ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

বিলজুড়ে শামুকের খোঁজে মানুষ, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য


বিলজুড়ে শামুকের খোঁজে মানুষ, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ফুটে ওঠেনি। বিলের পানিতে কুয়াশার আবহ বিরাজমান। চারপাশের নীরবতার মধ্যে কেবল পানিতে লগি-বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ শোনা যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা নৌকায় চড়ে বিলপাড়ের শত শত দরিদ্র মানুষ শামুক সংগ্রহ করছে।

গোপালগঞ্জের বিভিন্ন বিল ও জলাশয়ে বর্ষা মৌসুমে এমন দৃশ্য দেখা যায়। সদর উপজেলার সাতপাড়, বলাকোড়, বড়খোলা, কাশিয়ানীর সিংগা, বরইভিটা, রাহুথড়, বরমপাল্টা, পাথরগ্রাম; মুকসুদপুরের চান্দার বিল এবং টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্ণিবিল, বাঘিয়ারকুল, জোয়ারিয়ার বিলসহ জেলার বিভিন্ন জলাভূমি থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ শামুক অবাধে সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এই শামুকগুলো পরে স্থানীয় সিংগা গ্রামের মল বাজার, বরমপাল্টা এবং কোটালীপাড়ার রামনগর বাজারে জমা হচ্ছে। প্রতিদিন এইভাবে শামুক সংগ্রহ ও বেচাকেনা চলছে। এছাড়া গ্রাম ঘুরে সড়কের পাশে অপেক্ষমাণ বিক্রেতার কাছ থেকে বস্তাভর্তি শামুক কিনছেন ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা। সেখান থেকে তা দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মাছের ঘেরে পাঠানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ভাণ্ডারিয়ায় এইচএসসি ও আলিমে ফলাফলে হতাশার চিত্র, শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফেরাতে প্রশাসনের মাইকিং

স্থানীয়দের দাবি, জেলার বিভিন্ন বিল ও আশপাশের জলাশয় থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ বস্তা শামুক সংগ্রহ ও কেনাবেচা হচ্ছে। এতে জড়িত সংগ্রহকারী, ফড়িয়া ও পাইকার ব্যবসায়ীরা। ফলে এটি একটি বড় স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে গড়ে উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শামুক সংগ্রহ ও বেচাকেনার মাধ্যমে এর সঙ্গে জড়িতদের পরিবারের খাবার, সন্তানের পড়াশোনা এবং সংসারের খরচ চলে, কিন্তু এই বাণিজ্যের আড়ালে ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে বিলের চেহারা। একসময় যে পানিতে অসংখ্য শামুক দেখা যেত, এখন সেখানে আগের মতো শামুক চোখে পড়ে না।

শামুকের খোঁজে মানুষ

সিংগা গ্রামের শামুক সংগ্রহকারী সমীর বিশ্বাসের দিন শুরু হয় খুব ভোরে। বর্ষা মৌসুমে বিল থেকে শামুক সংগ্রহ করেই তার সংসার চলে। তিনি বলেন, ‘বিল বা জলাশয় থেকে শামুক তুলি। সেই শামুক বিক্রি করে ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া ও সংসারের খরচ চালাই ‘

আরও পড়ুন: মধুপুরে সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদনের দাবিতে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন

সমীর জানান, আষাঢ় মাস থেকে শামুক তোলা শুরু হয় এবং এটি চলে আশ্বিন মাস পর্যন্ত। বিলে শামুক কম থাকায় প্রতিদিন একজন সংগ্রহকারী চার-পাঁচ বালতি মাঝারি আকারের শামুক সংগ্রহ করতে পারেন। প্রতি বালতি বিক্রি হয় ৮০ টাকা দরে।

একই গ্রামের আরেক সংগ্রহকারী প্রশান্ত ঢালীর কাছে শামুক মৌসুমি আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তিনি বলেন, ‘আমরা সিংগা ও চান্দার বিল থেকে শামুক তুলি। বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা এসে এসব শামুক কিনে নিয়ে যান। ৫৫ কেজির প্রতিবস্তা শামুক বিক্রি করি ৪৮০ টাকায়। এতে আমরা আর্থিকভাবে উপকৃত হই।’

সিংগা উত্তরপাড়ার মল্লিক বাড়ির অনাধি মৌলিকের জীবনেও বর্ষার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শামুক সংগ্রহ। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তার কাজ শুরু হয়। সকাল ৯টা পর্যন্ত বিলের পানিতে শামুক ও শাপলা সংগ্রহ করেন তিনি।

অনাধির ভাষ্য, এই কাজ করেই বর্ষা মৌসুমের আয়-রোজগার হয়। দক্ষিণের জেলা সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও পিরোজপুর থেকে পাইকাররা এসে শামুক কিনে নিয়ে যান। গতবছর বিলে শামুক খুবই কম ছিল, আয়ও কম হয়েছে। এবার তুলনামূলক একটু বেশি পাওয়া যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ২০০৮ সালের যুবদল নেতা এ্যালবার্ট রিপনকে আওয়ামী লীগের দোসর বানানোর অপচেষ্টা! সাংগঠনিক যোগাযোগ নিয়ে কার স্বার্থে অপপ্রচার?

বিল থেকে চিংড়ি ঘেরে

স্থানীয় পাইকারি ব্যবসায়ী অরুণ গোলদার বলেন, ‘বিল এলাকার মানুষদের কাছ থেকে শামুক কিনে বাগেরহাটের চিংড়ি ঘের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করি। খরচ বাদে বস্তাপ্রতি ৮০ থেকে ৯০ টাকা লাভ হয়। যা হয় তা দিয়ে ভালোই আছি।’

অপর পাইকারি ব্যবসায়ী সমর মজুমদার, অশোক সরকার ও পরেশ বিশ্বাসের ভাষ্য, ‘আমরা বিলপারের শ্রমিকদের কাছ থেকে ঘুরে ঘুরে শামুক কিনি। তবে আগের মতো শামুক পাওয়া যায় না। অথচ চিংড়ি ঘের মালিকদের কাছে এর চাহিদা রয়েছে বেশ।’

তারা বলছেন, বিলের একটি প্রাকৃতিক সম্পদ ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত হয়েছে। তবে ইরিবোরো চাষাবাদে অতিরিক্ত মাত্রায় কিটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে শামুকের প্রজননে ব্যাঘাত ঘটছে।

আরও পড়ুন: বালিয়াকান্দিতে আদালতে বিচারাধীন জমিতে ভবন নির্মাণের অভিযোগ, থানায় লিখিত আবেদন

শামুক শুধু শামুক নয়

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, ‘নির্মল পানি পেতে শামুকের ভূমিকা রয়েছে। বিল বা জলাশয়ের আবর্জনা ও বিভিন্ন দূষিত বস্তু খেয়ে শামুক জীবনধারণ করে এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। জলাভূমি রক্ষায় শামুকের গুরুত্ব অনেক।

ড. রাশেদুজ্জামানের মতে, জলাভূমির বাস্তুতন্ত্রে ছোট প্রাণী বলে কোনো প্রাণীই অগুরুত্বপূর্ণ নয়। শামুকও তার বাইরে নয়। জলজ পরিবেশের জৈবিক প্রক্রিয়ায় শামুকের ভূমিকা রয়েছে বেশ। জলাশয়ের বিভিন্ন জৈব পদার্থ ও আবর্জনা খাওয়ার মাধ্যমে শামুক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে।

নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতার প্রয়োজন

আরও পড়ুন: শোকাহত আব্দুস সালামের পরিবারের পাশে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা

এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা জলজ প্রাণী ও মৎস্য সংরক্ষণে সর্বদা সচেষ্ট। গোপালগঞ্জের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় কাজ করছি। লোকবল সংকট থাকা সত্ত্বেও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জলজ প্রাণী ও মৎস্য রক্ষণাবেক্ষণে দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করছেন।

‘শামুক সংগ্রহকারী ও বিক্রেতাদের সঙ্গে সভা করে অতিরিক্ত শামুক আহরণ থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আশা করি উদ্যোগটি ফলপ্রসু হবে’- বলেন এই মৎস্য কর্মকর্তা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ করবেন না: মীর শাহে আলম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২৬ পি.এম


প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ করবেন না: মীর শাহে আলম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মন্তব্য করেন যে, দেশে এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি যে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ করবেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধী দলের একজন নেতা রেমিট্যান্স শাটডাউনের আহ্বান জানিয়েছেন, তবুও গত পাঁচ দিনে ৭৭৭৬ কোটি টাকা রেমিট্যান্স এসেছে। প্রবাসীরা দেশের পরিস্থিতি এবং আন্দোলনের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সচেতন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমবায় ভবনে নগর ও পল্লী এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কর্মকৌশল নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকারের কাছে সব সময় নানা দাবি জানানো হয়, কিন্তু সরকার যেসব দাবি পূরণ করেছে সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয় না। বর্তমান সরকার দীর্ঘ ১৫ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ শতাংশ বাড়িয়েছে। আগের ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারও এটি করতে পারতেন, কিন্তু তারা নিজেদের সুবিধামতো কাজ করেছেন। দীর্ঘ ১৫ বছর কর্মচারীদের বেতন না বাড়ানো ছিল মানবাধিকার লঙ্ঘন। সব চাপ বর্তমান বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের ওপর এসেছে। তবে সরকার আত্মবিশ্বাসী এবং সকলের সঙ্গে কাজ করতে চায়।

দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার চিত্র তুলে ধরে মীর শাহে আলম জানান, ভঙ্গুর অর্থনীতি ও প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলেও বর্তমান সরকার ৯ লাখ কোটি টাকার বাজেটকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছে। গত সাত মাসে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১১ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ৩৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে এবং মোট ঋণের চাপ ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩২ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

জাতীয় সংসদে ও রাজপথে বিরোধী দলের ভূমিকার সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দল কর্মসূচি দেবে, সেটি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু তাদের সংসদের ভেতরের বক্তব্য এবং রাজপথের দাবির মধ্যে কোনো মিল নেই। সংসদে তারা বলেন জ্বালানি সংকট উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া, অথচ রাজপথে গিয়ে বলেন বিদ্যুৎ দিতে না পারলে গদি ছেড়ে দিন। বিরোধী দল রেমিট্যান্স শাটডাউনের ডাক দিয়েছে, তবুও প্রবাসীরা বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়ে প্রমাণ করেছেন তারা দেশের পাশে আছেন।

জাতিসংঘ সফর প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর সফলতা ঢেকে দিতে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সম্প্রতি রাড্ডা এবং নিউগিনি প্রজেক্টে ভাঙচুর চালানো হয়েছে এবং তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুতের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে সৌরশক্তি থেকে মাত্র ১,৮৭২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে, যেখানে পাকিস্তানের মতো দেশ ৩২ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন করছে। বাসাবাড়িতে বা প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে সরকার তা ইউনিট প্রতি কিনবে জানিয়ে তিনি বলেন, মানসম্মত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নির্দিষ্ট ভেন্ডরদের মাধ্যমে কাজ করতে হবে।

সমবায় অধিদফতরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকার কোনো দল বা গোষ্ঠীর নয়, এটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। সরকারি কর্মচারীদের প্রজাতন্ত্রের সেবা করার মনোভাব নিয়ে সরকারের গৃহীত কর্মসূচিগুলো অন্তরে ধারণ করার আহ্বান জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেকনাফে পিকআপ-সিএনজি সংঘর্ষে ২ নিহত, ৪ আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২৭ পি.এম


টেকনাফে পিকআপ-সিএনজি সংঘর্ষে ২ নিহত, ৪ আহত

কক্সবাজারের টেকনাফে পিকআপ এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন চালকও রয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় নারীসহ চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৮টা ২০ মিনিটের সময় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কেরুনতলী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

নিহত এনায়েত উল্লাহ রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা কেফায়েত উল্লাহর ছেলে, অপর নিহতের নাম সজীব, যিনি চাপানবাবগঞ্জের বাসিন্দা। আহতদের মধ্যে রয়েছেন উখিয়ার পালংখালী ৮নং ওয়ার্ডের ফারিরবিল এলাকার বাসিন্দা আবুল কালামের ছেলে হেলাল উদ্দিন (৩২), কক্সবাজারের রামুর নুরুল আবছার, রুজিনা আক্তার এবং মনোয়ারা বেগম। আহত আরেকজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং হাইওয়ে পুলিশের সূত্রে জানা যায়, সকালে যাত্রীবাহী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই সংঘর্ষে সিএনজিটি সম্পূর্ণরূপে দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা ছয়জন গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে সিএনজি চালক এনায়েত উল্লাহকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উখিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্য পাঁচজন আহতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী চাপানবাবগঞ্জের সজীবের মৃত্যু ঘটে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হোয়াইক্যং হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আবছার জানান, দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপ এবং সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মাঠকর্মীদের প্রশিক্ষণ শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২৭ পি.এম


বরিশালে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মাঠকর্মীদের প্রশিক্ষণ শুরু

বরিশাল, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ : ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের জন্য প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।

এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে জেলা ও সদর উপজেলা প্রশাসন এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে। আজ শনিবার বরিশাল নগরীর কালিবাড়ী রোডের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশিক্ষণের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা শিকদার উপস্থিত ছিলেন।

এ প্রশিক্ষণটি জেলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফরিদা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের কার্যক্রমকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান এবং তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা দেওয়াই এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুনামগঞ্জে শুরু হলো দুই দিনব্যাপী মহালয়া উৎসব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২৭ পি.এম


সুনামগঞ্জে শুরু হলো দুই দিনব্যাপী মহালয়া উৎসব

সুনামগঞ্জ, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ : শরতের নীল আকাশের নিচে দেবীর আগমনী বার্তা শোনা যাচ্ছে, আর ভক্তদের হৃদয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের আবাহন ঘটছে। পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনা উপলক্ষে আজ শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী মহালয়া উৎসব। সনাতনী ঐক্য পরিষদ মাতৃসংগীত, নৃত্য ও ধর্মীয় নানা আয়োজনের মাধ্যমে দেবী দুর্গার আগমন ও মহালয়ার মাহাত্ম্য উদযাপন করছে।

গতকাল শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রম প্রাঙ্গণে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় শারদীয় দুর্গোৎসবের উদ্বোধন করেন রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী হৃদয়ানন্দ মহারাজ।

দেবীর আগমনী সংগীতে অংশগ্রহণ করে শিশু—কিশোররা। সনাতনী ঐক্য পরিষদের সভাপতি সন্তোষ কুমার চন্দ্রের সভাপতিত্বে এবং পরিষদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক দেবাশীষ তালুকদার শুভ্রের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অব. অধ্যক্ষ পরিমল কান্তি দে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি অ্যাড. বিমান কান্তি রায়, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা বাদল চন্দ্র বর্মন, রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার রায় এবং সনাতনী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মানস কান্তি তালুকদার।

অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পরিষদের সহ সভাপতি পপি ভৌমিক, নবেন্দু তালুকদার ও স্বপন কুমার রায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সমীর কান্তি দে সহ সংগঠনের নেতাকর্মী, ভক্ত ও সুধীজন।

বক্তারা মহালয়া উৎসবকে মানুষের মধ্যে জাগরণ ও আনন্দের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, দেবী দুর্গার আগমন যেন সবার জীবনে সত্যিকারের আনন্দ বয়ে আনে। একই সঙ্গে মহালয়ার তাৎপর্য তুলে ধরে প্রয়াত মা—বাবা ও পূর্বপুরুষদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করার আহ্বান জানান।

রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী হৃদয়ানন্দ মহারাজ বলেন, মহালয়া পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনার এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। তিনি চণ্ডীতে বর্ণিত অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির জাগরণের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মানুষের ভেতরেও শুভ ও অশুভ প্রবৃত্তির লড়াই চলে। মহাশক্তির আরাধনার মাধ্যমে শুভ শক্তির জাগরণ ঘটুক—এটাই মহালয়ার শিক্ষা। তিনি সবার ওপর দেবীর কৃপা বর্ষিত হওয়ার প্রার্থনা করেন।

বক্তারা আরো বলেন, পিতৃপক্ষের সমাপ্তি ও দেবীপক্ষের আগমনের এই মাহেন্দ্রক্ষণকে ঘিরে সনাতনী ঐক্য পরিষদ মহালয়া উৎসবের আয়োজন করে। বাংলাদেশে দুর্গাপূজার আয়োজন ব্যাপক হলেও দেবীর আগমনী উৎসব আলাদাভাবে আয়োজন করা হয় তুলনামূলক কম। এ কারণে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে মহালয়ার তাৎপর্য ছড়িয়ে দিতে তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন।

এ আয়োজনের মাধ্যমে দেবীর আগমনকে বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি অশুভ শক্তির বিনাশ ও ভক্তদের কল্যাণ কামনা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%