতাই করে নিয়েছে। তবে আমরা হতাশ হয়নি। এর মধ্যে আল্লাহ অবশ্যই আমাদের জন্য কল্যাণ রেখেছেন। বিগত নির্বাচনের ভুল ও দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করার সুযোগ আমরা পেয়েছি। এগুলো নিয়ে কাজ করতে পারলে আগামী দিনে আমাদের বিজয় কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না ইনশাআল্লাহ। তিনি দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতাকে আরো শানিত করার আহ্বান জানান।

জামায়াত আমির বলেন, জুলাই সনদ আমাদের জাতীয় জীবনের অন্যতম অর্জন। কিন্তু সরকার তা বাস্তবায়ন না করে গণরায়ের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করছে। তবে তা বাস্তবায়ন হবে- ইনশাআল্লাহ। হয়ত আপনারা ভাবছেন সময় তো শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু আল্লাহর চাইলে সবই সম্ভব। তার সময় এখনো শেষ হয়নি। আর এ বিষয়ে আমরা কোন আপস করবো না; ছেড়ে কথা বলবো না। মূলত, জুলাই সনদ নিয়ে কোন আপস করা হলে তা জাতি ও শহীদদের সাথে বেঈমানী করা হবে। শহীদদের আত্মা কষ্ট পারে। তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সকলকে আপসহীন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান।

তিনি আর বলেন, সংসদে আমাদেরকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মহল বিশেষের মর্জি মত না চললে ‘এ করা হবে; সে করা হবে’। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের মনে রাখা উচিত আমরা এসব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করেই বর্তমান অবস্থায় পৌঁছেছি। তাই এসবকে আমরা কোনোভাবেই ভয় করি না। তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকার সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, এলাকায় অনেক সমস্যা রয়েছে। তবে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। রয়েছে দুষ্ট লোকের চক্রান্তও। প্রধানমন্ত্রী এ এলাকা উন্নয়নের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এজন্য একজন প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। আশা করছি সম্ভব স্বল্প সময়ের মধ্যেই এলাকার সমস্যা হবে ইনশাআল্লাহ। তিনি এলাকার উন্নয়ন নিয়ে সব সময় সোচ্চার থাকার আহবান জানান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আসছে। আমরা সকল ক্ষেত্রে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। এটা সরকার গঠনের নির্বাচন নয় বরং উন্নয়নের নির্বাচন। আর উন্নয়ন যেখানে মধু থাকে সেখানে। মূলত, মধু যেখানে মাছিও থাকে সেখানে। তিনি প্রত্যয়ের সাথেই বলেন, আমরা কাউকে মধু খেতে দেবো না, বরং জনগণের অধিকার জনগণের কাছেই পৌঁছে দেবো। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের কোন প্রাপ্যতা থাকলেও তা নেবেন না। আত্মীয়-স্বজনকেও দেবেন না। কারো খুবই প্রয়োজন থাকলে আমরা নিজেরা তা সমাধান করবো-ইনশাআল্লাহ। তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে উন্নয়নের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টির আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, আমরা এমন এক ডিএনসিসি প্রতিষ্ঠা করতে চাই সেখানে সকল মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে এবং সকল সমস্যার সমাধান করা হবে ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তিতে। তিনি সে স্বপ্নের নগরী প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের হাতে হরমুজ প্রণালীর চেয়েও শক্তিশালী হাতিয়ার আছে: রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৩২ পি.এম


ইরানের হাতে হরমুজ প্রণালীর চেয়েও শক্তিশালী হাতিয়ার আছে: রাশিয়া

রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপ-প্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ জানান, হরমুজ প্রণালীর চেয়েও ইরানের হাতে শক্তিশালী কৌশলগত হাতিয়ার রয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, তেহরানের জন্য এই হরমুজ প্রণালী 'পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়ে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়'।

এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেছেন, বাব আল-মান্দেব প্রণালীটি আরও শক্তিশালী একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে এটি মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত করতে সক্ষম।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত হিসেবে তেহরানে অবস্থান করছেন মেদভেদেভ, যিনি ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার সম্মানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সেখানে গিয়েছেন। তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে পুতিনের শোকবার্তা পৌঁছে দিয়েছেন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেছেন।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা 'রিয়া নভোস্তি'-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে মস্কো ও তেহরানের মধ্যে সহযোগিতা 'সামগ্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি'-র কাঠামোর আওতায় অব্যাহত রয়েছে। মেদভেদেভ তেহরানকে একটি 'প্রাণবন্ত ও দ্রুত বিকাশমান শহর' হিসেবেও বর্ণনা করেছেন এবং এই সফরের ফলে তার ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন।

মেদভেদেভ সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ইরানের ওপর হামলার সময়ে দেশটি 'অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে অন্যতম কঠিন একটি পরীক্ষা অতিক্রম করেছে'। তিনি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে অযৌক্তিক বলে নিন্দা করেছেন।

এমনকি মেদভেদেভ জানান, মস্কো ইরানের পারমাণবিক সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। তবে স্বীকার করেছেন যে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন হবে। দিমিত্রি মেদভেদেভের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সব কর্মকর্তা ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পক্ষে নন। যদিও ইতোমধ্যে অর্জিত সমঝোতাগুলো ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।

পুতিনের বিশেষ দূত বলেন, কোনো আলোচনা না হওয়ার চেয়ে আলোচনা হওয়া সবসময়ই ভালো। তিনি বিশ্বাস করেন যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনা শেষ পর্যন্ত সফল হবে। তিনি সতর্ক করেছেন যে, আলোচনা চলাকালীন গতিপথ ভিন্ন দিকেও মোড় নিতে পারে।

তিনি সফরের সময় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া দেশগুলোর একটি প্ল্যাটফর্ম গঠনের ধারণা নিয়ে আলোচনা করেছেন। মেদভেদেভের মতে, রাশিয়া, ইরান, চীন এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন অন্যান্য দেশ অর্থনৈতিক বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে একটি যৌথ কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।

মেদভেদেভ সমুদ্রপথের বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, হরমুজ প্রণালী ইরানের জন্য কৌশলগত অস্ত্রের সমতুল্য এক প্রতিরোধমূলক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, বাব আল-মান্দেব প্রণালী আরও শক্তিশালী কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।

তিনি সতর্ক করেন, যদি কোনো বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে বিঘ্ন ঘটার ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এই বিষয়টি আঞ্চলিক নিরাপত্তার যেকোনো হিসাব-নিকাশে অবশ্যই বিবেচনায় রাখা উচিত।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%