প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মন্তব্য করেন যে, দেশে এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি যে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ করবেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধী দলের একজন নেতা রেমিট্যান্স শাটডাউনের আহ্বান জানিয়েছেন, তবুও গত পাঁচ দিনে ৭৭৭৬ কোটি টাকা রেমিট্যান্স এসেছে। প্রবাসীরা দেশের পরিস্থিতি এবং আন্দোলনের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সচেতন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমবায় ভবনে নগর ও পল্লী এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কর্মকৌশল নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকারের কাছে সব সময় নানা দাবি জানানো হয়, কিন্তু সরকার যেসব দাবি পূরণ করেছে সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয় না। বর্তমান সরকার দীর্ঘ ১৫ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ শতাংশ বাড়িয়েছে। আগের ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারও এটি করতে পারতেন, কিন্তু তারা নিজেদের সুবিধামতো কাজ করেছেন। দীর্ঘ ১৫ বছর কর্মচারীদের বেতন না বাড়ানো ছিল মানবাধিকার লঙ্ঘন। সব চাপ বর্তমান বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের ওপর এসেছে। তবে সরকার আত্মবিশ্বাসী এবং সকলের সঙ্গে কাজ করতে চায়।
দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার চিত্র তুলে ধরে মীর শাহে আলম জানান, ভঙ্গুর অর্থনীতি ও প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলেও বর্তমান সরকার ৯ লাখ কোটি টাকার বাজেটকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছে। গত সাত মাসে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১১ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ৩৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে এবং মোট ঋণের চাপ ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩২ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
জাতীয় সংসদে ও রাজপথে বিরোধী দলের ভূমিকার সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দল কর্মসূচি দেবে, সেটি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু তাদের সংসদের ভেতরের বক্তব্য এবং রাজপথের দাবির মধ্যে কোনো মিল নেই। সংসদে তারা বলেন জ্বালানি সংকট উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া, অথচ রাজপথে গিয়ে বলেন বিদ্যুৎ দিতে না পারলে গদি ছেড়ে দিন। বিরোধী দল রেমিট্যান্স শাটডাউনের ডাক দিয়েছে, তবুও প্রবাসীরা বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়ে প্রমাণ করেছেন তারা দেশের পাশে আছেন।
জাতিসংঘ সফর প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর সফলতা ঢেকে দিতে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সম্প্রতি রাড্ডা এবং নিউগিনি প্রজেক্টে ভাঙচুর চালানো হয়েছে এবং তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুতের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে সৌরশক্তি থেকে মাত্র ১,৮৭২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে, যেখানে পাকিস্তানের মতো দেশ ৩২ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন করছে। বাসাবাড়িতে বা প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে সরকার তা ইউনিট প্রতি কিনবে জানিয়ে তিনি বলেন, মানসম্মত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নির্দিষ্ট ভেন্ডরদের মাধ্যমে কাজ করতে হবে।
সমবায় অধিদফতরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকার কোনো দল বা গোষ্ঠীর নয়, এটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। সরকারি কর্মচারীদের প্রজাতন্ত্রের সেবা করার মনোভাব নিয়ে সরকারের গৃহীত কর্মসূচিগুলো অন্তরে ধারণ করার আহ্বান জানান তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন