ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরানে শিগগিরই ভয়ংকর ২০টি যুদ্ধবিমান পাঠাতে যাচ্ছে রাশিয়া


ইরানে শিগগিরই ভয়ংকর ২০টি যুদ্ধবিমান পাঠাতে যাচ্ছে রাশিয়া

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ইরানের জন্য ২০টি অত্যাধুনিক সু-৩৫ (সুখোই-৩৫) যুদ্ধবিমান পাঠাতে যাচ্ছে। ২০টি যুদ্ধবিমানের প্রথম ব্যাচের উৎপাদন ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। আশা করা যাচ্ছে চলতি বছরেই বাকি বিমানগুলো তৈরির কাজ সম্পন্ন হবে। তেহরানের বিমানবাহিনীকে আধুনিকায়নের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় এটি একটি বড় এবং যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘মিলিটারনি ওয়াচ ম্যাগাজিন’-এর তথ্য দ্বারা জানা যাচ্ছে, যুদ্ধবিমানগুলো রাশিয়ার কোমসোমলস্ক-অন-আমুর অ্যাভিয়েশন প্ল্যান্টে নির্মাণ করা হয়েছে। বিমানগুলো বর্তমানে রাশিয়াতেই অবস্থান করছে এবং চূড়ান্তভাবে ইরানের কাছে হস্তান্তরের পূর্বে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার ব্যয়ভার বহন করছে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

আচমকা আক্রমণ চালানোর জন্য সুখোই-৩৫ যুদ্ধবিমানটির প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিমি (১,০০০ মাইল) কমব্যাট রেডিয়াস রয়েছে। ন্যাটো দ্বারা প্রাপ্ত সাংকেতিক নাম ফ্ল্যাঙ্কার-এম বা ‘সুপার ফ্ল্যাঙ্কার’ হিসেবে পৌচিত রয়েছে। এই ফাইটার জেট শত্রু ভূখণ্ডের অনেক গভীরে ঢুকে আক্রমণ চালানোর জন্য সক্ষম। সংক্ষিপ্ত বা অস্থায়ী রানওয়ে থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণের বিশেষ ক্ষমতা থাকায় এটি বৃহৎ বিমানঘাঁটিতে নির্ভর করে না, যা শত্রুর পক্ষ থেকে এটিকে নিষ্ক্রিয় করা কঠিন করে তোলে।

আরও পড়ুন: ট্রাম্প প্রশাসনের গোপন যোগাযোগ ইরানের সঙ্গে, হামলার হুমকি প্রকাশ্যে

যুক্তরাষ্ট্রের লকহিড মার্টিনের তৈরি আধুনিক এফ-৩৫ বা চীনের শেনিয়াং জে-১৬-এর মতো যুদ্ধবিমানের চেয়ে সুখোই-৩৫ কিছুটা কম অত্যাধুনিক হলেও যুদ্ধক্ষেত্রে এটি বিশ্বের অন্যতম সফল ও পরীক্ষিত (ব্যাটল-টেস্টেড) ফাইটার জেট। ‘মিলিটারনি ওয়াচ ম্যাগাজিন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন প্রযুক্তির আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সংযোজনের মাধ্যমে এই বিমানটিকে আরও উন্নত করা হচ্ছে।

সাধারণভাবে রাশিয়া প্রতি বছর গড়ে ১৪টির মতো সুখোই-৩৫ যুদ্ধবিমান তৈরি করে, যা তাদের চাহিদার তুলনায় ধীরগতির। কিন্তু, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। ২০২৫ সালের মে মাসে রাশিয়ার ইউনাইটেড এয়ারক্রাফট কর্পোরেশনের (ইউএসি) মহাপরিচালক ভাদিম বাদেখা জানিয়েছেন, বিমান উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চলছে। ইরানের ক্রয়াদেশকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেওয়ার ফলে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে রাশিয়ার নিজ বিমানবাহিনীর জন্য নতুন সুখোই-৩৫ সরবরাহের পরিমাণ কিছুটা কমে যেতে পারে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

২০২৫ সালের শেষে মুক্তি পাওয়া রাশিয়ার সরকারি নথিপত্র থেকে দেখা গেছে, ইরান ৪৮টি সুখোই-৩৫ যুদ্ধবিমানের অর্ডার দিয়েছে। এটি ইরানি কর্মকর্তাদের আগের একটি অস্পষ্ট বিবৃতির সত্যতা নিশ্চিত করে, যেখানে তারা সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ না করে রাশিয়া থেকে বড় আকারে যুদ্ধবিমান কেনার কথা জানিয়েছিলেন।

মূলত, ২০২৩ সালে রাশিয়ার সাথে একটি বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইরান এবং এটি ১৯৯০-এর দশকের পর প্রথম আধুনিক ফাইটার জেট কেনার সংক্রান্ত চুক্তি। যাতে সুখোই-৩৫ ছাড়াও মিল মি-২৮ অ্যাটাক হেলিকপ্টার ও ইয়াকোভলেভ ইয়াক-১৩০ জেট ট্রেইনার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় ৫২৫ জন আটক, মামলা ৪৬

আন্তর্জাতিক বাজারে সুখোই-৩৫ নিয়ে অন্য দেশের আগ্রহ কম। এর মূল কারণ বিমানটির কিছুটা সেকেলে অ্যাভিওনিক্স এবং এটি কিনলে মার্কিন বা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ার সম্ভাবনা।

বর্তমানে ইরান নতুন যুদ্ধবিমান বহরের জন্য পাইলটদের বিশেষ প্রশিক্ষণ শুরু করেছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাশিয়ার তৈরি ইয়াকোভলেভ ইয়াক-১৩০ ট্রেইনার বিমান সরবরাহ শুরু হয়েছে, যা আগামীতে সুখোই-৩৫ পরিচালনার জন্য পাইলটদের প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে গৃহীত হচ্ছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ হয়েছে, ইরানে সুখোই-৩৫ সরবরাহ ২০২৬ সালের মধ্যেই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কিছু আন্তর্জাতিক সূত্রের দাবি, হামাদান বিমানঘাঁটির সাম্প্রতিক ক্ষয়ের কারণে এই বিমান মোতায়েন প্রক্রিয়া কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে। খবর পাওয়া গেছে, রুশ ও ইরানি ইঞ্জিনিয়ারিং দলগুলো দ্রুত সংস্কারের কাজ করছে।

আরও জানা যায়, রাশিয়ার কাছে ইরান আরও ১২টি সুখোই-৩০এসএম২ ফাইটারের অর্ডার দিয়েছে। ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই সরবরাহ শুরু হতে পারে। সুখোই-৩০এসএম২ মূলত সুখোই-৩৫-এর তুলনায় কিছুটা কম জটিল সংস্করণ। এটি আক্রমণাত্মক মিশনে অত্যন্ত কার্যকর বলে বিবেচিত হয়।

আরও পড়ুন: মিরপুর-১০ এ ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

এছাড়া, ইরান রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ ফাইটার সুখোই সু-৫৭ ক্রয়ের চেষ্টা করতে পারে বলেও গুঞ্জন আছে। তবে, রাশিয়ার উৎপাদন জটের কারণে ২০৩০ সালের আগে এর সরবরাহ সম্ভব নাও হতে পারে।

স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইরান প্রথম আধুনিক যুদ্ধবিমান অর্জন করার বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্যের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ইরান এখনও স্নায়ুযুদ্ধ আমলের পুরোনো মার্কিন বিমানবহরের ওপর নির্ভরশীল, যার মধ্যে গ্রুম্যান এফ-১৪এ টমক্যাট, ম্যাকডোনেল ডগলাস এফ-৪ডি/ই ফ্যান্টম ২ ও নর্থরপ এফ-৫ই/এফ টাইগার ২ রয়েছে।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগে কেনা পশ্চিমা প্রযুক্তির বিমানের ওপর ইরানের বিমানবাহিনী নির্ভর করে আসছে। অনেকগুলো বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ এখন সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ ১৯৯০-এর দশকে রাশিয়া থেকে মিকোয়ান মিগ-২৯ বিমান কেনার পর তেহরান নতুন কোনো ফাইটার বহর যুক্ত করতে পারেনি।

যদিও ইরান কয়েক দশকে প্রযুক্তিতে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরি করেছে, তবে বিমান বা এভিয়েশন সক্ষমতায় তারা প্রতিবেশীদের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।

আরও পড়ুন: আগামী চার বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে কার্ড দেবে সরকার

প্রযুক্তির দিক থেকে পুরোনো হলেও, ইরানি বিমানগুলো সাম্প্রতিক সংঘর্ষে কিছু আকাশ প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক মিশন সফলভাবে পরিচালনা করেছে। সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই সুখোই সু-৩৫ যুদ্ধবিমানের অন্তর্ভুক্তি ইরানের বিমানবাহিনীকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে আকাশ অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে তেহরানের কৌশলগত সক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাইয়ের কলমযোদ্ধা রায়হান থাইল্যান্ডে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নীলফামারী স্টাফ রিপোর্ট

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২৫ পি.এম


জুলাইয়ের কলমযোদ্ধা রায়হান থাইল্যান্ডে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন

জুলাই বিপ্লবের উত্তাল দিনগুলোতে রাজপথে বুক চিতিয়ে সত্য তুলে ধরতে গিয়ে পুলিশি হামলার শিকার হয়েছিলেন নীলফামারীর অকুতোভয় সাংবাদিক রায়হান আলী। দেশের মানুষের মুক্তির জন্য কলম হাতে লড়াই করা সেই অদম্য তরুণ আজ হাসপাতালের বিছানায় নিজের জীবনের সঙ্গে লড়াই করছেন। দেশের মাটিতে দীর্ঘ চিকিৎসার পর একটু সুস্থতার আশায় বর্তমানে তাকে থাইল্যান্ডের ব্যাংককস্থ ভেজথানি হাসপাতালে (Vejthani Hospital) ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে প্রতিটি মুহূর্ত অসহ্য যন্ত্রণা আর চরম অনিশ্চয়তায় কাটছে এই কলম সৈনিকের।

৪ আগস্টের সেই রক্তঝরা দিন

গত ৪ আগস্ট ২০২৪ সালে নীলফামারীর চৌরঙ্গী মোড়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন রায়হান। সে সময় পুলিশের বেপরোয়া ও নির্মম হামলার মুখে পড়েন তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে নীলফামারী সদর হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। সিএমএইচের অর্থোপেডিক্স বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডক্টর হামিদ স্যারের অধীনে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর, চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে থাইল্যান্ডে পাঠানো হয়।

১৮টি অস্ত্রোপচার, তবু কাটেনি শঙ্কা

থাইল্যান্ডের ভেজথানি হাসপাতাল থেকে রায়হানের পরিবার জানিয়েছে, এ পর্যন্ত তার শরীরে ১৮টিরও বেশি জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। কিন্তু সুস্থ হওয়ার পথ এখনো অনেক দীর্ঘ। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সামনে আরও কয়েক দফা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় পার হলেও তার শরীর এখনো পুরোপুরি সাড়া দিচ্ছে না। প্রতিটি দিন ও রাত কাটছে তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা ও নির্ঘুম আশঙ্কায়।

নিঃস্ব পরিবার, অবুঝ শিশুর অপেক্ষা

সাংবাদিক রায়হান আলী তার ৭ সদস্যের পরিবারের বড় ছেলে। বাবা মো. আলী হোসেন একজন সাধারণ কৃষক, মা রাহেনা বেগম এবং স্ত্রী মোছা: রুপালি। বর্তমানে রায়হানের একমাত্র ৪ বছর বয়সী অবুঝ শিশুপুত্র লাবিব ও বৃদ্ধ বাবা-মা দিন গুনছেন চরম উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায়। বাবার পথ চেয়ে থাকা ছোট্ট লাবিবের চোখের জল আর সন্তানের সুস্থতার জন্য বাবা-মায়ের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে নীলফামারী সদরের পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের উত্তরা শশী পুরানা কাছারি পাড়া গ্রামের আকাশ-বাতাস।

চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে আজ নিঃস্ব এই পরিবারটি। মাথা গোঁজার শেষ সম্বল বসতভিটা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই তাদের। অশ্রুভেজা চোখে রায়হানের পরিবার জানায়:

"রায়হান সাংবাদিকতা করতে গিয়ে, দেশ ও মানুষের কথা বলতে গিয়ে আজ পঙ্গুত্বের দোরগোড়ায়। চিকিৎসা চালাতে গিয়ে আমাদের সব সম্বল শেষ। আমরা এখন দেশবাসীর দোয়া আর একটু সহযোগিতা ছাড়া আর কিছুই চাওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।"

পাশে দাঁড়ানোর আকুতি

রায়হান আলী অনলাইন নিউজ পোর্টাল 'তালাশ বিডি' এবং 'স্বদেশ বার্তা২৪'-এর সঙ্গে যুক্ত থেকে সততার সাথে সাংবাদিকতা করে আসছিলেন। রায়হানের সহকর্মী ও সাংবাদিক সমাজ মনে করেন, জুলাই বিপ্লবের এই সম্মুখ যোদ্ধার পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, বরং একটি নৈতিক দায়বদ্ধতা। অদম্য এই সাংবাদিক যেন আবার সুস্থ হয়ে দেশ ও মানুষের সেবায় ফিরতে পারেন, সে জন্য দেশের বিত্তবান, প্রবাসী সমাজ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জরুরি আর্থিক সহায়তার আকুল আবেদন জানিয়েছে তার পরিবার।

📞 যোগাযোগের ঠিকানা ও নম্বর:

যোগাযোগের মোবাইল নম্বর: 01770829111

গ্রাম: উত্তরা শশী পুরানা কাছারি পাড়া (২ নং ওয়ার্ড, পঞ্চপুকুর ইউনিয়ন)

উপজেলা ও জেলা: নীলফামারী সদর।

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক (বাংলাদেশ): ডক্টর হামিদ (অর্থোপেডিক্স বিভাগ, ঢাকা সিএমএইচ)।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁপাই ব্লাড ডোনেট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শাহিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২৯ পি.এম


চাঁপাই ব্লাড ডোনেট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সম্পন্ন

‘সবুজের পথে আরেকটি সফল পদক্ষেপ’—এই প্রত্যয় নিয়ে পরিবেশ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে ‘চাঁপাই ব্লাড ডোনেট ফাউন্ডেশন’।

আজ রোববার সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার রমন মাহমুদের সার্বিক সহযোগিতায় এবং গোমস্তাপুর উপজেলা শাখার আয়োজনে এই কর্মসূচির প্রথম ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এতে কেন্দ্রীয় কমিটি, গোমস্তাপুর ও নাচোল শাখার সদস্যরা সমন্বিতভাবে অংশ নেন।

কর্মসূচি চলাকালীন সংগঠনের একঝাঁক তরুণ ও প্রাণবন্ত স্বেচ্ছাসেবী বিভিন্ন ফাঁকা স্থানে ফলজ, বনজ ও ফুলের চারা রোপণ করেন। তরুণদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

অনুষ্ঠানে চাঁপাই ব্লাড ডোনেট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার রমন মাহমুদ বলেন:

"আজ প্রথম ধাপে গোমস্তাপুর উপজেলা শাখার আয়োজনে আমাদের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলো। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আমরা চলতি বছরেই পর্যায়ক্রমে চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রতিটি অঞ্চলে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ছড়িয়ে দিতে চাই।"

উল্লেখ্য, চাঁপাই ব্লাড ডোনেট ফাউন্ডেশন শুধু রক্তদানেই সীমাবদ্ধ নয়; তারা বরাবরই সমাজের প্রতিটি মানবিক ও ভালো কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। সচেতনতামূলক বিভিন্ন ক্যাম্পেইনসহ সমাজ পরিবর্তনে নানামুখী উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে সংগঠনটির সক্রিয় ভূমিকা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অ্যাটর্নি জেনারেলকে ‌‘হুমকি’ দিয়ে শোকজ খেলেন চার ডেপুটি অ্যাটর্নি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২৯ পি.এম


অ্যাটর্নি জেনারেলকে ‌‘হুমকি’ দিয়ে শোকজ খেলেন চার ডেপুটি অ্যাটর্নি

অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে চারজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, এই চারজনের আচরণ গুরুতর অসদাচরণ এবং সরকারি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টির শামিল।

কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া চারজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন মো. জহিরুল ইসলাম সুমন, মো. রফিকুল ইসলাম মন্টু, মুহাম্মদ মাসুদ রানা এবং মো. আশিকুজ্জামান নজরুল।

নোটিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে অ্যাটর্নি জেনারেল কর্মরত থাকাকালীন তার কার্যালয়ে ওই চার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে বিচারপ্রার্থী ও অন্য আইন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অসংযত আচরণ করা হয়। তারা তাকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন। এছাড়াও তারা হুমকি দেন যে, যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।

নোটিশে আরও বলা হয়, এসব ঘটনার ভিডিও কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে সংরক্ষিত রয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন কারণ দর্শানোর নোটিশটি জারি করেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে গুরুতর অসদাচরণ ও সরকারি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টির ঘটনা উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সেটা জানতে নোটিশ পাওয়ার তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল গণমাধ্যমকে বলেন, এটি শৃঙ্খলাজনিত ও অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩৩ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দিয়েছে পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩২ পি.এম


৩৩ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দিয়েছে পুলিশ

সরকার পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদমর্যাদারসহ ৩৩ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তালিকায় থাকা প্রথম দুজন কর্মকর্তা বর্তমানে গ্রেফতার রয়েছেন। তাঁরা হলেন— রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সংযুক্ত ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে সংযুক্ত বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) ডিআইজি মো. সাইফুল ইসলাম।

এছাড়া, তালিকায় পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), অতিরিক্ত ডিআইজি এবং পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তারাও রয়েছেন।

ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন— সিলেট রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ, রংপুর রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত শাহ মিজান শাফিউর রহমান, সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সংযুক্ত এস এম মোস্তাক আহমেদ খান, চট্টগ্রাম রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত জিহাদুল কবির, রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সংযুক্ত মঈনুল হক, সিলেট রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত মো. ইলিয়াছ শরীফ, এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্স ঢাকায় সংযুক্ত শ্যামল কুমার নাথ, চট্টগ্রাম রেঞ্জের মো. জাকির হোসেন খান ও মো. শাহ আবিদ হোসেন, ঢাকায় এন্টি টেরোরিজম ইউনিটে সংযুক্ত মো. জামিল হাসান, খুলনা রেঞ্জের মো. মাহবুবুর রহমান এবং সিলেট রেঞ্জের মো. মনিরুজ্জামান।

এছাড়া, অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে পুলিশ একাডেমি সারদায় সংযুক্ত মো. বরকতুল্লাহ খান ও টি.এম. মোজাহিদুল ইসলাম, বরিশাল রেঞ্জের মো. আনোয়ার হোসেন খান, রাজশাহী রেঞ্জের মোহাঃ মনিরুজ্জামান ও মো. মেহেদুল করিম, রংপুর রেঞ্জের মো. আলমগীর কবীর, পিটিসি রংপুরে সংযুক্ত মো. রশীদুল হাসান, রংপুর রেঞ্জের সঞ্জয় কুমার কুণ্ডু, সিলেট রেঞ্জের মো. নিজামুল হক মোল্যা, ঢাকায় এন্টি টেরোরিজম ইউনিটে সংযুক্ত এস এম এমরান হোসেন, খাগড়াছড়িতে এপিবিএন বিশেষ ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান, রংপুর রেঞ্জের ড. শামসুন্নাহার, রংপুর রেঞ্জের মো. সাইফুল্লাহ আল মামুন, রাজশাহী রেঞ্জের খান মুহাম্মদ রেজোয়ান, খুলনা রেঞ্জের মো. সাজিদ হোসেন, রংপুর রেঞ্জের শেখ রফিকুল ইসলাম এবং রাজশাহী রেঞ্জের মো. মাশরুকুর রহমান খালেদকে অবসরে পাঠানো হয়েছে।

এর পাশাপাশি পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে চট্টগ্রাম রেঞ্জের মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন এবং ময়মনসিংহ রেঞ্জের মো. আব্দুল্লাহ আরেফকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের এই কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ (২০১৮ সালের ৫৭ নং আইন)-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হলো। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে, বিধি অনুযায়ী তারা অবসরজনিত সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%