১০:৪৬ এম
হলিউডের সিনেমা ‘দ্য টার্মিনাল’-এর একটি দৃশ্য কি মনে পড়ে? বিমানবন্দরে আটকে থাকা প্রধান চরিত্রটি হঠাৎ করে আবিষ্কার করে, তার দেশটি মানচিত্র থেকে মুছে গেছে! এই কাল্পনিক প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে যেন বাস্তব রূপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পূর্ব ইউরোপের একটি অদ্ভুত ভূখণ্ড—ট্রান্সনিস্ট্রিয়া। যদিও এটি কাগজে-কলমে কিংবা আন্তর্জাতিক মানচিত্রে নেই, বর্তমানে এটি বিশ্বজুড়ে ব্যাকপ্যাকার এবং রোমাঞ্চপ্রিয় পর্যটকদের জন্য নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
ইউক্রেন ও মলদোভার সীমান্তে অবস্থিত আনুষ্ঠানিকভাবে ‘প্রিডনেস্ট্রোভিয়ান মলডেভিয়ান রিপাবলিক’ নামের এই অঞ্চলটি ১৯৯০ সালে স্বাধীনতা লাভ করলেও তিন দশক পেরিয়ে গেলেও জাতিসংঘের কোনো স্বীকৃতি পায়নি। তবে, এই ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে যেকোনো ভ্রমণপিপাসুর চোখ কপালে উঠবে! কারণ, এখানে একটি স্বাধীন দেশের সব কিছুই রয়েছে, যেমন নিজস্ব পতাকা, মুদ্রা (রুবল), সেনাবাহিনী, সীমান্ত পুলিশ এবং ডাকটিকিট।
মানচিত্রে ঠিকানা না থাকা এই ভূখণ্ডটিকে পর্যটকেরা ‘ইউরোপের শেষ সোভিয়েত রাষ্ট্র’ বা ‘জীবন্ত টাইম ক্যাপসুল’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাভেল ভ্লগারদের আগ্রহের ফলে জায়গাটি এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখানে প্রবেশ করলে সরাসরি গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে পা রাখা হয়। রাজধানী তিরাসপোলের রাস্তায় লেনিনের বিশাল মূর্তি, রহস্যময় বাংকার এবং সরকারি ভবনের চূড়ায় কাস্তে-হাতুড়ির প্রতীকগুলো পর্যটকদের সোভিয়েত জমানায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি তদন্তের নির্দেশ
এখানে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না থাকায় কোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নেই। ট্রান্সনিস্ট্রিয়ায় যেতে হলে পর্যটকদের মলডোভার রাজধানী কিশিনাউ থেকে স্থানীয় মিনিবাস (মার্শরুটকা)-এ চড়ে যেতে হয়।
এখানে প্রবেশের জন্য আগে থেকে কোনো ভিসার ঝামেলা পোহাতে হয় না। তবে সীমান্তে পৌঁছানোর পর পাসপোর্ট যাচাই-বাছাই করে স্থানীয় সীমান্ত রক্ষীরা বিদেশি ভ্রমণকারীদের একটি বিশেষ সাময়িক প্রবেশপত্র (ট্যুরিস্ট পারমিট) প্রদান করে। বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের এই আগ্রহ দেখে ইতিমধ্যে রুশ ও ইংরেজি ভাষায় অফিসিয়াল ট্রাভেল গাইডও প্রকাশ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
বহু বছর ধরে অবৈধ অস্ত্র এবং কেজিবির প্রভাবের জন্য কুখ্যাত হলেও বর্তমানে চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। রেডিট এবং ইনস্টাগ্রামের একাধিক জনপ্রিয় ট্রাভেল ভ্লগারের মতে, ট্রান্সনিস্ট্রিয়া এখন ‘বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ অস্বীকৃত দেশ’। এখানকার স্থানীয়দের অতিথিপরায়ণতা, স্বল্পমূল্যে আন্তর্জাতিক মানের আঙুরের ব্র্যান্ডি বা ওয়াইন এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় অবিশ্বাস্য কম খরচে থাকার ব্যবস্থা পর্যটকদের মুগ্ধ করছে।
অবকাঠামো বা সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য এই অঞ্চলটি রাশিয়ার আর্থিক সহায়তার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তবে রাজনীতি এবং ভূ-রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সোভিয়েত ইতিহাস, রহস্য এবং কম খরচে রোমাঞ্চের খোঁজে প্রতিবছর হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসু এখন ‘মানচিত্রহীন’ এই দেশে ভিড় জমাচ্ছেন!
আরও পড়ুন: রাজধানীতে ২০ দেশের অংশগ্রহণে শুরু হলো বিটিটিএফ ২০২৬
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন