ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুদ্ধের পর প্রথম প্রতিবেদন: আইএইএ ইরানের মজুদ ইউরেনিয়ামের হদিস পাচ্ছে না


যুদ্ধের পর প্রথম প্রতিবেদন: আইএইএ ইরানের মজুদ ইউরেনিয়ামের হদিস পাচ্ছে না

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সামরিক হামলার কয়েক মাস পরও, জাতিসংঘের পরমাণু তদারকি সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ইরানের পরমাণু কর্মসূচির মূল্যায়নে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন পায়নি।

বৃহস্পতিবার, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে পাঠানো সংস্থাটির সর্বশেষ গোপন প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু করার পর এটি আইএইএ’র ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন।

আরও পড়ুন: নেসেটে ১৯ আসন পেয়েও সংশয়: নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে তো আরব দলগুলো?

প্রতিবেদনে, সংস্থাটি আবারও তেহরানের কাছে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদের অবস্থান সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়েছে, যার একটি অংশের হিসাব অন্তত এক বছর ধরে পাওয়া যায়নি।

আইএইএর মতে, গত বছরের যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলায় ইরানের প্রধান কয়েকটি পরমাণু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি বড় অংশের অবস্থান যাচাই করা সম্ভব হয়নি, নিম্নমাত্রায় এবং উচ্চমাত্রায়।

পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস ছিল হামলার অন্যতম লক্ষ্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বারবার বলেছেন যে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করাই সামরিক অভিযানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

তবে, আইএইএ’র সর্বশেষ মূল্যায়নে দেখা গেছে, যুদ্ধ এবং বিমান হামলার পরও সংস্থাটির পূর্ববর্তী পর্যবেক্ষণের তুলনায় বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন শনাক্ত হয়নি।

আরও পড়ুন: বর্জন ভেঙে কেন নির্বাচনে ভোট দিলাম: ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকের অভিজ্ঞতা

ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনার একটি প্রধান অচলাবস্থার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন চায় ইরান সম্পূর্ণভাবে এ মজুদ ত্যাগ করুক। তবে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছানোর দিকে কেন্দ্রীভূত আছে, যেখানে পরমাণু বিষয়গুলো পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনার জন্য রাখা হতে পারে।

আইএইএ’র উদ্বেগ: ইউরেনিয়ামের অবস্থান অজানা। আগামী সপ্তাহে আইএইএ’র ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট বোর্ড অব গভর্নরসের ত্রৈমাসিক বৈঠকের আগে প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদনের একটিতে বলা হয়েছে, ইরানকে অবশ্যই পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) অনুযায়ী তার নিরাপত্তা এবং তদারকি সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, “আইএইএ’র মহাপরিচালক ইরানকে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, এনপিটি সুরক্ষা চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন অপরিহার্য এবং জরুরি। কোনও পরিস্থিতিতেই ইরান একতরফাভাবে এর বাস্তবায়ন স্থগিত করতে পারে না।”

আইএইএ জানিয়েছে, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরমাণু স্থাপনাগুলোতে সংস্থাটির পরিদর্শকরা এখনও ফিরে যেতে পারেননি। ফলে সেখানে থাকা ইউরেনিয়ামের প্রকৃত অবস্থান যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আমরা শুরু করিনি: ট্রাম্প

বিশেষ করে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে অস্ত্রমানের (প্রায় ৯০ শতাংশ) ইউরেনিয়াম তৈরির জন্য একটি সংক্ষিপ্ত প্রযুক্তিগত ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

‘প্রসারণ ঝুঁকি’ নিয়ে সতর্কবার্তা। প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, প্রায় এক বছর ধরে আইএইএ পূর্বঘোষিত ইউরেনিয়াম মজুদ যাচাই করতে না পারায় এটি পরমাণু অস্ত্র বিস্তারসংক্রান্ত গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং এনপিটি সুরক্ষা চুক্তি পালনের প্রশ্নও সামনে এনেছে।

সংস্থাটি বলছে, দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ এবং যাচাই কার্যক্রম বন্ধ থাকলে সংশ্লিষ্ট উপাদানের অবস্থান সম্পর্কে ধারাবাহিক জ্ঞান হারিয়ে যায়। এর ফলে, পরমাণু উপকরণের গতিপ্রকৃতি এবং ব্যবহার সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

আইএইএর ভাষ্য, “ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোতে পূর্বে ঘোষিত পরমাণু উপাদান সম্পর্কিত ধারাবাহিক তথ্য ও তদারকির যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা সর্বোচ্চ জরুরি ভিত্তিতে সমাধান করা প্রয়োজন।”

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী চার দিনের জাপান সফর শেষে আজ দেশে ফিরছেন

বিশ্লেষকদের মতে, সর্বশেষ প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত করছে যে, সামরিক হামলার পরও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে। সূত্র: রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হজ শেষে ফিরেছেন ২৯৬৯৪ বাংলাদেশি যাত্রী, মারা গেছেন ৪৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪০ এম


হজ শেষে ফিরেছেন ২৯৬৯৪ বাংলাদেশি যাত্রী, মারা গেছেন ৪৬

হজ পালন শেষে মোট ৭১টি ফিরতি ফ্লাইটে সৌদি আরব থেকে বর্তমানে দেশে ফিরেছেন ২৯ হাজার ৬৯৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী। এভাবে, ৪৬ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ এবং ১৬ জন নারী রয়েছেন। মৃতদের মধ্যে মক্কায় ৩৫ জন এবং মদিনায় ১১ জন ইন্তেকাল করেছেন। আজ শুক্রবার (৫ জুন) পর্যন্ত এ তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। হজ-পরবর্তী ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম এখন পুরোদমে চলমান রয়েছে এবং আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত হজ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফেরা হাজিদের মধ্যে ৩ হাজার ৩২৮ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ২৬ হাজার ৩৬৬ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন। এখন পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৯ হাজার ৯৮১ জন, সৌদি এয়ারলাইনস ১১ হাজার ৩৩১ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ৭ হাজার ৭০০ জন হাজিকে দেশে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়াও অন্যান্য এয়ারলাইনসের মাধ্যমে সৌদি আরব ছেড়েছেন আরো ৬৮২ জন হজযাত্রী। হজ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবছর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয় গত ২৬ মে। বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি হজযাত্রীর জন্য কোটা নির্ধারণ করা হয়েছিল। হজযাত্রীদের সৌদি আরবের যাত্রা শুরু হয় ১৮ এপ্রিল এবং শেষ ফ্লাইট যায় ২১ মে। অন্যদিকে, সৌদি আরবে অবস্থানরত হাজিদের চিকিৎসা ও সেবাদান কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ হজ মিশনের চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে ৫৬ হাজার ৩১২টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ২৫ হাজার ৭১০টি সেবা প্রদান করা হয়েছে। হজ বুলেটিন জানায়, সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ২৬২ জন হজযাত্রী। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ২৪ জন হাজি ভর্তি রয়েছেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, হজযাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ হজ মিশন, বিমান সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ৩০ জুন শেষ ফিরতি ফ্লাইটের মাধ্যমে হজযাত্রীদের দেশে ফেরার কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিসরের বিপক্ষে খেলছেন না নেইমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪৪ এম


মিসরের বিপক্ষে খেলছেন না নেইমার

বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার নতুন করে চোটের সমস্যায় পড়েছেন। ফলে শনিবার মিসরের বিপক্ষে ব্রাজিলের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে তিনি খেলতে পারবেন না।

ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) জানিয়েছে, কাফ মাসলের চোটের কারণে নেইমার দলের সঙ্গে ক্লিভল্যান্ড সফরে যাবেন না। তিনি নিউ জার্সির ট্রেনিং ক্যাম্পেই থেকে যাবেন এবং সেখানে চিকিৎসা চালিয়ে যাবেন।

৩৪ বছর বয়সী নেইমার পুরো মৌসুমজুড়েই চোটের সঙ্গে লড়াই করেছেন। তবু কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে বিশ্বকাপ দলে অন্তর্ভুক্ত করায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

বিশ্বকাপের আগে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল ব্রাজিলের শেষ প্রস্তুতি। তবে সেখানে দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ তারকাকে না পাওয়ায় কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সেলেসাও শিবিরে।

আগামী ১৩ জুন নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিল বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। এরপর গ্রুপ পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড।

নেইমারের চোট কতটা গুরুতর এবং তিনি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুইটি বাসের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪৬ এম


দুইটি বাসের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ২৫

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে দুইটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছে এবং অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত ১২টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মুকসুদপুর উপজেলার রাগদি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার আমিরাবাদ গ্রামের অমলেন্দু হাওলাদারের ছেলে অমিতাভ হাওলাদার (৪২) এবং শেরপুর জেলার আব্দুস সামাদের ছেলে কালাম (৩০)।

পুলিশ জানায় যে, ঢাকাগামী বিআরটিসির একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাগদি ব্রিজে ধাক্কা দেয়। এ সময় পেছন থেকে আসা হিমেল সীমান্ত পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস বিআরটিসি বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে দুটি বাসের বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন।

দুর্ঘটনার পর পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য এবং স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় দুইজনকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।

আহতদের মধ্যে আরো একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ার কারণে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার এসআই মো. সোহেল খান দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

নিহতদের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানুষের ওপর চাপ বাড়বেই: সিপিডি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪৯ এম


মানুষের ওপর চাপ বাড়বেই: সিপিডি

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হয়েছে। নতুন করে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে গত বুধবার।

ফলে সাধারণ মানুষের পারিবারিক খরচ চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি: উত্তরণকালীন সময়ে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ’ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির নিজস্ব কার্যালয়ে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে সংস্থাটির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান এবং নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের চলতি অর্থবছরের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়, যাতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক নানা ধাক্কার কারণে অর্থনীতি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

এর মধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি অন্যতম। তিনি উল্লেখ করেন, “সাধারণ মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশ হলেও, জ্বালানি মূল্যস্ফীতি প্রায় ১৫ শতাংশ।”

জ্বালানি, পরিবহন ও সেবা খাতের খরচ বৃদ্ধির কারণে উচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে। অন্যদিকে, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তুলনায় মানুষের মজুরি বৃদ্ধির হার কম। ফলে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে সীমিত ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।

সিপিডি মনে করে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও মূল্যস্ফীতির একটি বড় কারণ। সংবাদ সম্মেলনে তারা সাম্প্রতিক এক জরিপের তথ্য তুলে ধরে জানায়, বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের একাধিক স্তর থাকার কারণে খুচরা পর্যায়ে পণ্যের দাম ৭০ থেকে ১১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, “আমাদের খাদ্য মূল্যস্ফীতি মূলত সরবরাহচালিত, চাহিদাচালিত নয়। তাই সরবরাহ ঠিক রাখাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি বলেন, এর জন্য কৌশলগত মজুত বাড়ানোর পাশাপাশি বাজার তদারকি জোরদার করা জরুরি।

সরবরাহ শৃঙ্খলে মধ্যস্বত্বভোগীদের সংখ্যা কমিয়ে কৃষক ও খুচরা পর্যায়ের দামের ব্যবধান কমাতে হবে। নিম্ন আয়ের মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টিও জরুরি।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানিসংকটের কারণে সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে, যা হয়তো সাময়িকভাবে মূল্যস্ফীতির ওপর বড় ধাক্কা দেবে, কিন্তু দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে দীর্ঘ সময়ের জন্য শ্লথ বা সংকুচিত করে দিতে পারে।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী হেলেন মাশিয়াত বলেন, বৈশ্বিক মূল্য পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিদ্যুতের দাম কিছুটা সমন্বয়ের প্রয়োজন ছিল। তবে এই বৃদ্ধি অবশ্যই আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে কঠোরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত।

সিপিডি জানায়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশে প্রবাসী আয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে, লেনদেন ভারসাম্যে উন্নতি এসেছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। তবে রপ্তানি খাতে এখনো চাপ রয়েছে। দেশীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগের চাহিদা বেশ দুর্বল।

এ ছাড়া ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকা বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ অর্থনীতিকে সংকটে ফেলছে।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, রেমিট্যান্স বাড়লেও কেন এত ঘন ঘন ওঠানামা হচ্ছে, তার মূল কারণ খুঁজে বের করার পরামর্শ দেওয়ার সময় তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, রপ্তানিমুখী কার্যক্রম যাতে কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে এবং দেশীয় মূল্য সংযোজনকে উৎসাহিত করার ওপর জোর দিতে হবে।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, “শ্রম অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে এ বিষয়ে নেতিবাচক ইঙ্গিত পাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, সময়মতো মজুরি প্রদান, কারখানার নিরাপত্তা এবং ট্রেড ইউনিয়নের স্বীকৃতি দেওয়ার মতো বিষয়গুলোতে জোর দিতে হবে। প্রয়োজনে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে শ্রম অধিকার নিশ্চিতকরণের শর্ত যুক্ত করা উচিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%