ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ইসরায়েলকে আর সহায়তার প্রয়োজন নেই : ট্রাম্প


ইসরায়েলকে আর সহায়তার প্রয়োজন নেই : ট্রাম্প

চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে দেওয়া বছরে প্রায় ৪০০ কোটি (৪ বিলিয়ন) ডলারের মার্কিন সহায়তা বন্ধ করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন যে, ইসরায়েল এখন অর্থনৈতিকভাবে যথেষ্ট সমৃদ্ধ এবং মার্কিন আর্থিক সহায়তা ছাড়াই অস্ত্র কেনার সক্ষমতা অর্জন করেছে।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের ৪০০ কোটি ডলার দিচ্ছিলাম। তবে বছরের শেষে তা বন্ধ হয়ে যাবে।’

সহায়তা বন্ধের কারণ হিসেবে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, ‘ইসরায়েল এখন সমৃদ্ধ একটি দেশ। তাদের আর মার্কিন সহায়তার প্রয়োজন নেই।’

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে জেইউআই-এফের সমর্থন চায় পিটিআই

তবে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরায়েলের ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ইয়ার গোলান। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, এটি দেশটির নিরাপত্তার জন্য একটি বড় আঘাত।

ট্রাম্পের ঘোষণার সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গোলান বলেন, দীর্ঘ যুদ্ধের পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, আক্রমণাত্মক অস্ত্রের মজুদ পুনর্গঠন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।

নেতানিয়াহু সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি। গোলান বলেন, ‘মার্কিন সহায়তা বন্ধ হওয়া ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও জনগণের জীবনযাত্রার মানের জন্য বড় আঘাত। এমন সংকটময় সময়ে নিরাপত্তার প্রয়োজন মেটানোর আর্থিক বোঝা পুরোপুরি ইসরায়েলের জনগণের ওপর পড়বে।’

তিনি আরও বলেন, দায়িত্বশীল কোনো প্রধানমন্ত্রী মার্কিন সহায়তা কমানোর পরিবর্তে তা বাড়ানোর চেষ্টা করতেন। নেতানিয়াহু নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করছেন এবং ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে ফেলছেন।

আরও পড়ুন: রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের কিয়েভ ও ঝিতোমির বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে বিদ্যমান নিরাপত্তা সহায়তা চুক্তির আওতায় ২০২৮ সাল পর্যন্ত বছরে প্রায় ৩৮০ কোটি ডলার দেওয়ার কথা রয়েছে। এই চুক্তি দুই দেশের দীর্ঘদিনের সামরিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এদিকে অ্যাক্সিওসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবারের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালাতে ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছেন নেতানিয়াহু।

তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়ে ওয়াশিংটনের অব্যাহত আগ্রহ নিয়ে ইসরায়েলে উদ্বেগের মধ্যে এ অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন: নির্বাচনে হেরে ট্রাম্পের ইরানে ‘বড় ধরনের আঘাতের’ ইঙ্গিত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০৩০ সালের মধ্যে ১০ লাখ ছানি অস্ত্রোপচার ও এক কোটি চশমা বিতরণের লক্ষ্য সরকারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১১ এম


২০৩০ সালের মধ্যে ১০ লাখ ছানি অস্ত্রোপচার ও এক কোটি চশমা বিতরণের লক্ষ্য সরকারী

দেশে অন্ধত্ব ও দৃষ্টিত্রুটি প্রতিরোধের জন্য সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ লাখ মানুষের চোখের ছানি অস্ত্রোপচার এবং এক কোটি চশমা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। একই সাথে, জাতীয় রেফারেল ব্যবস্থার মাধ্যমে দুই কোটি মানুষকে চক্ষুস্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিশ্ব চক্ষুস্বাস্থ্য সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত একটি ভিডিও বার্তায় সরকারের এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

এ সম্মেলনটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের যৌথ উদ্যোগে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা সরকারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশও সহ-আয়োজক হিসেবে এতে অংশগ্রহণ করছে।

ভিডিও বার্তায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব ও দৃষ্টিহীনতা শুধুমাত্র মানবিক বিপর্যয় নয়, বরং এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের অর্থনীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জাতীয় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য সুস্থ দৃষ্টিশক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সম্মেলনে বাংলাদেশের অবস্থান ও চক্ষুস্বাস্থ্য খাতের পরিকল্পনা তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। এ লক্ষ্যে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত মেয়াদে জাতীয় চক্ষুস্বাস্থ্য কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

কর্মপরিকল্পনার আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে দুই কোটি মানুষকে সম্প্রসারিত রেফারেল ব্যবস্থার মাধ্যমে চক্ষু চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি, দৃষ্টিত্রুটি দূর করতে এক কোটি চশমা বিতরণ এবং ১০ লাখ মানুষের চোখের ছানি অস্ত্রোপচার করা হবে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের চোখ পরীক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্বমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সরকারের অঙ্গীকার রয়েছে। জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার মাধ্যমে অন্ধত্ব ও দৃষ্টিত্রুটি প্রতিরোধের জন্য সচেতনতা তৈরি এবং রোগের বিস্তার ঠেকাতে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সবার জন্য চক্ষুস্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

সম্মেলনের সাফল্য কামনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে সবার জন্য স্পষ্ট দৃষ্টি নিশ্চিত করার এই উদ্যোগ মানব ইতিহাসে একটি অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগে স্বাধীন কমিটি গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১২ এম


নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগে স্বাধীন কমিটি গঠন

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নারী ক্রিকেটারদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বোর্ড একটি পাঁচ সদস্যের স্বাধীন কমিটি গঠন করেছে, যা যৌন হয়রানির অভিযোগ জানাতে সহায়তা করবে। কমিটির নেতৃত্বে আছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম।

বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনের আগে, তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন রাশনা ইমাম। সেই সময়ে তিনি নারী উইংয়ের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। উল্লেখ্য, তিনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের স্ত্রী হিসেবেও পরিচিত।

এই পাঁচ সদস্যের কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- ব্যারিস্টার নাজিয়া কবির, ব্যারিস্টার আনীতা গাজী রহমান এবং জারিন মাহমুদ হোসেন। কমিটিতে একজন সাবেক ক্রিকেটার থাকবেন, তবে তার নাম এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি।

কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এতে বিসিবি সংশ্লিষ্ট কাউকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে অভিযোগের তদন্তে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ কারও প্রভাব বা স্বার্থের সংঘাতের সম্ভাবনা এড়ানো সম্ভব হবে।

নারী উইংয়ের প্রধান রফিকুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘অনেক দিন ধরেই এমন একটা কমিটি করার দাবি ছিল। এখন আমরা তা করে দিয়েছি। যেকোনো ক্রিকেটারই চাইলে এখানে এসে তাদের কথাটা বলতে পারবেন।’

নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে, জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম টিম ম্যানেজমেন্টের এক সদস্যের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন। সেই অভিযোগের পর বিসিবি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দৌলতপুরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১৩ এম


দৌলতপুরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসীকে একত্রিত করে পুলিশের উপস্থিতিতে ১২টি দোকান ও গোডাউন ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ স্থানীয় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে উঠেছে।

এই ঘটনায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে ভুক্তভোগীদের বাড়িঘর অবরুদ্ধ করা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

সোমবার বিকাল ৪টায় উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের হাটখোলাপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সোনা মহলদার মরিচা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাটখোলাপাড়া এলাকার মৃত খলিল দফাদারের ৬ ছেলে দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসী ছিলেন। সম্প্রতি তাদের মধ্যে সুনারুল দফাদার ও শওকত দফাদার দেশে ফিরে আসেন। এরপর স্থানীয় সোনা মহলদার, সিদ্দিক মহলদার ও নুরু মহলদারসহ কয়েকজন ব্যক্তি হাটখোলাপাড়া কবরস্থানের সভাপতি লিটন মালিথাকে সঙ্গে নিয়ে তাদের পৈতৃক সম্পত্তিতে নির্মিত দোকানঘর ও গোডাউন মার্কেটের জমি কবরস্থানের বলে দাবি করেন। এ নিয়ে জমি ও মার্কেট দখলের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রায় ৫০-৬০ বছর আগে তাদের দাদা হাটখোলাপাড়া কবরস্থানের জন্য ১৯৬২ সালের এসএ রেকর্ডভুক্ত জমি বিক্রি করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৪ সালে আরএস রেকর্ড হওয়ার সময় মূল দাগটি তিনটি দাগে বিভক্ত হয়। তবে কবরস্থানের জমি এবং তাদের মার্কেটের জমির দাগ সম্পূর্ণ আলাদা। কবরস্থানের জমির সঙ্গে মার্কেটের কোনো সম্পর্ক নেই। রাস্তাসংলগ্ন ও মূল্যবান হওয়ায় তাদের জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় বিরোধ সৃষ্টি হলেও প্রতিপক্ষ জমির কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সোমবার বিকালে হাটখোলা জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে কবরস্থানের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনকে একত্র করা হয়। পরে তাদের দোকান ও গোডাউন ভাঙচুর করা হয় এবং মালামাল লুট করা হয়।

ভুক্তভোগী সুনারুল দফাদার বলেন, "আমাদের দাদা কবরস্থানের জন্য জমি বিক্রি করেছিলেন; কিন্তু বর্তমানে যে জমিতে মার্কেট ও দোকানপাট রয়েছে, তার সঙ্গে কবরস্থানের জমির কোনো সম্পর্ক নেই।"

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সোনা মহলদার বলেন, "ওই সম্পত্তি কবরস্থানের। তারা দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।"

দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, "ভাঙচুরের বিষয়টিও জেনেছি। লিখিত অভিযোগ পাইনি। পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভুক্তভোগীরা দীর্ঘদিন সৌদি আরবে থাকায় তাদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১৪ এম


মাদক নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে

মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অভিযান পরিচালনা কিংবা বাহক ও খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করলেই কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। মূল সরবরাহকারী, অর্থের জোগানদাতা এবং নেপথ্যের প্রভাবশালী চক্রকে আইনের আওতায় আনতে হবে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করার জন্য একটি সমন্বিত কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি (চার্জ) ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান।

মঙ্গলবার ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় এবং ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতির আয়োজনে ‘পলিসি ডায়ালগ অন এ ড্রাগ ফ্রি বাংলাদেশ: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অ্যাকশন’ শীর্ষক একটি নীতিসংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বৃদ্ধি, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য রাষ্ট্র, প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে রেলওয়ে পুলিশ প্রধান উল্লেখ করেন, মাদক কারবারিরা পরিবহনের বিভিন্ন মাধ্যমকে নিজেদের নেটওয়ার্ক বিস্তারের কাজে ব্যবহার করে। রেলপথও তাদের কাছে মাদক পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হয়ে উঠতে পারে। বিশাল রেল নেটওয়ার্ক, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রীর চলাচল এবং বিভিন্ন স্টেশনে মানুষের অবাধ যাতায়াতের কারণে নজরদারি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, "আমরা আমাদের সেরাটা দিয়ে এই বিষয়টি মোকাবিলা করে যাচ্ছি।"

তিনি আরও বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধুমাত্র বাহককে গ্রেপ্তার করলেই হবে না। মাদক চালান সংগ্রহকারী, অর্থায়নকারী এবং পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারীদের খুঁজে বের করতে হবে। মাদক চোরাকারবারিদের জন্য একটি সেন্ট্রাল ডেটাবেজ তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে আইন প্রয়োগকারী সব সংস্থা একজন মাদক ব্যবসায়ীকে মুহূর্তেই চিহ্নিত করতে পারে। এ ক্ষেত্রে গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি।

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি দেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরির জায়গাও। মাদক প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম, কাউন্সেলিং এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা চালু করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ মাদকে জড়িয়ে পড়লে তাকে শুধুমাত্র শাস্তির আওতায় আনার চিন্তা না করে কেন সে মাদকের দিকে ঝুঁকছে, তা চিহ্নিত করতে হবে। শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যোগাযোগ বাড়াতে হবে। ক্যাম্পাস এবং এর আশপাশে মাদক কেনাবেচার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

ঢাকা মেইলের নির্বাহী সম্পাদক হারুন জামিল বলেন, মাদক নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে শুধুমাত্র অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করলে তার সামাজিক পুনর্বাসনের পথ কঠিন হয়ে পড়ে। মাদকাসক্তি একটি চিকিৎসাযোগ্য সমস্যা। তাই মাদক কারবারি ও মাদকাসক্ত ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য করে সংবাদ পরিবেশন করা উচিত।

তিনি বলেন, মাদকের বিস্তার নিরসনে সবাইকে আলাদা আলাদা অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করতে হবে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে, কিন্তু এই উদ্যোগ এখনো যথার্থ নয়।

তিনি আরও বলেন, "একটি মানুষ হতাশা থেকে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়েন। সত্যিকারের মূল্যবোধের অভাবেই মানুষ মাদকের দিকে পা বাড়ায়।" হতাশা কাটাতে হলে মূল্যবোধে ফিরতে হবে। ধর্মীয় অনুশাসন ছাড়া মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব নয়। পরকালীন জীবনের মহাসত্যের দিকে আমাদের যেতে হবে; মানুষকে আগে মানুষ হতে হবে; তবেই মাদকের ভয়াল থাবা থেকে আমাদের প্রজন্মকে রক্ষা করা যাবে।

নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক কর্নেল (অব.) কাজী শরীফ উদ্দিন বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি গোয়েন্দা সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। মাদক কারবারের সঙ্গে প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলে সেগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। শুধুমাত্র দৃশ্যমান অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে মাদকের বিস্তার বন্ধ করা যাবে না। মাদক সরবরাহের অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে দিতে হবে।

তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন এবং গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পরিচয়ের কারণে কেউ যেন আইনের বাইরে থাকতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাবের মো. সোয়াইব বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলেও শুধুমাত্র অভিযান দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। অভিযানের পাশাপাশি মাদকের উৎস, সরবরাহব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ অনেক সময় তথ্য দিতে ভয় পান। কারণ, অভিযোগ করার পর তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকে। এ ক্ষেত্রে অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তথ্যদাতাদের আস্থায় নেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসন ‘হ্যালো ডিসি’ নামে একটি নাগরিক সেবার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে।

রাজধানীর কন্টিনেন্টাল হসপিটালের মনোরোগ বিভাগের চিফ কনসালট্যান্ট ডা. এস এম কবির জুয়েল বলেন, মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে শুধুমাত্র ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এর সঙ্গে কাউন্সেলিং, পারিবারিক সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি মনোসামাজিক চিকিৎসা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, মাদকাসক্তির চিকিৎসায় রোগীর পাশাপাশি পরিবারকেও সম্পৃক্ত করতে হবে। চিকিৎসা শেষ হওয়ার পরও পুনরায় মাদকে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এ জন্য নিয়মিত ফলোআপ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা থাকা জরুরি।

দেশে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনকেন্দ্রগুলোর মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও কাউন্সেলরের সংখ্যা বাড়াতে হবে। চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর মান নিয়ন্ত্রণ এবং সেবার মান নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে হেয় না করে চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দিতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%