ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাতীয় ফুল শাপলা, পাঠ্যবইয়ে আছে, গোদাগাড়ীতে বিলুপ্তির পথে


জাতীয় ফুল শাপলা, পাঠ্যবইয়ে আছে, গোদাগাড়ীতে বিলুপ্তির পথে

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলার গ্রামাঞ্চলে খাল, বিল, পুকুর, নালা, ডোবা ও উন্মুক্ত জলাশয়গুলো এখন আর তেমনভাবে দেখা যাচ্ছে না। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও জাতীয় ফুল শাপলা ও ঢ্যাপের অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। লাল শাপলা তো দূরের কথা।

জাতীয় ফুল শাপলা বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক। শাপলা ফুল বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে। একটি নতুন রাজনৈতিক দল দলীয় প্রতীক হিসেবে শাপলা ফুল পেতে চেয়েও পাননি। সকল বয়সের মানুষের কাছে এই ফুলটি সমাদৃত। যেকোনো পুকুর, বিল, ডোবা নালায় জন্ম নিয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কিন্তু প্রকৃতির বিরূপ প্রভাব, জলবায়ুর পরিবর্তন এবং মানবসৃষ্ট প্রতিবন্ধকতার কারণে মুক্ত জলাশয় বিলুপ্ত হচ্ছে এবং শাপলা ফুল হারিয়ে যাচ্ছে। শাপলা ফুলের সেই সমারোহ আর চোখে পড়ে না। দিনে দিনে শাপলা-শালুক যেন একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। অথচ ১৫-২০ বছর আগে বড় বড় পুকুর, ডোবা ও বিলের বুক জুড়ে শাপলা ফুলের দৃষ্টি নন্দন সৌন্দর্য ছিল। শরৎকালে দীঘি ও বিলের বুক জুড়ে প্রকৃতি অন্যরকম সাজে সেজে উঠত। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখা যেত চারদিকে ফুটন্ত সাদা ও লাল শাপলার সমারোহ। মনে হতো, এ যেন শাপলা ফুলের জগৎ।

এক সময় গ্রাম-গঞ্জে ডোবা-নালায় এবং খালেবিলে আমাদের জাতীয় ফুল শাপলার সমারোহ ছিল দেখার মতো। বর্ষা থেকে শরতের শেষ পর্যন্ত নদী-নালা, খাল-বিল, জলাশয়ের নিচু জমিতে প্রচুর পরিমাণে শাপলা, শালুক ও ঢ্যাপ ফুল জন্মাত। লাল কিংবা সাদা শাপলা দেখে মুগ্ধ হন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কিন্তু কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে শাপলা ফুল এবং বিপন্নের পথে জলাভূমির ফল ঢ্যাপ।

আরও পড়ুন: অনেক শিক্ষার্থীর প্রাণের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি - মো. তমিজ উদ্দিন এমপি

শাপলা ফুল শুধু পরিবেশ ও প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, এর রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। এছাড়া এ ফুলের গাছের শিকড় ও মাথা ফেলে দেওয়ার মতো নয়। শাপলার নরম ডাঁটা, মাথা ও গোড়ায় জন্ম নেওয়া ড্যাপ এবং শালুক সবই মুখরোচক পুষ্টি সমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান। শাপলার গাছ বা ডাঁটা পানির গভীরতায় ১৫ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। মাছ-মাংস রান্নায় উৎকৃষ্ট তরকারি হিসেবে এর ডাঁটা জনপ্রিয়। শালুক আগুনে পুড়িয়ে কিংবা সেদ্ধ করে খাওয়া হয়। আগের দিনে শরতের শেষে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিলজুড়ে শালুক তোলার ধুম পড়ে যেত। শালুক পোড়া গন্ধ এখনো প্রবীণদের শৈশবের কথা মনে করিয়ে দেয়। শাপলা ও পদ্ম সাধারণত দিঘী বা বিলে ফুটে থাকে। তখন গ্রামের ছেলে-মেয়েরা সাঁতার কেটে এই ফুল তুলে আনত। শাপলাকে দুভাবে কেটে মালার মতো করে একজন অপরজনের গলায় পড়িয়ে দিত। রসবোধ ও সৌন্দর্য হারিয়ে যাচ্ছে মহাকালের অতল গহ্বরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ুর ব্যাপক পরিবর্তনের কারণে আগের মতো সঠিক সময়ে বন্যা হচ্ছে না। এছাড়া আবাদি জমিতে অপরিমিত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার প্রয়োগের ফলে অনেক শাপলা বীজ বা মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা মা শালুক বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে নতুন করে শাপলার গাছ জন্ম হচ্ছে না। এখন শরৎকাল শেষ হলেও বড় বড় দীঘি ও জলাশয়ে দেশের কোথাও সেই আগের মতো শাপলা-শালুকের দেখা মেলেনা। এ জলজ উদ্ভিদ আজ বিলুপ্তির পথে।

এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী ২০ বছরে শাপলার অস্তিত্ব কতটুকু টিকে থাকবে, তা দেখার বিষয়। এলাকাবাসী বলছেন, বর্তমানে গ্রাম-বাংলায় বিভিন্ন খালেবিলে অতিরিক্ত পুকুর খনন, কৃষি জমিতে ও রাস্তার ধারের নয়নজুলিত ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ, অতি মাত্রায় নিচু জমিতে কীটনাশক ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দিন দিন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে শাপলা ফুল ও ঢ্যাপ। শাপলার ফলকেই 'ঢ্যাপ' বলা হয়। কিছু আঞ্চলিক নামে 'ভেট' বলা হয়। এক সময় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর একটি বিরাট অংশ শাপলা ফুলের ডাঁটা তরকারি হিসেবে খেতেন। শুধু তাই নয়, এই ঢ্যাপ আমাশয়, বদ হজম এবং রক্ত আমাশয় নিরাময়ের জন্য কার্যকরী বলেও প্রচলিত রয়েছে গ্রামে।

দেশের বিভিন্ন বিলে অপরিকল্পিতভাবে অতিরিক্ত পুকুর খনন, কৃষি জমিতে স্থাপনা নির্মাণের ফলে শাপলা ফুল আজ বিলুপ্তির পথে। বিভিন্ন বিল ও জলাশয়, যেখানে প্রাকৃতিকভাবে মাছ চাষ হতো, সেগুলো এখন পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষের আওতায় নিয়ে আসার কারণে সেখানে আর শাপলা ফুল জন্মাতে পারে না। প্রাচীনকাল থেকেই শাপলার ফল (ঢ্যাপ) দিয়ে চমৎকার সুস্বাদু খৈ তৈরি হয়। অনেকে শাপলা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য হওয়ায় এলাকার লোকজন শাপলা তুলে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে বিক্রি করতো।

বর্তমান সভ্যতায় বাড়তি জনগণের চাপের কারণে আবাদি জমি ভরাট করে বাড়ি, পুকুর, মাছের ঘের বানানোর ফলে বিলের পরিমাণ কমে গেছে। যার কারণে শাপলা জন্মানোর জায়গাও কমে আসছে। গ্রাম বাংলার আনাচে-কানাচে অহরহ দেখা যেত জলে ভাসা ফুলটি। তবে এখন অযত্ন আর অবহেলায় জাতীয় ফুল শাপলা হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। সকালে অথবা চাঁদনি রাতে বিলে-ঝিলে বা জলাশয়ে ফুলটি যখন অনেক ফুটে থাকে, তখন সেখানে এক অপরূপ সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়। বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন এলাকায় খাল-বিল, জলাশয় ও নিচু জায়গায় পানি জমা থাকলে সেখানেই প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয় আমাদের জাতীয় ফুল শাপলা। দিন দিন দেশের বিল, ঝিল, খাল, নদী দখল, ভরাট, জমিতে অতি মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দিন দিন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে শাপলাফুল।

আরও পড়ুন: ‘১৬ বছর রাজপথে ছিলেন না, এখন ত্যাগ নিয়ে প্রশ্ন’: খালিদুজ্জামানকে রাশেদ

কিন্তু শাপলা ফল' বা 'ঢ্যাপ প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। এক সময় গোদাগাড়ীর বিল পাতিকলা, দুর্গাদহ, সিধনা বিল, ঝিকড়া বিলসহ পুকুর, ডোবা, মুক্ত জলাশয়ে এবং তানোর উপজেলার কুমারী বিল ও পুকুর, খাল ও জলাশয়ে শাপলা ফুল ফুটত। এসব খাল জলাশয়, পুকুর ও বিল থেকে শাপলা ফুল ও ঢ্যাপ তুলে উপজেলার হাট বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন অনেকেই। কিন্তু আস্তে আস্তে ভরাট হয়ে যাচ্ছে জলাশয়, খাল, বিল। অপর দিকে দুই উপজেলা সরকারি খাস পুকুরগুলো সরকারিভাবে লিজ দেয়ার কারণে বানিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করা হচ্ছে, গোবর, মরা মুরগি, হাঁসমুরগির নাড়িভুঁড়ি পানিকে আরও বিষাক্ত করে পচা দুগন্ধে পরিণত করছে। আবার অনেক পুকুর ভরাট করা হচ্ছে। ফলে দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে শাপলা ফুল ও ঢ্যাপ। শাপলার ফল বা ঢ্যাপ দিয়ে চমৎকার সুস্বাদু খই ভাজা হয়। যেটি গ্রাম-গঞ্জের মানুষের কাছে 'ঢ্যাপের খই' নামে পরিচিত।

এ ঢ্যাপের মধ্যে অসংখ্য বীজদানা থাকে। এসব বীজদানা রোদে শুকিয়ে চাল তৈরি করা হয়। ঢ্যাপের পুষ্টিকর চাল থেকে তৈরি করা হয় খই ও নাড়ু। খালবিল ও জমিতে অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক জলাভূমিগুলো ধ্বংসের কারণে সুস্বাদু ঢ্যাপ বিলুপ্ত হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করেন। গোদাগাড়ী পৌরসভার সাবেক কমিশনার মুকুল বলেন, আগে বাড়ির আশেপাশের পুকুর, ধানী জমির জলাশয়ে ফুটে থাকা শাপলার (লাইল) কাঁচা ও রান্না করে খাওয়ার পাশাপাশি ভ্যাট নামে পরিচিত ফল দিয়ে খই বানিয়ে খেতাম। কিন্তু এখন তো এগুলো দেখাই যায় না। যুবকেরা শাপলার ফল, ফুল সংগ্রহ করতে পানিতে নামতো ঝোঁক কামড় দিয়ে রক্তবের করে দিত। ঝোঁক মারতে সবাই লবন (নুন) ব্যবহার করতো।

দিগরাম উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ ইফতিখার হোসেন বলেন, দেশে বাড়তি জনগণের চাপের কারণে পুকুর, জলাশয় ও আবাদী জমি ভরাট করে বাড়িসহ নানা স্থাপনা নির্মাণ, পুকুরে বানিজ্যিকভাবে মাছ করার ফলে এখন পুকুর, জলাশয়ও নাই, তাই শাপলা ফুল আর দেখা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

মুন্ডুমালা পৌর এলাকার সহকারী শিক্ষিকা আসিফা খাতুন বলেন, এক সময় তানোর বিল কুমারী বিলে প্রচুর পরিমাণে শাপলা ফুল ফুটত। কিন্তু এখন আর দেখা যাচ্ছে না। তারা বলেন, তানোর বিল কুমারী বিল থেকে হারিয়ে গেছে, জাতীয় ফুল শাপলা, শালুক, লিঘাড়, সিঙ্গার, পদ্ম ফুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির জলজ ফুল ও ফল।

আরও পড়ুন: ফায়ার সার্ভিস: জুনে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছিল টুপটুপ রিসোর্টটি

গোদাগাড়ী উপজেলার সাবেক নির্বাহী অফিসার ফয়সাল আহমেদ বলেন, বাসার সামনে একটি বড় পুকুর আছে সেখানে শাপলা আছে বেশকিছু ফুলও ফুটে থাকে, দেখতে সুন্দর লাগে। কেউ না উঠালে, এগুলি এমনি বৃদ্ধি পেতে থাকে। জনপ্রতিনিধি, সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কাজে এসে এ শাপলা ফুলের ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করে আনন্দ উপভোগ করতো। উপজেলার বিভিন্ন বিল, পুকুরে প্রচুর শাপলা ফুটতো, এখন আর এগুলি দেখা যায় না। খই, নাড়ুসহ বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার তৈরী হত। তিনি আরও জানান, শাপলা আমাদের জাতীয় ফুল। এই জাতীয় ফুলকে রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। এলাকার মানুষ ইচ্ছা করলে বাসাবাড়ীর পাশের পুকুর সুন্দর দৃশ্যের জন্য করতে পারেন।

শীব নদীর উপশাখা বিল কুমারী বিল ও ট্যাংরা বিলে আমাদের বাপ-দাদা এক সময় মাছ ধরার পাশাপাশি শাপলা ফুল ও বিভিন্ন জলীয় ফল তুলে বাজারে বিক্রি করতো। কিন্তু এখন আর ফুটে না, তাই দেখা যায় না জাতীয় ফুল শাপলা, পদ্ম ফুল ও শালুকসহ জলীয় ফুল ও ফল। তিনি বলেন, এক সময় বিভিন্ন পুকুর ও জলাশয়েও জাতীয় ফুল শাপলা হরহামেশা দেখা যেত। কিন্তু এখন আর পুকুর, খাল, জলাশয়েও দেখা যায় না জাতীয় ফুল শাপলা।

উপজেলা কৃষি কর্মকতা মরিয়ম আহমেদ এ প্রতিবেদককে জানান, জলবায়ু ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে সঠিক সময়ে বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। বর্ষা শেষ না হতেই খাল-বিল ও জলাশয়গুলো শুকিয়ে যাচ্ছে এবং লবণাক্ততা বেশি হওয়ার ফলে এলাকায় শাপলা জন্মানোর ক্ষেত্র বিনষ্ট হচ্ছে। এছাড়া আবাদি জমিতে অনিয়ন্ত্রিত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার প্রয়োগের ফলে অনেক শাপলা বীজ বা মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা মা-শালুক বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে নতুন করে শাপলার গাছ জন্মাচ্ছে না। ফলে দিনে দিনে আমাদের জাতীয় ফুল শাপলার বিলুপ্তি ঘটছে।

আরও পড়ুন: এসআই পরিচয়ে প্রতারণা, নিখোঁজ সন্তানের খোঁজ মেলেনি পাঁচ দিনেও

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের চারটি মদের গুদাম সিলগালা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৭ এম


সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের চারটি মদের গুদাম সিলগালা

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের চারটি ওয়্যারহাউজ সিলগালা করা হয়েছে, যেগুলোতে ‘অননুমোদিত’ভাবে শুল্কমুক্ত মদ রাখার অভিযোগ রয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার গভীররাতে গুলশানের ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড’-এ এক যৌথ অভিযানের মাধ্যমে সেসব ওয়্যারহাউজ সিলগালা করা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এনবিআর জানায়, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এ অভিযানটি পরিচালনা করেছে।

এনবিআর-এর বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিকভাবে ‘গুরুতর অসঙ্গতি’ পাওয়ার কারণে ‘অধিকতর যাচাইয়ের জন্য’ ওয়্যারহাউজগুলো সিলগালা করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বার কাউন্সিল আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে ‘রোল মডেল’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১০ এম


বার কাউন্সিল আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে ‘রোল মডেল’

॥ এস এম আশিকুজ্জামান ॥

ঢাকা, ২ অক্টোবর, ২০২৬ : মানসম্মত পরীক্ষার মাধ্যমে আইনজীবী তালিকাভুক্তি, পেশাগত অসদাচরণের জন্য নিজেদের ট্রাইব্যুনালে বিচার এবং মৃত্যু পরবর্তী আর্থিক অনুদানের নিশ্চয়তার কারণে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল বর্তমানে পেশাজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে ‘রোল মডেল’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

‘বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনারস অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার-১৯৭২’ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির মূল দায়িত্ব দেশের নতুন আইনজীবীদের মানসম্পন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করা।

আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া

আইন বিষয়ে স্নাতক বা এলএলবি ডিগ্রিধারী আইন পেশায় যুক্ত হতে ইচ্ছুক হলে প্রথমে ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন আইনজীবীর অধীনে ছয় মাসের শিক্ষানবিশকাল সম্পন্ন করতে হয়। শিক্ষানবিশকাল শেষে বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা সম্ভব। পরীক্ষার প্রথম ধাপে নৈর্ব্যক্তিক (এমসিকিউ) পরীক্ষা, পরবর্তীতে লিখিত এবং সর্বশেষ মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে আইনজীবী সনদ অর্জনকারীরা জেলা আদালতে আইন পেশা পরিচালনার সুযোগ পান।

অন্যদিকে, হাইকোর্টের আইনজীবী হতে হলে জেলা আদালতে দুই বছর আইন পেশা পরিচালনাকারী আইনজীবীকে বার কাউন্সিলের হাইকোর্ট পারমিশন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। তবে এলএলএম ডিগ্রিধারী আইনজীবীরা জেলা আদালতে এক বছর আইন পেশা পরিচালনার পর হাইকোর্ট পারমিশন পরীক্ষা দিতে পারেন। হাইকোর্ট পারমিশনের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সফল হলে আইনজীবীরা হাইকোর্টে আইন পেশা পরিচালনার জন্য বার কাউন্সিল থেকে সনদ লাভ করেন।

আইনজীবী তালিকাভুক্তির বিষয়ে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসস’কে জানিয়েছেন, আইনজীবী তালিকাভুক্তিকরণ বার কাউন্সিলের অন্যতম প্রধান কাজ। দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রক্রিয়াটি নিয়মিত ছিল না। তবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর যতদূর সম্ভব এটি নিয়মিত করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে আইনজীবী তালিকাভুক্তির দুটি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘যার নাই কোনো গতি, সে করে ওকালতি’- এমন কথিত ধারণাকে দূরে ঠেলে আইন পেশার মান মর্যাদা বৃদ্ধি ও মেধার চর্চা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আইনজীবী তালিকাভুক্তির সিলেবাসকে যুগোপযোগী করে সংশোধন করা এবং বছরে দুটি পরীক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি প্রশ্নের মান উন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। প্রকৃত মেধাবীদের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ বিষয়ে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, সারা দেশে আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় থেকে আইনজীবীদের ট্রেনিংয়ের জন্য বার কাউন্সিলকে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আইনজীবীরা আগামীতে বার কাউন্সিলের ট্রেনিং থেকে উপকৃত হবেন।

বার কাউন্সিল গঠন

বার কাউন্সিল ১৫ জন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত। বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল পদাধিকারবলে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাকি ১৪ জন সদস্যের মধ্যে সাধারণ আসনে (৭টি) সারা দেশের আইনজীবীদের সরাসরি ভোটে ৭ জন সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া সারা দেশের স্থানীয় বার অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে (আইনজীবী সমিতি) ৭টি গ্রুপে (গ্রুপ-এ থেকে গ্রুপ-জি) ভাগ করা হয়। প্রতিটি গ্রুপ থেকে আইনজীবীদের ভোটে একজন করে মোট সাতজন সদস্য নির্বাচিত হন। সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ১৪ জন সদস্য তাদের প্রথম সভায় নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে ‘ভাইস-চেয়ারম্যান’ হিসেবে নির্বাচন করেন।

বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ এর ক্ষমতাবলে গত ৩০ জুন ১৫ সদস্যের একটি অ্যাড-হক বার কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। এই অ্যাডহক বার কাউন্সিল ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত এক বছর মেয়াদে কার্যকর থাকবে বলে আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বার কাউন্সিলে ১০ কমিটি

বার কাউন্সিলের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ১০টি কমিটি রয়েছে। এই কমিটিগুলো হলো- এক্সিকিউটিভ কমিটি, এনরোলমেন্ট কমিটি, ফিন্যান্স কমিটি, লিগ্যাল এডুকেশন কমিটি, ল রিফর্ম কমিটি, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড লিগ্যাল এইড কমিটি, হাউস কমিটি, রিলিফ কমিটি, রোল অ্যান্ড পাবলিকেশন কমিটি এবং কমপ্লেইন্ট অ্যান্ড ভিজিল্যান্স কমিটি।

আইনজীবী তালিকাভুক্তি ও পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ এনরোলমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান প্রধান বিচারপতি মনোনীত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি। এছাড়া প্রধান বিচারপতি মনোনীত হাইকোর্টের অপর দুজন বিচারপতি এই কমিটির সদস্য হিসেবে থাকেন। অ্যাটর্নি জেনারেল (পদাধিকারবলে) এবং বার কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে নির্বাচিত একজন আইনজীবীও এনরোলমেন্ট কমিটির সদস্য হন।

আইনজীবীর অসদাচরণ বিচারে ট্রাইব্যুনাল

আইনজীবীদের পেশাগত অসদাচরণের বিচার করার জন্য বার কাউন্সিলের অধীনে একটি ট্রাইব্যুনাল রয়েছে। এই ট্রাইব্যুনাল আইনজীবীদের বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগের তদন্ত ও বিচার কার্য পরিচালনা করে।

সাক্ষ্য গ্রহণ, সমন জারি এবং অন্যান্য কার্যধারার ক্ষেত্রে দেওয়ানি কার্যবিধির ক্ষমতা রয়েছে বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনালের। পেশাগত অসদাচরণের জন্য দোষী প্রমাণিত হলে আইনজীবীর বিরুদ্ধে মূলত তিন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এগুলো হলো- তিরস্কার বা ভর্ৎসনা, আইনজীবী সনদ সাময়িক বাতিল বা স্থগিতকরণ অথবা পেশা থেকে স্থায়ী বহিষ্কার। তবে বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনালের কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আদেশ পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

আইনজীবীদের অসদাচরণের বিচারের বিষয়ে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বাসস’কে জানিয়েছেন, কোনো আইনজীবীর বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ আসলে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে অভিযুক্ত আইনজীবীকে তার বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অভিযোগকারী ব্যক্তিকে তার অভিযোগ উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়। বর্তমানে বার কাউন্সিলে পাঁচটি ট্রাইব্যুনাল পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ করছে এবং অনেক অভিযোগ নিষ্পত্তি হচ্ছে। দেশের পেশাজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিল একটি ‘রোল মডেল’ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আর্থিক অনুদানে বেনাভোলেন্ট ফান্ড

কোনো আইনজীবী মৃত্যুবরণ করলে তার নমিনি বা পরিবার বার কাউন্সিলের (বেনাভোলেন্ট ফান্ড) তহবিল থেকে আর্থিক অনুদান পেয়ে থাকেন। কত বছর চাঁদা দেওয়া হয়েছে সে অনুযায়ী চাঁদা দানকারী আইনজীবীর মৃত্যুদাবির টাকা নির্ধারিত হয়। যেখানে ৪০ বছর বা তার চেয়ে বেশি সময় চাঁদা দানকারীর মৃত্যুদাবি ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বেনাভোলেন্ট ফান্ড বিষয়ে বার কাউন্সিলের সচিব (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ কামাল হোসেন সিকদার বাসস’কে জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৭ কর্মদিবসের মধ্যে আইনজীবীর মৃত্যুদাবির টাকার চেক স্ব-স্ব আইনজীবী সমিতির মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হয়।

সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন দৃষ্টিনন্দন ১৫ তলা বিশিষ্ট বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ভবনে আইনজীবীদের জন্য উন্নত মানের রেস্ট হাউজ সুবিধা রয়েছে। আইনজীবীরা নির্ধারিত ভাড়া দিয়ে এই রেস্ট হাউজে থাকতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যোগদানকৃত প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের পদায়নের সময় বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১০ এম


যোগদানকৃত প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের পদায়নের সময় বৃদ্ধি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীদের জন্য যোগদান আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়েছে। প্রার্থীরা নিয়োগপত্রের শর্ত পূরণ করে যোগদান করছেন। তবে, পদায়নের জন্য অপেক্ষা বেড়ে গেছে। যোগদানকৃত প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের জন্য পদায়নের সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। আজ রাতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি আদেশে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, নবনিযুক্ত শিক্ষকগণের পদায়ন আদেশের তারিখ ৪ অক্টোবরের পরিবর্তে ১১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, ১ অক্টোবর যোগদানকৃত শিক্ষকগণের জন্য ৪ অক্টোবর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণের আয়োজন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আদেশের কপি ৩ পার্বত্য জেলা ব্যতীত অন্যান্য সব জেলা সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এই ফল প্রকাশ করা হয়। যাচাই-বাছাইয়ের পর ২৪ সেপ্টেম্বর নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলো প্রকাশ করে। তাদের ১ অক্টোবরের মধ্যে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে, সুপারিশ পাওয়ার পরও অনেকের নাম চূড়ান্ত নিয়োগের তালিকায় না থাকায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে কেউ কেউ পরে নিয়োগপত্র পেয়েছেন, আবার অনেকেই গতকাল পর্যন্ত নিয়োগপত্র পাননি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়া ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের মধ্যে ৫৩০ জন নিজের ইচ্ছায় আবেদন করেননি অথবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। ফলে চূড়ান্ত আবেদনের সংখ্যা ১৩ হাজার ৮৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এই শিক্ষকদের মধ্যে এখনো প্রায় শতাধিকের বেশি প্রার্থীকে চূড়ান্ত নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এলপিজি মজুদ করছে শীর্ষ ৫ কম্পানি-গোয়েন্দা প্রতিবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১১ এম


এলপিজি মজুদ করছে শীর্ষ ৫ কম্পানি-গোয়েন্দা প্রতিবেদন

দেশের শীর্ষ পাঁচটি কম্পানি আমদানি করা তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে, এই বিষয়ে সরকারকে খতিয়ে দেখতে বলেছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)।

টাইমস অব বাংলাদেশের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে সংস্থাটি পাঁচটি বড় এলপিজি কম্পানির নাম উল্লেখ করেছে। এই কম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে আইগ্যাজ, ওমেরা, পেট্রোম্যাক্স, বিএম এনার্জি ও যমুনা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ২২ সেপ্টেম্বর থেকে এসব কম্পানি এলপিজির কিছু চালান আটকে রেখেছে।

এদিকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার দুই হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সেপ্টেম্বরে এই সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করেছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।

তবে দেশে এলপিজি আমদানির পরিমাণের হিসাবে সার্বিক সরবরাহ সংকটের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না। এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমদানি করা এলপিজির বড় একটি অংশ স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাজারে না ছেড়ে আটকে রাখা হয়ে থাকতে পারে।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি দেখছি।’

সরকারি তথ্যের বরাত দিয়ে এনএসআই জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে দেশে প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। আগস্টে আমদানি হয়েছিল প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার টন।

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলওএবি) তথ্যের সঙ্গেও এই হিসাবের মিল রয়েছে। সংগঠনটি এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, দেশে এলপিজি আমদানি সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে এবং সেপ্টেম্বরে আমদানি হওয়া এলপিজি চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট।

এনএসআই বলেছে, এলপিজি আটকে রাখার অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। কারণ অক্টোবর থেকে প্রতি টন এলপিজির অতিরিক্ত দাম প্রায় ৬৪ ডলার বেড়েছে। চালান আটকে রাখার সময়ের সঙ্গে এই দাম বাড়ার সময়ের মিল রয়েছে।

অক্টোবরে দাম বাড়ার আগে কোনো আমদানি করা এলপিজি ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে সরকারকে বলেছে এনএসআই। দাম বাড়ার পর এসব চালান বাজারে ছাড়া হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্ত করতে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগ সত্য হলে আমদানিকারকেরা বাড়তি বাণিজ্যিক সুবিধা পেতে পারেন। এতে বাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বাড়তে পারে। এনএসআই বলেছে, বর্তমানে বাজার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যে হারে দাম বাড়ার চাপ সামলাতে পারে, তার চেয়েও বেশি হারে এলপিজির দাম বাড়ছে। এর ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে এবং শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়ছে ভোক্তাদের ওপর।

দাম বাড়ার পেছনে প্রকৃত সরবরাহ সংকট রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছে এনএসআই। একই সঙ্গে পণ্য মজুদ করে রাখা, চালান বাজারে ছাড়তে দেরি করা বা অন্য কোনো কারণে দাম বাড়ছে কি না, সেটিও তদন্ত করতে বলা হয়েছে।

২২ সেপ্টেম্বর থেকে বড় আমদানিকারকদের কাছে থাকা এলপিজির মজুদের জরুরি হিসাব করার নির্দেশনা দেওয়ার কথা বলেছে সংস্থাটি। এতে প্রতিটি চালান কখন এসেছে, কখন খালাস হয়েছে, কত পণ্য মজুদ রয়েছে এবং কবে বাজারে ছাড়া হয়েছে—এসব তথ্য রাখতে বলা হয়েছে।

অক্টোবরে দাম বাড়ার আগে আমদানি করা কত পরিমাণ এলপিজি দাম সমন্বয়ের পরও বাজারে ছাড়া হয়নি, তা বের করতেও বলেছে এনএসআই। বাড়তি দাম বা বেশি মুনাফার আশায় কোনো আমদানিকারক বা বাজারের অন্য কোনো পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে চালান ছাড়তে দেরি করেছে কি না, সেটিও তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বাজারে যে পরিমাণ এলপিজি মজুদ থাকার কথা বলা হচ্ছে, তা স্বাভাবিক ব্যবসায়িক প্রয়োজন ও বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করতে বলেছে সংস্থাটি।

বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন এলপিজি আমদানি, মজুদ ও বাজারে সরবরাহের তথ্য নজরদারির সুপারিশ করেছে এনএসআই। সরবরাহে বাধা বা অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পেছনে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

সংস্থাটি পর্যাপ্ত আমদানি করা এলপিজি বাজারে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে। এতে অতিরিক্ত মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি বা স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা সৃষ্টি ঠেকানো সম্ভব হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে এলওএবি তার সদস্য কম্পানি, পরিবেশক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের বিইআরসি নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রির নির্দেশ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, দেশে এলপিজি আমদানি সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। সেপ্টেম্বরে আমদানি হওয়া এলপিজি দেশের চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট। তাই কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ নেই।

বিইআরসি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি বা অনুমোদন ছাড়া এলপিজি মজুদ করলে সংশ্লিষ্ট অপারেটর, পরিবেশক, ডিলার বা খুচরা বিক্রেতারা আইন লঙ্ঘন করবেন বলেও সতর্ক করেছে এলওএবি। এ ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

সরকারও এলপিজির বাজারে নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এলওএবি জানিয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বর অনলাইনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের এলপিজির বাজার পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন।

ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে এলওএবি। এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে নাম থাকা ওমেরা পেট্রোলিয়াম চালান আটকে রেখে বাজারে সরবরাহ কমানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ওমেরা পেট্রোলিয়ামের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে এলপিজির সরবরাহ নিশ্চিত করাকে তারা সব সময় অগ্রাধিকার দেন। বাজারে অস্থিরতা বা সরবরাহে সমস্যা হলেও এই নীতি থেকে তারা সরে আসেননি।

প্রতিবেদনে নাম থাকা আরেকটি কম্পানির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, প্রতিটি চালানের গতিবিধি নথিভুক্ত থাকে। তাই অভিযোগটি তাদের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মেলে না। তিনি আরো বলেন, কর্তৃপক্ষ কোনো প্রশ্ন করলে প্রয়োজনীয় নথিপত্র দিয়ে তারা তার জবাব দিতে পারবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%