ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পাহাড়ের প্রতিধ্বনি, এক বেলুচ নারী কমান্ডারের সাক্ষাৎকার


পাহাড়ের প্রতিধ্বনি, এক বেলুচ নারী কমান্ডারের সাক্ষাৎকার

বেলুচিস্তানের রুক্ষ, ধূসর পাহাড়শ্রেণির পটভূমিতে যখন একটি ভিডিওতে প্রথম দেখা যায় সামরিক পোশাক পরিহিতা এক নারীকে চারপাশে সারিবদ্ধ সশস্ত্র নারী যোদ্ধা, দৃষ্টিতে দৃঢ়তা, কণ্ঠে অবিচল আত্মবিশ্বাস, তখন সে দৃশ্য নিছক একটি প্রচার-ভিডিও থেকে বেশি কিছু হয়ে ওঠে।

তা হয়ে ওঠে একটি প্রশ্ন, একটি ঘোষণা, এবং একই সঙ্গে একটি ইতিহাসের নতুন পাতার সূচনা। বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) তাকে পরিচয় দিয়েছে সংগঠনের একজন কমান্ডার হিসেবে, যুদ্ধনাম ‘সাদো’ নাম শাইনাজ বালোচ।

ধারণা করা হচ্ছে, দশকের পর দশক ধরে চলা এই সশস্ত্র আন্দোলনে তিনিই প্রথম নারী, যিনি এতটা প্রকাশ্য ও উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বের আসনে উপবিষ্ট হয়েছেন।

আরও পড়ুন: টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি: অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে গ্রেফতার ৪

তার এই আবির্ভাব নিছক আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়। এটি ঘটছে এমন এক সময়ে, যখন বেলুচিস্তানে নাগরিক প্রতিরোধ ও সশস্ত্র সংগ্রাম দুটি ভিন্ন স্রোত ক্রমশ একে অপরের কাছাকাছি এসে মিলিত হচ্ছে।

একদিকে বেলুচ ইয়াকজেহতি কমিটি (বিওয়াইসি)-র মতো নাগরিক আন্দোলন, যার নেতৃত্বে আছেন মেহরাং বালোচ ও সাম্মি দীন বালোচের মতো নাম, যারা জোরপূর্বক গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও সামরিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিবেককে জাগ্রত করার চেষ্টা করে চলেছেন বছরের পর বছর ধরে।

অন্যদিকে ক্রমশ সক্রিয় হয়ে উঠছে সশস্ত্র প্রতিরোধ। আর ঠিক এই দুই স্রোতের সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে আছেন শাইনাজ বালোচ, একজন রাজনৈতিক সচেতন নারী, যিনি বৃহত্তর জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সাধারণ কর্মী থেকে সরাসরি এক অস্ত্রধারী কমান্ডারের ভূমিকায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

বহু বছর ধরে বেলুচিস্তানের লড়াইকে বাইরের দুনিয়া দেখেছে এক সংকীর্ণ চোখে কখনো গোত্রীয় দ্বন্দ্ব, কখনো পশ্চাৎপদতা, কখনো-বা বহিঃশক্তির চক্রান্ত হিসেবে। আর নারীদের বেলায় সেই দৃষ্টিভঙ্গি ছিল আরও সংকীর্ণ। তাঁদের কেবল ভুক্তভোগী, কেবল শোকার্ত মা-বোন হিসেবেই চিত্রিত করা হয়েছে বারবার।

আরও পড়ুন: দেশের স্বার্থে কোনো ছাড় নয়: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী টুকু

শাইনাজ বালোচের আবির্ভাব সেই বহু পুরনো বয়ানকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি নিজেকে কান্নার প্রতিমূর্তি হতে দিতে রাজি নন। বরং নিজেকে তিনি উপস্থাপন করেছেন সংগ্রামের গতিপথ নির্ধারণে সক্রিয় এক কুশীলব হিসেবে।

নিচের এই বিশেষ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলো তার সেই বিরল সাক্ষাৎকারের মূল বক্তব্য, এক নারীর ভাবনার জগৎ, যিনি নাগরিক সক্রিয়তা থেকে সশস্ত্র নেতৃত্বে পা রেখেছেন, ঠিক এমন এক মুহূর্তে, যখন বেলুচিস্তানের সংঘাত পৌঁছে গেছে নতুন এক তীব্রতায়।

‘বিচ্ছিন্নতা থেকে মুক্তি’, নেতৃত্বের দর্শনগত ভিত্তি।

শাইনাজ বালোচ তার নেতৃত্বে ওঠার পথকে কোনো একক ঘটনার ফল বলে মানতে নারাজ। তার ভাষায়, এটি এক দার্শনিক উত্তরণ। হেগেলের বিচ্ছিন্নতা-উত্তরণের (Entfremdung) ধারণার প্রতিধ্বনি, তার যুক্তি। মানুষ নিজের প্রকৃত সত্তা খুঁজে পায় না নিঃসঙ্গতায়, বরং ইতিহাসের বৃহৎ প্রবাহে নিজেকে স্থাপন করার মধ্য দিয়েই।

আরও পড়ুন: ট্রাম্প: ইউক্রেনকে বিপুল সহায়তা দিয়েও কিছু পায়নি যুক্তরাষ্ট্র

দখলদারিত্ব তার কাছে কোনো বাহ্যিক আঘাত নয়, এটি জন্ম থেকেই মানুষের ভেতরে বাস করা এক কাঠামোগত বাস্তবতা। তার কথায়, ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে টিকে থাকাটাই এক ধরনের আত্ম-বিচ্ছিন্নতা। আর প্রকৃত চেতনার জন্ম হচ্ছে সেই সত্য উপলব্ধির মুহূর্তে। তাই তার কাছে অস্ত্র হাতে তোলা কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং নিজের ভেতরের সত্তার সঙ্গে চূড়ান্ত পুনর্মিলন।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বেলুচিস্তানের মুক্তি সম্ভব নয় যদি জনসংখ্যার অর্ধেক নারীসমাজ কেবল ইতিহাসের দর্শক হয়ে থাকে। নারীরা এই সংগ্রামে আসছে না কোনো আনুষ্ঠানিকতা পূরণে, বরং নিজেদের হারানো ঐতিহাসিক ভূমিকা পুনরুদ্ধারের তাগিদে।

নারীরা কখনোই নীরব দর্শক ছিল না। রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, গুম, নির্যাতন, প্রতিবাদকারীদের ওপর আক্রমণ তাকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি প্রথমেই একটি প্রচলিত ধারণা খণ্ডন করেন। তার দাবি, বেলুচ নারীরা কোনোদিনই আন্দোলনের প্রান্তবর্তী চরিত্র ছিলেন না। সশস্ত্র হোক বা নিরস্ত্র উভয় পরিসরেই তারা গঠন করেছেন প্রতিরোধের মূল কাঠামো।

তিনি এমন এক বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রত্যাখ্যান করেন, যা নারীর অস্ত্র হাতে তোলাকে সবসময় ব্যক্তিগত শোক বা ট্রমার ফল বলে সরলীকরণ করে। তার ভাষায়, তার সিদ্ধান্ত এসেছে সচেতন, বুদ্ধিবৃত্তিক প্রত্যয় থেকে, কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া থেকে নয়। নাগরিক আন্দোলন যেমন বিওয়াইসি রাষ্ট্রের নৈতিক ব্যর্থতা প্রকাশ্যে আনে, তেমনি তিনি মনে করেন কেবল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দিয়ে একটি সুসজ্জিত সামরিক কাঠামোর পতন ঘটানো যায় না।

আরও পড়ুন: ভারতীয় পর্যটকেরা বলছেন, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে পূজার পরিবেশ ভালো: রিজভী

নারী যোদ্ধার উত্থান, তিনটি মাত্রা। মজিদ ব্রিগেডের ফিদায়ী অভিযানে নারীর ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শাইনাজ তিনটি ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। প্রথমত, রাজনৈতিক ও কাঠামোগত কারণ। রাষ্ট্র তার ভাষায় প্রতিটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পথ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে সশস্ত্র প্রতিরোধ আর ঐচ্ছিক নয়, অস্তিত্ব রক্ষার একমাত্র উপায় হয়ে উঠেছে।

দ্বিতীয়ত, তিনি মনে করেন, আন্দোলনের ভেতরেই ঘটেছে এক অভ্যন্তরীণ রূপান্তর। সমাজের সেকেলে, পিতৃতান্ত্রিক ও সামন্ততান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে বছরগুলো ধরে চলা আন্দোলনের চাপে। যার ফলে নারীকে যুদ্ধক্ষেত্রে নামার আগেই ঘরের ভেতরে মুক্ত করে দিয়েছে। তৃতীয়ত, তরুণ নারীদের বাড়তে থাকা শিক্ষার হার ও রাজনৈতিক সচেতনতা।

তার মতে, একজন নারী যোদ্ধা একই সঙ্গে দুটি বার্তা বহন করে রাষ্ট্রের প্রতি, যে তার দমননীতি ব্যর্থ হয়েছে; আর নিজের সমাজের প্রতি, যে জাতীয় মুক্তি অসম্পূর্ণ থাকবে লিঙ্গ মুক্তি ছাড়া।

আমাকে সবসময় বলা হয় নারী কমান্ডার। সবচেয়ে ক্ষুরধার এক প্রশ্ন ছিল আত্মঘাতী অভিযানে নারীর অংশগ্রহণ নিয়ে। এটি কি সত্যিকারের সিদ্ধান্ত, নাকি হতাশা থেকে জন্ম নেওয়া বাধ্যবাধকতা? শাইনাজ এই প্রশ্নকেই একধরনের পক্ষপাত বলে চিহ্নিত করেন। তার যুক্তি, একজন পুরুষ যোদ্ধা যখন উচ্চ ঝুঁকির অভিযানে যোগ দেয়, তাকে দেখা হয় আদর্শবাদী সৈনিক হিসেবে। কিন্তু একজন নারীর একই সিদ্ধান্তে সন্দেহের চোখে খোঁজা হয় বহিরাগত প্রভাব, মানসিক দুর্বলতা কিংবা জবরদস্তি। তার ভাষায়, ‘একজন পুরুষ কমান্ডারকে শুধু কমান্ডার বলা হয়, আমাকে বলা হয় নারী কমান্ডার।’

আরও পড়ুন: ভোটের পাঁচ দিন আগে বাইশিমাস নির্বাচন স্থগিত, প্রার্থীদের প্রতিবাদ

তিনি দাবি করেন, তাদের সংগঠনে যোদ্ধা নির্বাচন হয় দীর্ঘ আদর্শিক মূল্যায়ন ও রাজনৈতিক শিক্ষার মধ্য দিয়ে, আবেগ বা প্রতিশোধের তাড়নায় নয়। নাগরিক আন্দোলন বনাম অস্ত্র, প্রতিযোগিতা নয়, ধারাবাহিকতা। বিওয়াইসি-র মতো অহিংস আন্দোলনের সঙ্গে সশস্ত্র প্রতিরোধের সম্পর্ক নিয়ে শাইনাজের অবস্থান স্পষ্ট। তিনি এই দুই পথকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং একই চেতনার দুটি ভিন্ন প্রকাশ বলে বর্ণনা করেন। তবে ফ্রাঁৎস ফানোঁর বরাত দিয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন ঔপনিবেশিকতা যুক্তির ভাষা বোঝে না। তা কেবল সংগঠিত শক্তির সামনেই নতিস্বীকার করে। নাগরিক মিছিল ও ধরনাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে স্বীকার করলেও মনে করেন, রাষ্ট্র এই প্রতিবাদগুলোকে নিয়মিতভাবে উপেক্ষা বা দমন করে চলছে।

বৈধতা, ‘সন্ত্রাসবাদ’ শব্দবন্ধ এবং ভূরাজনীতি। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বেলুচ প্রশ্নকে ‘সন্ত্রাসবাদ’-এর চশমা দিয়ে দেখার প্রবণতা নিয়ে তিনি তীব্র আপত্তি জানান। তার মতে, আন্তর্জাতিক বৈধতা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোই প্রায়শই বৈশ্বিক শোষণ ও দখলদারিত্বের সহযোগী। তাই তাদের সনদের জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। তিনি মনে করেন, ‘সন্ত্রাসবাদ’ শব্দটি এক রাজনৈতিক হাতিয়ার, যা জাতীয় মুক্তি আন্দোলনগুলোকে অবৈধ প্রতিপন্ন করতে ব্যবহৃত হয়। তার ভাষায়, আন্তর্জাতিক জনমত পরিবর্তনের পথ বৈশ্বিক বিবেকের কাছে আবেদন নয়, বরং কৌশলগত বাস্তবতা তৈরি করা।

আমি কমান্ডার, এইটুকুই যথেষ্ট। সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে ব্যক্তিগত অংশে শাইনাজ কথা বলেন এক নারী কমান্ডার হিসেবে তার নিজস্ব অবস্থান নিয়ে। তিনি প্রত্যাখ্যান করেন ‘প্রতিনিধিত্বের বোঝা’-র ধারণা। তার ভাষায়, পুরুষ সহযোদ্ধাদের কখনো পরিবারের সম্মিলিত শোকের ভার বহন করতে হয় না। অথচ নারীর কাছে সেই প্রত্যাশা থেকেই যায়। তিনি চান এমন এক বেলুচিস্তান, যেখানে এই বৈষম্যমূলক প্রত্যাশাগুলোর অস্তিত্বই থাকবে না। তার কাছে বিজয়ের অর্থ কেবল একটি নতুন সীমানা বা ক্ষমতার হাতবদল নয়, বরং ন্যায়বিচার, লিঙ্গসাম্য ও সম্পদের যৌথ মালিকানার ওপর দাঁড়ানো এক নতুন সমাজব্যবস্থা। যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পরিচয় নির্ধারিত হবে যুদ্ধ বা দারিদ্র্যের ইতিহাস দিয়ে নয়, বরং তাদের নিজস্ব সম্ভাবনা দিয়ে।

সম্পাদকীয় নোট। বেলুচিস্তানের সংঘাত প্রবেশ করেছে এক নতুন, তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ে। এতদিন আন্তর্জাতিক দৃষ্টি মূলত নিবদ্ধ ছিল বিওয়াইসি এবং মেহরাং বালোচ, সাম্মি দীন বালোচের মতো নেতৃত্বের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর। সশস্ত্র বিদ্রোহের ভেতরকার পরিবর্তনগুলো তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত থেকে গেছে। শাইনাজ বালোচের প্রকাশ্য আবির্ভাব এই সংঘাতের এক লক্ষণীয় বাঁক নির্দেশ করে।

আরও পড়ুন: হায় সেলুকাস, আমাদের এই বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি

এই লেখাটি একটি সাক্ষাৎকার-ভিত্তিক প্রতিবেদনের ভাবানুবাদ ও সাহিত্যিক উপস্থাপনা মাত্র। এখানে প্রকাশিত মতামত সম্পূর্ণভাবে সাক্ষাৎকারদাতার নিজের। তা কোনোভাবেই এই লেখার অনুবাদক বা কোনো প্রকাশনার নীতিগত অবস্থান নয়।

একটি সশস্ত্র আন্দোলনকে বোঝার চেষ্টা তার পদ্ধতিকে সমর্থন করা নয়, বরং তা সাংবাদিকতার এক মৌলিক দায়িত্ব। জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতগুলোকে বহুমাত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করা। পাঠকদের প্রতি অনুরোধ, এই বিবরণের পাশাপাশি রাষ্ট্র, স্বাধীন পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনও বিবেচনায় নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার এই দীর্ঘ ও জটিল সংঘাত সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা গড়ে তোলার জন্য।

অনুবাদ ও উপস্থাপনা: জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান, লেখক কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো, মিশর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টিকটকের প্রেমের ফাঁদে শিক্ষকের স্ত্রী, চাঁদপুরে উদ্ধার, অটোচালক আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৫২ এম


টিকটকের প্রেমের ফাঁদে শিক্ষকের স্ত্রী, চাঁদপুরে উদ্ধার, অটোচালক আটক

টিকটক মাধ্যমে পরিচয়ের পর, প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্কের টানে টাঙ্গাইলের এক শিক্ষকের স্ত্রী চাঁদপুরে চলে আসেন। শেষ পর্যন্ত নিখোঁজ ডায়েরির ভিত্তিতে পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হন ওই নারী। এই ঘটনায় অটোচালককে আটক করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর সদর উপজেলার ৮ নম্বর বাগাদি ইউনিয়নের ইচলি রোডের ভাড়া বাসায় ওই নারীকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন অটোচালক মোরশেদ আলম দুলাল। অভিযোগ রয়েছে, টিকটকে পরিচয়ের পর প্রেমের ফাঁদে ফেলে ওই নারীকে চাঁদপুরে নিয়ে আসলে আরও অভিযোগ উঠে যে, তাঁর গলার প্রায় এক লাখ টাকার স্বর্ণের চেইন বিক্রি করে সেই টাকা আত্মসাৎ করেন দুলাল। এটির সাথে সাথে এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, এর আগে তিনি টিকটক ও ফেসবুকে একাধিক নারীকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে চাঁদপুরে এনে প্রতারণা ও নির্যাতনের অভিযোগে আলোচনায় ছিলেন।

এদিকে, স্ত্রী নিখোঁজ হলে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন ওই শিক্ষক। সেই তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বাগাদি এলাকা থেকে দুজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে টাঙ্গাইল থেকে ওই শিক্ষকের পরিবারের সদস্যরা এসে নারীকে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে যান।

পুলিশ জানায়, নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতেই নারীকে উদ্ধার করা হয় এবং তাঁকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে, অভিযুক্ত যুবককে তাঁর বোনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে টাঙ্গাইলে এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে আবার আটক করে টাঙ্গাইল পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শহর জুড়ে বিক্ষোভ ছড়াচ্ছে, কঠিন পরিস্থিতিতে মোদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৫৬ এম


শহর জুড়ে বিক্ষোভ ছড়াচ্ছে, কঠিন পরিস্থিতিতে মোদি

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দিল্লি, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, পাটনা, সুরাট এবং লখনউ সহ একাধিক বড় শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা গেছে। আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং পরীক্ষার ব্যবস্থার সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করছেন।

বিরোধীরা এবং কাকরচ জনতা পার্টি (সিজেপি) রাজপথে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছে, অন্যদিকে কেন্দ্র সরকার বিরোধী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন পরিস্থিতি ভালো দিকে এগোচ্ছে না। ফলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পড়েছেন চরম বেকায়দায়।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী বাসভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসার কারণে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকে পুলিশ আটক করে। নিট কাণ্ডে প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে তারা আন্দোলন করছেন। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং আন্দোলন দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।

কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়ার পরেও বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং প্রায় ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে।

লখনউতে একটি রাজনৈতিক সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে যেখানে বিজেপি এবং কংগ্রেস মুখোমুখি প্রতিবাদ মিছিল করেছে। উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কংগ্রেস কর্মীদের আটক করে। বিজেপি নেতা পঙ্কজ চৌধুরী কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনে।

এদিকে, দিল্লির রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যে বিষয়টি আইনি লড়াইয়ে গড়িয়েছে। ২০ জুলাই সিজেপি-র প্রতিবাদে পুলিশি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া তিনটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্র এবং দিল্লি পুলিশকে নোটিশ জারি করেছে। আদালত নির্দেশনা দেয় যে পুলিশি পদক্ষেপের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ, বডি-ক্যামেরার রেকর্ডিং এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক প্রমাণ নিরাপদে সংরক্ষণ করা হোক। আদালত বলছে, জমায়েত বেআইনি হলেও বলপ্রয়োগের আগে আইনি নিয়মকানুন মেনে চলার দায়িত্ব পুলিশের ছিল। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদপুরে পলিথিন বিরোধী অভিযানে জরিমানা ও নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:০৩ এম


চাঁদপুরে পলিথিন বিরোধী অভিযানে জরিমানা ও নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ

চাঁদপুর সদর উপজেলার বাবুর হাট এবং পুরানবাজারের বিভিন্ন পাইকারী পলিথিন বিক্রয় প্রতিষ্ঠান ও কারখানায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল পরিবেশ দূষণ রোধ এবং নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করা। এসময় অভিযানে ২৭০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয় এবং ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ২১.০৭.২০২৬ খ্রি. তারিখে জেলা প্রশাসন, চাঁদপুর এর এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এর অধীনে ০৫ টি মামলায় ০৫ জনকে মোট ১,৩০,০০০/- (এক লক্ষ ত্রিশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয় এবং তাৎক্ষণিক আদায় করা হয়। অভিযানের সময় উদ্ধারকৃত প্রায় ২৭০ কেজি পলিথিন পরিদর্শক, পরিবেশ অধিদপ্তর, চাঁদপুরের জিন্মায় প্রদান করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত চলবে আন্দোলন: ককরোচ পার্টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:১১ এম


শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত চলবে আন্দোলন: ককরোচ পার্টি

 

ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার এবং বিতর্কিত প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির জন্য কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লি। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী তরুণদের প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ পুলিশের কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ এবং গণগ্রেফতার সত্ত্বেও আন্দোলনের ময়দান ছাড়তে রাজি নয়।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তাদের মূল দাবি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের এই লড়াই চলমান থাকবে।

বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতের চিত্রের মধ্যে রয়েছে পার্লামেন্ট অভিমুখে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর মিছিল, যেখানে এ সময় পুরো নয়াদিল্লিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। দিল্লির রাস্তায় বসানো ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টের দিকে অগ্রসর হতে চাইলেও পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।

এই সংঘর্ষের ফলে অন্তত ১৮০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বলে দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ। আন্দোলনের তীব্রতা বাড়ানোর পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ একাধিক বিরোধী আইনপ্রণেতা তরুণদের সমর্থনে রাস্তায় নামেন। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে ধর্না শুরু করলে পুলিশ তাদের আটক করে সরিয়ে নেয়।

সোনা বিষ্ট নামের একজন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী বলেন, "সরকার যদি মনে করে জেন-জি-এর ওপর এই নির্যাতন চালিয়ে আন্দোলন থামিয়ে দেওয়া যাবে, তবে তারা ভুল ভাবছে। আমাদের ভবিষ্যতের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমরা কোনো ছাড় দেব না।"

এখন পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে রাজপথে আছড়ে পড়া এই আন্দোলনের পেছনে বেশ কিছু বিশেষ দাবি রয়েছে। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি হলো বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের জন্য শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের তাৎক্ষণিক পদত্যাগ।

এছাড়াও, তারা সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোর কেন্দ্রীয় কাঠামোর আমূল পরিবর্তন এবং সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি করেছেন। একই সাথে, পরীক্ষা পিছানোর কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই আন্দোলনের অবকাঠামো একটি অদ্ভুত ও ব্যঙ্গাত্মক ইতিহাস রয়েছে। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক শুনানিতে বেকার তরুণ ও রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্দেশ্যে 'তেলাপোকা' এবং 'সমাজের পরজীবী' বলে মন্তব্য করলে দেশে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। ওই অপমানজনক মন্তব্যকে হাতিয়ার বানিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ও সাবেক আম আদমী পার্টির কৌশলবিদ অভিজিৎ দীপকে গঠন করেন 'ককরোচ জনতা পার্টি'।

এই প্ল্যাটফর্মটি অতি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইনস্টাগ্রামে ২ কোটি ২০ লাখের বেশি ফলোয়ার অর্জন করেছে, যা দেশটির প্রধান রাজনৈতিক দল বিজেপির অনুসারীদের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যায়। এ আন্দোলনের প্রতি অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বও সংহতি প্রকাশ করছেন।

বর্তমানে রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে শতাধিক আন্দোলনকারী অবস্থান করে রয়েছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ওপর পুলিশের এই দমনপীড়নের তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা করছে। ককরোচ পার্টির পক্ষ থেকে পরিষ্কার ভাবে জানানো হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বিভ্রান্তিকর বা মৌখিক আশ্বাস তারা গ্রহণ করবেন না।

দাবির পক্ষে দৃশ্যমান এবং সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না আসা পর্যন্ত তারা দিল্লির রাজপথ ত্যাগ করবেন না।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%