০৬:৪৭ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তাহের রহমানের আসন্ন মালয়েশিয়া সফরের মাধ্যমে বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালুর একটি বড় সুযোগ তৈরি হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।
সোমবার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিদেশে শ্রম বাজার সম্প্রসারণ নিয়ে এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ প্রত্যাশার কথা জানান।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাহের রহমানের আসন্ন মালয়েশিয়া সফরের মধ্য দিয়ে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে বড় সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী তাহের রহমানের প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন এবং তিনি আগামী ২১ থেকে ২২ জুন কুয়ালালামপুর সফর করবেন। এর পর, তিনি ২৩ থেকে ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রী চীন সফর করবেন। সরকারপ্রধানের কুয়ালালামপুর থেকে সরাসরি বেইজিং যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, শ্রমবাজার ইস্যুতে থাইল্যান্ডসহ প্রায় ১৮টি দেশে ১৮টি এমওইউ পাঠানো হয়েছে, যা স্বাক্ষরের অপেক্ষায় আছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই কাজগুলো সম্পন্ন হচ্ছে।
কর্মসংস্থানের জন্য সম্প্রতি রাশিয়াতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন কিছু বাংলাদেশি, কারণ তাদের ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার চলমান যুদ্ধে জড়ানোর মতো ঘটনা ঘটেছে।
এ প্রসঙ্গে, নুরুল হক নুর বলেন, রাশিয়ায় এখন থেকে যারা যাবেন, তারা যেন কোনোভাবেই যুদ্ধে না জড়ান এবং ওয়ার্কিং ভিসায় যান। এ বিষয়ে দূতাবাস ও বিএমইটি কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করবে।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
তিনি জানান, সরকারের আগামী পাঁচ বছরের টার্গেটে রাশিয়ায় ৩-৪ লাখ কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। মূলত সেখানে যুদ্ধের কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও স্থানীয় লোকজন চলে যাওয়ায় এই কর্মীর চাহিদা তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে, রাশিয়ায় যাওয়া ৩০ বাংলাদেশিকে যুদ্ধে জড়ানোর একটি অভিযোগের বিষয়ে সরকার শুরু থেকেই তৎপর। যেসব এজেন্সি তাদের পাঠিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং রিক্রুটিং লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে।
একটি নির্দিষ্ট সমস্যার জন্য পুরো দেশের বাজার বন্ধ করে দেওয়া যৌক্তিক হবে না—এ কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাথা ব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলা কোনো সমাধান নয়। বরং কীভাবে ফেয়ার রিক্রুটমেন্ট বা সঠিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লোক পাঠানো যায়, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ১০-১২ লাখ মানুষ বিদেশে যান। এর মধ্যে ২-৪ হাজার লোকের ক্ষেত্রে ভিসা বা প্রতারণাজনিত সমস্যা হতে পারে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ বোর্ড কাজ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও সাপোর্ট দিচ্ছে। রাশিয়ার ক্ষেত্রে এখন থেকে যারা যাবেন, তারা যেন কোনোভাবেই যুদ্ধে জড়ান এবং ওয়ার্কিং ভিসায় যান— তা দূতাবাস ও বিএমইটি কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করবে।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, লাওস, কম্বোডিয়া এবং ভিয়েতনামের মতো দেশেও মাঝে মাঝে স্ক্যাম বা প্রতারণার ঘটনা ঘটে। লিগ্যাল ওয়ার্ক পারমিট থাকার পরও যদি মন্ত্রণালয় লোক পাঠাতে বাধা দেয়, তখন রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো অভিযোগ করে যে মন্ত্রণালয় বাজার নষ্ট করছে। সুতরাং, ভিসা সতর্কতার সঙ্গে চেক করে অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন