০৯:৪৫ পি.এম
বুধবার সংসদে পবিত্র কোরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির সংসদ সদস্য (এমপি) আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ পবিত্র কোরআনের আয়াত তিলাওয়াতের পর বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, বাজেট বরাদ্দের জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীদের শোকর না করলে বিরোধীদল আজাবের সম্মুখীন হতে পারে। বিরোধী দল তাঁর এই বক্তব্যকে কোরানের প্রতি ব্যঙ্গাত্মক আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ জানায়। এরপর সরকার ও বিরোধী দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন।
বিরোধী দল বাজেট প্রত্যাখান করে মিছিল করায় কক্সবাজার-২ আসনের এমপি আলমগীর ফরিদ তার সমালোচনার ঝড় তুলেন। তিনি বলেন, ‘ডান পাশে থাকা বন্ধুরা কেন সেদিন মিছিল করেছিল তা আমি জানতে পারি নাই। আমাদের কাছে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে এবং মন্ত্রীদের কাছে বাজেট বিজ্ঞাপন চাইবে, বরাদ্দ চাইবে। কিন্তু রাস্তায় গিয়ে মিছিল করবে!’
এ সময় আলমগীর ফরিদ সুরা ইব্রাহিমের সাত নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করেন। এর অর্থ হচ্ছে, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে আল্লাহ নিয়ামত বৃদ্ধি করে দেবেন এবং অকৃতজ্ঞ হলে কঠিন শাস্তি দেবেন। আয়াত পড়ার পর বিএনপির এমপি বলেন, ‘শোকর করতে হবে জীবনের জন্য। শোকর করতে হবে বরাদ্দের জন্য। শোকর করতে হবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁরেক রহমানের জন্য। শোকর করতে হবে মাননীয় মন্ত্রীদের জন্য। তারা (বিরোধীদল) শোকর করে না। কিন্তু অস্বীকার করে। সেই কারণে তাদের ওপর লা শাহিবুল আজাব (কঠিন শাস্তি), কঠিন আজাব তাদের সম্মুখীন করতে হবে।’
আরও পড়ুন: ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন শহরে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগের কথা বললেন
এ বক্তব্য শোনার পর পয়েন্ট অব অর্ডারে জামায়াতে ইসলামীর এমপি নাজিবুর রহমান বলেন, কোরআন এবং হাদিস ঠাট্টা-বিদ্রুপের বিষয় নয়। যদি এই বিষয় নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা হয় তাহলে তা খুবই দুঃখজনক। তিনি দাবি করেন, আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং বলেন, ‘তাদের প্রশংসা করলে বরাদ্দ বাড়িয়ে দেবেন। আর বিরোধিতা করলে, পিটাবেন নাকি? এ ধরনের বোঝাতে চাচ্ছেন?’
জামায়াত এমপি আরও বলেন, হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা, কোরানের অবমাননাকর কিছু করা যাবে না। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আলমগীর ফরিদ কোরআন নিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্য করতে পারেন না। তাঁর বক্তব্য পরীক্ষা করে দেখা হবে। যদি ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তাহলে এদেশে কখনও গ্রহণযোগ্য হবে না।
সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে স্পিকারের বক্তব্যকে সমর্থন জানান। এ পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ফ্লোর নিয়ে বলেন, আলমগীর ফরিদ একজন মাওলানা। তিনি প্রসঙ্গক্রমে কোরআনের আয়াতটি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করি, আল্লাহ আমাদেরকে আরও বাড়িয়ে দেবেন’। বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে অপব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না বলে উল্লেখ করেন।
এরপর বিরোধী দল আপত্তি জানাতে থাকলে স্পিকার বলেন, এই বিষয় নিয়ে বিতর্ক হোক আমি চাই না। এ সময় স্পিকার মুজিবুর রহমানকে ফ্লোর দেন। তিনি আয়াতটির নাজিলের প্রেক্ষাপট ও অর্থ বর্ণনা করেন এবং বলেন, বিতর্ক হয় এমন কোন কিছু তুলবেন না।
আরও পড়ুন: বাঁশপাতার চায়ের উদ্ভাবনী ধারণায় দেশসেরা বেরোবির মাহিদ-আজিজ, পাচ্ছেন লাখ টাকার ফান্ড
জামায়াত নায়েবে আমির বিরোধী দলকে বাজেটের প্রশংসা করতে হবে বলে সরকারি দলীয় এমপিদের এই মানসিকতার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বাজেটের প্রশংসা না করলে বিরোধী দলের ওপর আজাব আসবে, এই পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছেন। এই কথাটা মোটেও সঠিক নয়। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, সংসদ সদস্য মাহফুজুল্লাহ একজন আলেম। তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে বলেছেন কিনা তা স্পিকার জানতে চাইতে পারেন। এই আলোচনা এখানেই শেষ হোক। পরে আবার বাজেট আলোচনায় ফিরে যান স্পিকার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন